আলিকদম উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আলিকদম
উপজেলা
আলিকদম বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
আলিকদম
আলিকদম
বাংলাদেশে আলিকদম উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২১°৪০′০০″উত্তর ৯২°১৮′২০″পূর্ব / ২১.৬৬৬৭° উত্তর ৯২.৩০৫৬° পূর্ব / 21.6667; 92.3056স্থানাঙ্ক: ২১°৪০′০০″উত্তর ৯২°১৮′২০″পূর্ব / ২১.৬৬৬৭° উত্তর ৯২.৩০৫৬° পূর্ব / 21.6667; 92.3056
দেশ  বাংলাদেশ
বিভাগ চট্টগ্রাম বিভাগ
জেলা বান্দরবান জেলা
আয়তন
 • মোট ৮৮৫.৭৫ কিমি (৩৪১.৯৯ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (1991)
 • মোট ২৪,৭৮২
সময় অঞ্চল বিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইট alikadam.bandarban.gov.bd/

আলিকদম বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত পার্বত্য বান্দরবান জেলার অন্তর্গত এ উপজেলা।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

১৭১১ খ্রীস্টাব্দে জনৈক চন্দন খাঁ ওরফে তৈন খাঁ মাতামুহুরী সীমান্তে একটি উপজাতীয় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন আরকানী রাজার অনুগত সামন্ত। তার চতুর্থ পুরুষ জালাল খাঁ মোগলদের আনুগত্য মেনে নেন এবং খাজনা দিতে সম্মত হোন। কিন্তু ১৭২৪ খ্রীস্টাব্দে তিনি মোগল সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তখন দোহাজারী ঘাটির মোগল ফৌজদার কৃষাণ চাঁদ তার বিরুদ্ধে অভিযান করেন। ফলে বিদ্রোহীরা পরাজিত, পর্যুদুস্ত ও আরাকানে বিতাড়িত হন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক সাংবাদিক আতিকুর রহমান তাঁর এক গবেষণায় লিখেছেন ........ এতদাঞ্চল প্রাচীন মুসলিম অধিকৃত এলাকা। বিস্মিত হলেও এখানকার প্রাচীন মুসলিম আধিপত্য অল্প বিস্তর ইতিাহসে বিবৃত আছে। ইতিহাসে দেখা যায় আরকানের রাজা ইঙ্গ চন্দ্র ৯৫৩ ইং সালে জৈনক ‘সুরতান’ কে তাড়া করে চট্টগ্রামের দিকে অভিযান করেছেন এবং এ অভিযানে কুমিরার কাওনিয়াছড়া পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চল তার দখলীভুত হয়। ‘সুরতান’ আরবি সুলতান শব্দেরই মঘী বিকৃতি। যার বাংলা প্রতিশব্দ হলো রাজা। এটাই প্রামাণ: বাংলায় মুসলিম সুলতানী আমল শুরু হওয়ার প্রায় ৩শ’ বছর আগে দক্ষিণ চট্টগ্রামে মুসলিম রাজত্বের প্রতিষ্ঠা ঘটে গিয়েছিলো। ১৩৩৯-৪০ ইং সালে সুলতান ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ্‌ প্রথম এ অঞ্চল বাংলা সুলতানাতের অন্তর্ভুক্ত করেন। ১৪০৬ খ্রী: সালে আরকানের রাজা নরমিখলা বর্মী রাজা কর্তৃক রাজ্যচ্যুত হন। পরে তিনি সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের আশ্রয় গ্রহণ করেন। ২৪ বছর পর ১৪৩২ ইং সালে সুলতান জামাল উদ্দিনের সহায়তায় তিনি তা পূণর্দখল করেন। সে অভিযান কালে দক্ষিণ চট্টগ্রামে কোন বিজাতীয় শাসন থাকলে নির্বিবাদে তা ডিঙ্গিয়ে আরকান দখল করা সম্ভব হতো না। রাজা নরমিখলার রাজ্য প্রতিরক্ষায় সুলতানের সৈন্যরা তথায় ঘাটি স্থাপন করেন। রাজ্য পরিচালনায় তখন মুসলিম আমলাদের নিযুক্ত করা হয়। ওদের সঙ্গী সাথী হয়ে আরকানের সাধারণ বাঙ্গালীরাও বিপুল সংখ্যায় যায়। এ প্রভাবে গোটা দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী শঙ্খ, মাতামুহুরী ও নাফ নদী হয়ে পড়ে বাঙ্গালী মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। পরে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ১৫১২ সালে গোটা চট্টগ্রাম নিজ দখলে আনেন। খোদা বখশ্‌ খান ছিলেন তার অধীনে দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলের শাসক। এ প্রশাসনিক এলাকার সদর দফতর ছিলো আলীকদম। মিঃ বারোজের মানচিত্রে এ আলীকদম রাজ্য ও খোদা বখশ্‌ খানের কথা পরিষ্কার ভাবে ব্যক্ত আছে। ইতিহাসসুত্রে একথা বলা যায় যে, পার্বত্য আলীকদম উপজেলা পার্বত্যাঞ্চলের ইতিহাসের উপজীব্য। এখানকার বিলুপ্তপ্রায় আলীর সুড়ঙ্গ ছাড়াও রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাচীন পুকুর। তাছাড়া এখানকার নয়াপাড়া গ্রামে প্রাচীন ইটভাটার অস্তিত্ব এখনো বিদ্যমান। যা বর্তমানে নয়াপাড়া সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব পার্শ্বে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন বসতভিটা। গত ২৪ অক্টোবর/১৯৯৯ ইং সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গ্রন্থপ্রণেতা গবেষক আতিকুর রহমান সহ স্থানীয় সাংবাদিকরা ঐ এলাকায় মাটি খুঁড়ে ইট আবিস্কার করেছেন। আবিস্কৃত ইটগুলোর গঠনপ্রণালীতে সুলতানী আমলের ইট বলে অনুমিত হয়। উদ্ধারকৃত ইটিগুলো দৈঘ সাত ইঞ্চি প্রস্থে সাড়ে চার ইঞ্চি আর পুরো দেড় ইঞ্চি মাত্র। প্রস্তের দ্বিগুণ j¤^v হলে ৯ ইঞ্চি হওয়ার কথা। সম্ভবত ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে। আবিস্কৃত ইটগুলো বর্তমানে আলীকদম প্রেসক্লাবে রক্ষিত আছে। তথ্যসূত্র: গিরিনন্দিনী আলীকদম, প্রকাশকাল: একুশে বইমেলা ২০০৮।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০০১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী আলীকদম উপজেলা মোট জনসংখ্যার পরিমাণ- ৩৪,০০২ জন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা- ১৮ হাজার ৬ শত ৯২ জন এবং মহিলার সংখ্যা- ১৫ হাজার ৩ শত ১০ জন। তবে বেসরকারী তথ্যমতে এ উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার হবে। জনসংখ্যার বন্টন : সমপ্রদার পুরুষ মহিলা মোট মুসলিম ১০,৪১১ জন ৮,৫১৩ জন ১৮,৯২৪ জন হিন্দু ৫৮৫ জন ৪৭৪ জন ১,০৫৯ জন মুরুং ৪২২২ জন ৩৩৫৪ জন ৭৬৭৬ জন মার্মা ১৬৭৫ জন ১৩৭১ জন ৩০৪৬ জন ত্রিপুরা ৯০১ জন ৭৩৯ জন ১৬৪০ জন তঞ্চঙ্গা ৬৪৪ জন ৫৫২ জন ১১৯৬ জন চাকমা ২১৪ জন ১৭৫ জন ৩৮৯ জন বড়ুয়া ৪০ জন ৩২ জন ৭২ জন

শিক্ষা[সম্পাদনা]

পার্বত্য আলীকদম উপজেলায় স্বাধনতা পূর্ববর্তী কাল থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা হয়। ১৯৬০ সালে ‘আলীকদম প্রাথমিক বিদ্যালয়’ বর্তমান আলীকদম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’টির গোড়াপত্তন ঘটেছিল। এ উপজেলা শিক্ষাক্ষেত্রে খুবই অনগ্রসর জনপদ। আধুনিক বিশ্বে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার এ যুগে শিক্ষিত সমাজ সৃষ্টি না হলে দারিদ্র বিমোচন থেকে শুরু করে কোন পরিকল্পনা প্রণয়ন, উন্নয়ন বাস্তবায়ন, সংস্কৃতি ও শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব। অথচ এখানে একটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, একটি বেসরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি দাখিল মাদ্‌রাসা রয়েছে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে। বাস্তবতার নিরিখে বলতে হয়, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমুহের লেখাপড়ার মান ও পরিবেশ কাঙ্খিতমানের নয়। দু:খজনক হলেও সত্য যে, এতদাঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজ না থাকায় দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা অধিকন্তু উচ্চ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তবে আশার কথা যে, আলীকদম জোনের সাবেক অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আবুল কালাম আজাদ, পিএসসি, এলএসসি’র উৎসাহ-উদ্দীপনায় স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের দাবীর প্রেক্ষিতে ‘আলীকদম মৈত্রী জুনিয়র হাইস্কুল (প্রস্তাবিত স্কুল এন্ড কলেজ)’ নামে আরো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয়েছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

এ উপজেলার পাহাড়ী-বাঙ্গালী জন সমাজের ঘূর্ণিয়মান অর্থনীতির চাকা এখনো ধীরলয়ে চলছে। বসবাসরত সিংহভাগ লোকজন অর্থনৈতিকভাবে ¯^qsm¤ú~Y©Zv এখনো পায়নি। পাহাড়ী ভূমিতে জুম চাষ করে অধিকাংশ উপজাতীয় লোকজন জীবিকা নির্বাহ করেন। সেই আদিম পদ্ধতিতে জুম চাষের মাধ্যমে জীবিকা আহরণ করে এলাকার সবুজ পাহাড়কে শ্মশানের ছাইয়ে পরিণত করলেও অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসেনি তাদের। অপরদিকে, বাঙ্গালী জন সমাজেও খেটে খাওয়া লোকের সংখ্যা বেশী। পাহাড়ের বাঁশ-কাঠ কেটে জঠর জ্বালা মিটালেও তাদের অর্থনীতির চাকা মাঝে মধ্যে থমকে দাড়ায় পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বিধি-নিষিধের কারণে।

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • তথ্যসূত্র: গিরিনন্দিনী আলীকদম, লেখক- মমতাজ উদ্দিন আহমদ, প্রকাশকাল: একুশে বইমেলা ২০০৮।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]