জাকির নায়েক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জাকির নায়েক
Dr Zakir Naik.jpg
জন্ম জাকির আবদুল করিম নায়েক
(১৯৬৫-১০-১৮) ১৮ অক্টোবর ১৯৬৫ (বয়স ৪৯)
জাতীয়তা ভারতীয়
বংশোদ্ভূত ভারতীয়
নাগরিকত্ব ভারত
পেশা ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বক্তা
কার্যকাল ১৯৯১- বর্তমান
যে জন্য পরিচিত দাওয়াহ, পিস টিভি নেটওয়ার্ক
প্রভাবিত হয়েছেন আল-কুরআন
ধর্ম ইসলাম
দম্পতি ফারহাত নায়েক
পুরস্কার কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার, ইসলামে অবদান, ২০১৫
ওয়েবসাইট
IRF.net
PeaceTV.tv

জাকির আব্দুল করিম নায়েক (ইংরেজি: Zakir Naik, আরবি: زاكر نايك) (জন্ম: অক্টোবর ১৮, ১৯৬৫) একজন ভারতীয় ইসলামী চিন্তাবিদ, বক্তা ও লেখক যিনি ইসলাম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে কাজ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন ডাক্তার। মহারাষ্ট্র থেকে শল্যচিকিৎসায় ডিগ্রি অর্জন করলেও ১৯৯১ সাল থেকে তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারে মনোনিবেশ করেছেন।[১] বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে তিনি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে পণ্ডিত এবং অপরিমেয় স্মৃতিশক্তিধর বক্তা হিসাবে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন।

জাকির নায়েক ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন নামক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা যেটি পিস টিভি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে থাকে।[১] তিনি বক্তৃতার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম সম্পর্ক কোরআনহাদীসের আলোকে সঠিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেন। বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইসলামের অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করা তাঁর অন্যতম কৌশল।

মুসলিম বিশ্বে জনপ্রিয় হলেও জাকির নায়েক তাঁর কোন কোন বক্তব্য ও মতের জন্য সমালোচিত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিন লাদেন যদি যুক্তরাষ্ট্রের মত সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে সন্ত্রাসের মাধ্যমে হুমকির সম্মুখীন করে তাহলে তিনি বিন লাদেনের পক্ষে। 'ইসলামের শত্রু বা যুক্তরাষ্ট্রকে কোন উপায়ে হুমকির সম্মুখীন করাকে সন্ত্রাস' বলা হলে তিনি প্রত্যেক মুসলিমেরই সন্ত্রাসী হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। আফগান বংশোদ্ভূত সন্ত্রাসী নাজিবুল্লাহ জাজি জাকির নায়েকের বক্তৃতা শুনে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন [২]

জীবনী[সম্পাদনা]

জাকির আবদুল করিম নায়েক ১৮ অক্টোবর ১৯৬৫ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম গ্রহণ করেন । তিনি মুম্বাইয়ের সেন্ট পিটার্স হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন । তারপর তিনি কিশিনচাঁদ চেল্লারাম কলেজে ভর্তি হন । তিনি মেডিসিনের ওপর টোপিওয়ালা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড নাইর হসপিটালে ভর্তি হন । অতঃপর, তিনি ইউনিভার্সিটি অফ মুম্বাই থেকে ব্যাচেলর অফ মেডিসিন সার্জারি বা এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন । তাঁর স্ত্রী ফরহাত নায়েক । তিনি আইআরএফ এর নারীদের শাখায় কাজ করেন । তিনি ১৯৯১ সালে ডাক্তারি পেশায় সবোর্চ্চ ডিগ্রী নেওয়ার পরও ধর্ম শাস্ত্রের একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী পণ্ডিত হয়ে উঠেছেন।[৩][৪] একই সময় তিনি আইআরএফ প্রতিষ্ঠা করেন । ডাঃ জাকির বলেন তিনি আহমেদ দিদাতের দ্বারা অনুপ্রাণিত । ডাঃ জাকির ইসলামের এই প্রখ্যাত দায়ী সাথে ১৯৮৭ সালে সাক্ষাত করেন । (ডাঃ জাকিরকে অনেক সময় ‘’’দিদাত প্লাস’’’ বলা হয়, এই উপাধি দিদাত নিজে দেন ।) ডাঃ জাকির বলেন তাঁর লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষিত মুসলমানরা যারা তাদের নিজ ধর্মকে ত্রুটিপূর্ণ, সেকেলে বলে মনে করেন । তিনি মনে করেন, প্রত্যেক মুসলিমের উচিত ইসলাম সম্বন্ধে ভুল ধারণা গুলো ভেঙে দেওয়া এবং পশ্চিমা মিডিয়ার ইসলামের ওপর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো । ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলতে যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বর ১১, ২০০১ এর আক্রমণ বা নাইন ইলেভেন এর সাজানো নাটককে তিনি বোঝান । তাঁর কিছু নিবন্ধ ‘’’ইসলামিক ভয়েস’’’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় । থমাস ব্লম হানসেন লিখেছেন যে, ডাঃ জাকিরের কুরআন ও হাদিয়াহ মনে রাখার ভঙ্গী একটি সাহিত্য । এ ভঙ্গী বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত । তিনি আরও বলেন, তিনি ধর্ম প্রচারের কাজে নিয়োজিত । তাঁর এ ভঙ্গী বহু মুসলিম ও অমুসলিমদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় । তাঁর অনেক লেকচার রেকর্ড করা হয় এবং ডিভিডি মিডিয়া ও অনলাইনে প্রচারিত হয় । তাঁর লেকচার সাধারণত ইংরেজিতে রেকর্ড করা হয় । তা মুম্বাইতে সপ্তাহান্তে প্রচার করা হয় । তাঁর লেকচার পিস টিভিতেও প্রচার করা হয় । তিনি এই চ্যানেলের সহ- প্রযোজক । বিতর্ক ও সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় বক্তব্যের প্রমাণে তিনি বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে অধ্যায় ও পৃষ্ঠা নম্বর দ্বারা রেফারেন্স দিয়ে থাকেন। তিনি ‘’’ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান’’’, ‘’’ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্ম’’’ এবং ‘’’ইসলাম ও জড়বাদ’’’ বিষয়ে লেকচার দেন । পিস টিভি বাংলা সংস্করণ বের করে । এর নাম দেওয়া হয় ‘’’পিস টিভি বাংলা’’’ । এখানে ডাঃ জাকিরের লেকচার বাংলায় প্রচার করা হয় । তাছাড়া, বাংলাদেশী চ্যানেল ‘’’ইসলামিক টিভিতে’’’ও তাঁর লেকচার প্রচার করা হয় ।

বক্তৃতা ও বিতর্ক[সম্পাদনা]

জাকির নায়েক বিশ্বে অনেক লেকচার দিয়েছেন ও বিতর্ক করেছেন । তাঁর অন্যতম বিখ্যাত বিতর্ক হয় শিকাগোতে উইলিয়াম ক্যাম্পবেলের সাথে । ডাঃ জাকির ২০০০ সালের এপ্রিলে ‘বিজ্ঞানের আলোয় কুরআন ও বাইবেল’ বিষয়ে তাঁর সাথে বিতর্ক করেন। [৫] ডাঃ জাকির বলেন, ‘ ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হলেও, সেপ্টেম্বর ২০০১ থেকে জুলাই ২০০২ এর মধ্যে ৩৪,০০০ আমেরিকান ইসলাম গ্রহণ করেছে’। তিনি বলেন, ‘ইসলাম একটি কারণ ও যুক্তির ধর্ম এবং কুরআনে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রায় ১০০০ আয়াত আছে। সেখানে তিনি পশ্চিমা কনভার্টের সংখ্যা ব্যাখ্যা করেন। [৬] ডাঃ জাকিরের অন্যতম জনপ্রিয় থিম হল বিজ্ঞানের সূত্র দিয়ে কোরআনকে যাচাই করা। [৭] ২১ জানুয়ারী ২০০৬ ডাঃ জাকির শ্রী শ্রী রবিসঙ্করের সাথে ‘ইসলাম ও হিন্দু ধর্মে ঈশ্বর’ বিষয়ে ব্যাঙ্গালোরে বিতর্ক করেন।[৮] ২০০৮ সালে ইসলামি পণ্ডিত লকনো, সাহার কাজী মুফতি আব্দুল ইরফান মিয়াঁ ফিরিঙ্গি মাহালি ডাঃ জাকিরের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেন যে তিনি ওসামা বি লাদেনকে সমর্থন করেন এবং তাঁর পদ্ধতি অ-ইসলামিক ফেব্রুয়ারী ২০১১তে, তিনি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ‘অক্সফোর্ড ইউনিয়ন’ কে পত্র লেখেন।[৯]

শান্তি সম্মেলন[সম্পাদনা]

নভেম্বর ২০০৭ থেকে ডাঃ জাকির মুম্বাইতে একটি শান্তি সম্মেলন করেন। এখানে তিনি ছাড়াও আরও ২০ জন ইসলামি পণ্ডিত বক্তৃতা করেন। তাঁর অন্যতম লেকচার ২০০৭ সালের শান্তি সম্মেলন ।[১০] তিনি শিয়া ও সুন্নিদের বিরোধ বিষয়ে কথা বলেন । তখন তিনি খলিফা ইয়াজিদের নামের পর রাদিয়াল্লাহ তা’ আলা (আল্লাহ্‌ তাদের অনুগ্রহ করুন) বলেন (আল্লাহ্‌ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন), তখন তিনি বহু মুসলমান দ্বারা ঘৃণিত হন । বিশেষ করে শিয়াদের দ্বারা । তিনি আরও বলেন, কারাবালার যুদ্ধ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত । [১১] উক্ত মন্তব্যটিও যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছিল।[১২]

লেখালেখি[সম্পাদনা]

২০০৭ সালে দার- উস- সালাম প্রকাশনী (সৌদিআরব) জাকির নায়েকের দুইটি বই প্রকাশ করে। যথাঃ ‘দি কনসেপ্ট অফ গড ইন মেজর রেলিজিওনস’ (জনপ্রিয় ধর্ম গুলোতে ঈশ্বরের ধারণা)এবং ‘দি কুরআন অ্যান্ড মর্ডান সায়েন্সঃ কম্পিটেবল অর ইনকম্পিটেবল’ (কুরআন এবং আধুনিক বিজ্ঞানঃ সাদৃশ্যপূর্ণ নাকি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ) । বাংলাদেশে একাধিক প্রকাশনী তাঁর বইসমূহ বাংলায় অনূবাদ করে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেছে।

ডাঃ জাকিরের দৃষ্টিকোণ[সম্পাদনা]

জীববিজ্ঞানের বিবর্তন[সম্পাদনা]

ডাঃ জাকির বলেছেন যে বিবর্তনবাদ হল ‘শুধুমাত্র একটা প্রস্তাব মাত্র । এটা খুব বেশি একটা অপ্রমাণিত অনুমান ।[১৩] তাঁর মতে, বেশিরভাগ বিজ্ঞানী এটা সমর্থন করেন কারণ, এটা বাইবেলের বিরুদ্ধে যায় । তাঁরা এটা সত্য বলে সমর্থন করেন না । [১৪] যদিও বিজ্ঞানের দর্শন অনুসারে বিবর্তন একটি প্রমানিত ফ্যাক্ট যা বিবর্তন তত্ত্ব দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।[১৫]

স্বধর্ম ত্যাগের দৃষ্টান্ত[সম্পাদনা]

কোন মুসলিম যদি চায় তবে সে ইসলাম ত্যাগ করতে পারে । ডাঃ জাকির বলেছেন, কোন মুসলিম চাইলে ইসলাম থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারে । কিন্তু কোন মুসলিম যদি অন্য ধর্ম গ্রহণ করে এবং ইসলাম ও এই আলাদা ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে, তবে সে বিশ্বাসঘাতক বলে বিবেচিত হবে । ডাঃ জাকির বলেন, ইসলামিক আইন অনুসারে তার মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত, যেমনটি দেশদ্রোহীর শাস্তি হয়ে থাকে।[১৬][১৭]

সন্ত্রাসবাদ[সম্পাদনা]

ডাঃ জাকিরের মতে ইসলামী সন্ত্রাসবাদ মিডিয়ার সৃষ্টি। একটি ইউটিউব ভিডিও, ওসামা বিন লাদেন কথা বলছেন, ডাঃ জাকির এ বিষয়ে বলেন যে তিনি বিন লাদেনকে ব্যক্তিগত ভাবে চেনেনও না, তাদের কখনও সাক্ষাৎ হয়নি। যদি বিবিসি, সিএনএন দেখে যদি লাদেন সম্পর্কে বলতে হয়, তাহলে তাকে বলতেই হবে যে লাদেন একজন সন্ত্রাসী। কিন্তু কুরআন বলছে যে কোনো সংবাদ পেলে তা প্রচারের আগে যাচাই করে নিতে। তাই, তিনি তাকে দোষারোপ করতে পারেন না। তিনি আরো বলেন, যদি বিন লাদেন ইসলামের শত্রুদের সাথে লড়াই করেন, তবে আমিও তার সাথে আছি। তিনি বলেন, মুসলমানদের এমন হওয়া উচিত যেন তাদেরকে দেখলে সমাজবিরোধী লোকদের মাঝে ত্রাসের সৃষ্টি হয় এবং এরূপ হলে প্রত্যেক মুসলমানকে একজন সন্ত্রাসী হওয়া দরকার ।[১৮] যখন টাইম পত্রিকা একে নিজবুল্লাহ জাহির দ্বারা অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে ইঙ্গিত দেয় তখন, ডাঃ জাকির বলেন, ‘আমি সবসময় সন্ত্রাসবাদীকে দোষারোপ করি । [১৮] কারণ মহিমান্বিত কোরআনে অনুসারে কেউ যদি একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করো তবে সে যেনো পুরো মানবজাতিকে হত্যা করলো। ৩১ জুলাই ২০০৮ সালে পিস টিভিতে দেওয়া লেকচারে ডাঃ জাকির নাইন ইলেভেন সম্বন্ধে মন্তব্য করেন, ‘এটা একটা সাজানো নাটক, একটা ওপেন সিক্রেট যে টুইন টাওয়ারে হামলা সম্পূর্ণই প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাবলু বুশের কাজ । এই কথার প্রমাণ হিসেবে তিনি কিছু রিসার্চের উদ্ধৃতি দেন। [১৯][২০]

অন্যান্য দেশে ডাঃ জাকির[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ায়ে ও ওয়েলসে ডাঃ জাকির[সম্পাদনা]

‘’’শুধু ইসলামই নারীকে সমতা দেয়’’’এ বিষয়ে ডাঃ জাকির ২০০৪ সালে ‘ইসলামিক ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক অফ অস্ট্রেলিয়া’ এর আমন্ত্রণে মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটিতে বিতর্ক করেন । তিনি আরও বলেন যে, পশ্চিমা জামা- কাপড় মেয়েদের ধর্ষণের অন্যতম কারণ । কারণ, এটা মেয়েদেরকে আকর্ষণীয় করে তোলে পর- পুরুষের কাছে । নিউ এজের সুশি দাস মন্তব্য করেন, নায়েক ইসলামের উপদেশের ও আত্মিক শ্রেষ্ঠত্বের উচ্চ প্রশংসা করেন এবং পশ্চিমা বিশ্বে সাধারণ ভাবে যে বিশ্বাস দেখা যায় তাকে ব্যাঙ্গ করেন ।

যুক্তরাজ্য ও কানাডায় নিষেধাজ্ঞা[সম্পাদনা]

ডঃ নায়েককে ২০১০-এর জুন মাসে যুক্তরাজ্যে ও কানাডায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।[২১][২২]

তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে ডাঃ জাকির[সম্পাদনা]

ডঃ জাকির নায়েক বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের "লজ্জা" নামক বইকে কেন্দ্র করে ভারতের মুম্বাইয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের দ্বারা আয়োজিত একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।[২৩] তিনি বইটি থেকে ইসলামকেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্ধৃতিকে ভূল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তি হিসেবে তুলে ধরেন। এছাড়াও, উক্ত অনুষ্ঠানে তিনি তসলিমা নাসরিনের উদ্দেশ্যে তার সাথে সরাসরি বিতর্কে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ ব্যক্ত করেন।[২৪]

অভ্যর্থনা, পুরষ্কার, উপাধি এবং সম্মাননা[সম্পাদনা]

দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ‘’সবচাইতে শক্তিশালী ১০০ ভারতীয় ২০১০’’ তালিকায় ডাঃ জাকিরের অবস্থান ৮৯তম । ২০০৯ সালে তাঁর অবস্থান ছিলো ৮২তম । প্রাভেন স্বামীতে জাকিরকে বলা হয়, সম্ভবত (ডাঃ জাকির) ভারতে সবচাইতে বেশি প্রভাবশালী সালাফি ব্যাখ্যাকারী । সঞ্জিভ ভুট্টোর মতে, তিনি (ডাঃ জাকির) ইসলামের একজন কর্তৃত্বপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃত কিন্তু তিনি অন্য ধর্মের ওপর নেতিবাচক মন্তব্যকারী হিসেবে খ্যাত । সদানন্দ ধুমি লিখেছেন যে,

"জাকির নায়েক সংযম ইমেজ তৈরি করতে পেরেছেন কারণ তাঁর তার মৃদু আচরণ, স্যুট এবং টাই পরা এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া।"
("carefully crafted image of moderation", because of his gentle demeanor, his wearing of a suit and tie, and his quoting of scriptures of other religions")[২৫]

নায়েককে ২০০৯ সালে[২৬],২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালের[২৭] ৫০০ সবচাইতে প্রভাবশালী মুসলিমদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সম্মানিত করা হয়।

এছাড়াও ১৭ই দুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন পুরস্কার জাকির নায়েককে বছরের ইসলামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নামকরণ করে।[২৮][২৯]

পুরষ্কার বা সম্মাননার সাল পুরষ্কার বা সম্মাননার নাম পুরষ্কার প্রদানকারী সংস্থা বা সরকার
২০১৩ Islamic Personality of 2013[৩০] Shaikh Mohammed bin Rashid Al Maktoum Award for World Peace
২০১৩ Distinguished International Personality Award[৩১] Agong, Tuanku Abdul Halim Mu’adzam Shah, Head of state of Malaysia
২০১৩ Sharjah Award for Voluntary Work Sultan bin Mohamed Al-Qasimi, Ruler of Sharjah
২০১৪ Insignia of the Commander of the National Order of the Republic of The Gambia[৩২] President of The Gambia Yahya Jammeh
২০১৪ অনারারি ডক্টরেট (ডক্টর অব হিউম্যান লেটারস)[৩২] গাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
২০১৫ বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার[৩৩] সৌদি আরব

সমালোচনা[সম্পাদনা]

খুশবন্ত সিং, একজন ভারতীয় সাংবাদিক, পাশাপাশি একজন রাজনীতিবিদ ও লেখক । তিনি বলেন, ডাঃ জাকির ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা করেন । সিং বলেন, নায়েকের বিবৃতি ‘’শিশুতোষ’’ । তিনি আরও বলেন, তা আন্ডারগ্রাজুয়েট কলেজের বিতর্কের কদাচিৎ উপড়ে ওঠে । যেখানে প্রতিযোগীরা ক্ষুদ্র স্কোরের জন্য লড়ে । তিনি আরও বলেন, তাঁর কথা মগ্ন হয়ে শুনুন, তিনি প্রায়ই বিপুল উৎসাহে বিস্ফোরিত হন, যখন তিনি অন্যান্য ধর্মের বাণীকে খাটো করেন । [৩৪] ওসামা বিন লাদেনকে ‘’ইসলামের সৈন্য’’ বলায়, আলী সিনা এবং খালিদ আহমেদ , নায়েকের সমালোচনা করেন । তারা বলেন যে ডাঃ জাকির আল- কায়দাকে পরোক্ষ ভাবে সমর্থন করছেন।[৩৫]

বক্তৃতা ও বইসমুহ[সম্পাদনা]

ডঃ জাকির নায়েক বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর বক্তৃতায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আমন্ত্রিত ও অনামন্ত্রিত শ্রোতাগণ অংশগ্রহণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য বক্তৃতা পরবর্তীতে মূল ইংরেজি সহ একাধিক ভাষায় বই হিসাবে প্রকাশিত হয়েছে।

  • ইসলাম বিষয়ে অমুসলিমদের কিছু সাধারণ প্রশ্নের জবাব।
  • কোর'আন ও আধুনিক বিজ্ঞান।
  • কোর'আন কি ঈশ্বরের বাণী?
  • আমিষ খাদ্য কি মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর?
  • বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ।
  • প্রধান প্রধান ধর্মে ঈশ্বরের অস্তিত্ব।
  • বিজ্ঞানের আলোকে কোর'আন ও বাইবেল।
  • হিন্দু ও ইসলাম ধর্মের অন্তরনিহিত সাদৃশ্য।
  • সন্ত্রাসবাদ ও জিহাদ।
  • ইদলামের কেন্দ্রবিন্দু।
  • সন্ত্রাসবাদ কি কেবল মুসলিমদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  • প্রশ্নোত্তোরে ইসলামে নারীর অধিকার।
  • কেন ইসলাম গ্রহণ করছে পশ্চিমারা?
  • ইসলামে নারীর অধিকার আধুনিক নাকি সেকেলে?
  • সুদমুক্ত অর্থনীতি।
  • ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের সাদৃশ্য।
  • বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ সমুহের আলোকে হিন্দুধর্ম ও ইসলাম।
  • আলকোর'আন বুঝে পড়া উচিত।
  • রসুলুল্লাহর নামায(সালাত)।
  • চাঁদ ও কুর'আন।
  • মিডিয়া ও ইসলাম।
  • সুন্নত ও বিজ্ঞান।
  • পোশাকের নিয়মাবলী।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ Islamic Research Foundation - Introduction (Dr. Zakir Naik)
  2. An Enemy Within: The Making of Najibullah Zazi, By David Von Drehle and Bobby Ghosh, Thursday, Oct. 01, 2009.
  3. http://rakomari.blogspot.com/2011/10/blog-post.html
  4. [১] - Biography of Dr. Zakir Naik from DrZakirNaik.com (A website constructed by his students)
  5. Ahmed, Khaled."Word for word: William Campbell versus Zakir Naik". Daily Times (Pakistan). 8 January 2006. Accessed 16 April 2011.
  6. Ghafour, P.K. Abdul. "New Muslims on the rise in US after Sept. 11". Arab News. 3 November 2002.Archived 17 September 2003.
  7. Samuel, Geoffrey; Rozario, Santi."Contesting science for Islam: the media as a source of revisionist knowledge in the lives of young Bangladeshis" (সদস্যতা প্রয়োজনীয়). Contemporary South Asia 18 (4): 427–441. December 2010. ডিওআই:10.1080/09584935.2010.526196.
  8. "No religion spreads violence: Sri Sri". The Times of India. 22 January 2006. Accessed 7 August 2011. Archived 7 August 2011.
  9. Gidwani, Deepak. "Storm over fatwa against scholar Zakir Naik". Daily News & Analysis. 8 November 2008. Accessed 7 August 2011. Archived 7 August 2011.
  10. Ahmad, Syed Neaz. "Justice, peace & unity: The cornerstone of Islam". Saudi Gazette. 31 March 2008. Accessed 7 August 2011. Archived 7 August 2011.
  11. Wajihuddin, Mohammed."Row over Islamic preacher's remarks". The Times of India. 27 December 2007. Accessed 7 August 2011. Archived 7 August 2011.
  12. Burney, Shahid Raza. "Zakir Naik’s Remarks on Yazid Spark Anger Among Muslims". Arab News. 31 December 2007. Accessed 7 August 2011. Archived 7 August 2011.
  13. Attaullah, Munir. "View: The Muslim predicament II". Daily Times (Pakistan). 21 March 2007. Accessed 21 July 2011.
  14. and Modern Science – Conflict or Conciliation? – Part Two – by Dr. Zakir Naik
  15. Theory and the Fact of Evolution | NCSE
  16. "Maldivian renounces Islam, gets attacked by Zakir Naik audience". Haveeru Daily. 30 May 2010. Accessed 7 August 2011. Archived 7 August 2011.
  17. "Transcript of Dr Zakir Naik's response to Mohamed Nazim)" 
  18. ১৮.০ ১৮.১ Von Drehle, David; Ghosh, Bobby: "An Enemy Within: The Making of Najibullah Zazi". Time. p. 2. 1 October 2009. Accessed 16 April 2011.
  19. Deshmane, Akshay."Zakir Naik will fight back as Canada bans him too". Daily News & Analysis. 23 June 2010. Accessed 7 August 2011. [২] 7 August 2011.
  20. "Indian Muslim Cleric Zakir Naik: 9/11 Was Carried Out by George Bush Himself" (video of lecture). Middle East Media Research Institute. (সদস্যতা প্রয়োজনীয়). referring to various 9/11 Conspiracy Theories Transcript.Archived 7 August 2011.
  21. "Indian preacher Zakir Naik is banned from UK". BBC News. 18 June 2010. Retrieved 7 August 2011.
  22. Carlson, Kathryn Blaze. "Controversial Muslim televangelist Zakir Naik banned from Toronto conference". National Post. 22 June 2010. Retrieved 7 August 2011. Archived 7 August 2011.
  23. The trouble with Dr. Zakir Naik : Sadanand Dhume : The Wall Street Journal
  24. http://www.youtube.com/watch?v=7bJYIrMNmYw
  25. Dhume, Sadanand. "The Trouble with Dr. Zakir Naik". The Wall Street Journal. 20 June 2010. Retrieved 7 August 2011. Archived 7 August 2011.
  26. The 500 Most Influential Muslims In The WorldRoyal Islamic Strategic Studies Centre। ২০০৯। 
  27. "The Muslim 500"Royal Islamic Strategic Studies Centre 
  28. http://tribune.com.pk/story/583546/zakir-naik-named-dubais-islamic-personality-of-the-year/
  29. http://gulfnews.com/news/gulf/uae/zakir-naik-named-islamic-personality-of-the-year-1.1214199
  30. "India's Naik named 'Islamic Personality'"। ২০১৩-০৭-৩০। সংগৃহীত ২০১৫-০১-১৯ 
  31. "Abdul Hamid is national-level Tokoh Maal Hijrah 2013"। ২০১৩-১১-০৫। সংগৃহীত ২০১৫-০১-১৯ 
  32. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; :0 নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  33. "Dr. Zakir Naik wins King Faisal award"। ২০১৫-০২-০৪। সংগৃহীত ২০১৫-০২-০৪ 
  34. India: The Notorious Dr. Zakir Naik :: Gatestone Institute
  35. http://www.faithfreedom.org/oped/sina51022.htm

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিউক্তিতে নিচের বিষয় সম্পর্কে সংগৃহীত উক্তি আছে:: জাকির নায়েক