শেরপুর পৌরসভা, শেরপুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(শেরপুর পৌরসভা থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শেরপুর পৌরসভা
শেরপুর পৌরসভা বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
শেরপুর পৌরসভা
শেরপুর পৌরসভা
বাংলাদেশে শেরপুর পৌরসভা, শেরপুরের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৯′৫১″ উত্তর ৯০°১′৯″ পূর্ব / ২৪.৯৯৭৫০° উত্তর ৯০.০১৯১৭° পূর্ব / 24.99750; 90.01917স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৯′৫১″ উত্তর ৯০°১′৯″ পূর্ব / ২৪.৯৯৭৫০° উত্তর ৯০.০১৯১৭° পূর্ব / 24.99750; 90.01917 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগময়মনসিংহ বিভাগ
জেলাশেরপুর জেলা
উপজেলাশেরপুর সদর উপজেলা
প্রতিষ্ঠা১ এপ্রিল ১৮৬৯
আয়তন
 • মোট২৪.৭৫ কিমি (৯.৫৬ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা [১]
 • মোট১,০৪,০০০
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড২১০০
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট Edit this at Wikidata

শেরপুর পৌরসভা বাংলাদেশের শেরপুর সদর উপজেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। শেরপুর শহর ঢাকা থেকে ২০০ কি. মি. দূরে অবস্থিত। এটি দেশের উত্তর প্রান্তে মৃগি নদীর তীরে অবস্থিত। শেরপুর বাংলাদেশের প্রাচীণ পৌরসভাগুলোর মধ্যে একটি। এটি বর্তমানে দেশের প্রথম শ্রেণীর পৌরসভাগুলোর একটি। এটি জেলার কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক অঞ্চল।[২]

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

এই পৌরসভার ভৌগোলিক অবস্থান পূর্ব পশ্চিমে ৮৯-৫০ পূর্ব দ্রাঘিমা হতে ৯০-১৫ পূর্ব দ্রাঘিমা পর্যন্ত এবং উত্তর দক্ষিণে ২৪-৫৫ উত্তর অক্ষাংশ হতে ২৫-১৬ উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত। ২৫°০০′০০″ উত্তর ৯০°০১′০০″ পূর্ব / ২৫.০০০০° উত্তর ৯০.০১৬৭° পূর্ব / 25.0000; 90.0167

সাধারণ তথ্য[সম্পাদনা]

ইংরেজ আমলের প্রথম থেকেই শেরপুর শহর তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার প্রধান প্রধান শহরগুলের অন্যতম ছিল। ১৮৭২ সনের জানুয়ারী মাসের প্রথমবারের মত ময়মনসিংহ জেলার লোক গণনা করা হয়। এই আদমশুমারী অনুয়াযী মাত্র পাঁচটি শহরে পাঁচ হাজার বা ততোধিক লোক সংখ্যা ছিল। যথাক্রমে ময়মনসিংহ বা নাছিরাবাদ ১০,০৬৮, জামালপুর ১৪,৩১২, কিশোরগঞ্জ ১৩,৩৬৭, ধানীখোলা ৬,৭৩০, শেরপুর ৮,০১৪। শেরপুরের লোকসংখ্যার মধ্যে ৪,২৯৭ জন মুসলমান ও ৩,৭১৮ জন হিন্দু ছিল। ইংরেজ সরকার শেরপুর শহরটির উন্নতিকল্পে ও শহর বাসীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যাতায়াত সুবিধার জন্য আদমশুমারীর কয়েক বছর পূর্বে অর্থাৎ ১৮৬৯ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে শেরপুর পৌরসভার পত্তন করেন। শহরটির আয়তন সম্পর্কে হরচন্দ্র চৌধুরী ১৮৭২ সনে প্রকাশিত তার ‘‘সেরপুর বিবরণী’’ গ্রন্থে লিখেছেন ১২ বর্গমাইল। সেই বছরেই ১৫ জানুয়ারী রাতের আদমশুমারীতে অধিবাসীর সংখ্যা ছিল ৭,৯৯১ জন। তন্মেধ্যে পুরুষ ৩,০৮৬ জন্য, স্ত্রী ২,৮১৮ জন, বালক ১,১৩৯ জন ও বালিকা ৯৪১ জন। লোকসংখ্যার অর্ধেক ছিল মুসলিম এবং বাকী অর্ধেক হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। মিউনিসিপ্যাল বার্ষিক ট্যাক্স ছিল মাত্র ৩,০০০ টাকা। শহরের শান্তি রক্ষার জন্য ১জন হেড কনষ্টেবল ও ১০ জন কনেস্টবল ছিল। শহরের সীমা ছিল উত্তরে মনকান্দা, দক্ষিণে সেরী, পূর্বে পাকুড়িয়া ও পশ্চিমে মৃগি নদী। ১৯৬৯ সনে প্রকাশিত অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনের ‘‘সেরপুরের ইতিকথা’’ গ্রন্থে শেরপুর শহরের আয়তন ৯.১/২ বর্গমাইল বলে উল্লেখ করেছেন। এই শহরের লোকসংখ্যা সম্পর্কে যদ্দুর জানা যায় ১৯১১ সনে ছিল ১৫,৫৯১ জন, ১৯২১ সনে হয় ১৭,৮১৩ জন এবং ১৯৬৯ সনে এসে দাড়ায় ২৪,৯২৪ জন। তন্মধ্যে ১৩,১১৩ জন পুরুষ, ১১,৮১১ জন স্ত্রী এবং ১৯,২৮৯ জন মুসলমান, ৪,২৫৮ জন হিন্দু, ১,২৮৫ জন্য নীচ জাতের হিন্দু, ৯১ জন গারো ও খ্রিষ্টান এবং ৪ জন্য অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ছিল। ‘‘শেরপুর জেলা শুভ উদ্বোধন’’ নামে এক স্মরণিকায় ২২ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৪ সনে শেরপুর শহরের লোকসংখ্যা বলা হয়েছে ৫১,৮৫৪ জন। শেরপুর শহরের উন্নয়নকল্পে যে মিউনিসিপ্যালিটির পত্তন হয় উহাতে ১৮৮৬ সন পর্যন্ত গভর্ণমেন্টের মনোনীত ও নির্বাচিত মেম্বারদের মধ্যে মাত্র ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হতো। তদানীন্তন জামালপুর সাব-ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত অফিসার শেরপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকতেন। শেরপুর পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন টি,এ,ডনো (১৮৬৯-১৮৭৪)। ১৩৩৬ বাংলা সালে প্রকাশিত বিজয় চন্দ্র নাগের ‘‘নাগবংশের ইতিহাস’’ গ্রন্থে বলা হয়েছে ‘‘মিউনিসিপ্যালিটির জরাজীর্ণ টিনের অফিস কার্যালয়টি অপসারিত হইয়া বর্তমানে ঐ স্থানে দালান নির্মান আরম্ভ হইয়াছে। এই অফিস ভবন নির্মাণ বাবদ গভর্ণমেন্টের নিকট হতে ৫,০০০ টাকা অনুদান পাওয়া যায় এবং বাকী ৫,০০০ টাকা তৎকালীন চেয়ারম্যান শ্রীযুক্ত হেমন্ত চন্দ্র চৌধুরী (১৯২৭ সন হতে) মহাশয় স্বীয় পিতৃদেব স্বর্গীয় রায়বাহাদুর চারু চন্দ্র চৌধুরী মহাশয়ের স্মৃতিকল্পে মিউনিসিপ্যালিটিকে দান করিয়াছেন। এই অফিস ভবন নির্মাণ কার্য্য শেষ হইলে উহা ‘‘চারু ভবন’’ নামে অভিহিত হবে। পরবর্তীতে ‘চারুভবন’ নামকরন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত এই‘‘চারুভবন’’ এ চারু চন্দ্র চৌধুরীসহ অতীতের কয়েকজন চেয়ারম্যানের ছবি শোভা পেতো। দুর্বৃত্তেরা ইতিহাসের এই চিহ্নগুলো বিভিন্ন সময়ে চুরি করে নিয়ে গেছে। আজকের শেরপুর শহরেকে ৩০/৪০ বছর আগে ‘‘সেরপুর টাউন’’ লিখা হতো। শিক্ষিত প্রবীন ব্যক্তিদের কাছে শুনা যায় দক্ষিন আফ্রিকার কেপ-টাউন, আমেরিকার জজ-টাউনের পরেই পূর্ব পাকিস্তানের ‘‘সেরপুর টাউন’’ খ্যাত ছিল। আবার হরচন্দ্র চৌধুরী তার বইয়ে ‘‘সহর সেরপুর’’ লিখেছেন। এই ‘সহর সেরপুর’ বা শেরপুর শহর ৩০টি মহল্লায় বিভক্ত ছিল। বর্তমানে ২৪.৭৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট শেরপুর পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে ৪১ টি মহল্লায় প্রায় ১,০৪,০০০ জন লোক বসবাস করছে। স্বাধীনতা উত্তর কালে ১৯৭৩ সনে বাংলাদেশের নতুন সংবিধানের বিধান অনুসারে প্রথম অনুষ্ঠিত শেরপুর পৌর নির্বাচনে পৌর ভোটারদের সরাসরি ভোটে প্রবীণ জননেতা ‘‘খন্দকার মজিবর রহমান’’ চেয়ারম্যান এবং ছাত্রনেতা ‘‘আমজাদ হোসেন’’ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।[৩] বর্তমানে পৌরসভায় ১ জন মেয়র, ৩ জন প্যানেল মেয়র, ০৭ জন কাউন্সিলর ও ২ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর আছে।[৪]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

পৌরসভায় বর্তমানে ২টি সরকারী কলেজ, ২টি ব্যাসরকারী কলেজ, ২টি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, ৭টি ব্যাসরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, ২টি রেজিঃ উচ্চ বিদ্যালয়, ২১ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩ টি রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩০টি কিন্ডার গার্ডেন বিদ্যালয় আছে। এচাড়াও ১টি কৃষি ইনস্টিটিউট, ১টি গণগ্রন্থাগার আছে।

স্থাপনা[সম্পাদনা]

পৌরসভায় বর্তমানে ১টি সদর হাসপাতাল, ১টি মা ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, ১টি সরকারী শিশু (মেয়ে) পরিচর্যা কেন্দ্র, ৩টি নার্সিংহোম, ১টি শহীদ মিনার, ২টি কবরস্থান, ১টি মহা শষাণ ঘাট আছে। বিনোদনের জন্য ১টি টেনিস মাঠ, ১টি শিশু পার্ক, ১ টি পার্ক ও ১টি স্টেডিয়াম আছে।[৫]

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

শেরপরের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের স্থলপথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে।[২] সরকারি কোনো বাস সার্ভিস না থাকলেও বেসরকারি অসংখ্য বাস সার্ভিস রয়েছে। এছাড়া জলপথে নৌকা পরিবহনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। শেরপুরে কোন রেলপথ নেই।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

পৌরসভার দর্শনীয় স্থানসমূহ হচ্ছে শের আলী গাজী তুরণ, মাই সাহেবা মসজিদ, মা ভবতারা মন্দির, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, শহীদ মিনার ও পৌর শিশু পার্ক।[৬]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (১৫ মার্চ ২০১৮)। "পৌরসভার সাধারণ তথ্য"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০১৮ 
  2. "Official Website of Sherpur Pourashava"। ২৩ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০১৮ 
  3. পৌরসভার সাধারণ তথ্য
  4. কাউন্সিলরগণ
  5. "At a glance Of Sherpur Pourashava"। ২৪ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০১৮ 
  6. "Sherpur Historical Picture"। ২৩ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মার্চ ২০১৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]