বিষয়বস্তুতে চলুন

বঙ্গভবন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বঙ্গভবন
বঙ্গভবনের আকাশস্থ দৃশ্য
মানচিত্র
প্রাক্তন নামগভর্নর হাউস, মানুক হাউস
সাধারণ তথ্যাবলী
স্থাপত্যশৈলীমুঘল স্থাপত্য
শহরঢাকা
দেশবাংলাদেশ
নির্মাণ শুরু১৯০৫
কারিগরি বিবরণ
আকার৬,৭০০ বর্গমিটার
নকশা ও নির্মাণ
স্থপতিঅজানা
ওয়েবসাইট
bangabhaban.gov.bd

বঙ্গভবন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও কার্যালয়।[] এই স্থাপনাটি দেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। প্রাসাদটি মূলত ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয়ের অস্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত স্থাপনাটি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে পিটার ডি. হাস এর সাথে বৈঠক করছেন
বঙ্গভবনের গেইট দিয়ে গাড়ি প্রবেশের দৃশ্য

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
১৯০৪ সালে মানুক বাড়ি; পরে তা রাষ্ট্রপতির বাসভবন হিসেবে বঙ্গভবনে পরিনত করা হয়।

বাংলা সালতানাতের আমলে, বর্তমানে বঙ্গভবন যে স্থানে রয়েছে তা ছিল হযরত শাহজালাল দাখিনি নামক ঢাকার এক সুফিসাধকের। সুলতানের চরের দ্বারা সুফিসাধক এবং তার অনুসারীগণ নিহত হলে তাদের এখানে কবর দেওয়া হয়। স্থানটি জলদি সাধকের ভক্তদের মাঝে মাজার হিসেবে পরিচিত লাভ করতে থাকে। বঙ্গভবন এলাকায় মানুক হাউস নামে একটি ইমারত ছিল। জনশ্রুতি আছে ব্রিটিশ রাজত্বের সময় আর্মেনীয় জমিদার মানুকের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। ঢাকার নবাব খাজা আবদুল গনি মানুকের কাছ থেকে স্থানটি কিনে নেন এবং এখানে একটি বাংলো তৈরি করেন, যার নাম দেওয়া হয় 'দিলখুশা'[]

১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পরে পূর্ববঙ্গ ও আসামের সরকার এ স্থানটি কিনে নেয় এবং একটি প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করে যা ১৯১১ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেলের অস্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯১১ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রাসাদটিকে গভর্নর হাউস নামে ডাকা হত এবং বাংলার গভর্নরের অস্থায়ী বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হত। ভারত বিভাগের পরে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্ম হয় এবং প্রাসাদটি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের বাসভবনে পরিণত হয়। ভবনটি ১৯৬১ সালে বেশ কয়েক বার ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৬৪ সালে ভবনটি পুনঃনির্মাণ শেষ হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে ১৯৭২ সালের জানুয়ারির ১২ তারিখে গভর্নর হাউসের নাম পরিবর্তন করে 'বঙ্গভবন' করা হয়। ওই দিনই আবু সাইদ চৌধুরী বাংলাদেশের প্রথম সাংবিধানিক রাষ্ট্রপতি হন এবং এ স্থানকে রাষ্ট্রপতির বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানহুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলেও ভবনটি রাষ্ট্রপতির বাসভবন ছিল।

বঙ্গভবন বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। বঙ্গভবন যেহেতু রাষ্ট্রপতির বাসভবন সেহেতু এটি যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের সমমর্যাদা বহন করে। বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে এর পরিচর্যা করা হয়। কারণ এটি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং এ সময় এটি জনসংযোগ মাধ্যমসমূহ ও পর্যটকদের মধ্যমনিতে পরিণত হয়। স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবসে এখানে আমজনতার জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এ প্রাসাদে বসবাস করেন এবং এবং তার দায়িত্বের অধীনে যাবতীয় সরকারি কার্যাদি সম্পাদন করে থাকেন। এখানে প্রায়ই বিভিন্ন সভা, সম্মেলন এবং রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করা হয়।

ব্রিটিশ আমলে ঢাকায় স্থাপিত অন্যান্য স্থাপত্যের মতো বঙ্গভবনও অনেকটা ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। ১৯৬১ এবং ১৯৬৪ সালে সংস্কারের পর এখানে ইসলামি স্থাপত্য ও বাঙালি স্থাপত্যের সমন্বয় ঘটানো হয়। চারদিকে লম্বা প্রাচীর ঘেরা মূলভবন ত্রিতল। প্রাসাদোপম চত্ত্বরের চারপাশে সবুজ এবং বৃক্ষরাজি দ্বারা আবৃত। নিচতলার মেঝের চত্বরের ক্ষেত্রফল ৬৭০০ বর্গমিটার। রাষ্ট্রপতির বাসভবন উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত, এর দ্বিতীয় তলায় পাঁচটি সুদৃশ্য শয়নকক্ষ রয়েছে।

রাতের বেলায় বঙ্গভবনের সুসজ্জিত প্রধান ফটক

রাষ্ট্রপতির দপ্তর, সামরিক ও বেসামরিক সচিবালয়, অন্যান্য কর্মকর্তা এবং দর্শকদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কক্ষগুলো নিচতলায় অবস্থিত। এছাড়া এতে রয়েছে আসবাবপত্র রাখার কক্ষ, একটি সম্ভোজনকক্ষ, একটি দরবারকক্ষ, একটি ছোটো ভোজনকক্ষ এবং স্থানীয় দর্শনার্থীদের জন্য একটি ছোটো সভাকক্ষ। এ ছাড়া দ্বিতীয় তলায় পাঁচটি অফিসকক্ষ, একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ এবং একটি স্টোডিও আছে। তৃতীয় তলায় বৈদেশিক কূটনীতিক এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে চারটি আলাদা কক্ষসমষ্টি।

রাতের বেলায় বঙ্গভবনের সৌন্দর্য্য!

বঙ্গভবনে রয়েছে ৪৭ একরের খোলা জায়গা, এখানে নিরাপত্তা-অফিস, ডাকঘর, ব্যাংক, ক্যান্টিন, দর্জির দোকান, একটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ, রাষ্ট্রপতি নিরাপত্তা রেজিমেন্টের জন্য একটি ব্যারাক রয়েছে, যা বঙ্গভবনের প্রধান ফটকের কাছাকাছি অবস্থিত। বঙ্গভবনের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য থাকার কোয়ার্টার রয়েছে বঙ্গভবনের আলাদা তিনটি স্থানে। এখানে সামরিক সচিব এবং সহকারী সামরিক সচিবের জন্য রয়েছে আরও দুটি বাংলো।

বঙ্গভবনে বসবাসকৃত রাষ্ট্রপতিদের তালিকা

[সম্পাদনা]
নামমেয়াদকালমনোনীত/নির্বাচিত সরকারজেলা
আবু সাঈদ চৌধুরী১৯৭২ – ১৯৭৩বাংলাদেশ আওয়ামী লীগপাবনা
মোহাম্মদউল্লাহ১৯৭৩ – ১৯৭৫বাংলাদেশ আওয়ামী লীগলক্ষ্মীপুর
শেখ মুজিবুর রহমান১৯৭৫ (জানুয়ারি–আগস্ট)বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (বাকশাল)গোপালগঞ্জ
খন্দকার মোশতাক আহমেদ১৯৭৫ (আগস্ট–নভেম্বর)সাময়িক সরকার (সেনা অভ্যুত্থান পরবর্তী)কুমিল্লা
আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম১৯৭৫ – ১৯৭৭নির্দলীয় (সামরিক শাসন)রংপুর
জিয়াউর রহমান১৯৭৭ – ১৯৮১বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)বগুড়া
আব্দুস সাত্তার১৯৮১ – ১৯৮২বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)বীরভূম (বর্তমান ভারত/স্থায়ী নিবাস ঢাকা)
আ ফ ম আহসানউদ্দিন চৌধুরী১৯৮২ – ১৯৮৩নির্দলীয় (সামরিক শাসন)ময়মনসিংহ
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ১৯৮৩ – ১৯৯০জাতীয় পার্টিকুড়িগ্রাম
শাহাবুদ্দিন আহমেদ১৯৯০–৯১ (অস্থায়ী) ও ১৯৯৬–২০০১নির্দলীয় ও আওয়ামী লীগনেত্রকোনা
আবদুর রহমান বিশ্বাস১৯৯১ – ১৯৯৬বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)বরিশাল
একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী২০০১ – ২০০২বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)মুন্সীগঞ্জ
ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ২০০২ – ২০০৯বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)মুন্সীগঞ্জ
জিল্লুর রহমান২০০৯ – ২০১৩বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকিশোরগঞ্জ
আব্দুল হামিদ২০১৩ – ২০২৩বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকিশোরগঞ্জ
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন২০২৩ – বর্তমানবাংলাদেশ আওয়ামী লীগপাবনা

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]
  • উইকিমিডিয়া কমন্সে বঙ্গভবন সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।