টিপু শাহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

টিপু শাহ বা টিপু পাগলা বা টিপু গারো (ইংরেজি: Tipu Shah) (? - ৮ অক্টোবর ১৮৫২) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-বিরোধী আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব এবং শেরপুরে সংঘটিত উনিশ শতকের প্রথমদিকের একজন পাগলপন্থি বিদ্রোহী। তাঁর পিতা করম শাহ পাগলাপন্থী সম্প্রদায়ের প্রবর্তক ছিলেন।

পাগলপন্থী বিদ্রোহ[সম্পাদনা]

১৮১৩ সনে পিতার মৃত্যুর পর তিনি গারো হাজংদের সর্দার হয়ে নিপীড়ক জমিদারদের হাত থেকে তাঁদের বাঁচাবার জন্য এক বিরাট সশস্ত্র দল তৈরি করেন এবং ঘোষণা করেন যে বিঘা-পিছু চার আনার বেশি কর দেওয়া হবে না। কেদারনাথ মজুমদার প্রণীত 'ময়মনসিংহের ইতিহাস' এ টিপুর বিদ্রোহের কথা বিস্তৃত ভাবে বর্নিত আছে। বে আইনি কর,খরচা, মাথট, আবোয়াব ইত্যাদি করের বোঝা চাপানোর ফলেই প্রবল বিক্ষোভকে বিদ্রোহে পরিনত করেন টিপু। ১৮২৫ সনে শেরপুরের জমিদার তাঁদের আক্রমণের মুখে পালিয়ে গিয়ে ইংরেজ কালেক্টর ভ্যাম্পিয়ারের কাছে আশ্রয় নেন। শেরপুর শহরকে কেন্দ্র করে টিপু নতুন গারোরাজ্য ও স্বাধীন শাসন ব্যবস্থা চালু করেন[১] এবং "জরিপাগড়" নামে একটি পুরনো কেল্লায় গিয়ে রাজা হয়ে বসেন। ভ্যাম্পিয়ার তাঁকে গ্রেপ্তার করলে সৎ জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতিতে তিনি ছাড়া পান। ১৮২৭ সালে পুনরায় হাঙ্গামার জন্য তিনি গ্রেপ্তার হন। ময়মনসিংহের সেশন-জজের বিচারে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। কারাবাসকালে তাঁর মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর পর তাঁর গৃহ শিষ্যদের পীঠস্থান হয়ে ওঠে। তিনি গারো আদিবাসীদের ধর্মীয় গুরু ছিলেন।[২] টিপু শাহ তাঁর পিতার মতো কামেল পুরুষ এবং ভবিষ্যৎ প্রবক্তা ছিলেন বলে তাঁর ভক্তরা মনে করত। ভক্তদের বিশ্বাস ছিলো যে, টিপু শাহ যা ইচ্ছা তাই করতে পারতেন। টিপুর এই ক্ষমতা ও যোগ্যতা তাঁকে কৃষককুলের নেতৃত্ব গ্রহণে প্রভাবিত করে।[৩]

অন্যান্য নেতৃবৃন্দ[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. সুপ্রকাশ রায় (১৯৭২)। ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গনতান্ত্রিক সংগ্রাম। কলকাতা: ডিএনবিএ ব্রাদার্স। পৃষ্ঠা ১৯৪। 
  2. সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, পঞ্চম সংস্করণ, দ্বিতীয় মুদ্রণ, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ২৬০, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  3. আবদুল বাছির, বাংলার কৃষক ও মধ্যবিত্তশ্রেণি, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, প্রথম প্রকাশ, ফেব্রুয়ারি ২০১২, পৃষ্ঠা ১৩৯