নালিতাবাড়ী উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নালিতাবাড়ী
উপজেলা
নালিতাবাড়ী বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
নালিতাবাড়ী
নালিতাবাড়ী
বাংলাদেশে নালিতাবাড়ী উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°৫′০″ উত্তর ৯০°১১′৭″ পূর্ব / ২৫.০৮৩৩৩° উত্তর ৯০.১৮৫২৮° পূর্ব / 25.08333; 90.18528স্থানাঙ্ক: ২৫°৫′০″ উত্তর ৯০°১১′৭″ পূর্ব / ২৫.০৮৩৩৩° উত্তর ৯০.১৮৫২৮° পূর্ব / 25.08333; 90.18528 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগময়মনসিংহ বিভাগ
জেলাশেরপুর জেলা
আয়তন
 • মোট৩২৯.৫৯ কিমি (১২৭.২৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট২,৫২,৯৩৫
 • জনঘনত্ব৭৭০/কিমি (২০০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৩৪.২৭%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৩০ ৮৯ ৭০
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

নালিতাবাড়ী উপজেলা বাংলাদেশের শেরপুর জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

এই উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান ২৫°০৫′০০″ উত্তর ৯০°১১′৪৩″ পূর্ব / ২৫.০৮৩৩° উত্তর ৯০.১৯৫৪° পূর্ব / 25.0833; 90.1954। এর উত্তরে ভারতের মেঘালয় ও গার পাহাড় , পূর্বে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলা, দক্ষিণে নকলা উপজেলা এবং পশ্চিমে ঝিনাইগাতী উপজেলা

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

এই উপজেলার ইউনিয়নগুলো হচ্ছে -

  • কলসপাড়
  • কাকরকান্দি
  • নন্নী
  • নয়াবিল
  • নালিতাবাড়ী
  • পোড়াগাও
  • বাঘবেড়
  • মরিচপুরান
  • যোগানীয়া
  • রাজনগর
  • রামচন্দ্রকোড়া
  • রুপনারায়নকুড়া

ইতিহাস[সম্পাদনা]

পাগলপন্থী বিদ্রোহ[সম্পাদনা]

জানকুপাথর ও দোবরাজপাথর ছিলেন উনিশ শতকের তৃতীয় দশকের দুইজন বিদ্রোহী এবং শেরপুরে সংঘটিত পাগলপন্থি বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক। তারা গারো-হাজংদের নেতা টিপু শাহের অনুগামী ছিলেন এবং ১৮২৭- ১৮৩৩ সালে ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রজাবিদ্রোহের অন্যতম নেতা ছিলেন। শেরপুরের পশ্চিমদিকে করৈবাড়ি পাহাড়ের পাদদেশ জানকুপাথরের একটি প্রধান আস্তানা ছিলো।[২] ১৮৩১ সালে ময়মনসিংহের কালেক্টর নতুন বন্দোবস্ত "অষ্টম আইন" হিসেবে ঘোষণা করা হলেও বিদ্রোহ চালিয়ে যান জানকুপাথর ও দোবরাজপাথর।[২][৩]

তাদের নেতৃত্বে শেষ পর্যায়ে সংগ্রামের রূপ চরম আকার ধারণ করে। ১৮৩৩ সন পর্যন্ত জানকুপাথর করৈবাড়ি পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ও দোবরাজপাথর নালিতাবাড়ি উপজেলার নিকটবর্তী কোনো একস্থান থেকে শেরপুর অভিমুখে দ্বিমুখী আক্রমণ পরিচালনা করেন। বিদ্রোহী পাগলপন্থীগণ শেরপুরের জমিদারবাড়ি, কাছারিবাড়ি, জমিদারদের আশ্রিত লাঠিয়াল বাহিনীর সর্বস্ব লুট করে ও থানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে শেরপুর জনশূন্য হয়ে পড়ে। এগার-বারটি ক্ষেত্রে সরকার ও বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ইংরেজ সরকার বিদ্রোহ সংশ্লিষ্ট লোকজন ও নিরীহ লোকজনকে পাইকারিভাবে হত্যা শুরু করে এবং বিদ্রোহের নেতাদেরকে ধরিয়ে দেবার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে। অতপর বিদ্রোহের দলপতিরা ধীরে ধীরে আত্মসমর্পণ করে। জানকুপাথর উত্তরের পাহাড়ে পালিয়ে যান এবং দোবরাজপাথর পূর্বাঞ্চলে আত্মগোপন করেন। দুর্গাপুর উপজেলার 'দোবরাজপুর' গ্রাম দোবরাজপাথরের স্মৃতি বহন করছে।[৪]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা ; ২৫২৯৩৫; পুরুষ ১২৮৯৬৩, মহিলা ১২৩৯৭২। মুসলিম ২৩৭৮৯৭, হিন্দু ১০৩৫৫, বৌদ্ধ ৪২৫২, খ্রিস্টান ১৬ এবং অন্যান্য ৪১৫। এ উপজেলায় গারো, হাজং, হদি, মন্দাই, কোচ প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৩৪.২৭%; পুরুষ ৩৭.৭১%, মহিলা ৩০.৭২%। কলেজ ৪, কারিগরি কলেজ ১, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৩, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৬, মাদ্রাসা ৫২। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: নাজমুল স্মৃতি মহাবিদ্যালয় (১৯৭২), নালিতাবাড়ী শহীদ আবদুর রশিদ মহিলা কলেজ (১৯৯৬), হিরন্ময়ী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৯), তারাগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২৭), তারাগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৫৯), তারাগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসা (১৯৫০), গড়কান্দা মহিলা আলিম মাদ্রাসা (১৯৯৪)।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি ১, ক্লাব ২০, থিয়েটার গ্রুপ ২, সিনেমা হল ২, সামাজিক সংগঠন ১০, খেলার মাঠ ২০।

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

কৃষি[সম্পাদনা]

প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, গম, আলু, সরিষা, শাকসবজি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি মিষ্টি আলু, কাউন, তিসি, অড়হর।

প্রধান ফল-ফলাদি আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা।

মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার মৎস্য ৫, গবাদিপশু ২১, হাঁস-মুরগি ১৫, হ্যাচারি ২, নার্সারি ৪।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ২২০ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ১০০ কিমি, কাঁচারাস্তা ২৫৬.৬৬ কিমি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, গরুর গাড়ি।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

১. শহীদ নাজমুল আহসান

অপারেশন কাটাখালীর নায়ক নাজমুল আহসানের জন্ম ১৯৪৯ সালের ২০ জানুয়ারি,নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের বরুয়াজানী গ্রামে। বাবা মরহুম সেকান্দর আলী তালুকদার ছিলেন পেশায় শিক্ষক, মা নুরজাহান বেগম তালুকদার ছিলেন গৃহীনি। বাবা মা'র ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম। মেধাবী ছাত্র ছিলেন নাজমুল । সে জন্য তিনি সবার আদরের ছিলেন। তিনি শহীদ হন ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদক ‘স্বাধীনতা পদক’ (মরণোত্তর) পেয়েছেন শেরপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এ এন এম নাজমুল আহসান। ২৩ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাজমুলের পরিবারের হাতে এ পদক তুলে দেন।

১৯৬৫ সালে তিন বিষয়ে লেটারসহ প্রথম বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদে ভর্তি হন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী। ওই সময় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে ৮ মে ভারতের তুরার রংনাবাক অরণ্যে এক মাসের গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন নাজমুল। পরে ১১নং সেক্টরের অধীনে ১নং কোম্পানির ১৩৯ জন প্রশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধার দল নিয়ে মাচাংপানিতে ক্যাম্প স্থাপন করেন। তার কমান্ডে থাকা দলটি ‘নাজমুল কোম্পানি’ নামে পরিচিতি পায়। দলটি বেশ কয়েকটি সফল অপারেশনও পরিচালনা করে।

৪ জুলাই ৫৩ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল নিয়ে নাজমুল হানাদারদের ঠেকাতে ঝিনাইগাতির কাটাখালী ব্রিজ ধ্বংসের অপারেশন শুরু করেন। ৫ জুলাই রাতে ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে সফল অভিযান শেষে রাঙ্গামাটি গ্রামের কৃষক নঈমদ্দিনের বাড়িতে বিশ্রামের জন্য আশ্রয় নেন।

৬ জুলাই ভোরে স্থানীয় এক রাজাকারের সংবাদের ভিত্তিতে পাকিস্তানি বাহিনী নঈমুদ্দিনের বাড়ি ঘিরে ফেলে। এসময় নাজমুল আহসান তার সঙ্গী মুক্তিযোদ্ধাদের বিল সাঁতরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আর নিজে শত্রুর মোকাবিলা করতে ব্রাশ ফায়ার শুরু করেন। একটি বাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমণের মুখে নাজমুল চেষ্টা করেন ডিফেন্স ফায়ার করতে করতে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার।

এক পর্যায়ে শত্রুপক্ষের এসএমজির একটি গুলি নাজমুলের বুকে বিদ্ধ হয়। তিনি লুটিয়ে পড়েন বিলের পানিতে। এসময় তাকে রক্ষা করতে এসে শহীদ হন তার চাচাত ভাই মোফাজ্জল ও ভাতিজা আলী হোসেন।

দেশ স্বাধীনের পর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল আহসানের স্মৃতি রক্ষায় ১৯৭২ সালে নালিতাবাড়ীতে নাজমুল স্মৃতি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাদের এই কৃতি শিক্ষার্থীর নামে একটি ছাত্রবাস নির্মাণ করেন।

আরিফুল হক মিলন

নালিতাবাড়ী,শেরপুর

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

  • বারোমারী খিষ্টান মিশন
  • পানিহাটা খিষ্টান মিশন
  • মধুটিলা ইকো পার্ক
  • নাকুগাও স্থল বন্দর
  • রাবার ড্যাম (নালিতাবাড়ী)

বিবিধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে নালিতাবাড়ী উপজেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০১৫ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, পঞ্চম সংস্করণ, দ্বিতীয় মুদ্রণ, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ২৪২ এবং ৩০৬, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  3. আবদুল বাছির, বাংলার কৃষক ও মধ্যবিত্তশ্রেণি, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ, ফেব্রুয়ারি ২০১২, পৃষ্ঠা ১৪০
  4. দরজি আবদুল ওয়াহাব, ময়মনসিংহের চরিতাভিধান, ময়মনসিংহ জেলা দ্বিশতবার্ষিকী উদযাপন কর্তৃপক্ষ, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ, এপ্রিল ১৯৮৯, পৃষ্ঠা ২৫১-২৫২।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]