আহলে হাদীস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আহলে হাদীস বা আহল-ই-হাদীস ফার্সি শব্দ বা আসহাবুল হাদীস (আরবি: Ahl al-ḥadīth; أهل الحديث) অথবা (Aşḥāb al-ḥadīth; أصحاب الحديث) যার শব্দিক অর্থ হল, হাদীসের অনুসারী। পারিভাষিক অর্থঃ কুরআন এবং ছহীহ হাদীসের নিরপেক্ষ অনুসারী । বিশিষ্ট আলেমগণ বলে থাকেন, যেহেতু, হাদীসের মধ্যে আসছে কুর'আন কে উৎকৃষ্ট বাণী বলা হয়েছে (রিয়াযুস স্বলিহীন ১ম খন্ড হা/১৭০), আর হাদীসের শব্দিক অর্থ বাণী, যেহেতু রাসূল (সাঃ) এর বাণী হচ্ছে হাদীস, তাই সব মিলিয়ে আহলে হাদীস বা আসহাবুল হাদীস অর্থ কুর'আন এবং ছহীহ হাদীসের অনুসারী। পূর্ববর্তী আলেমদের অভিমত, এরা হল মুসলিম উম্মাহর মধ্যকার এমন একটি দল যারা কুরআন এবং হাদীসের অনুসরণে সকল মাযহাবের চেয়ে এগিয়ে।

তারা প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের ইমাম, ইমাম আবু হানিফা (রহঃ), ইমাম মালিক (রহঃ), ইমাম শাফী (রহঃ), ইমাম হাম্বল (রহঃ) সহ সকল মুজতাহিদগণের ফতোয়াকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে, তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট মাযহাব বা ইমামের মতকে এককভাবে অনুসরণ করেন না।

তাদের আরো বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, তারা কুর'আন এবং ছহীহ হাদীসকে সর্ব প্রথম অনুসরণ করেন, তারপরে অস্পষ্ট বিষয়গুলিতে ইমামগণ অর্থাৎ মুজতাহিদদের ফতোয়া পর্যালোচনা করে গ্রহণ করেন। তারা বা আহলে হাদীস আলেমগণ হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে হাদীসের সনদ যাচাই বাছাইয়ের পর সহীহ, দূর্বল, জাল এভাবে হাদীসের শ্রেণি বিভাগ করেন। ১৪০০ বছর পূর্বে মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর সাহাবি (রাঃ) গণ যেভাবে ইসলাম পালন করেছেন, বুঝছেন, বিশ্বাস করেছেন সেই মূলেই মুসলিম উম্মাহকে দলাদলি, বিভিন্ন মতবাদ ছেড়ে ফিরে যাওয়ার দাওয়াত দেয়।

বিভিন্ন ইতিহাসবিদগণের তথ্য অনুযায়ী জানা যায় যে, উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে আহলে হাদীস গণ আগ্রনী ভূমিকা পালন করেন।

উপমহাদেশে বর্তমানে আহলে হাদীসদের দুটি সংগঠনকে দেখতে পাওয়া যায়, যারা ধর্ম প্রচারের কাজ করে থাকে। একটি "জমিয়তে আহলে হাদীস", যা ১৯৪৮ সালে ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠা লাভ করে, ১৯৬০ সালে বাংলা একাডেমীর পুরষ্কার প্রাপ্ত প্রথম সাহিত্যিক আল্লামা আব্দুল্লাহেল কাফী আল কোরায়েসীর মাধ্যমে এবং অ্ন্য সংগঠনটি হল "আহলে হাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ", যা ১৯৯৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব প্রতিষ্ঠা করেন ।

আহলে হাদীসরা সর্বাবস্থাতে দাড়ি রাখাকে ওয়াজিব মনে করে এবং তাদের সালাত বা নামায আদায়ের পদ্ধতি প্রচলিত হানাফি মাযহাবের নামায পড়ার পদ্ধতি থেকে কিছুটা ভিন্ন। তারা নামাজে দন্ডায়মান অবস্থায় বুকে হাত বাঁধে এবং তারা নামায শেষে ইমামের নেতৃত্বে সম্মিলিত মোনাজাত করে না। এদিক থেকে তাদের নামাযের পদ্ধতির সাথে মালিকি, শাফেয়ী এবং হাম্বলী মাযহাবের মিল খুজে পাওয়া যায়। আহলে হাদীসদের অন্যতম একটা বৈশিষ্ট হল তাঁরা শির্ক এবং বিদআতের বেপারে কোনো আপোষ করেন না এবং খাঁটি ও নির্ভেজাল তাওহীদের দাওয়াত ই তাঁদের লক্ষ্য। আহলে হাদীসদের বিশ্বাস, মুক্তির একই পথ দাওয়াত ও জিহাদ & সকল বিধান বাতিল করো, ওহীর বিধান কায়েম করো।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

১। আহলেহাদীছ আন্দোলন, উৎপত্তি ও ক্রম বিকাশ, দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষিত সহ - প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল গালিব ২। আহলেহাদীছ পরিচিতি - আল্লামা আব্দুল্লাহেল কাফী আল কোরায়েসী (রহঃ) ৩। দি ইন্ডীয়ান মুসলমানস - ডাব্লিউ ডাব্লিউ হান্টার (অনুবাদঃ এম. আনিছুজ্জামান, প্রকাশনীঃ খোশরোজ কিতাব মহল) । ৪। ওহাবী আন্দোলন - আবদুল মওদূদ

টেমপ্লেট:অপসারন