সমরকন্দ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সমরকন্দ
রেগিস্তানের একটি দৃশ্য

Seal
সমরকন্দ উজবেকিস্তান-এ অবস্থিত
সমরকন্দ
Location in Uzbekistan
স্থানাঙ্ক: ৩৯°৩৯′১৫″ উত্তর ৬৬°৫৭′৩৫″ পূর্ব / ৩৯.৬৫৪১৭° উত্তর ৬৬.৯৫৯৭২° পূর্ব / 39.65417; 66.95972
Country  Uzbekistan
Province Samarqand Province
উচ্চতা ৭০২
জনসংখ্যা (2008)
 • শহর ৫৯৬
 • শহুরে ৬৪৩
 • মেট্রো ৭০৮
ওয়েবসাইট http://www.samarkand.info

সমরকন্দ (উজবেক ভাষা: Samarqand/Самарқанд সামার্‌ক্বান্দ্‌, তাজিক ভাষা: Самарқанд স্যাম্যার্‌ক্ব্যান্দ্‌, ফার্সি ভাষা: سمرقند স্যাম্যার্‌গ্যান্দ্‌, রুশ ভাষা: Самарканд সামার্‌কান্দ্‌) মধ্য উজবেকিস্তানের সমরকন্দ প্রদেশের রাজধানী। ইসমাল শিক্ষায় উচ্চশিক্ষার জন্য ইসলামিক সেন্টার এবং চীন এবং পশ্চীমের মধ্যবর্তী স্থল পথ সিল্ক রোডের মধ্যবর্তী অবস্থানের জন্য সমরকন্দ বেশ আলোচিত। এ শহরের অবশিষ্ট ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে বিবি-খানমের মসজিদ সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত। রেগিস্তান (ফার্সি ریگستان) এই শহরের প্রাচীণ কেন্দ্র। ২০০১ সালে ইউনেস্কো ২,৭৫০ বছর পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী শহরকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়।

নামকরণ[সম্পাদনা]

সমরকন্দ শব্দটি এসেছে প্রাচীন ফার্সি ভাষার আসমারা শব্দ থেকে যার অর্থ "পাথর" বা "পাষাণ" এবং সোজিয়ান ভাষার কন্দ শব্দ থেকে যার অর্থ "কেল্লা" বা "শহর"।[১]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

১৯৩৯ সালে সমরকন্দের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১,৩৪,৩৪৬।[২] ২০০৮ সালে শুধু শহরাঞ্চলেই জনসংখ্যা ৫,৯৬,৩০০। এদের বেশির ভাগই ফার্সিভাষী তাজিক জাতির লোক। মধ্য এশিয়ায় বুখারার সাথে সাথে সমরকন্দও তাজিক লোকজনের কাছে একটি অন্যতম ঐতিহাসিক স্থান।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

খ্রিস্টের জন্মের ২০০০ বছর আগেই সমরকন্দে লোকালয় গড়ে ওঠে। এর অবস্থান চীন থেকে মেডিটেরানিয়ান (শিল্ক রোড) পর্যন্ত বাণিজ্যপথের মধ্যে হওয়ায়, প্রাচীনকাল থেকে এ শহরটি বেশ সমৃদ্ধ এবং তখন থেকে শহরটি মধ্যে এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহরে পরিণত হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ অব্দে প্রাচীন পারস্যের সগদিয়ানা প্রদেশের রাজধানীতে পরিণত হয়। পশ্চিমে গ্রিকদের কাছে এটি মারাকান্দা নামে পরিচিতি লাভ করে। মহাবীর আলেকজান্ডার, যিনি এ অঞ্চলে "ইস্কান্দার" নামে পরিচিত, ৩২৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে শহরটি বিজয় করেন। এরপর এটি চীনভূমধ্যসাগরের মধ্যে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বিকাশ লাভ করে। ৮ম শতকের শুরুর দিকে আরবেরা এটি বিজয় করে এবং শীঘ্রই এটি ইসলামী সংস্কৃতির একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১২২০ সালে মঙ্গোল শাসক চেঙ্গিস খান শহরটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন। ১৩৬৯ সালে তৈমুর লং সমরকন্দকে তাঁর সাম্রাজ্যের রাজধানী বানালে শহরটির আবার উন্নতি শুরু হয়। ১৫শ শতকে এসে তৈমুরের সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয় এবং ১৪৯৯ সালে উজবেকরা শহরটি দখলে নিয়ে নেয়। উজবেক শাসকেরা ১৬শ শতকে তাদের রাজধানী বোখারায় সরিয়ে নিলে সমরকন্দের গুরুত্ব কমে যায়। ১৭৮৪ সালে এটি বোখারা শহরের আমীরের অধীনে চলে আসে। ১৮৬৮ সালে রাশিয়া শহরটি দখল করে এবং এটি আবার গুরুত্ব পেতে শুরু করে।

এটি জেরফ্‌শন নদীর পানি দিয়ে সেচকৃত একটি উপত্যকাতে অবস্থিত। এখানে চা, ওয়াইন, বস্ত্র, সার এবং মোটরযানের যন্ত্রপাতি উৎপাদিত হয়। এটি মধ্য এশিয়ার প্রাচীনতম শহর। শহরটি পুরাতন ও নতুন --- দুই অংশে বিভক্ত। শহরের পুরাতন অংশে আছে বহু সৌধ, ১৪শ ও ১৫শ শতকে নির্মিত মসজিদ এবং ১৫শ শতকে নির্মিত মোঙ্গল দিগ্বিজয়ী শাসক তৈমুর লঙের সমাধি। এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাচীন ইতিহাসের একটি জাদুঘর অবস্থিত।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Room, Adrian (2006)। Placenames of the World: Origins and Meanings of the Names for 6,600 Countries, Cities, Territories, Natural Features and Historic Sites (2nd edition সংস্করণ)। London: McFarland। পৃ: 330। আইএসবিএন 0786422483। "Samarkand. City, southeastern Uzbekistan. The city derives its name from that of the former Greek city here of Marakanda, captured by Alexander the Great in 329 B.C.. Its own name derives from the Old Persian asmara, "stone", "rock", and Sogdian kand, "fort", "town"." 
  2. Columbia-Lippincott Gazeteer. p. 1657
  3. D.I. Kertzer/D. Arel, Census and identity, p. 187, Cambridge University Press, 2001