দাগনভূঁইয়া উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
দাগনভূঁইয়া
উপজেলা
দাগনভূঁইয়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
দাগনভূঁইয়া
দাগনভূঁইয়া
বাংলাদেশে দাগনভূঁইয়া উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৫৫′৫৮″ উত্তর ৯১°১৮′৫″ পূর্ব / ২২.৯৩২৭৮° উত্তর ৯১.৩০১৩৯° পূর্ব / 22.93278; 91.30139স্থানাঙ্ক: ২২°৫৫′৫৮″ উত্তর ৯১°১৮′৫″ পূর্ব / ২২.৯৩২৭৮° উত্তর ৯১.৩০১৩৯° পূর্ব / 22.93278; 91.30139 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
জেলা ফেনী জেলা
আয়তন
 • মোট ১৪১.৭১ কিমি (৫৪.৭১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট ২,১৬,২৩৩
 • ঘনত্ব ১৫০০/কিমি (৪০০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার
 • মোট ৭০%
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

দাগনভূঁইয়া উপজেলা বাংলাদেশের ফেনী জেলার অন্তর্গত একটি প্রশাসনিক এলাকা।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

দাগনভুঁইয়া উপজেলার আয়তন ১৪১.৭১ বর্গ কিঃ মিঃ (৫১.০৭ বর্গ মাইল)। ফেনী জেলার পশ্চিম অংশে অবস্থিত দাগনভুঁইয়া উপজেলার মোট আয়তন ১৪১.৭১ বর্গ কিঃ মিঃ (৫১.০৭ বর্গ মাইল)। এই উপজেলার উত্তরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামনাঙ্গলকোট উপজেলা; দক্ষিণে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা; পূর্বে ফেনী সদর উপজেলা এবং পশ্চিমে নোয়্খালীর সেনবাগ উপজেলা অবস্থিত।

প্রসাশনিক এলাকা[সম্পাদনা]

৮টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা, ১৩২টি গ্রাম এবং ১০০টি মৌজা নিয়ে দাগনভুঁইয়া উপজেলা গঠিত।[২] এর নির্বাচনী এলাকাঃ ২৬৭, ফেনী-৩ (দাগনভূঁঞা-সোনাগাজী)।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব নাম গোপীগঞ্জ/গুপিগঞ্জ যা ভূলুয়া রাজ্যের অধীনে শাসিত হতো । ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রখ্যাত জমিদার শ্রী অরুণ সিং বাহাদুরের স্ত্রীর নাম ছিল শ্রী গোপীদেবী যিনি স্বামীর জমিদারীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে থেকে তার নাম অনুসারে জমিদারী স্ট্রেট গোপীগঞ্জ নামে পরিচিতি লাভ করে। জমির আহমেদ-এর সূত্র মতে পরবর্তীতে মুঘল সম্রাট শাহাজাহানের পুত্র শাহাজাদা সুজার আমলে বারভূঁঞাদের কোন এক উপবংশের মাতুভূঁঞা ও দাগনভূঁঞা নামে দু’জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ঐ সময় ফেনীর পশ্চিমাঞ্চলে বসতি পত্তন করে ছিলেন। মাতুভূঁঞা ও দাগনভূঁঞা এই দুই ব্যক্তির একজন মাতুভূঁঞা বর্তমানে ভূঁঞা বাড়িতে এবং অপরজন দাগনভূঁঞা দিঘীর আশে পার্শ্বে স্থায়ী বসতি স্থাপন করেন বলেন ধারণা করা হয়। যার নাম অনুসারে এলাকাটি দাগনভূঁঞা হিসেবে খ্যাতি পায়।[৩]

১৮৭৬ সালে বৃটিশ সরকারের প্রশাসনিক প্রয়োজনে গঠিত বৃহত্তর নোয়াখালীর অংশ হিসেবে ফেনী মহকুমার অন্তর্গত দাগনভূঁঞাকে ১৯৭৯ সালে সরকারের প্রশাসনিক প্রয়োজনে দাগনভূঁঞা থানা হিসেবে রূপান্তর করা হয়। তৎমধ্যে ফেনী মহকুমা বিলুপ্ত করে ১৯৮৪ সালের মার্চ মাসে ফেনীকে জেলা হিসেবে রূপান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে সরকার দাগনভূঁঞা থানাকে আপ-গ্রেড করে দাগনভূঁঞা উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে দাগনভূঞা ০১টি পৌরসভা, ০৮টি ইউনিয়ন, ১০০টি মৌজা ও ১৫২টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। যার মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে প্রবাহমান ফেনী নদী[৩]

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

উপজেলায় পুরুষ ১,০৩,৬২৮ জন, মহিলা ১,১২,৬০৫ জন নিয়ে সর্বমোট ২,১৬,২৩৩ জন।

শিক্ষা ও সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

  • পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী অবলুপ্ত: কালান্তর, শুভেচ্ছা (সাপ্তাহিক); শুচিতা, দিশারী (সাময়িকী)।
  • সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান - লাইব্রেরি ১, ক্লাব ৪২, সিনেমা হল ১, খেলার মাঠ ২৩।
  • শিক্ষার হার - গড় হার ৫৫.৪৮%; পুরুষ ৫৮.২৮%, মহিলা ৫২.৯০%।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

  • জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎসঃ কৃষি ২৮.২৫%, অকৃষি শ্রমিক ২.৩৫%, শিল্প ০.৭৭%, ব্যবসা ১৫.১২%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ৪.০৭%, চাকরি ২৪.১০%, নির্মাণ ১.৪১%, ধর্মীয় সেবা ০.৫৬%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ৯.৩৩% এবং অন্যান্য ১৪.০৪%।
  • কৃষিভূমির মালিকানাঃ ভূমিমালিক ৬২.৭১%, ভূমিহীন ৩৭.২৯%। শহরে ৬১.৪৯% এবং গ্রামে ৬২.৮৬% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।
  • প্রধান কৃষি ফসলঃ ধান, গম, আলু, ডাল, শাকসবজি।
  • বিলুপ্ত অথবা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদিঃ তিল, তিসি, কাউন, অড়হর।
  • প্রধান ফল-ফলাদিঃ আম, কাঁঠাল, কলা, নারিকেল, পেঁপে।
  • মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামারঃ এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চিংড়ি ও অন্যান্য মাছের চাষ হয় এবং প্রায় শতাধিক গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার রয়েছে।
  • বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহনঃ পাল্কি, ঘোড়া ও গরুর গাড়ি।
  • শিল্প ও কলকারখানাঃ রাইস মিল, ফ্লাওয়ার মিল, কটন স্পিনিং মিলস্, ব্রিকফিল্ড ও টুপি তৈরির কারখানা রয়েছে।
  • কুটিরশিল্পঃ স্বর্ণশিল্প, মৃৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, কাঠ, বাঁশ ও বেতের কাজ ইত্যাদি।
  • প্রধান রপ্তানি দ্রব্যঃ চিংড়ি, নারিকেল, শাকসবজি।

[৪]

স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

  • যোগাযোগ বিশেষত্বঃ পাকারাস্তা ১৯১ কিমি, কাঁচারাস্তা ৫৮১ কিমি; নৌপথ ১৬ নটিক্যাল মাইল।
  • বিদ্যুৎ ব্যবহারঃ এ উপজেলার সবক’টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। উপজেলার শতভাগ(১০০%) অধিবাসী বিদ্যুৎ সুবিধার অাওতাভুক্ত।
  • পানীয়জলের উৎসঃ নলকূপ ৯২.৩৫%, পুকুর ২.৪৮%, ট্যাপ ১.১২% এবং অন্যান্য ৪.০৫%।
  • স্যানিটেশন ব্যবস্থাঃ এ উপজেলার ৫৬.৩১% (গ্রামে ৫৩.০৬% ও শহরে ৮২.৬০%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৩৪.৭১% (গ্রামে ৩৭.৪৩% ও শহরে ১২.৭৭%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ৮.৯৮% (গ্রামে ৯.৫২% ও শহরে ৪.৬৩%) পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।
  • স্বাস্থ্যকেন্দ্রঃ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ৮, ক্লিনিক ৬।

[৪]

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে দাগনভূঞা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২০ জুন, ২০১৫ 
  2. http://daganbhuiyan.feni.gov.bd/sites/default/files/Ak%20Najore%20Daganbhuiyan.pdf
  3. "দাগনভূঁইয়া উপজেলা"। সংগৃহীত ২০১৪-১০-০২ 
  4. আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; দাগনভূঁইয়া উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]