নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন

স্থানাঙ্ক: ২২°৩২′৪৮″ উত্তর ৯১°৫১′১″ পূর্ব / ২২.৫৪৬৬৭° উত্তর ৯১.৮৫০২৮° পূর্ব / 22.54667; 91.85028
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নাঙ্গলমোড়া
ইউনিয়ন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সীল.svg ৫নং নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন পরিষদ
নাঙ্গলমোড়া চট্টগ্রাম বিভাগ-এ অবস্থিত
নাঙ্গলমোড়া
নাঙ্গলমোড়া
নাঙ্গলমোড়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
নাঙ্গলমোড়া
নাঙ্গলমোড়া
বাংলাদেশে নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৩২′৪৮″ উত্তর ৯১°৫১′১″ পূর্ব / ২২.৫৪৬৬৭° উত্তর ৯১.৮৫০২৮° পূর্ব / 22.54667; 91.85028 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশবাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
জেলাচট্টগ্রাম জেলা
উপজেলাহাটহাজারী উপজেলা উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
সরকার
 • চেয়ারম্যানলায়ন মোহাম্মদ সিরাজুল হক ব‍াবুল
আয়তন
 • মোট১.৮৭ বর্গকিমি (০.৭২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট৮,৮২৫
 • জনঘনত্ব৪,৭০০/বর্গকিমি (১২,০০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৬৭.৮%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৪৩৩৩ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
মানচিত্র

নাঙ্গলমোড়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার অন্তর্গত একটি ইউনিয়ন

আয়তন[সম্পাদনা]

নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের আয়তন ৪৬২ একর (১.৮৭ বর্গ কিলোমিটার)। এটি আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট ইউনিয়ন।[১]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ৭,০৯৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩,২৪৯ জন এবং মহিলা ৩,৮৪৫ জন। মোট পরিবার ১,৩৭৩টি।[১]

অবস্থান ও সীমানা[সম্পাদনা]

হাটহাজারী উপজেলার উত্তর-পূর্ব দিকে নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের অবস্থান। উপজেলা সদর থেকে এ ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় ১১ কিলোমিটার। এ ইউনিয়নের দক্ষিণে ছিপাতলী ইউনিয়ন, পশ্চিমে গুমানমর্দন ইউনিয়ন, উত্তরে হালদা নদীফটিকছড়ি উপজেলার জাফতনগর ইউনিয়ন এবং পূর্বে হালদা নদীরাউজান উপজেলার নোয়াজিশপুর ইউনিয়ন অবস্থিত।

প্রশাসনিক কাঠামো[সম্পাদনা]

নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন হাটহাজারী উপজেলার আওতাধীন ৫নং ইউনিয়ন পরিষদ। তৎকালীন গুমানমর্দন ইউনিয়নের নাঙ্গলমোড়া মৌজা নিয়ে এ ইউনিয়ন গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের ২৮২নং নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-৫ এর অংশ। এ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম হাটহাজারী মডেল থানার আওতাধীন।

ইতিহাস ও নামকরণ বা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীন কালে হালদা নদীতে একটি সমুদ্রগামী জাহাজের নোঙ্গর পাওয়া গিয়েছিল । অনেকের ধারণা, নোঙ্গর হত 'নাঙ্গলমোড়া' গ্রামের উৎপত্তি হয়েছিল। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, প্রাচীন কালে বর্তমান হালদা নদী বেশ প্রশস্ত ও গভীর ছিল। বড় বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী জাহাজ এ নদী দিয়ে যাতায়াত করত। কোন এক সময় বিরাট এক জাহাজের নোঙ্গর এ নদীতে ছিঁড়ে পড়ে যায়। নদী ক্রমে ক্রমে ভরাট হওয়ার কারণের স্থানীয় জনগণ ছিঁড়ে পাওয়া নোঙ্গরের খোঁজ পায় কিংবা মাটি খননের সময় নজরে আসে। সে হতে প্রাপ্ত নোঙ্গর দেখার জন্য প্রতিদিন বহু লোকের সমাগম হত। পরস্পর জান ও জাতি পরিস্থিতি হিসাবে নোঙ্গর হতে লোক মুখে নাঙ্গল পরে নাঙ্গলমোড়া গ্রামের উৎপত্তি। উপর্যুক্ত ঘটনার ঐতিহ্যবাহী তথ্য মাহাবুব উল আলমের চট্টগ্রামের ইতিহাস গ্রন্থে আছে। ১৯৭২ সাল পর্যন্ত নাঙ্গলমোড়া গুমানমর্দন ইউনিয়নের একটি গ্রাম ছিল। প্রাচীন কালে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নদী হওয়ার কারণে গুমানমর্দন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় নাঙ্গলমোড়ায় অবস্থিত ছিল।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাসঃ হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি উপজেলার মিলন মহোনায় হালদা নদীর পশ্চিম তীরে একটি সমৃদ্ধ জনপদ নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩সালে বাংলাদেশ সরকার ”ইউনিয়ন বাই পারকেশন এক্ট” পাশ করেন। এতে দেশের বড় ইউনিয়ন গুলি বিভক্ত করে ছোট করা সুযোগ আসে। কিন্তু সর্ত থাকে যে, কোন অবস্থায় জে.এল বা মৌজা ভাঙ্গা যাবে না।

এই সময় অবিভক্ত গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব নুরুল আজিম চৌধুরী সাহেব। তিনি স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেত্রীবৃন্দের সাথে এ ব্যাপারে আলাপ আলোচনা করে গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন কে তিন টি ভাগে বিভক্ত করার একটি প্রস্তাব সরকারের নিকট পেশ করার জন্য তথ কালীন ইউনিয়ন রিলিপ কমিটির চেয়ারম্যান জনাব ইলিয়াছ সওদাগর সাহেব কে অনুরুধ করেন।

নাঙ্গলমোড়া একটি আলাদা ইউনিয়ন হবে কিনা এ সন্দেহে জনাব ইলিয়াছ সওদাগর গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন কে বিভক্ত করে নাঙ্গল-ছিপা ও গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন নামে ২টি আলাদা ইউনিয়ন করার একটি প্রস্তাব সরকারের নিকট পেশ করেন।

নাঙ্গলমোড়া বাসীর ভাগ্য ভাল, এই সময়ে চট্টগ্রাম উত্তর মহকুমার হাকিমের পেশকার ছিলেন নাঙ্গলমোড়ার কৃতি সন্তান হযরত মৌলানা হাসমত আলী সাহেবের নাতি জনাব শামশুল হুদা সাহেব। প্রস্তাবিত ইউনিয়ন ভাগাভাগির “নতি” ইনার হাতে পৌছলে তিনি তা জনাব নুরুল আজিম চৌধুরী সাহেব কে অবহিত করেন।

ছিপাতলী থেকে নাঙ্গলমোড়ার ভোটার সংখ্যা কম হওয়ায় কারণে ভবিষ্যতে নাঙ্গলমোড়াবাসীর স্বার্থ উপক্ষিত হবে, এমন কি কোন দিন প্রস্তাবিত নাঙ্গল-ছিপা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের পদটিও পাবেনা এই আশংকা উক্ত প্রস্তাবের বিপরীত নাঙ্গলমোড়া বাসীর পক্ষে চট্টগ্রাম বারের সিনিয়র আইনজীবী পি.পি আমিরুল ইসলামের মাধ্যমে ২টি নতুন প্রস্তাব সরকারের নিকট পেশ করেন। প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে, জনস্বার্থে বিগ্নিত করে, কোন অবস্থায় গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন কে বিভক্ত করা যাবে না।

এই প্রস্তাবে বাদী ছিলেন জনাব মোঃ ইয়াছিন মাস্টার, জনাব মোঃ নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, জনাব আবদুস ছমদ, জনাব সোনা মিয়া ও জনাব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

আর দ্বিতীয় প্রস্তাবের বাদী ছিলেন গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোহাম্মদ নুরুল আজিম চৌধুরী। তাঁহার প্রস্তাবের বলা হয়েছে যে জনস্বার্থ ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে জে.এল ৪নং মৌজাকে ৪নং গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন, জে.এল ৫নং মৌজাকে ৫নং নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন এবং জে.এল ৬নং মৌজাকে ৬নং ছিপাতলী ইউনিয়ন করা হোক।

আল্লাহর অশেষ রহমতে সরকার মেষ উক্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করে এবং নাঙ্গলমোড়া ছিপাতলী ও গুমানমর্দ্দন নামে ৩টি পৃতক ইউনিয়ন এর অনুমোদন দেন। ১৯৭৪সাল থেকে তা কার্যকর হয়। এই হল নাঙ্গলমোড়া, ছিপাতলী ও গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার ইতিহাস।

শিক্ষা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের সাক্ষরতার হার ৬৭.৮%।[১] এ ইউনিয়নে ১টি ফাজিল মাদ্রাসা, ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

মাদ্রাসা[২]
মাধ্যমিক বিদ্যালয়
নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • দক্ষিণ নাঙ্গলমোড়া ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • নাঙ্গলমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
কিন্ডারগার্টেন
  • নাঙ্গলমোড়া আইডিয়াল গ্রামার স্কুল

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নে যোগাযোগের প্রধান সড়ক হাটহাজারী-গুমানমর্দ্দন -নাঙ্গলমোড়া সড়ক। প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম সিএনজি চালিত অটোরিক্সা।

ধর্মীয় উপাসনালয়[সম্পাদনা]

নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নে ১২টি মসজিদ, ৭টি ঈদগাহ ও ১টি মন্দির রয়েছে।

মাজার-

১.হযরত মাওলানা বদিউর রহমান (রহ.)

২.হযরত মাওলানা পেটন শাহ (রহ.)

৩.হযরত হাসমত আলী শাহ (রহ.)

৪.মাওলানা আব্দুল করিম (রহ.)

৫.হযরত আমজাদ আলী শাহ (রহ.)

৬.হযরতুল আল্লামা সিরাজুল আলম (রহ.)[৩]

খাল ও নদী[সম্পাদনা]

নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের উত্তর-পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে হালদা নদী[৩]

হাট-বাজার[সম্পাদনা]

নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের প্রধান হাট/বাজার হল নাঙ্গলমোড়া বাজার।[৩]

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি[সম্পাদনা]

জনপ্রতিনিধি[সম্পাদনা]

  • বর্তমান চেয়ারম্যান: লায়ন মোহাম্মদ সিরাজুল হক বাবুল[৪]
চেয়ারম্যানগণের তালিকা[৫]
ক্রম নং চেয়ারম্যানের নাম মেয়াদকাল
০১ মোহাম্মদ আবু তাহের ১৯৭৪-১৯৭৭
০২ মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম ১৯৭৮- ১৯৮২
০৩ মোহাম্মদ আবু তাহের ১৯৮৩-১৯৯২
০৪ আ ফ ম মাহমুদুর রহমান ১৯৯৩-১৯৯৭
০৫ মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন চৌধুরী ১৯৯৭-২০১৬
০৬ লায়ন মোহাম্মদ সিরাজুল হক বাবুল ২০১৬-বর্তমান

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ইউনিয়ন পরিসংখ্যান সংক্রান্ত জাতীয় তথ্য" (PDF)web.archive.org। Wayback Machine। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  2. "মাদ্রাসা - নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন - নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন"nangalmoraup.chittagong.gov.bd 
  3. "এক নজরে - নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন - নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন"nangalmoraup.chittagong.gov.bd। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১৭ 
  4. "- নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন - নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন"nangalmoraup.chittagong.gov.bd। ৩০ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১৭ 
  5. "পূর্বতন চেয়ারম্যানবৃন্দ - নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন - নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন"nangalmoraup.chittagong.gov.bd। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]