আশআরী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আশ'আরী (আরবি: ﺍﻷﺷﻌﺮﻳﺔ‎‎) ইসলামের বিশ্বাসগত একটি মতবাদ। ইমাম আবু হাসান আশআরী, একজন ইসলামী আক্বিদার ব্যাখ্যাকারক, মুতাযিলাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেছেন। তাঁর লেখা থেকে এই মতবাদের জন্ম হয়। এটি মাতুরিদী মতের কাছাকাছি একটি মত। শাফেয়ীমালেকী মাজহাবের অনুসারীদের মধ্যে এই মতবাদ অধিক প্রচলিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইমাম আবূ হানীফার প্রায় এক শতাব্দী পরে মূলধারার আলিমগণের মধ্যে চতুর্থ আরেকটি ধারা জন্মলাভ করে। তাঁরা ‘আহলুস সুন্নাহ’ বা সাহাবী-তাবিয়ীগণ ও ইমামগণের মতের ধারক ছিলেন। পাশাপাশি মুতাযিলীদের দর্শনভিত্তিক মতবাদ খন্ডন করতে যেয়ে তাঁরাও দর্শন-প্রভাবিত হয়ে পড়েন। তাঁরা আল্লাহর কিছু বিশেষণ স্বীকার করেন এবং কিছু বিশেষণ ব্যাখ্যা করেন। বাহ্যত দর্শনের প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের মন থেকে "আল্লাহর সাথে সৃষ্টজীবের তুলনা"র ধারণা অপসারণ করতেই তারা এরূপ ব্যাখ্যা করেন। ক্রমান্বয়ে দর্শন নির্ভরতা ও ব্যাখ্যা প্রবণতা বাড়তে থাকে।

এ ধারার প্রবর্তকদের অন্যতম বসরার সুপ্রসিদ্ধ ‘ইলমুল কালাম’ বিশেষজ্ঞ ইমাম ইবন কুল্লাব: আবূ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন সাঈদ আল-কাত্তান (২৪১ হি)। মুতাযিলীদের প্রতাপের যুগে মামুনের দরবারে তিনি আহলুস সুন্নাতের পক্ষে বিতর্কে মুতাযিলীদেরকে পরাস্ত করেন। তিনি মহান আল্লাহর ‘যাতী’ বা ‘সত্তীয়’ বিশেষণগুলো স্বীকার করতেন। তবে তিনি মহান আল্লাহর ‘ফিলী’ বা কর্ম বিষয়ক বিশেষণগুলো ব্যাখ্যা করতেন (রূপক অর্থ গ্রহণ করতেন)। ইবন কুল্লাবের ছাত্র ইমাম আবুল হাসান আলী ইবন ইসমাঈল আল-আশআরী (৩২৪ হি) তাঁর মত সমর্থন করেন এবং ‘‘আশআরী’’ মতবাদের জন্ম হয়।

বিশ্বাস[সম্পাদনা]

আশআরী মতবাদে আল্লাহর ৭ বা ৮ টি বিশেষণকে স্বীকার করা হয়। সেগুলো নিম্নরূপ:

  1. হায়াত (الحياة) বা জীবন
  2. কুদরত (القدرة) বা ক্ষমতা
  3. ইলম (العلم) বা জ্ঞান
  4. ইরাদা (الإرادة) বা ইচ্ছা
  5. সামউ (السمع) বা শ্রবণ
  6. বাসার (البصر) বা দর্শন
  7. কালাম (الكلام) বা কথা
  8. তাকবীন (التكوين) বা তৈরি করা।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]