ব্যাবিলনের টাওয়ার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ব্যাবিলনের টাওয়ার (হিব্রু ভাষায়: מִגְדַּל בָּבֶל‎, মিগদাল বেলেল) আদি পুস্তকের ১১: ১-৯ মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বিশ্বের মানুষের বিভিন্ন ভাষায় কথা বলার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।[১][২][৩][৪]

ঘটনা অনুযায়ী, মহাপ্লাবনের পরে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ মানবতা, একক ভাষায় কথা বলতো এবং তারা পূর্ব দিকে শিনারের (שִׁנְעָר) প্রস্থান করে। সেখানে তারা একটি শহর নির্মাণ করে, যেখানে তারা স্বর্গে পৌঁছানোর জন্য একটি লম্বা টাওয়ার নির্মাণ করে। ঈশ্বর, তাদের শহর ও টাওয়ার পর্যবেক্ষণ করছেন, তাদের কথাবার্তাকে বিভ্রান্ত করে দেয় যাতে তারা আর একে অপরকে বুঝতে না পারে এবং সারা বিশ্ব জুড়ে তাদের ছড়িয়ে দিতে পারে। কিছু আধুনিক পণ্ডিতরা একে পরিচিত কাঠামোর সাথে যুক্ত করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে এতেমেনাঙ্কি, একটি জিগুরাট যা মেসোপটেমিয়ার ব্যাবিলনের দেবতা মারডুককে নিবেদিত করা হয়েছে।

বাইবেলের বর্ণনা[সম্পাদনা]

  1. মহাপ্লাবনের পরে সমস্ত পৃথিবী এক ভাষাতে কথা বলত। সমস্ত মানুষ একই শব্দগুলি ব্যবহার করত।
  2. সেই লোকেরা পূর্ব দিক থেকে ঘুরতে ঘুরতে শিনিয়র দেশে এসে সমতল ভূমি পেল। তারা সেখানে বসবাস শুরু করল।
  3. তারা বলল, “আমরা মাটি দিয়ে ইঁট তৈরী করব, তারপর আরও শক্ত করার জন্যে ইঁটগুলো পোড়াব।” তখন মানুষ পাথরের বদলে ইঁট দিয়ে বাড়ী তৈরী করল। আর গাঁথনি শক্ত করার জন্যে সিমেন্টের বদলে আলকাতরা ব্যবহার করল।
  4. তারা বলল, “এস আমরা আমাদের জন্যে এক বড় শহর বানাই। আর এমন একটি উঁচু স্তম্ভ বানাই যা আকাশ স্পর্শ করবে। তাহলে আমরা বিখ্যাত হব এবং এটা আমাদের এক সঙ্গে ধরে রাখবে। সারা পৃথিবীতে আমরা ছড়িয়ে থাকব না।”
  5. সেই শহর আর সেই আকাশস্পর্শী স্তম্ভ দেখতে প্রভু পৃথিবীতে নেমে এলেন। মানুষ কি কি তৈরী করেছে সেসব প্রভু দেখলেন।
  6. প্রভু বললেন, “সব মানুষ একই ভাষাতে কথা বলছে। আর দেখতে পাচ্ছি য়ে এসব কাজ করার জন্যে তারা ঐক্যবদ্ধ। তারা কি করতে পারে এ তো সবে তার শুরু। শীঘ্রই তারা যা চায় তাই করতে পারবে।
  7. তাহলে এস আমরা নীচে গিয়ে ওদের এক ভাষাকে নানারকম ভাষা করে দিই। তাহলে তারা পরস্পরকে বুঝতে পারবে না।”
  8. সুতরাং প্রভু সমস্ত লোকেদের সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিলেন। ফলে মানুষ আর সেই শহর তৈরির কাজ শেষ করতে পারল না।
  9. এই সেই স্থান যেখানে প্রভু সমস্ত পৃথিবীর এক ভাষাকে অনেক ভাষাতে বিভ্রান্ত করলেন। তাই এই স্থানটির নাম হলো বাবিল। এইভাবে প্রভু তাঁদের সেই স্থান থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিলেন।[৫]

ব্যুত্পত্তি[সম্পাদনা]

"বাবলের টাওয়ার" শব্দটি বাইবেলে উপস্থিত পাওয়া যায় না; এটি সর্বদা "শহর এবং টাওয়ার" (אֶת-הָעִיר וְאֶת-הַמִּגְדָּל) বা শুধু "শহর"(הָעִיר)-কে বুঝিয়েছে। বাবেল নামটির (এছাড়া ব্যাবিলন জন্য হিব্রু নামটিও) মূল উৎপত্তি কোথা থেকে হয়েছে তা অনিশ্চিত। স্থানীয়, আক্কাদীয় শহটির নামটি ছিল Bāb-ilim (বাবিলিম), যার অর্থ "ঈশ্বরের দরজা"। যাইহোক, যে রূপ এবং ব্যাখ্যা নিজেই এখন সাধারণত একটি আক্কাদীয় সম্প্রদায় ব্যুত্পত্তিতত্ত্ব নামের একটি পূর্ববর্তী রূপে প্রয়োগ ফলাফল হিসেবে ধারণা করা হয়, তা বাবিল্লা, অজানা অর্থ এবং সম্ভবত অ-সেমিটিক উত্স।[৬][৭] বাইবেলের মতে, শহরটি হিব্রু ক্রিয়া בָּלַ֥ל (বালাল) থেকে "বাবেল" নামটি পায়, যার অর্থ হিংসা বা বিভ্রান্তি।[৮][৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Metzger, Bruce Manning; Coogan, Michael D (২০০৪)। The Oxford Guide To People And Places Of The Bible। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 28। আইএসবিএন 978-0-19-517610-0। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১২ 
  2. Levenson, Jon D. (২০০৪)। "Genesis: Introduction and Annotations"। Berlin, Adele; Brettler, Marc Zvi। The Jewish Study Bible। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 29। আইএসবিএন 9780195297515 
  3. Graves, Robert; Patai, Raphael (১৯৮৬)। Hebrew Myths: The Book of Genesis। Random House। পৃষ্ঠা 315। আইএসবিএন 9780795337154 
  4. Schwartz, Howard; Loebel-Fried, Caren; Ginsburg, Elliot K. (২০০৭)। Tree of Souls: The Mythology of Judaism। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 704। আইএসবিএন 9780195358704 
  5. ব্যাবিলনে ভাষা-ভেদ, আদিপুস্তক ১১ঃ১-৯।
  6. Day, John (২০১৪)। From Creation to Babel: Studies in Genesis 1-11। Bloomsbury Publishing। পৃষ্ঠা 179–180। আইএসবিএন 978-0-567-37030-3 
  7. Dietz Otto Edzard: Geschichte Mesopotamiens. Von den Sumerern bis zu Alexander dem Großen, Beck, München 2004, p. 121.
  8. Genesis 11:9
  9. John L. Mckenzie (১৯৯৫)। The Dictionary Of The Bible। Simon and Schuster। পৃষ্ঠা 73। আইএসবিএন 978-0-684-81913-6 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]