চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো.svg
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
স্থাপিত ১৮ নভেম্বর, ১৯৬৬
ধরন সরকারি, সহ-শিক্ষা
চেয়ারম্যান ডক্টর ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী
আচার্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী
অ্যাকাডেমিক স্টাফ ৮৬২[১]
প্রশাসনিক স্টাফ ৩১১ (পুরুষ ২৭৭, নারী ৩৪)[১]
ছাত্র ২৪,২৮৩
(ছাত্র ১৫,৫৯৮, ছাত্রী ৮,৬৮৫)[১]
অবস্থান চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
ক্যাম্পাস ১,৭৫৪ একর
সংক্ষিপ্ত নাম চবি
অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ওয়েবসাইট www.cu.ac.bd
University of Chittagong Wordmarklogo.svg

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি: University of Chittagong) (সংক্ষেপে চবি) চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশের একটি সরকারি বহু-অনুষদভিত্তিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। এটি ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলায় স্থাপিত হয়।[২] এটি দেশের তৃতীয় এবং ক্যাম্পাস আয়তনের দিক থেকে দেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়।[৩] এখানে প্রায় ২২,০০০ শিক্ষার্থী এবং ৬৮৭ জন শিক্ষক রয়েছেন৷[৪]

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অর্ন্তভূক্ত রয়েছে।[৫] চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। এখানে রয়েছে চট্টগ্রামের সর্ববৃহত বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক উল্লেখযোগ্য প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থী শিক্ষাগ্রহণ ও অধ্যাপনা করেছেন যার মধ্যে ১ জন নোবেল বিজয়ী এবং একাধিক একুশে পদক বিজয়ী অর্ন্তভূক্ত রয়েছেন। বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাঙ্কিং ৪৬৮২তম[৬] এবং দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এর রাঙ্কিংক অবস্থান ১৪তম।[৭]

পরিচ্ছেদসমূহ

অবস্থান[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার[১] উত্তরে হাটহাজারী থানার ফতেহপুর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিম-পট্টি মৌজার ১৭৫৩.৮৮ একর পাহাড়ি এবং সমতল ভূমির উপর অবস্থিত।[৮] ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশদ্বার

বিশ শতাব্দীর শুরুর দিকে চট্টগ্রাম বিভাগে কোন বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় চট্টগ্রামের অধিবাসিরা স্থানীয়ভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুভব করে। ১৯৪০ সালের ২৮ ডিসেম্বর, কলকাতায় অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সর্বভারতীয় সম্মেলনে মওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামবাদী সভাপতির ভাষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে একটি ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি’ নির্মাণের কথা উপস্থাপন করেন এবং একই লক্ষ্যে তিনি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দেয়াং পাহাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মানের জন্য ভূমি ক্রয় করেন। দুই বছর পর, ১৯৪২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নূর আহমদ বঙ্গীয় আইন পরিষদে চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপন করেন।[৩][৯]

ষাটের দশকে তৎকালীন পাকিস্তানের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৬০-১৯৬৫) প্রণয়নকালে চট্টগ্রামে একটি ‘বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মানের স্থান হিসেবে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত চট্টগ্রাম সরকারি কলেজকে সম্ভাব্য ক্যাম্পাস হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬২ সালে, তৎকালিন পূর্ব-পাকিস্তানের জনশিক্ষা উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফেরদাউস খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একটি প্রাথমিক খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করেন।[৮] একই বছর, ১৯৬২ সালের নির্বাচন প্রচারনায় ফজলুল কাদের চৌধুরী এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাধারণ প্রতিশ্রুতি দেন। এবং নির্বাচন পরবর্তীকালে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।[৩]

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের স্থানে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হওয়ার পর, ১৯৬১ সালের ৭ মে চট্টগ্রামের নিবাসির উদ্যোগে স্থানীয় মুসলিম হলে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রধান অতিথির ভাষণে চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত প্রকাশ করেন এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন। পরবর্তীকালে ১৯৬২ সালে ৩০ ডিসেম্বর, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদ’ নামে আরেকটি পরিষদ গঠিত হয়। এই সকল সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও স্মারকলিপি প্রদান, পত্রপত্রিকায় বিবৃতি, সেমিনার অনুষ্ঠিত হতে থাকে। সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ১৯৬২ সালের ৯ ডিসেম্বর লালদিঘী ময়দানে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৩ সালের ৮ জানুয়ারি, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।[৩]

প্রশাসনিক ভবন

১৯৬৩ সালের ২৯ নভেম্বর, ফজলুল কাদের চৌধুরী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার মনোনীত হন। প্রথমদিকে এ বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট, কুমিল্লানোয়াখালিতে স্থাপনের পরিকল্পনা করা হলেও ১৯৬৩ সালের ১২ ডিসেম্বর, রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের অনুপস্থিতিতে মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে সভাপতিত্বকালে ফজলুল কাদের চৌধুরী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এ.টি.এম মোস্তফাকে বিশ্ববিদ্যালয়টি কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। ১৯৬৪ সালের ৯ মার্চ তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর করা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর এম ওসমান গণিকে চেয়ারম্যান এবং ডক্টর কুদরাত-এ-খুদা, ডক্টর মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এম ফেরদৌস খান ও ডক্টর মফিজউদ্দীন আহমদকে সদস্য নির্বাচিন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্থান নির্বাচন কমিশন’ গঠিত হয়। এই কমিশন সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে হাটহাজারী উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিম-পট্টি মৌজার নির্জন পাহাড়ি ভূমিকে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হিসেবে সুপারিশ করে। ১৯৬৪ সালের ১৭-১৯ জুলাই পাকিস্তানের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ফজলুল কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইসলামাবাদে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের সভায় ‘স্থান নির্বাচন কমিশন’-এর সুপারিশের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহণ এবং এর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়।[৩] ১৯৬৪ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।[১০]

১৯৬৫ সালের ৩ ডিসেম্বর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের প্রাক্তন কিউরেটর ড. আজিজুর রহমান মল্লিককে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প-পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এরপর আজিজুর রহমান মল্লিককে চট্টগ্রাম শহরের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৩নং সড়কের ‘কাকাসান’ নামের একটি ভবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের অফিস স্থাপন করেন। ১৯৬৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর, এক সরকারি প্রজ্ঞাপন বলে তৎকালীন পাকিস্তান শিক্ষা পরিদপ্তরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমস্ত কর্মকর্তাকর্মচারীকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প অফিসে বদলি করা হয়। স্থপতি মাজহারুল ইসলামের ‘বাস্তকলা’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাষ্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়। প্রাথমিকভাবে ১টি দ্বিতল প্রশাসনিক ভবন, বিভাগীয় অফিস, শ্রেণিকক্ষ ও গ্রন্থাগারে জন্য একতলা ভবন তৈরি করার পাশাপাশি শিক্ষক ও ছাত্রদের আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়।[৩]

শিক্ষাঙ্গন[সম্পাদনা]

জাদুঘর[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর

১৯৭৩ সালের ১৪ জুন এ মধ্যযুগের চারটি কামান নিয়ে যাদুঘরটির কার্যক্রম শুরু হয়। এ যাদুঘরের বেলে পাথরের একাধিক ভাস্কর্যসহ বেশকিছু প্রাচীন পাথর আর একটি কামান রয়েছে। মূল কক্ষের প্রবেশ পথে রয়েছে দ্বাদশ শতকের একটি প্রাচীন শিলালিপি। এখানে অষ্টম শতকের পাহাড়পুর থেকে প্রাপ্ত পোড়ামাটির চিত্রফলক, বৌদ্ধমূর্তি, মধ্যযুগের ১০-১৫টি বিষ্ণু মূর্তি সৈন্যদের ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র, নানারকম মুদ্রা, প্রাচীন বইপুস্তক, বাদ্যযন্ত্র, উপজাতীয়দের নানা নিদর্শন, চিনামাটির পাত্র ইত্যাদি সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ যাদুঘরটি সকল খোলা দিনে দর্শকদের জন্য উম্মুক্ত থাকে।[১১] ইসলামিক আর্ট গ্যালারীতে রয়েছে মোগল আমলের কামান, স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, হস্তলিখিত কুরআন, মধ্যযুগীয় অস্ত্র, প্রাচীন মসজিদের ও তাদের ধ্বংসাবশেষের ছবি। প্রত্নতাত্ত্বিক ও প্রাগৈতিহাসিক গ্যালারীতে প্রাচীনকালের ছবি, জীবাশ্ম, মাটির মূর্তি রয়েছে। ভাস্কর্য গ্যালারীতে রয়েছে অষ্ট থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়কালের কাঠের মূর্তি, বিষ্ণু মূর্তি, শিবলিঙ্গ। লোকশিল্প গ্যালারীতে সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকের তামা, পিতল ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, বেতের ঝুড়ি, মাটির ভাস্কর্য, মাটির পুতুল প্রভৃতির বিশাল সম্ভার রয়েছে। আর্ট গ্যালারীতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসান, রশিদ চৌধুরী, জিয়া উদ্দীন চৌধুরী, নিতুন কুন্ডু চৌধুরীর পেইন্টিংস এবং সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদের ভাস্কর্য রয়েছে।[১২]

প্রাণিবিদ্যা জাদুঘর[সম্পাদনা]

এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের পাঠক্রমের সমর্থনে একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ যাদুঘরটি স্থাপিত হয়। এই জাদুঘরে প্রায় ৫৪০টি নমুনা সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে প্রাণীর সংখ্যা ৫৭টি এবং ফরমালিন (ভেজা সংরক্ষিত) নমুনার সংখ্যা ৪৮৫ টি।[১১]

সমুদ্র সম্পদ জাদুঘর[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েরই সামুদ্রিক বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের একটি রুমে গড়ে তোলা হয়েছে এ যাদুঘর। এখানে ৫৫০টির মতো সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণ করা হয়েছে। হাঙ্গর থেকে শুরু করে বৈদ্যূতিক মাছ, আজব বাণাকেল, অক্টোপাস, শামুক, সাপ সহ রয়েছে অসংখ্য বিস্ময়কর জীব বৈচিত্র।[১১]

স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্য[সম্পাদনা]

স্মরণ স্মৃতিস্তম্ভ
স্মরণ স্মৃতিস্তম্ভে সাত মুক্তিযোদ্ধা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথেই ভাস্কর্যটির অবস্থান। স্মৃতিস্তম্ভটির স্থপতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ সাইফুল কবীর। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষক, ১১ জন ছাত্র এবং ৩ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহ সর্বমোট ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগ আর বীরত্বের স্মৃতিস্বরূপ ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়েছে। ভূমি থেকে স্মরণের মূল বেদি পর্যন্ত সর্বমোট চারটি ধাপ যার প্রতিটি ধাপ বাংলাদেশের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। প্রথম ধাপ বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, দ্বিতীয় ধাপ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, তৃতীয় ধাপ সত্তরের নির্বাচন ও চতুর্থ ধাপে প্রতিফলিত হয়েছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।[১৩][১৪] স্মৃতিস্তম্ভে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন মুক্তিযোদ্ধার নাম ও ছবি রয়েছে, তারা হলেন- প্রকৌশল দপ্তরের চেইন ম্যান বীর প্রতীক মোহাম্মদ হোসেন, চাকসুর জিএস আব্দুর রব, শিক্ষার্থী ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ, ফরহাদ-ইদ-দৌলা, নাজিম উদ্দিন খান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রভাষ কুমার বড়ুয়া এবং প্রহরী সৈয়দ আহমদ।

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের বিপরীত পাশে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ অবস্থিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ভাষ্কর্যটি স্থাপন করা হয়। স্তম্ভটির অবস্থান বুদ্ধিজীবী চত্বর নামে পরিচিত। প্রথিতযশা শিল্পী রশিদ চৌধুরী এর নকশা প্রণয়ন করেন। ১৯৮৫ সালে স্থাপিত এ স্মৃতিস্তম্ভটি এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃজনশীল কর্মের সূতিকাগার হিসাবে ভাবা হচ্ছে।[১৩][১৪]

স্বাধীনতা স্মৃতি ম্যুরাল

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সামনে ভাস্কর্যটির অবস্থান। খ্যাতিমান শিল্পী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক মুর্তজা বশীরের একক প্রচেষ্টায় এটি নির্মিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক সৈয়দ সাইফুল কবীর ভাস্কর্যটির নকশায় করেন।[১৪] ভাস্কর্যটিতে ৪টি পাখির প্রতীকী নির্মাণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাঙালির ছয় দফা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্রমধারা এবং পাখির ডানায় ২১টি পাথরের টুকরায় লিপিবদ্ধ হয়েছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সমৃতি। ভাস্কর্টির মূল ভিত্তি রচিত হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলার ওপর।[১৩]

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভের বিপরীত পাশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অবস্থিত। এটি ১৯৯৩ সালে স্থাপন করা হয়।

আবাসিক হলসমূহ[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে সর্বমোট ১২টি আবাসিক হল রয়েছে যার মধ্যে ৭টি ছাত্র হল ও ৩টি ছাত্রী হল এবং ২টি নির্মানাধীন ছাত্র ও ছাত্রী হল। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে ১টি হোস্টেল রয়েছে।[১][৩]

ছাত্র হল[সম্পাদনা]

নাম স্থাপিত আবাসন সংখ্যা টীকা
আলাওল হল ২৫৯
এ. এফ. রহমান হল ২৫৭
শাহজালাল হল ৪৭৫
সোহরাওয়ার্দী হল ১৯৭৪ ৩৭৫
শাহ আমানত হল ৬৩২
শহীদ আবদুর রব হল ৫০৯
মাষ্টারদা সূর্যসেন হল জুন ১৩, ২০১০ ২০৪
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল অক্টোবর, ২০১৫ ১৮৬ [১৫]

ছাত্রী হল[সম্পাদনা]

নাম স্থাপিত আবাসন সংখ্যা
শামসুন্নাহার হল ৬৭৬
প্রীতিলতা হল ৫৩১
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হল ৫০০
জননেত্রী শেখ হাসিনা হল অক্টোবর, ২০১৫ ৫০০ [১৫]

ছাত্রাবাস[সম্পাদনা]

নাম স্থাপিত আবাসন সংখ্যা
গোবিন্দ গুণালংকার ছাত্রাবাস ১৯৯৬

ক্যাফেটেরিয়া[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে,[১৬] যার মধ্যে চাকসু ক্যাফেটেরিয়া, আইটি ক্যাফেটেরিয়া অন্যতম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়েরর আইন অনুষদের কাছেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার অবস্থিত। এটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের এবং প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা গ্রহণের জন্য কাজ করে থাকে। পাশাপাশি এখানে শিক্ষক ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও বিনামূল্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এই মেডিকেল সেন্টারে সপ্তাহের প্রতিদিন সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে চিকিৎসকগণ পালা করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন। এই সেন্টারে ১১ জন চিকিৎসক ও ৪ টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এছাড়াও মেডিকেল সেন্টার প্রাঙ্গনে ৬ টি অস্থায়ী বিছানার ব্যবস্থা রয়েছে।[১৭]

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য[সম্পাদনা]

কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের পেছনে পাহাড়ের ঝরনা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাস প্রাকৃতিক সৌর্ন্দের লীলাভূমি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন জুড়ে রয়েছে আঁকাবাঁকা পথ, পাহাড়ী পথ, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এবং বন্য প্রাণী। প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাটা পাহাড়, বাণিজ্য অনুষদের পেছনে, ফরেস্ট্রি একালাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক পরিবেশে ছোট আকারের লালচে বাদামী পিঙ্গল রংয়ের মায়া হরিণ দেখা যায়। এইসব মায়া হরিণগুলো খর্বকায় ও লাজুক স্বভাবের। তবে এই হরিণের প্রকৃত সংখ্যা কত তা জানাে নেই।[১৮] এছাড়াও কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের পেছনে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন পাহাড়ি ঝরনা।[১৯]

অ্যাকাডেমিক[সম্পাদনা]

অনুষদসমূহ[সম্পাদনা]

ড. আবদুল করিম ভবন, কলা অনুষদ
জীব বিজ্ঞান অনুষদ
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
এ কে খান ভবন, আইন অনুষদ
সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ
অনুষদ [২০]
বিভাগ ৫২[২১]
ইনস্টিটিউট [২২]
গবেষণাকেন্দ্র [২৩]

অনুষদ ও বিভাগসমূহ[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৭টি অনুষদে ৫২টি বিভাগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ এবং অন্তর্গত বিভাগসমূহ হলো:[১]

ইনস্টিটিউটসমূহ[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট গুলো হলো:[১]

  • ইনস্টিটিউট অব এডুকেশান, রিসার্স এ্যন্ড ট্রেনিং
  • চারুকলা ইনস্টিটিউট[২৪]
  • আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট[২৫]: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট বিভিন্ন ভাষা-শিক্ষা বিষয়ে একবছর মেয়াদী শিক্ষা প্রদান করে থাকে। এ ইনস্টিটিউট সার্টিফিকেট কোর্স এবং ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা করে থাকে। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালে; যার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে কলা বিভাগ। বর্তমানে এই ইনস্টিটিউটে ১৩ জন পূর্নকালীন এবং ৭ জন থণ্ডকালীন শিক্ষক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লুথার কলেজের শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ডেবোরা লি নরল্যান্ড উক্ত ইনস্টিটিউটের পাঠক্রম এবং পাঠ্যসূচী মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বিষয়ে কাজ করেছেন। বর্তমানে এখানে বাংলা, ইংরেজি, ফরাসী, জার্মান, জাপানি, আরবি, ফার্সি এবং চাইনিজ ভাষার কোর্সসমূহ চালু রয়েছে।
  • ইনস্টিটিউট অব ফরেষ্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস[২৬]
  • ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিশ
  • সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট

গবেষণা কেন্দ্রসমূহ[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫টি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলো হলো:[১]

  • ইনস্টিটিউট অব এডুকেশান, রিসার্স এ্যন্ড ট্রেনিং
  • নজরুল গবেষণা কেন্দ্র
  • ব্যুরো অব বিজনেস রিসার্চ
  • গণিত ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র
  • সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট

অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে বর্তমানে ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে:[৫]

মেডিকেল কলেজসমূহ
  1. আন্তর্জাতিক ইসলামিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম
  2. ইউনাইটেড কেয়ার ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা
  4. কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, কক্সবাজার
  5. কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা
  6. চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম
  7. চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম
  8. নোয়াখালি মেডিকেল কলেজ, নোয়াখালি
  9. বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম
  10. ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  11. ময়নামতি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কুমিল্লা
  12. মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম
  13. সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, চট্টগ্রাম
  14. সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা

গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ গ্রন্থাগার যা দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই গ্রন্থাগারে বর্তমান সংগ্রহ সংখ্যা প্রায় ৩.৫ লক্ষ[২৭] যার মধ্যে রয়েছে বিরল বই, জার্নাল, অডিও-ভিজ্যুয়াল উপাদান, পান্ডুলিপি এবং অন্ধদের জন্য ব্রেইল বই।[৩][২৮] ১৯৬৬ সালের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোবধনের সাথে এই গ্রন্থাগারের যাত্রা শুরু হয় মাত্র ৩০০ বই নিয়ে।[২৮] লাইব্রেরি বর্তমান ভবনে স্থানান্তরিত হয় ১৯৯০ সালের নভেম্বরে। তিনতলা বিশিষ্ট গ্রন্থাগারটিতে শিক্ষার্থী, গবেষক এবং শিক্ষকদের জন্য পৃথক কক্ষ রয়েছে। গ্রন্থাগার ভবনে একটি মিলনায়তনও রয়েছে। গ্রন্থাগারে ফটোকপির ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রন্থাগারটিতে প্রতিদিন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা পড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। গ্রন্থাগারটিকে বর্তমানে অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে।[২৯]

সংগঠন[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে পহেলা ফাল্গুন ১৪২২ উদযাপন
বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে পহেলা ফাল্গুন ১৪২৩ উদযাপন

রাজনৈতিক[সম্পাদনা]

সাংস্কৃতিক[সম্পাদনা]

বিজ্ঞান[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

সমাবর্তন[সম্পাদনা]

১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্বে ১৯৮১ সালে একটি বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।[৩] সর্বশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৬ সালের জানুয়ারি ৩১ তারিখ।[৩০]

সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান[সম্পাদনা]

সম্মানসূচক ডক্টরেটপ্রাপ্তদের তালিকা
বছর নাম উপাধি পরিচয়
১৯৮১ আবদুস সালাম ডক্টর অব সায়েন্স তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী
২০০৮ জামাল নজরুল ইসলাম ডক্টর অব সায়েন্স একুশে পদক বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী

উপাচার্যবৃন্দ[সম্পাদনা]

ট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরবর্তী এ যাবৎকাল পর্যন্ত মোট ১৭ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ১৭ তম উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী

প্রথম উপাচার্য আজিজুর রহমান মল্লিক
তৃতীয় উপাচার্য এম ইন্নাস আলী
ক্রম উপাচার্য থেকে পর্যন্ত
অধ্যাপক আজিজুর রহমান মল্লিক ০১-১০-১৯৬৬ ৩১-০১-১৯৭২
ইউ এন সিদ্দিকী (ভারপ্রাপ্ত) ২১-০৪-১৯৭১ ৩০-০১-১৯৭২
অধ্যাপক এম ইন্নাস আলী ০১-০২-১৯৭২ ১৮-০৪-১৯৭৩
অধ্যাপক আবুল ফজল ১৯-০৪-১৯৭৩ ২৭-১১-১৯৭৫
অধ্যাপক আব্দুল করিম ২৮-১১-১৯৭৫ ১৮-০৪-১৯৮১
অধ্যাপক এম এ আজিজ খান[৩১] ১৯-০৪-১৯৮১ ১৮-০৪-১৯৮৫
অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ১৯-০৪-১৯৮৫ ২২-০৫-১৯৮৮
অধ্যাপক আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজউদ্দীন ২৩-০৫-১৯৮৮ ২৯-১২-১৯৯১
অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী ৩০-১২-১৯৯১ ০৬-১১-১৯৯৬
১০ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান ০৬-১১-১৯৯৬ ১৩-০২-২০০১
১১ অধ্যাপক মোহাম্মদ ফজলী হোসেন ১৪-০২-২০০১ ০২-০২-২০০২
১২ অধ্যাপক এ জে এম নুরউদ্দীন চৌধুরী ০২-০২-২০০২ ০২-০২-২০০৬
১৩ অধ্যাপক এম বদিউল আলম ০৩-০২-২০০৬ ২৪-০২-২০০৯
১৪ অধ্যাপক আবু ইউসুফ আলম[৩২][৩৩] ২৫-০২-২০০৯ ২৮-১১-২০১০[৩৪]
১৫ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলাউদ্দীন (ভারপ্রাপ্ত)[৩৫] ০৯-১২-২০১০[৩৪] ১৪-০৬-২০১১
১৬ অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম আরিফ[৩৬] ১৫-০৬-২০১১ ০১-০৬-২০১৫
১৭ ডক্টর ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ০২-০৬-২০১৫[৩৭][৩৮][৩৯] বর্তমান

উল্লেখযোগ্য শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী[সম্পাদনা]

এখানে তালিকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এবং বর্তমান উল্লেখযোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তালিকায়ন করা হয়েছে।

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জার্নাল বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন গবেষণাপত্র প্রকাশের উন্মুক্ত সাধারণ মাধ্যম। পূর্বে এর নাম ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডিজ। আলাদা পৃথক অনুষদ জন্য এর সাথে প্রত্যয়রূপে অনুষদের নাম যুক্ত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল অব আর্টস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল অব সোশ্যাল সায়েন্স, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল অব বিজনেস এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল অব ল দুই বছর অন্তর প্রকাশিত হয়।[৪৫] এছাড়াও বাংলা বিভাগ থেকে পান্ডুলিপি, ইতিহাস বিভাগ থেকে ইতিহাস পত্রিকা এবং অর্থনীতি বিভাগ থেকে ইকনমিক ইকো পত্রিকা প্রকাশিত হয়।[৩]

যাতায়াত[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেন

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে বাস এবং মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা।

বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেন[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ১০টি বগি বিশিষ্ট দুইটি শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা রয়েছে।[৮] ট্রেনগুলো বটতলি রেলওয়ে স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশন থেকে বটতলি রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সূচী[৪৬] অনুযায়ী যাতায়াত করে।[৪৭]

১৯৮০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একমাত্র বাহন হিসেবে শাটল ট্রেনের প্রথম যাত্রা শুরু হয়।[৪৮] প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার শিক্ষার্থী শাটল ট্রেনে যাতায়াত করে থাকে। বর্তমানে দুইটি ট্রেন দৈনিক সাতবার ক্যাম্পাস থেকে ষোলশহর এবং ষোলশহর থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত যাতায়াত করে থাকে।[৪৯]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ ১.৪ ১.৫ ১.৬ ১.৭ "University of Chittagong at a Glance"cu.ac.bd (ইংরেজি ভাষায়)। চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সংগৃহীত জুলাই ১১, ২০১৫ 
  2. "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়"http://hathazari.chittagong.gov.bd (বাংলা ভাষায়)। হাটহাজারী: hathazari.chittagong.gov.bd। সংগৃহীত জুলাই ১৩, ২০১৫ 
  3. ৩.০০ ৩.০১ ৩.০২ ৩.০৩ ৩.০৪ ৩.০৫ ৩.০৬ ৩.০৭ ৩.০৮ ৩.০৯ ৩.১০ সিরাজুল ইসলাম, সম্পাদক (জানুয়ারি ২০০৩)। "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়"বাংলাপিডিয়াঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশআইএসবিএন 984-32-0576-6। সংগৃহীত জানুয়ারি ১০, ২০১৫ 
  4. "FACULTY of the University of Chittagong"cu.ac.bd (ইংরেজি ভাষায়)। চট্টগ্রাম: চবি। ২০১৫। সংগৃহীত নভেম্বর ১৫, ২০১৫ 
  5. ৫.০ ৫.১ চবি (২০১৫)। "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ সমূহ"cu.ac.bd (বাংলা ভাষায়)। চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সংগৃহীত জুলাই ১১, ২০১৫ 
  6. "বৈশ্বিক রাঙ্কিংক"www.webometrics.info। webometrics.info। ২০১৬। সংগৃহীত মার্চ ২৭, ২০১৬ 
  7. "দেশীয় রাঙ্কিংক"www.webometrics.info। webometrics.info। ২০১৬। সংগৃহীত মার্চ ২৭, ২০১৬ 
  8. ৮.০ ৮.১ ৮.২ "Introducing"cu.ac.bd (বাংলা ভাষায়)। চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সংগৃহীত জুলাই ১১, ২০১৫ 
  9. "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়"chittagongdiv.gov.bd (ইংরেজি ভাষায়)। chittagongdiv। সংগৃহীত জুলাই ১২, ২০১৫ 
  10. হাজার বছরের চট্টগ্রামদৈনিক আজাদী। নভেম্বর ১৯৯৫। পৃ: ১৮৬-১৮৭। 
  11. ১১.০ ১১.১ ১১.২ http://www.rongmohol.com/topic4296.html
  12. শাহদাত হোসাইন (জানুয়ারি ২৭, ২০১১)। "CU Museum sinks into obscurity"দ্য ডেইলি স্টার। সংগৃহীত জুলাই ১৭, ২০১৪ 
  13. ১৩.০ ১৩.১ ১৩.২ লিপটন কুমার দেব দাস (ডিসেম্বর ১৬, ২০১৪)। "এক টুকরো স্বাধীনতা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়"banglatribune.com। সংগৃহীত জুলাই ১১, ২০১৫ 
  14. ১৪.০ ১৪.১ ১৪.২ আশরাফ রেজা (মার্চ, ২০১২)। "একাত্তরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় – এক ।। ‘স্মৃতির মিনারে’ স্বাধীনতার বর্ণিল প্রতিচ্ছবি"দৈনিক আজাদী (চট্টগ্রাম)। সংগৃহীত জুলাই ১১, ২০১৫ 
  15. ১৫.০ ১৫.১ সাফাত জামিল শুভ (অক্টোবর ৯, ২০১৫)। "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি"http://ournewsbd.com (বাংলা ভাষায়) (ournewsbd)। সংগৃহীত নভেম্বর ১৩, ২০১৫ 
  16. "Different Facilities : Cafeteria"www.cu.ac.bd। চবি। সংগৃহীত মার্চ ২৭, ২০১৬ 
  17. "Different Facilities : Health Services: The University of Chittagong Medical Centre"www.cu.ac.bd। চবি। সংগৃহীত মার্চ ২৭, ২০১৬ 
  18. রফিকুল ইসলাম (ফেব্রুয়ারি ০২, ২০১৫)। "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: যে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ায় মায়া হরিণ…"campuslive24.com (বাংলা ভাষায়)। চট্টগ্রাম: campuslive24.com। সংগৃহীত জুলাই ১৩, ২০১৫ 
  19. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (অক্টোবর ১৪, ২০১৫)। "ঝরনার পাড়ে যেতে নিষেধাজ্ঞা"প্রথম আলো (বাংলা ভাষায়) (চট্টগ্রাম: প্রথম আলো)। সংগৃহীত নভেম্বর ১৩, ২০১৫ 
  20. "অনুষদসমূহ"cu.ac.bd (বাংলা ভাষায়)। চট্টগ্রাম। সংগৃহীত অক্টোবর ২৯, ২০১৫ 
  21. "বিভাগ"cu.ac.bd (বাংলা ভাষায়)। চট্টগ্রাম। সংগৃহীত অক্টোবর ২৯, ২০১৫ 
  22. "ইনস্টিটিউট"cu.ac.bd (বাংলা ভাষায়)। চট্টগ্রাম। সংগৃহীত অক্টোবর ২৯, ২০১৫ 
  23. "গবেষণাকেন্দ্র"cu.ac.bd (বাংলা ভাষায়)। চট্টগ্রাম। সংগৃহীত অক্টোবর ২৯, ২০১৫ 
  24. "University of Chittagong"cu.ac.bd 
  25. "University of Chittagong"cu.ac.bd 
  26. http://www.ifescu.com Institute of Forestry and Environmental Sciences
  27. "গ্রন্থাগার"cu.ac.bd (ইংরেজি ভাষায়)। চট্টগ্রাম: চবি। সংগৃহীত জুলাই ১৬, ২০১৫ 
  28. ২৮.০ ২৮.১ গাজী মোহাম্মদ নুরউদ্দিন। "প্রাচীন পুঁথি-পাণ্ডুলিপির বিশাল সংগ্রহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার"দৈনিক আজাদী। সংগৃহীত জানুয়ারি ১০, ২০১৫ 
  29. শাহদাত হোসাইন (ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১১)। "A treasure trove of knowledge"দ্য ডেইলি স্টার)। সংগৃহীত জুলাই ১৭, ২০১৪ 
  30. "স্থগিত চতুর্থ সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ডিসেম্বর ২৭, ২০১৫। সংগৃহীত ডিসেম্বর ২৮, ২০১৫ 
  31. "Professor Abdul Aziz Khan"bas.org.bd। বাংলাদেশ: বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি। ২০১৫। সংগৃহীত অক্টোবর ২৯, ২০১৫ 
  32. http://www.rongmohol.com/topic12768.html
  33. সুজন ঘোষ (৩০ নভেম্বর ২০১০)। "চবির জনপ্রিয় ভিসি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন, জানাজায় ঢল"দৈনিক জনকণ্ঠ (ঢাকা: dailyjanakantha.com)। সংগৃহীত অক্টোবর ২৯, ২০১৫ 
  34. ৩৪.০ ৩৪.১ "Dr Alauddin made CU acting VC"BDBews24.com। ২০১০-১২-০৯। সংগৃহীত ২০১০-১২-১৪ 
  35. "University of Chittagong"cu.ac.bd 
  36. "Professor Anwarul Azim Arif made CU acting VC"দৈনিক প্রথম আলো। ২০১১-০৬-১৪। সংগৃহীত ২০১১-০৬-১৪ 
  37. "Prof. Dr. Iftekhar Uddin Chowdhury has been appointed as the 17th Vice-Chancellor of the University of Chittagong"cu.ac.bdচট্টগ্রাম: চবি। মার্চ ৬, ২০১৫। সংগৃহীত নভেম্বর ১৭, ২০১৫ 
  38. "ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী চবির নতুন উপাচার্য"। www.ntvbd.com। ০৩ জুন ২০১৫। সংগৃহীত জুলাই ১৩, ২০১৫ 
  39. মংক্যথোয়াই মারমা (জুন ০২, ২০১৫)। "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ"priyo.com। প্রিয়। সংগৃহীত জুলাই ১১, ২০১৫ 
  40. "অনুপম সেন সংবর্ধিত"দৈনিক প্রথম আলো। মার্চ ২০, ২০১৪। সংগৃহীত জুলাই ১৭, ২০১৪ 
  41. লিপটন কুমার দেব দাস (ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৪)। "কার্বন নির্ণয়ের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন"দৈনিক ইত্তেফাক। সংগৃহীত জুলাই ১৭, ২০১৪ 
  42. ইফতেখার ফয়সাল (জানুয়ারী ১৫, ২০১২)। "রোগ নির্ণয়ের ঝামেলা কমাবে সফটওয়্যার, টেস্টের সংখ্যা কমবে"দৈনিক জনকণ্ঠ। সংগৃহীত জুলাই ১৭, ২০১৪ 
  43. "সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী"। banglajol.info। সংগৃহীত মার্চ ০৭, ২০১৫ 
  44. "ছবিতে-তথ্যে অপরাজেয় বাংলা"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ডিসেম্বর ১৩, ২০১৩। সংগৃহীত জুলাই ১৭, ২০১৪ 
  45. "Publication in the University of Chittagong"cu.ac.bd (ইংরেজি ভাষায়)। চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সংগৃহীত জুলাই ১১, ২০১৫ 
  46. "বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেনের সময়সূচী"cu.ac.bd (ইংরেজি ভাষায়)। চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সংগৃহীত জুলাই ১১, ২০১৫ 
  47. শাখাওয়াত হোসাইন (ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৫)। "চবি শাটল ট্রেন বটতলী যায় না দেড় বছর"দৈনিক কালের কণ্ঠ (ঢাকা)। সংগৃহীত এপ্রিল ২৯, ২০১৫ 
  48. "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেন : শিক্ষার্থীদের আনন্দ-বেদনার প্রতিচ্ছবি"probashikantha.com। সংগৃহীত জুলাই ১৩, ২০১৫ 
  49. মংক্যথোয়াই মারমা (জুন ১৪, ২০১৫)। "শাটল ট্রেনের নিটোল ‘প্রেম’"priyo.com (বাংলা ভাষায়)। চবি: প্রিয়। সংগৃহীত জুলাই ১৩, ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]