বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান জীববিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে প্রজাতির উৎপত্তি ও ক্রমবিবর্তন নিয়ে গবেষণা করা হয়। যিনি বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেন, তাকে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী বলে। দার্শনিক কিম স্টেরেলনি বলেন, “১৮৫৮ সালের পর থেকে বিবর্তনমূলক জীববিজ্ঞানের অগ্রগতি বিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৌদ্ধিক অর্জন”।[১]

বর্ণনা[সম্পাদনা]

বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান একটি আন্তঃশাস্ত্রীয় ক্ষেত্র, কারণ গবেষণাগার ভিত্তিক এবং মাঠ পর্যায়ের বিজ্ঞানীরাও এই ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত। যেসব বিশেষজ্ঞ স্তন্যপায়ী, পাখি অথবা উভচরদের কেইস স্টাডি হিসেবে ব্যবহার করে জৈববিবর্তন সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর খোজেন, তারাও এই বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও যেসব জীবাশ্মবিদ ও ভূতত্ত্ববিদ জীবাশ্মের মাধ্যমে বিবর্তনের গতি সম্পর্কে গবেষণা করেন, যেসব তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বংশগতিবিদ্যা (Population genetics) এবং বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানে কাজ করছেন, তাদেরকেও বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী বলা হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীরা ড্রসোফিলা মাছি ব্যবহার করে বার্ধক্যের বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করছেন, তাছাড়া পরীক্ষামূলক বিবর্তনও জীববিজ্ঞানের একটি খুব সক্রিয় উপশাখা। বিবর্তনের আধুনিক সংশ্লেষণী তত্ত্বে ডেভেলপমেন্টাল জীববিজ্ঞানকে বাদ দেওয়া হলেও ’৯০ এর দশকে এটি আবার বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানে পুনঃপ্রবেশ করে।

বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের গবেষণার ফলাফল মানুষের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিবর্তন ও বিবর্তনীয় আচরণ সম্পর্কিত গবেষণার রসদ জুগিয়ে থাকে। বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের কাঠামো ও কর্মপদ্ধতি এখন কম্পিউটার বিজ্ঞান, ন্যানোটেকনোলজি থেকে শুরু করে আরও অনেক শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিবর্তনীয় পথ্যশাস্ত্রেও এই বিজ্ঞানের অবদান রয়েছে।[২][৩]

কৃত্রিম প্রাণ জৈবতথ্য বিজ্ঞানের একটি উপশাখা যা গবেষণাগারে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের বর্ণীত জৈববিবর্তনের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা করছে। এটি সাধারণত গণিত ও কম্পিউটার নকশার সাহায্যে করা হয়ে থাকে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

’৩০ ও ’৪০ এর দশকে বিবর্তন তত্ত্বের আধুনিক সংশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষায়তনে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা পায়।[৪] তবে ’৭০ ও ’৮০ এর দশকের আগে খুব কম বিশ্ববিদ্যালয়ই আলাদাভাবে তাদের কোন অনুষদকে “বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান” নামকরণ করেছিল। আণবিক ও কোষ জীববিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের জীববিজ্ঞান অনুষদকে ভাগ করে আণবিক ও কোষজীববিজ্ঞান এবং পরিবেশবিজ্ঞান ও বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান(এই অনুষদটি মূলত প্রাণীবিদ্যা, জীবাশ্মবিদ্যা প্রভৃতি অনুষদগুলোকে একীভূত করে গঠিত হয়েছিল) অনুষদে বিভক্ত করেছিল।

সাম্প্রতিককালে অণুজীববিজ্ঞানকে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অণুজীববিজ্ঞানে প্রজাতি ধারণার অভাব এবং প্রাণীদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্যের স্বল্পতা থাকায় আগে একে বিবেচনা করা হত না। কিন্তু এখন বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানীরা অণুজীবের শরীরবিদ্যা, তাদের অপেক্ষাকৃত সরল জিনোম এবং তাদের দ্রুতগতির প্রজননকে কাজে লাগিয়ে বিবর্তন সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করছেন। একই কারণে ভাইরাসের বিবর্তন, বিশেষ করে ব্যাকটেরিওফাজের বিবর্তন সম্পর্কিত রহস্যগুলোও উন্মোচিত হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য গবেষক
যেসব বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের জন্য জনপ্রিয়
বিবর্তনবিদ্যা জনপ্রিয়করণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিবর্গ যাঁদের গবেষণা বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত নয়

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

পাঠ্যপুস্তক[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য এককগ্রন্থ ও অন্যান্য[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Sterelny, K. (২০০৯)। "Philosophy of Evolutionary Thought"। Michael Ruse & Joseph Travis। Evolution: The First Four Billion Years। Cambridge, Massachusetts: The Belknap Press of Harvard University Press। পৃষ্ঠা 313। আইএসবিএন 978-0-674-03175-3 
  2. Nesse, R.M., & Williams, G.C. (১৯৯৬)। Evolution and Healing: The New Science of Darwinian Medicine। London: Phoenix। আইএসবিএন 1-85799-506-6 
  3. Antolin, M.F. (২০০৯)। "Evolutionary Biology of Disease and Darwinian Medicine"। Michael Ruse & Joseph Travis। Evolution: The First Four Billion Years। Cambridge, Massachusetts: The Belknap Press of Harvard University Press। পৃষ্ঠা 281–298। আইএসবিএন 978-0-674-03175-3 
  4. Sterelny (2009) p.314