বিষয়বস্তুতে চলুন

সালেহ আল-ফাওজান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গ্র্যান্ড মুফতি

শাইখ সালিহ আল ফাউযান
‎صالح إبن فوزان إبن عبد الله الفوزان
২০১৯ সালে আল-ফাওজান
সৌদি আরবের প্রধান মুফতি
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
২২ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
পূর্বসূরীআবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল শাইখ
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্মরজব ১৩৫৪ হিজরি. / ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ (৯০ বছর)
ধর্মইসলাম
জাতীয়তাসৌদি আরব
যুগআধুনিক
অঞ্চলআরব
আখ্যাসুন্নী
ব্যবহারশাস্ত্রহাম্বালী
ধর্মীয় মতবিশ্বাসসালাফি(আছারী)
আন্দোলনওয়াহাবী, নাজদী
প্রধান আগ্রহআকীদাহ, ফিকহ
যেখানের শিক্ষার্থীইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
মুসলিম নেতা
ওয়েবসাইটhttps://alfawzan.af.org.sa/

শাইখ সালিহ ইবনে ফাউযান ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ফাউযান (জন্ম: ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৩৫) একজন সৌদি ইসলামী পণ্ডিত যিনি ২২ অক্টোবর ২০২৫ সাল থেকে সৌদি আরবের চতুর্থ এবং বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি । [][] তাকে সালাফি আন্দোলনের সবচেয়ে সিনিয়র এবং জ্ঞানী পণ্ডিতদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।

‎ ‎আল-ফাউযান সৌদি আরবের সিনিয়র স্কলারস কাউন্সিল এবং মক্কার ফিকহ কাউন্সিলের সদস্য , মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের সাথে যুক্ত, হজের সময় প্রচারকদের জন্য তত্ত্বাবধান কমিটির সদস্য এবং সৌদি আরব রাজ্যে রিসার্চ এবং ইফতার জন্য স্থায়ী কমিটির সদস্য । এছাড়াও, তিনি সৌদি আরব রাজ্যের রাজধানী রিয়াদে প্রিন্স মুতাইব বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ মসজিদের একজন ইমাম , খতিব এবং শিক্ষক । তিনি রেডিও প্রোগ্রাম নূর আলা আদ-দারবে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করেন এবং নিয়মিত গবেষণা, অধ্যয়ন, চিঠিপত্র এবং ফতোয়া আকারে পণ্ডিতদের জার্নালে অবদান রাখেন । [][]

জীবনী

[সম্পাদনা]

সালেহ আল-ফাওজান আশ-শামসিয়্যাহ-এর ফাওজান পরিবার থেকে আগত। জনশ্রুতি রয়েছে তার পিতা যখন মারা যান তিনি তখন ছোট ছিলেন। এরপর পরিবারের অবশিষ্ট অভিভাবকের দ্বারা প্রতিপালিত হন।[]

শিক্ষা জীবন

[সম্পাদনা]

শাইখ ফাওজানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিকটস্থ মসজিদের ইমামের কাছ থেকে কুরআন শিক্ষা ও মৌলিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে। এরপর তিনি আশ-শামসিয়্যাহর একটি সরকারি বিদ্যালয়ে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর সেখানে অধ্যয়ন করেন। ১৯৫০ সালে তিনি বুরায়দাহ-তে অবস্থিত ফায়সালিয়্যাহ বিদ্যালয় থেকে সেখানকার পড়াশোনা সমাপ্ত করেন এবং শিক্ষক হিসেবে সেই বিদ্যালয়ে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৫২ সালে বুরায়দাহর এডুকেশনাল ইন্সটিটিউট চালু হবার পর শাইখ ফাওজান সেখানে ভর্তি হন এবং ১৯৫৬ সালে গ্রাজুয়েট হন। তিনি ১৯৬০ সালে ইমাম রিয়াদের মুহাম্মদ ইবন সউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে শারিয়াহ ফ্যাকাল্টি থেকে গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করেন। এরপর ফিকাহ-এর উপর মাস্টার্স ও ডক্টরেট করেন।[]

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

ডক্টরেট সম্পন্ন করার পর তিনি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ এডুকেশনাল ইন্সটিটিউট-এর শারিয়াহ ফ্যাকাল্টিতে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে তিনি উচ্চতর শিক্ষা বিভাগ ও উসুল আদ-দ্বীন ফ্যাকাল্টিতে স্থানাতরিত হন। তিনি পরবর্তীতে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই পদ থেকে অব্যাহতির পরে পুনরায় তিনি অধ্যাপনায় ফিরে যান।[]

তিনি সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংস্থা “ঊর্ধ্বতন উলামা পরিষদ”-এর একজন সদস্য ছিলেন যা ধর্মীয় ব্যাপারে বাদশাহকে উপদেশ প্রদান করে থাকে। তিনি বর্তমানে ইসলামী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদান স্থায়ী কমিটির সদস্য, যা “ঊর্ধ্বতন উলামা পরিষদ”-এর একটি কমিটি। এই পরিষদটি ঊর্ধ্বতন ধর্মতত্ত্ববিদের দ্বারা ইসলামী আইন বা ফিকাহ-এর বিষয় ও বিধিবিধান এবং গবেষণা পত্র প্রণয়ন করে থাকে।

সৌদি আরবের প্রধান মুফতি

[সম্পাদনা]

২০২৫ সালের ২২ অক্টোবরে, সৌদি আরবের বাদশাহ তাকে আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল শাইখের স্থলাভিষিক্ত করে সৌদি আরবের প্রধান মুফতি নিযুক্ত করেন ।[]

লিখিত বই

[সম্পাদনা]
  • আকীদাহ আত-তাওহীদ
  • আল-ইরশাদ ইলা সহিহ আল-ই'তিকাদ
  • শারহুল আকীদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ
  • শারহুল মাসাইলিল জাহিলিয়্যাহ

দৃষ্টিকোণ

[সম্পাদনা]

শাইখ ফাওজান তার একটি রেকর্ড করা বক্তব্যে দাসত্বের ব্যাপারে বলেন যা ২০০৩ সালে আলোর মুখ দেখে এবং বিতর্কের মধ্যে পড়ে। তার বিতর্কিত উদ্ধৃতিটি হলঃ “দাসত্ব ইসলামের একটি অংশ............... দাসত্ব জিহাদের অংশ এবং জিহাদ ততদিন থাকবে যতদিন ইসলাম থাকবে।” যে আধুনিকতাবাদী ব্যাখ্যাতে বলা হয়ে থাকে “ইসলামে দাসত্ব সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে” তিনি সেই মতামতকে অগ্রাহ্য করেন এবং বলেন, “তারা অজ্ঞ, পণ্ডিত নয়... যে যাই বলুক তারা অবিশ্বাসীদের মতো কথা বলছে।”[][]

২০১৪ সালের মার্চ মাসে বুফেতে খাদ্য গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তিনি বলেন, “আমাকে দায়ী করা হয় আমি বুফেতে খাদ্য গ্রহণকে নিষিদ্ধ বলেছি, অথচ এটি আপাত মিথ্যা কল্পনা ও জালিয়াতি দ্বারা অনুপ্রাণিত”।[]

২০১৬ সালের মে মাসে আবার পশ্চিমা মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যখন তিনি বিড়ালের সঙ্গে ছবি তোলার নতুন প্রবণতার ব্যাপারে বলেন। তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “কি? আপনি বিড়ালের সাথে ছবি তোলা বলতে কি বোঝাচ্ছেন?” এরপর তিনি বলেন, “অকারণে ছবি তোলাই নিষিদ্ধ, বিড়াল এখানে বিষয় না”।[][১০][১১][১২][১৩]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "صالح بن فوزان الفوزان - طريق الإسلام"। ২৫ জুন ২০২০। ২৫ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০২৫
  2. The Muslim 500: The World's 500 Most Influential Muslims, 2020। The Royal Islamic Strategic Studies Centre। ২০১৯। পৃ. ১৪৫। আইএসবিএন ৯৭৮৯৯৫৭৬৩৫৪৪২
  3. "Scholars Biographies. Shaykh Dr. Saalih Ibn Fowzaan Ibn 'Abdullaah Ibn Fowzaan"। Fatwa-online.com। ২ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০১৪
  4. 1 2 "Author of Saudi Curriculums Advocates Slavery"। SIA News। ১৮ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০১৪
  5. 1 2 3 "Scholars Biographies. Shaykh Dr. Saalih Ibn Fowzaan Ibn 'Abdullaah Ibn Fowzaan"। Fatwa-online.com। ২ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০১৪
  6. "Sheikh Saleh Al-Fawzan named Grand Mufti of Saudi Arabia"Saudigazette (English ভাষায়)। ২২ অক্টোবর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৩ অক্টোবর ২০২৫{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  7. "Taming a Neo-Qutubite Fanatic Part 1" (পিডিএফ)। salafi publications, abdurrahman.org। পৃ. ২৪। ২৭ মে ২০১৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০১৪Questioner: ... one of the contemporary writers is of the view that this religion, at its inception, was compelled to accept the institution of slavery ... [but] ... that the intent of the Legislator [i.e. God] is to gradually end this institution of slavery. So what is your view on this?
    Shaikh Salih alFawzaan: These are words of falsehood (baatil) ... despite that many of the writers and thinkers -- and we do not say scholars -- repeat these words. Rather we say that they are thinkers (mufakkireen), just as they call them. And it is unfortunate, that they also call them `Du'at' (callers). ... These words are falsehood ... This is deviation and a false accusation against Islaam. And if it had not been for the excuse of ignorance [because] we excuse them on account of (their) ignorance so we do not say that they are Unbelievers because they are ignorant and are blind followers .... Otherwise, these statements are very dangerous and if a person said them deliberately he would become apostate and leave Islaam. ..."
  8. http://english.alarabiya.net/en/variety/2014/03/18/Saudi-cleric-claims-he-didn-t-issue-a-fatwa-against-all-you-can-eat-buffets.html
  9. "Senior Saudi Cleric Saleh Al-Fawzan: Taking Pictures with (or without) Cats Is Forbidden"। www.memritv.org। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৬
  10. Brulliard, Karin। "Saudi cleric: You may not take photos with cats — or anything else"The Washington Post। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৬
  11. "Senior Saudi cleric bans taking photographs of cats in a bid to stop people trying 'to be like Westerners'"Daily Mail। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৬
  12. "Senior Saudi cleric bans people from taking selfies with cats"The Independent। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৬
  13. "Saudi cleric says people need to quit taking selfies with their cats"The Week। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১৬

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

জীবনী

[সম্পাদনা]