রুক্মিণী
| রুক্মিণী | |
|---|---|
| অষ্টভার্যা গোষ্ঠীর সদস্য | |
পন্ধরপুরে রুখুমাইরুপে রুক্মিণী | |
| অন্যান্য নাম | বৈদর্ভী, ভৈষ্মী, রাখুমাই, দ্বারিকেশ্বরী, চিরযৌবনা, লাখুবাই |
| দেবনাগরী | रूक्मिणी |
| আরাধ্য | বারকরী এবং হরিদাস প্রথা |
| অন্তর্ভুক্তি | অষ্টভার্যা, দেবী, লক্ষ্মীর অবতার, বৈষ্ণব |
| আবাস | দ্বারকা, পন্ধরপুর, বৈকুণ্ঠ |
| গ্রন্থসমূহ | বিষ্ণুপুরাণ, ভাগবত পুরাণ, মহাভারত, হরিবংশ, রুক্মিণীশ বিজয়, স্কন্দপুরাণ, পদ্মপুরাণ , ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ , গর্গ সংহিতা , গরুড় পুরাণ , গোপালতাপনী উপনিষদ |
| লিঙ্গ | নারী |
| উৎসব | রুক্মিণী অষ্টমী, রুক্মিণী দ্বাদশী, বসন্তোৎসব |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| জন্ম | |
| মৃত্যু | |
| মাতাপিতা |
|
| সহোদর | রুক্মী |
| সঙ্গী | শ্রীকৃষ্ণ |
| সন্তান |
|
| রাজবংশ | ভোজ (জন্ম দ্বারা) যদুবংশ, চন্দ্রবংশ, বৃষ্ণি (বিবাহ কর্তৃক) |
রুক্মিণী (সংস্কৃত: रुक्मिणी, অনুবাদ 'জ্যোতির্ময়ী বা প্রভাশালিনী') হলেন শ্রীকৃষ্ণের সহধর্মিণী ও দ্বারকার রাণী।[৬] বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে, তাকে কৃষ্ণের প্রধান রাণী এবং দ্বারকায় তাঁর মহিষীদের প্রধান হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। [৭] শাস্ত্রে রুক্মিণীকে লক্ষ্মীর অবতার এবং সৌভাগ্যের দেবী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। [৮][৯] রুক্মিণীকে প্রধানত ওয়ারকরি ,[১০] এবং হরিদাস ঐতিহ্যে এবং শ্রীবৈষ্ণবধর্মে আরাধনা করা হয়। ইনি বিদর্ভরাজ মহারাজা ভীষ্মকের কন্যা ও রুক্মীর বোন ছিলেন। তিনি শ্রীকৃষ্ণের গুণ ও কর্মে মুগ্ধ হয়ে তার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন এবং তার পরিবার চেদিরাজ শিশুপালের সাথে তার বিয়ে ঠিক করতে চাইলে তিনি শ্রীকৃষ্ণকে পত্র লিখে অনুরোধ জানান তিনি যেন তাকে নিয়ে যান। শ্রীকৃষ্ণ তার কথামতো তাকে নিয়ে আসেন ও বিধিপূর্বক বিয়ে করেন। তিনি দশটি পুত্রসন্তান লাভ করেন। তাঁদের নাম হলো প্রদ্যুম্ন, চারুদেষ্ণ, সুদেষ্ণ, চারুদেহ, চারুগুপ্ত, ভদ্রচারু, চারুচন্দ্র, বিচারু, চারু এবং সুচারু।
রুক্মিণী প্রধানত মহারাষ্ট্র ও দক্ষিণ ভারতে পূজিত হন। মহারাষ্ট্রের লোকেরা তাকে বিঠোবার (কৃষ্ণের একটি আঞ্চলিক রূপ) সাথে পূজা করেন এবং তাকে রাখুমাই বলে ডাকেন। [১১] দক্ষিণ ভারতে, তিনি কৃষ্ণ এবং তার অপর প্রধানা সহধর্মিণী সত্যভামার সাথে পূজিত হন। প্রতি বছর রুক্মিণী অষ্টমীতে তার জন্মদিন পালিত হয়।
রুক্মিণী নামটি সংস্কৃত রুক্ম শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ 'দীপ্তি পাওয়া', 'স্বচ্ছ' বা 'অত্যুজ্জ্বল'। [১২] রুক্মিণী নামের অর্থ 'স্বর্ণালঙ্কারে সজ্জিতা'ও হতে পারে। [১২][১৩] রুক্মিণীর অন্যান্য নাম এবং উপাধিগুলির মধ্যে রয়েছে:
কিংবদন্তি
[সম্পাদনা]জন্ম
[সম্পাদনা]মহাকাব্য মহাভারত এবং অন্যান্য পুরাণ শাস্ত্র অনুসারে, রাজকুমারী রুক্মিণী ভীষ্মকের কন্যা হয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ভীষ্মক বিদর্ভ রাজ্যের রাজা এবং ভোজ রাজবংশের অন্তর্গত ছিলেন। [১৫] রুক্মিণীর পাঁচজন বড় ভাই ছিল- রুক্মী, রুক্মরথ, রুক্মবাহু, রুক্মকেশ এবং রুক্মনেত্র। [১৬] বিষ্ণু পুরাণ, ভাগবত পুরাণ এবং পদ্ম পুরাণ প্রভৃতি পুরাণগুলি তাকে ভগবান বিষ্ণুর পত্নী দেবী লক্ষ্মীর অবতার হিসেবে প্রশংসা করেছে। [১৭]
কৃষ্ণের সাথে বিবাহ
[সম্পাদনা]
ভাগবত পুরাণ বর্ণনা করে যে, রুক্মিণী একবার কৃষ্ণ এবং তার বীরত্বপূর্ণ কর্ম, যেমন অত্যাচারী রাজা কংসকে বধ করা এবং দুষ্ট রাজা জরাসন্ধের বিরোধিতা করা প্রভৃতি শ্রবণ করেছিলেন। রুক্মিণী কৃষ্ণের প্রেমে পড়েছিলেন এবং তাকে বিবাহ করতে অভিলাষ করেছিলেন। রুক্মিণী কল্যাণমের পর্ব এবং তার কাঙ্খিত স্বামীর প্রতি রুক্মিণীর ভক্তি ঋষি শুক দ্বারা রাজা পরীক্ষিতের নিকট বর্ণিত হয়েছে। [১৬]
রুক্মিণীর পিতা-মাতা আনন্দিত হয়ে তাদের অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু রুক্মী – যিনি জরাসন্ধের সহযোগী ছিলেন – এর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। পরিবর্তে, তিনি প্রস্তাব করেছিলেন, রুক্মিণী তার বন্ধু শিশুপালকে বিবাহ করবেন — যে চেদি রাজ্যের যুবরাজ এবং কৃষ্ণের পিসতুতো ভাই। [১৭][১৮] ভীষ্মক রাজি হন এবং বিচলিত রুক্মিণী অবিলম্বে একজন বিশ্বস্ত ব্রাহ্মণকে ডেকে পাঠান এবং কৃষ্ণের কাছে একটি বার্তা প্রদান করতে ব্রাহ্মণকে বলেন।[১৭] বার্তায় তিনি কৃষ্ণকে তার প্রেমের কথা লিখেছিলেন এবং তার বিয়ের পূর্বে যখন তিনি দেবী অম্বিকা ( পার্বতী ) মন্দিরে গিয়েছিলেন তখন তাকে অপহরণ করতে বলেন। দ্বারকায় বার্তা পেয়ে কৃষ্ণ বার্তাবাহককে বলেছিলেন রুক্মিণীকে জানাতে যে তিনি তার পত্র পেয়েছেন এবং তাকে তার স্ত্রীরূপে গ্রহণ করতে আগমন করবেন। কৃষ্ণ তখনই তার বড় ভাই বলরামের সাথে বিদর্ভের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। [১৮][১৯]
এদিকে বিদর্ভের রাজধানী কুণ্ডিনে ভীষ্মক রুক্মিণীর বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। রুক্মিণী রাজন্যবর্গের বিশাল দল দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, এবং ভাবতে থাকেন তিনি যে ব্রাহ্মণকে পাঠিয়েছিলেন তিনি নিরাপদে পৌঁছেছেন কি না, এবং সর্বশক্তিমান যেন তার প্রচেষ্টায় তাকে সাহায্য করেন। তার বদন ফ্যাকাশে হয়ে গেল এবং তার চিন্তাভাবনাগুলি দুঃখজনক হয়ে উঠল কারণ রুক্মিণী নিজেকে শান্ত পৃথিবী থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। কৃষ্ণ এখনও তাকে বিবাহ করতে আগমন না করায় তার দুঃখের অন্ত ছিল না এবং তা এতটাই বেশি ছিল যে তিনি খাওয়া-দাওয়া, তার তোতাকে গান গাইতে বা তার সুরবাহার বাজাতে অস্বীকার করেছিলেন। [২০] শিশুপাল, জরাসন্ধ সহ তার সহযোগীদের নিয়ে এসেছিলেন। কৃষ্ণ এবং বলরামও আগমন করলেন এবং ভীষ্মক তাদের স্বাগত জানালেন। এদিকে প্রাসাদে রুক্মিণী সমস্ত আশা হারিয়ে ফেললেন, কিন্তু দূত ফিরে এসে জানালেন কৃষ্ণ তার অনুরোধ স্বীকার করেছেন। পরের দিন রুক্মিণী অম্বিকার কাছে প্রার্থনা করতে মন্দিরে যান। বিবাহ মণ্ডপের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি কৃষ্ণকে দেখতে পেলেন এবং কৃষ্ণ শীঘ্রই রুক্মিণীকে তার রথে নিয়ে গেলেন। জরাসন্ধের সমস্ত বাহিনী দ্রুত তাদের অনুসরণ করতে শুরু করলে বলরাম ও তার সৈন্যবাহিনী তাদের বিতাড়িত করে। [২১] রুক্মী কৃষ্ণ ও রুক্মিণীর পশ্চাদ্ধাবন করলেন। [২২] তিনি কৃষ্ণকে যুদ্ধার্থে আহ্বান করলেন, কিন্তু সহজেই কৃষ্ণের দ্বারা পরাভূত হলেন। রুক্মিণী কৃষ্ণের কাছে তার ভাইয়ের জীবন বাঁচানোর জন্য অনুরোধ করেন এবং কৃষ্ণ তার অনুরোধে রুক্মির প্রাণ বাঁচাতে রাজি হন। কৃষ্ণ শাস্তিস্বরূপ রুক্মীর চুল - গোঁফ চেঁচে দেন এবং তাকে ছেড়ে দেন। কৃষ্ণ এবং রুক্মিণী দ্বারকায় পৌঁছলে তাদের খুব আড়ম্বর ও অনুষ্ঠানের সাথে স্বাগত জানানো হয়েছিল, এবং তারপরে বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়।
বিবাহের বয়স
[সম্পাদনা]
মহাভারতের পরিশিষ্ট হরিবংশ অনুসারে, (বিষ্ণু পর্ব, অধ্যায় ৫৯, শ্লোক ৩৫), রুক্মিণী যখন কৃষ্ণকে বিয়ে করেছিলেন তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর। [২৩] এই তথ্যটি ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ (শ্রীকৃষ্ণজন্ম খণ্ড, অধ্যায় ১০৫, শ্লোক ৯-১৪) দ্বারাও সমর্থিত, যেখানে বলা হয়েছে, তিনি বয়ঃসন্ধি লাভ করেছিলেন এবং বিবাহের উপযুক্ত ছিলেন। [২৪] একইভাবে ভাগবত পুরাণে (দশম স্কন্ধ, অধ্যায় ৫৩, শ্লোক ৫১), তাকে যৌবন বা যৌবনের পর্যায়ে কুমারী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। [২৫][২৬]
কৃষ্ণের চাতুরী
[সম্পাদনা]ভাগবত পুরাণ ঋষি শুকের মাধ্যমে একটি পর্বের বর্ণনা করেছে যেখানে তখনও পর্যন্ত অবিবাহিত রুক্মিণী একটি রত্নখচিত মার্জনী গ্রহণ করেন এবং তার সম্ভাব্য স্বামী কৃষ্ণকে ব্যজন করতে শুরু করেন, এবং একটি মূল্যবান কোমরবন্ধ পরিধান করেন তথা একটি চকচকে কণ্ঠাভরণ ধারণ করেন। যদিও কৃষ্ণ সন্তুষ্ট হন, কৃষ্ণ এই বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করেন যে রাজকন্যাকে বেশ কয়েকজন সুদর্শন এবং উদ্যমী রাজার দ্বারা কামনা করা হয়েছিল। কৃষ্ণ বলেন তিনি তাদের সমকক্ষ নন। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে কৃষ্ণ প্রায় তার রাজ্যও হারাতে বসেছিলেন। কৃষ্ণ মন্তব্য করেন, তাকে তার বর হিসাবে পছন্দ করার ক্ষেত্রে রুক্মিণী অদূরদর্শী ছিলেন না এবং তাকে এখন তার মতো একজন ক্ষত্রিয়কে বেছে নিতে হবে। রুক্মিণীর হৃদয় কেঁপে উঠল, তিনি তার পায়ের অরুণবর্ণ রক্তিম নখাবলী দ্বারা মেঝেতে আঁচড়ের দাগ কাটতে লাগলেন, এবং তার অঞ্জনরঞ্জিত চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল। রুক্মিণী মেঝেতে পড়ে গেলেন, তার চুল এলোমেলো হয়ে যায়। কৃষ্ণ দ্রুত তাকে তার পায়ের কাছে উত্থাপিত করেন এবং তাকে আশ্বস্ত করেন এই বলে যে তিনি নিছকই রসিকতা করছেন, যেমনটি গৃহকর্তারা তাদের প্রিয়জনের সাথে করে। রুক্মিণীর পরিত্যাগের ভয় তার থেকে দূরে সরে যায়, রাজকুমারী কৃষ্ণের প্রশংসা করেন, তার মহিমার প্রশংসা করেন এবং কৃষ্ণকে তার আত্মা তথা আত্মবোধ বলে সম্বোধন করেন। কৃষ্ণ তখন তাঁর প্রতি রুক্মিণীর একক ভক্তির প্রশংসা করেন। [২৭]
"কৃষ্ণের রুক্মিণীকে উপহার প্রদান"
[সম্পাদনা]যখন নারদ ঋষি স্বর্গের ইন্দ্রের থেকে কৃষ্ণের কাছে অতি সুন্দর ও দূরলভ একটি পারিজাত পুষ্প নিয়ে আসেন, যা কেবল সর্গে দেবরাজ ইন্দ্রের বাগানে পাওয়া যায়। তখন রুক্মিণী দেবী তাঁর পাশে বসে ছিলেন এবং কৃষ্ণ রুক্মিণীর প্রতি সর্বদা প্রসন্ন ও প্রেম মনোভাবে থাকতেন, রুক্মিণীর সদা কৃষ্ণের প্রতি কোমল, শ্রদ্ধাশীল, সেবামূলক ও প্রেমভাব সভাবের জন্য। এর জন্য কৃষ্ণ যত্ন সহকারে পুষ্পটি রুক্মিণীর চুলে সাজিয়ে দেন। এটা দেখে নারদ ঋষি মজা করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সত্যভামাকে জ্বালাতন করার সিদ্ধান্ত নেন, তাই তিনি সবকিছু অতিরঞ্জিত করে সত্যভামা কে বলতে শুরু করেন, তিনি বলেন, রুক্মিণী কৃষ্ণের সবচেয়ে প্রিয়, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি তাঁর আত্মার মালিক। তিনি সত্যভামার চেয়ে অনেক বেশি প্রিয় এবং সত্যভামা কেবল তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে মিথ্যা অজ্ঞতার মধ্যে বাস করতেন। যখন এই খবর অন্যান্য স্ত্রীদের কাছে পৌঁছে গেল, তখন তাদের বেশিরভাগই মাতা রুক্মিণীর জন্য খুব খুশি হয়ে বললেন, তাদের বোনের মতো সহ-স্ত্রীর জন্য কৃষ্ণের হৃদয়ে সবচেয়ে বড় স্থান পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার।
তবে সত্যভামা এতে মুগ্ধ হননি। সত্যভামা এতে কৃষ্ণের উপর অভিমান করেন। তিনি সাধারণত ঈর্ষান্বিতভাবে অভিনয় করতে পছন্দ করতেন কারণ কৃষ্ণ এই মানবিক গুণ দ্বারা মুগ্ধ হয়েছিলেন। দেখুন, এই জিনিসগুলি সীমার মধ্যে থাকাকালীন একটি সম্পর্কে আনন্দ যোগ করে। মানুষ হিসেবে কৃষ্ণ হয়তো তার স্ত্রীদের কাছ থেকে এই ছোট ছোট ক্রোধ উপভোগ করতে চেয়েছিলেন, রুক্মিণী দেবী এর জন্য খুব মিষ্টি ছিলেন, সত্যভামা নন, তিনি ছিলেন অগ্নি।
এতে কৃষ্ণ জীবনে প্রথমবারের মতো ভীত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন... এবং ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তিনি তার স্ত্রীর কাছে গেলেন। তিনি তার সাথে মিষ্টি মিষ্টি কথা বললেন, যখন স্ত্রী বিরক্ত এবং রাগান্বিত হওয়ার ভান করলেন, এই ঠাট্টা-তামাশা ঐশ্বরিক লীলা, ভগবানের সন্তুষ্টির জন্য, সমস্ত ঋষিদের দ্বারা পূজিত দেবী সহজেই উত্তেজিত স্ত্রীর রূপ ধারণ করলেন।
তবে, যদিও তিনি এই সমস্ত কথা কৃষ্ণকে নিজেই বলেছিলেন, তিনি কখনও কাউকে তাঁর কৃষ্ণের সাথে খারাপ ব্যবহার করার চেষ্টা করতে দিতেন না। যখন স্বর্গবাসীরা মনে করলেন যে কৃষ্ণ ইন্দ্রের সমতুল্য নন, তখন তিনি খোলাখুলিভাবে তাদের চ্যালেঞ্জ জানালেন যে তারা কি কৃষ্ণকে পারিজাতকে হরণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে? কৃষ্ণ যখন সত্যভামা এর মান ভাঙ্গার জন্য তার কাছে জানতে চাইলেন যে তার দুঃখ দূর করার জন্য তিনি কী চান, তখন তিনি তৎক্ষণাৎ খুশি হয়েছিলেন।
রুক্মিণী দেবীর প্রতি সত্যভামার এত শ্রদ্ধা ছিল যে, তিনি কখনও রুক্মিণী দেবীর সেই একক ফুলটি চাননি, বরং তিনি চেয়েছিলেন কৃষ্ণ যেন ঐশ্বরিক বৃক্ষটি সর্গে গিয়ে ইন্দ্রের কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে আসেন। তবে, এটি স্বার্থপরতার জন্য ছিল না।
এমনকি ঋষি নারদকেও সত্যভামা খারাপ কিছু বলেননি, যদি সত্যভামা এত ঈর্ষান্বিত ব্যক্তি হতেন, তাহলে কি তিনি নারদ মুনির সাথে ঠান্ডা আচরণ করতেন না? তার স্বামী এবং তিনি সকলেই শক্তিশালী ছিলেন, তবুও তাদের বিনয়ও সর্বোচ্চ ছিল। তিনি কেবল কৃষ্ণের আনন্দের জন্য ঈর্ষান্বিত আচরণ করেন, তিনি আসলে ঈর্ষান্বিত নন, তিনি ঈর্ষান্বিত হওয়ার ভান করেন।
কৃষ্ণ তখন সত্যভামার মান ভাঙ্গাতে তার ইচ্ছা অনুযায়ী ইন্দ্র এর সাথে যুদ্ধ করে পারিজাত পুষ্পের (বৃক্ষ) কল্পবৃক্ষ সর্গ থেকে নিয়ে আসেন এবং সত্যভামার গৃহ প্রাঙ্গনে রোপণ করেন। এতে সত্যভামার মান ভাঙে, এবং তিনি খুবই প্রসন্ন হন। এবং কৃষ্ণ তার চাতুরীর দ্বারা রুক্মিণীকেও অতি প্রসন্ন করেছিলেন। যখন কৃষ্ণ কল্পবৃক্ষটি সত্যভামার প্রাসাদে রোপন করেছিলেন, তখন তিনি সকলের অজান্তে এমন ভাবে রোপন করেছিলেন যাতে পারিজাত পুষ্প মাটিতে পতিত হলে রুক্মিণীর প্রাসাদেও অনেক পুষ্প পতিত হয়।
দাম্পত্য জীবন ও সন্তান
[সম্পাদনা]
যদিও কৃষ্ণ আরও বহু নারীকে বিয়ে করেছিলেন, তবুও রুক্মিণী তাঁর প্রধান সহধর্মিণী এবং দ্বারকার রাণী ছিলেন। [২৮] যখন রুক্মিণী একটি সন্তানের আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন, তখন কৃষ্ণ তাঁর গরুড় বাহনে আরোহণ করে কৈলাস পর্বতে উড়ে যান এবং শিবের কাছে তাঁর স্ত্রীর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বাধ্য হয়ে শিব রুক্মিণীকে কামদেবের নতুন অবতারের ধারণকারিণী হওয়ার আশীর্বাদ করেন। এই কামদেবকে তিনি পূর্বে তার তৃতীয় নয়ন দিয়ে অগ্নিদগ্ধ করেছিলেন। এভাবেই প্রদ্যুম্নের জন্ম হয়। [২৯] বহু শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, রুক্মিণী এবং কৃষ্ণের অন্যান্য স্ত্রীগণ বোনের মতো বসবাস করতেন।
ভাগবত পুরাণ এবং বিষ্ণু পুরাণে বলা হয়েছে, রুক্মিণী ও কৃষ্ণের দশটি পুত্র ছিল- প্রদ্যুম্ন, চারুদেষ্ণ, সুদেষ্ণ, চারুদেহ, সুচারু, চারুগুপ্ত, ভদ্রচারু, চারুচন্দ্র, বিচারু এবং চারু। [১৭][৩০][৩১] হরিবংশানুসারে, রুক্মিণীর পুত্ররা হলেন প্রদ্যুম্ন, চারুদেষ্ণ, চারুচন্দ্র, চারুগর্ভ, সুদংষ্ট্র, দ্রুম, সুষেণ, চারুগুপ্ত, চারুবিন্দ এবং চারুবাহু। মহাভারতের অনুশাসন পর্বে একটি ভিন্ন তালিকা পাওয়া যায়, যেখানে প্রদ্যুম্ন, চারুদেষ্ণ, সুচারু, চারুবেশ, যশোধন, চারুশ্রবা, চারুযশা এবং শম্ভু হলেন রুক্মিণীর পুত্র। [১৭][৩২] বিষ্ণু পুরাণ আরও উল্লেখ করেছেন, রুক্মিণীর চারুমতী নামে একটি কন্যা ছিল। [৩৩][৩৪]
তুলাদণ্ডের কাহিনি
[সম্পাদনা]উড়িষ্যার একটি লোককাহিনী অনুসারে, ঐশ্বরিক ঋষি নারদ একবার দ্বারকায় এসেছিলেন এবং ভিক্ষা হিসাবে কৃষ্ণকে প্রদান করতে বলেছিলেন। কৃষ্ণের অষ্টভার্যা নারদকে অন্য কিছু গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন এবং নারদ তাদের কৃষ্ণের ওজনের সমান সম্পদ দিতে বলেন। তারা একটি বড় দাঁড়িপাল্লা( তুলাভ্রম ) স্থাপনের ব্যবস্থা করল। সত্যভামা তার সমস্ত মুদ্রা, রত্ন এবং অলঙ্কার তুলাদণ্ডে রেখেছিলেন, কিন্তু তা একচুলও নড়ল না। অন্য স্ত্রীরা তাদের অলঙ্কারাদি দিলে তাতেও কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে, রুক্মিণী এসে তুলসীর একটি পাতা তুলাযন্ত্রে রাখলেন এবং উচ্চারণ করলেন, এই পত্রটি কৃষ্ণের প্রতি তার প্রেমের বহিঃপ্রকাশ। দাঁড়িপাল্লা তখন ভারসাম্যপূর্ণ স্থির হয়ে ওঠে। যদিও এই গল্পটি কৃষ্ণের জীবন সম্পর্কিত প্রধান ধর্মগ্রন্থগুলিতে অনুপস্থিত, তবে সত্যভামার জড় সম্পদের ঊর্ধ্বে রুক্মিণীর প্রেমের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করার জন্য এটি প্রায়শই পুনরাবৃত্ত হয়। [৩৫] এই গল্পের একমাত্র বিখ্যাত সংস্করণগুলি পদ্ম পুরাণ এবং দেবী ভাগবত পুরাণে পাওয়া যায়, যেখানে সত্যভামা স্বর্ণের জিনিস দিয়ে সাধারণত কৃষ্ণকে ওজন করতে সফল হন। [৩৬]
সুদামার সাথে দেখা
[সম্পাদনা]ভাগবত পুরাণে রুক্মিণীর বিবাহিত জীবনের আরেকটি সুবিখ্যাত ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। কৃষ্ণের বাল্যবন্ধু সুদামা যখন দ্বারকায় গমন করেন, তখন রুক্মিণী সুদামাকে স্বাগত জানান এবং তাকে খাদ্য প্রদান করেন। তিনি এবং কৃষ্ণ সুদামার দীর্ঘ যাত্রার শ্রান্তি থেকে বিশ্রাম নেওয়ার সাথে সাথে তাকে ব্যজন করেছিলেন। এই ধরনের ভক্তি রুক্মিণীর একটি বৈশিষ্ট্য যা প্রচলিত। [৩৭]
দূর্বাসার অভিশাপ
[সম্পাদনা]স্কন্দ পুরাণ অনুসারে, বিখ্যাত বদমেজাজী ঋষি দূর্বাসাযখন তীর্থযাত্রায় ছিলেন তখন কৃষ্ণ ও রুক্মিণীর সাথে তার দেখা হয়েছিল। দূর্বাসা দম্পতিকে তার রথের উপর জোয়াল রাখতে বলেছিলেন যখন তিনি লাগাম ধরেছিলেন। রথকে সামনের দিকে টেনে নিতে নিতে রুক্মিণী ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং কৃষ্ণকে জলের জন্য অনুরোধ করেন। কৃষ্ণ মাটিতে পদাঘাত করেন যার ফলে গঙ্গা নদীর একটি ঝর্ণা দেখা দেয়। তার অনুমতি না নিয়ে নিজ তৃষ্ণা মেটাতে দেখে ক্রুদ্ধ দূর্বাসা রুক্মিণীকে তার প্রিয় কৃষ্ণের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিশাপ দেন। রুক্মিণী উদ্বিগ্ন হয়ে কাঁদতে লাগলেন। তাকে শান্ত করার জন্য, কৃষ্ণ রুক্মিণীকে বর দিয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন যে যদি তার ভক্তরা কেবল কৃষ্ণকে দর্শন করে কিন্তু রুক্মিণীকে দর্শন না করে, তবে তারা কেবল অর্ধেক ফল লাভ করবে। [৩৮][৩৯]
এই সান্ত্বনা সত্ত্বেও, রুক্মিণী তার পতির কাছ থেকে বিচ্ছেদের কারণে ব্যথিত হয়ে পড়েন এবং অজ্ঞান হয়ে যান। সমুদ্রদেব এবং ঋষি নারদ তাকে সান্ত্বনা দিতে আগমন করেন। নারদ তাকে অবগত করেন যে তার স্বামী - বিষ্ণুর প্রকাশ - স্বয়ং পরমব্রহ্ম, তিনি অলঙ্কৃতভাবে বিস্মিত হয়েছিলেন, কীভাবে রুক্মিণী একটি বিশেষ বাগানে তার সঙ্গ রাখার আশা করতে পারেন। সমুদ্র দেবর্ষির কথায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, রুক্মিণীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে বিষ্ণুর সহচরী হিসাবে, রুক্মিণী সর্বদা তাঁর সত্তায় তার স্থায়ীত্ব বজায় রাখবেন। গঙ্গার মূর্ত রূপ দেবী ভাগীরথী এই স্থানে ফল ও ফুলে ভরা একটি সমৃদ্ধ বন তৈরি করেছিলেন, যা শীঘ্রই দ্বারকার বাসিন্দাদের কাছে ঘনঘন আবির্ভূত হয়। দূর্বাসা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তার শক্তি দিয়ে বন পুড়িয়ে দেন। রুক্মিণী বিষণ্ণ হয়ে পড়েন এবং তার মানবী রূপ ত্যাগ করার কথা ভাবতে থাকেন। কৃষ্ণ এসে তাকে থামালেন। কৃষ্ণ রুক্মিণীকে তার ভক্তি সম্পর্কে আশ্বস্ত করলেও রুক্মিণী নিজের প্রতি লজ্জিত এবং ক্ষিপ্ত বোধ করলেন। অনুতপ্ত দূর্বাসা কৃষ্ণকে রুক্মিণীর সাথে পুনরায় মিলিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, এবং কৃষ্ণ সম্মতি দিয়েছিলেন, ঋষিকে সদগুণের সাথে কৃপা করার পাশাপাশি গঙ্গা নদীকে নমস্কার করেছিলেন, যিনি তখন দুঃখের মুক্তিদাতা হয়েছিলেন। [৪০][৪১]
মৃত্যু
[সম্পাদনা]মৌসল পর্বে, যদুবংশ সংহারের পরবর্তী সময়ে কৃষ্ণের অন্তর্ধানের পর, রুক্মিণী জাম্ববতীর সাথে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আত্মোৎসর্গ করেন। [৪২][৪৩]
মূর্তিশিল্প
[সম্পাদনা]
অনেক গ্রন্থে রুক্মিণী কৃষ্ণকে নিজ স্বয়ম্বর থেকে তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ব্রাহ্মণকে পাঠিয়েছিলেন, তখন রাজকন্যার সুন্দর হাত, বেণীযুক্ত কেশ এবং চন্দ্রের ন্যায় মুখমণ্ডলের বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যান্য বিবরণেও তাকে ধারাবাহিকভাবে সুন্দরী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।[৪৪]
হিন্দু ঐতিহ্যে উল্লিখিত রুক্মিণী কৃষ্ণের মহিমা ও সম্পদের প্রতীক। রুক্মিণীশ বিজয়ে বাদিরাজ তীর্থ রুক্মিণীকে কৃষ্ণের পরম প্রিয় সহধর্মিণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। [৪৫] দক্ষিণ ভারতীয় মূর্তিশিল্পভিত্তিক ঐতিহ্যে, রুক্মিণী সত্যভামার সাথে কৃষ্ণের অন্যতম সহধর্মিণী হিসাবে আবির্ভূত হন। [৪৬]
বৈখানসাগম অনুসারে, রুক্মিণীকে কৃষ্ণের ডানদিকে চিত্রিত করা উচিত, তার মূর্তি স্বর্ণাভ-হলুদ আকার বিশিষ্ট। তার চুল সুরুচিসম্মত গ্রন্থিবদ্ধ অনুমিত হয়, এবং ফুল দিয়ে সজ্জিত করা উচিত। তার ডান হাত হবে নীচে আনত, এবং তার বাম হাতে একটি পদ্ম থাকবে। [৪৭][৪৮] তাকে বিভিন্ন অলংকারে অলংকৃত করা উচিত। [৪৯]
সাহিত্য এবং প্রতীকবাদ
[সম্পাদনা]হিন্দুধর্মে রুক্মিণীকে সৌভাগ্যের দেবী হিসেবে পূজিত করা হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার স্বামী কৃষ্ণের সাথে তাকে দেখা যায়। লক্ষ্মীর একজন অবতার হিসেবে, রুক্মিণী হিন্দু ঐতিহ্যের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ এবং পাঠ্যে কৃষ্ণের প্রধানা তথা সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রী। [৫০]

রুক্মিণীর উল্লেখ পাওয়া যায় গোপাল তাপনি উপনিষদে (কৃষ্ণের অন্য স্ত্রী হিসেবে),[৫১] গর্গ সংহিতায় (দ্বারকার রাণী হিসেবে),[৫২] ভাগবত পুরাণে (কৃষ্ণের প্রধানা রাণী হিসেবে),[৫৩] ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণে, [৩] [৫৪] হরিবংশের দ্বারকা কাহিনীতে,[৫৫] এবং মহাভারতে প্রধানত আদিপর্ব এবং মৌসল পর্বে । [৫৬] রুক্মিণী রুক্মিণীশ বিজয় পাঠ্যটির কেন্দ্রীয় চরিত্র যেটি বিয়ের আগে তার এবং কৃষ্ণের জীবন সম্পর্কে কথা বলে ও তাদের বিবাহের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। [৫৭] তিনি বিষ্ণু পুরাণ এবং পদ্ম পুরাণেও ( লক্ষ্মীর অবতার হিসাবে) আবির্ভূত হয়েছেন। [৫৮][৫৯]
বৃহদ্ভাগবতামৃতে , রুক্মিণীকে লক্ষ্মীর সাথে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং কৃষ্ণকে পরমেশ্বর তথা সমস্ত অবতারের উৎস হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদনুসারে, তিনি বামনের মতো কৃষ্ণের অবতারদের সাথে অংশাবতার গ্রহণ করেন এবং কৃষ্ণের সাথে তাঁর "যথাযথভাবে পরিপূর্ণ ঐশ্বরিক স্ত্রী" হিসাবে বর্তমান থাকেন। [৬০] নারদ পুরাণে ভক্তকে কৃষ্ণের উপাসনা করার পদ্ধতি সম্পর্কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, এবং তার ভক্তিতে রুক্মিণীর ভূমিকাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। রুক্মিণী কৃষ্ণের সাথে তার বাম দিকে পূজিত হন; তিনি রজোগুণসম্পন্না। [৬১] স্কন্দ পুরাণে কৃষ্ণের সাথে রুক্মিণী দেবীর পূজার প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হয়েছে। ভক্ত রুক্মিণীকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে ইচ্ছাপূরণ, পুরুষ বংশধর এবং শারীরিক সৌন্দর্য অর্জন করতে পারেন, বলা হয়েছে। [৬২]
পূজা ও উৎসব
[সম্পাদনা]
রুক্মিণীকে প্রধানত গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, গোয়া, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু এবং কেরালার মতো পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে পূজা করা হয়। তার রাজ্য বিদর্ভ বর্তমান মহারাষ্ট্রে অবস্থিত বলে মনে করা হয়। বিঠোবা (কৃষ্ণের একটি আঞ্চলিক রূপ) এর সাথে রুক্মিণীকে পন্ধরপুর অঞ্চলে "রাখুমাই" হিসাবে পূজা করা হয়। [২১][৬৪] পাণ্ডব থুথর পেরুমাল মন্দির, পার্থসারথি মন্দিরের মতো দিব্য দেশম মন্দিরে রুক্মিণীকে প্রধান দেবী হিসেবে পূজা করা হয়; এখানে কৃষ্ণ প্রধান দেবতা। [৬৫] রুক্মিণী তার সপত্নী সত্যভামার সাথে থিরুক্কাভালম্পাদি, বেণুগোপালস্বামী মন্দির এবং রাজাগোপালস্বামী মন্দিরেও পূজিত হন। [৬৬]
উৎসব
[সম্পাদনা]রুক্মিণী অষ্টমী
[সম্পাদনা]রুক্মিণী অষ্টমী হল রুক্মিণীর জন্মবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠান। উৎসবটি হিন্দু চান্দ্র মাসের পৌষ ( ডিসেম্বর-জানুয়ারি) কৃষ্ণপক্ষের অষ্টম দিনে পালন করা হয়।[৬৭]
বসন্তোৎসবম্
[সম্পাদনা]বসন্তোৎসব হল বসন্ত ঋতুর আগমনোপলক্ষে তিরুমালায় উদযাপিত একটি বার্ষিক সেবা। [৬৮] অভিষেকম্ - একে বিশেষভাবে স্নপন থিরুমঞ্জনম (পবিত্র স্নান) বলা হয়। তিনদিনই উৎসব মূর্তি এবং তার সহধর্মিণীদের অভিষেক করা হয়। তৃতীয় দিনে, কৃষ্ণ এবং রুক্মিণী সহ রাম, সীতা, লক্ষ্মণ এবং হনুমান মূর্তির অভিষেক করা হয়। তিন দিনেই সন্ধ্যায় শোভাযাত্রায় পবিত্র প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। [৬৯]
মন্দির
[সম্পাদনা]
- রুক্মিণী দেবী মন্দির, দ্বারকা, গুজরাট।
- বিট্ঠল রুখমিনী মন্দির, কৌণ্ডন্যপুর, মহারাষ্ট্র
- তিরুমালা বেঙ্কটেশ্বর মন্দির, তিরুপতি, অন্ধ্রপ্রদেশ। [৭০]
- বিঠোবা মন্দির, পন্ধরপুর, মহারাষ্ট্র। [৭১]
- পাণ্ডব থুথার পেরুমাল মন্দির, কাঞ্চিপুরম, তামিলনাড়ু । [৭২]
- থেন্নাঙ্গুর শ্রী রাখুমাই সমেথ পান্ডুরঙ্গ মন্দির, তিরুভান্নামালাই, তামিলনাড়ু। [৭৩]
- শ্রী বিট্টল রাখুমাই মন্দির, দহিসার, মহারাষ্ট্র। [৭৪]
- শ্রী বিট্ঠল রুক্মিণী মন্দির, তাঞ্জাভুর, তামিলনাড়ু। [৭৫]
- শ্রী রুক্মিণী পান্ডুরঙ্গ স্বামী মন্দির, মাছলিপত্তনম, অন্ধ্রপ্রদেশ। [৭৬]
- বিজয় বিত্থল মন্ধির, হাম্পি, কর্ণাটক । [৭৭]
- ইসকন মন্দির - ইসকন কৌণ্ডন্যপুর,[৭৮] ইসকন লস অ্যাঞ্জেলেস,[৭৯] ইসকন অমরাবতী,[৮০] ইসকন দ্বারকা। [৮১]
- কান্তজিউ মন্দির, দিনাজপুর, বাংলাদেশ । [৮২]
- শ্রী কৃষ্ণান মন্দির, সিঙ্গাপুর । [৮৩]
- লখুবাই মন্দির দিদিরাবন, পন্ধরপুর, ভারত
- বিঠল রুক্মিণী মন্দির, নিউ জার্সি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- রুক্মিণী পান্ডুরঙ্গ মন্দির, লং বিচ, সিএ
প্রভাব
[সম্পাদনা]
সংস্কৃতি
[সম্পাদনা]অরুণাচল প্রদেশের মিশমি লোকেরা বিশ্বাস করে যে রুক্মিণী তাদের গোত্রের ছিল। 'রুক্মিণী হরণ' নাটক ও নৃত্য প্রচলিত। কিংবদন্তি আছে যে কৃষ্ণ রুক্মিণীকে বিয়ে করতে না দেওয়ায় শাস্তিস্বরূপ মিশমি লোকদের চুল কাটতে বলেছিলেন। এই ইদু-মিশমির কারণে তাদের "চুলিকাটা"ও বলা হয়। [৮৪][৮৫]
চিত্রকর্ম
[সম্পাদনা]
কৃষ্ণের সাথে রুক্মিণীর বিবাহ এবং আনুষঙ্গিক ঘটনাগুলি কাংড়া চিত্রকলা এবং মান্ডি চিত্রে চিত্রিত হয়েছে। [৮৬]
জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে
[সম্পাদনা]চলচ্চিত্র
[সম্পাদনা]- ১৯৫৭ সালের তেলুগু-তামিল চলচ্চিত্র মায়াবাজারে 'সন্ধ্যা' রুক্মিণী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। [৮৭]
- ১৯৬৬ সালের তেলুগু চলচ্চিত্র শ্রীকৃষ্ণ তুলাভরম -এ রুক্মিণী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অঞ্জলি দেবী । [৮৮]
- ১৯৬৭ এবং ১৯৭১ এর তেলুগু চলচ্চিত্র যথাক্রমে শ্রীকৃষ্ণাবতারম এবং শ্রীকৃষ্ণ বিজয়মুতে দেবিকা রুক্মিণী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। [৮৯]
- ১৯৮৬ সালের হিন্দি চলচ্চিত্র কৃষ্ণ-কৃষ্ণে, রুক্মিণী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিদ্যা সিনহা ।
টেলিভিশন
[সম্পাদনা]- বিআর চোপড়ার ১৯৮৮ সালের মহাভারত ধারাবাহিকে, রুক্মিণী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন চন্না রূপারেল। [৯০]
- রামানন্দ সাগরের ১৯৯৩ সালের শ্রী কৃষ্ণ ধারাবাহিকে রুক্মিণী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন পিঙ্কি পারিখ । [৯১]
- ২০১১ সালের দ্বারকাধীশ ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ধারাবাহিকে রুক্মিণী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রিয়া বাথিজা এবং পায়েল শ্রীবাস্তব।
- ২০১৩ সালের মহাভারত ধারাবাহিকে, রুক্মিণী চরিত্রে অভিনয় করেন পল্লবী সুভাষ । [৯২]
- ২০১৭ ভিথু মৌলি ধারাবাহিকে রুক্মিণী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন একতা লাবড়ে।
- ২০১৭ পরমাবতার শ্রীকৃষ্ণ ধারাবাহিকে রুক্মিণী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আমনদীপ সিধু এবং হুনার হালি । [৯৩]
- ২০১৮ সালের রাধাকৃষ্ণ ধারাবাহিকে রুক্মিণী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন জলক দেশাই । [৯৪]
- ২০১৯ এর দ্বারকাধীশ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ – সর্বকলা সম্পন ধারাবাহিকে রুক্মিণী চরিত্রে অভিনয় করেন নীতা শেঠি।
চিত্রশালা
[সম্পাদনা]- শ্রীকৃষ্ণ রুক্মিণী দেবীকে রথে নিয়ে যাচ্ছেন
- দ্বারকার রুক্মিণী মন্দির
- মুম্বাইয়ের সায়ন বিঠাল মন্দিরে বিঠোবা (শ্রীকৃষ্ণ) এবং রুক্মিণী
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Baburao Patel (১৯৬৬)। The Rosary and the Lamp।
Oh ,Sweet Rukhmai Divine Mother of Humanrace
- ↑ R. D. Ranade (১৯৯৪)। Tukaram।
"His father is pandurang and mother is rakhumai
- ↑ Sunitha despande (২০০৭)। Islamic Financial Management, Volume 1 Marathi Literature। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৮২২০২২১৪।
Rakhumai-Mother Rukmini
- ↑ A.C Bhakti vedanta swami (১৯৬৮)। Bhagavad Gita as it isThe Marriage of Kṛṣṇa and Rukmiṇī।
Dvārakā's citizens were overjoyed to see Kṛṣṇa, the Lord of all opulence, united with Rukmiṇī, the goddess of fortune
- ↑ Kṛṣṇa Dvaipāyana Vyāsadeva (২০০২)। TheSummumBonumŚrīmad Bhāgavatam rukmi's defeatandmarriage (পিডিএফ)।
Oh King all the citizens in Dvārakā were overjoyed to see Kṛṣṇa, the Master of All Opulence joined in marriage with Rukmiṇī, the goddess of fortune
- ↑ D Dennis Hudson (2008). The Body of God : An Emperor's Palace for Krishna in Eighth-Century Kanchipuram: An Emperor's Palace for Krishna in Eighth-Century Kanchipuram. Oxford University Press. pp. 263–4. আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৯৭০৯০২-১
- ↑ "Rukmini, Rukmiṇī: 13 definitions"। www.wisdomlib.org (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ জুন ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০২২।
- ↑ Dasa, Gopiparanadhana (১ জানুয়ারি ২০০২)। Sri Brhad-bhagavatamrta: Volume One (ইংরেজি ভাষায়)। The Bhaktivedanta Book Trust। পৃ. Verse ৭৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৯১-৭১৪৯-৭৮৪-০।
- ↑ Bhandarkar, Ramkrishna Gopal (১৯৮৭)। Vaiṣṇavism, Ṡaivism and Minor Religious Systems (ইংরেজি ভাষায়)। Asian Educational Services। পৃ. ২১। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৬-০১২২-২।
expressed a desire for as good a son as Rukmini, his chief consort, had.
- ↑ Iwao, Shima (জুন–সেপ্টেম্বর ১৯৮৮)। "The Vithoba Faith of Maharashtra: The Vithoba Temple of Pandharpur and Its Mythological Structure" (পিডিএফ)। Japanese Journal of Religious Studies। ১৫ (2–3)। Nanzan Institute for Religion and Culture: ১৮৩–১৯৭। আইএসএসএন 0304-1042। ২৬ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ Bryant, Edwin Francis (২০০৭)। Krishna: A Sourcebook (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৮০৩৪০০-১।
- 1 2 Monier-Williams, Monier (১৮৭২)। A Sanskrit-English Dictionary (ইংরেজি ভাষায়)। Clarendon। পৃ. ৮৪৭।
- ↑ Chandra, Suresh (১৯৯৮)। Encyclopaedia of Hindu Gods and Goddesses (ইংরেজি ভাষায়)। Sarup & Sons। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৬২৫-০৩৯-৯।
- 1 2 3 Louis-Frédéric (১৯৭৭)। Encyclopaedia of Asian Civilizations: N-R (ইংরেজি ভাষায়)। L. Frédéric। পৃ. ৪৯২। আইএসবিএন ৯৭৮-২-৮৫৮৯৩-০৫০-০।
- ↑ Mani 1975, পৃ. 138।
- 1 2 Ayyar, P. V. Jagadisa (১৯৮২)। South Indian Shrines: Illustrated (ইংরেজি ভাষায়)। Asian Educational Services। পৃ. ২৯। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৬-০১৫১-২।
- 1 2 3 4 5 Mani, Vettam (১৯৭৫)। Puranic encyclopaedia : a comprehensive dictionary with special reference to the epic and Puranic literature। Robarts – University of Toronto। Delhi : Motilal Banarsidass। পৃ. ৬৫৭। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৪২৬০৮২২০।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: প্রকাশকের অবস্থান (লিঙ্ক) - 1 2 "CHAPTER FIFTY-TWO"। vedabase.io (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০২১।
- ↑ Ayyar, P. V. Jagadisa (১৯৮২)। South Indian Shrines: Illustrated (ইংরেজি ভাষায়)। Asian Educational Services। পৃ. ৩২। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৬-০১৫১-২।
- ↑ Ayyar, P. V. Jagadisa (১৯৮২)। South Indian Shrines: Illustrated (ইংরেজি ভাষায়)। Asian Educational Services। পৃ. ৩৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৬-০১৫১-২।
- 1 2 Pattanaik, Devdutt (১ জুলাই ২০১৮)। Shyam: An Illustrated Retelling of the Bhagavata (ইংরেজি ভাষায়)। Penguin Random House India Private Limited। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৫৩০৫-১০০-৬।
- ↑ Gazetteer of the Bombay Presidency: Kathiawar (Public Domain text)। Printed at the Government Central Press, Bombay। ১৮৮৪। পৃ. ৩৮০–৩৮১।
- ↑ Harivamsha Purana (Supplement to Mahabharata)। Gita Press। ২০১৪। পৃ. ১১৬৯।
- ↑ Brahma Vaivarta Purana। Chaukamba Publications। ২০০৩। পৃ. ৬৪৮।
- ↑ Shrimad Bhagavata Purana (Nepali)। Gita Press। ১৯৫৫। পৃ. ৪৪৯২।
- ↑ Shrimad Bhagavatam। Bhaktivedanta Book Trust। ১৯৭০। পৃ. ৪৪৯১।
- ↑ "Chapter 10(58)"। The Bhagavata Purana 3 (ইংরেজি ভাষায়)। Penguin Random House India Private Limited। ২১ জানুয়ারি ২০১৯। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৫৩০৫-৩৮০-২।
- ↑ Books 8-12: Krishna, spirit of delight (ইংরেজি ভাষায়)। Vighneswara Publishing House। ১৯৭৬। পৃ. ৭৪০।
- ↑ Mani, Vettam (১ জানুয়ারি ২০১৫)। Puranic Encyclopedia: A Comprehensive Work with Special Reference to the Epic and Puranic Literature (ইংরেজি ভাষায়)। Motilal Banarsidass। পৃ. ৫৯৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-০৫৯৭-২।
- ↑ Gita Press Gorakhpur। Vishnu Puran (Hindi ভাষায়)। পৃ. ৩৮৯।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - ↑ Sinha, Purnendu Narayana (১৯৫০)। A Study of the Bhagavata Purana: Or, Esoteric Hinduism (ইংরেজি ভাষায়)। Library of Alexandria। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৬৫৫-২৫০৬-২।
{{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য) - ↑ "The Mahabharata, Book 13: Anusasana Parva: Anusasanika Parva: Section XIV"। sacred-texts.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০২১।
- ↑ Dalal, Roshen (২০১০)। Hinduism: An Alphabetical Guide (ইংরেজি ভাষায়)। Penguin Books India। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৪-৩৪১৪২১-৬।
- ↑ Gita Press Gorakhpur। Vishnu Puran। পৃ. ৩৮৯।
- ↑ Devdutt Pattanaik (সেপ্টেম্বর ২০০০)। The Goddess in India: The Five Faces of the Eternal Feminine। Inner Traditions/Bear। পৃ. ২৭। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৯২৮১৮০৭৫।
- ↑ Calcutta Review (ইংরেজি ভাষায়)। University of Calcutta। ১৯০৫। পৃ. ২৩১।
- ↑ Mani 1975, পৃ. 437।
- ↑ Tagore, GV (১৯৫০)। Skanda Purana।
- ↑ "Durvāsā cursing Rukmiṇī [Chapter 2]"। wisdomlib.org (ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ এপ্রিল ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২২।
- ↑ Tagore, GV। Skanda Purana। পৃ. Chapter ৩, Verses ৬–৮৪।
- ↑ "Relief of Rukmiṇī [Chapter 3]"। wisdomlib.org (ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ এপ্রিল ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২২।
- ↑ Dio Mahabharate.
- ↑ Vijayakumar, Lakshmi (১ জানুয়ারি ২০০৪)। "Altruistic Suicide in India": ৭৩–৮০। ডিওআই:10.1080/13811110490243804। আইএসএসএন 1381-1118। পিএমআইডি 16006390।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Reports (ইংরেজি ভাষায়)। Office of the Superintendent of Government Printing। ১৮৭৯। পৃ. ৩।
- ↑ Rukminisha Vijaya - 1 - Sri Vadiraja Tirtha, T.S.Raghavendran। পৃ. ৩১।
- ↑ Shulman, David Dean (১৪ জুলাই ২০১৪)। Tamil Temple Myths: Sacrifice and Divine Marriage in the South Indian Saiva Tradition (ইংরেজি ভাষায়)। Princeton University Press। পৃ. ২৮৩। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০০৮-৫৬৯২-৩।
- ↑ Rao, T. A. Gopinatha (৬ এপ্রিল ২০২০)। Elements of Hindu Iconography: Volume I - Part I (ইংরেজি ভাষায়)। BoD – Books on Demand। পৃ. ২০৩। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৮৪৬০-৪৭৬৭-৫।
- ↑ The Journal of the Bihar Research Society (ইংরেজি ভাষায়)। Bihar Research Society.। ১৯৬৮। পৃ. ২৩৮।
- ↑ Rao, T. A. Gopinatha (৬ এপ্রিল ২০২০)। Elements of Hindu Iconography: Volume I - Part I (ইংরেজি ভাষায়)। BoD – Books on Demand। পৃ. ২০৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৩-৮৪৬০-৪৭৬৬-৮।
- ↑ Bryant, Edwin F. (২০০৭), Krishna: A Sourcebook, Oxford University Press, পৃ. ২৮৩, ৩৬০, আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫১৪৮৯১-৬
- ↑ Deussen, P. (১৯৮০)। Sixty Upanishads of The Veda, trans। VM Bedekar and GB Palsule. Delhi। আইএসবিএন ০-৮৪২৬-১৬৪৫-৪।
- ↑ Lavanya Vemsani (২০১৬)। Krishna in History, Thought, and Culture। ABC-CLIO। পৃ. ৯৯–১০০। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬১০৬৯-২১১-৩।
- ↑ C Mackenzie Brown (1983), The Origin and Transmission of the Two "Bhāgavata Purāṇas": A Canonical and Theological Dilemma, Journal of the American Academy of Religion, Vol.
- ↑ Gielen, Joris (২০০৮)। "The Theological Bearing of Puranic Stories: An enquiry into the presence of feminine theology in the Brahmavaivarta Purana"। ডিওআই:10.1558/rosa.v2i2.177।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ The Mahabharata in Sanskrit: Book I: Chapter 2 in sacred-texts.com website, (MBh.1.2.69): "hari vaṃśas tataḥ parva purāṇaṃ khila saṃjñitam bhaviṣyat parva cāpy uktaṃ khileṣv evādbhutaṃ mahat." ["Hari Vamsa Purana known as Khila (supplement) and Bhavishya Parva also spoken as Khila are wonderful and great"].
- ↑ Ganguli, K.M. (1883-1896) "Mausala Parva" in The Mahabharata of Krishna-Dwaipayana Vyasa (12 Volumes).
- ↑ Vyasanakere Prabhanjanacharya (১৯৯৬)। Rukmiṇīśavijayaḥ: mahākāvyam। Aitareya Prakāśanam Vyāsanakere। পৃ. ৭।
- ↑ Kinsley, David (১৯ জুলাই ১৯৮৮)। Hindu Goddesses: Visions of the Divine Feminine in the Hindu Religious Tradition (ইংরেজি ভাষায়)। University of California Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-৯০৮৮৩-৩।
- ↑ Dalal, Roshen (১৪ জুলাই ২০১৭), "Hinduism and its basic texts", Reading the Sacred Scriptures, New York: Routledge, পৃ. ১৫৭–১৭০, ডিওআই:10.4324/9781315545936-11, আইএসবিএন ৯৭৮-১-৩১৫-৫৪৫৯৩-৬
- ↑ Gosvāmī, Sanātana (২০০২)। Śrī Br̥had Bhāgavatāmr̥ta of Śrīla Sanātana Gosvāmī : translated from the original Sanskrit, with a summary of the author's Dig-darśinī commentary। Internet Archive। Los Angeles : Bhaktivedanta Book Trust। পৃ. ২৪০–২৪১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৯২১৩-৩৪৮-২।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: প্রকাশকের অবস্থান (লিঙ্ক) - ↑ Shastri, J. L.; Tagare, G. V. (১ জানুয়ারি ২০০৪)। The Narada-Purana Part 3: Ancient Indian Tradition and Mythology Volume 17 (ইংরেজি ভাষায়)। Motilal Banarsidass। পৃ. ১১৪২। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-৩৮৮৪-০।
- ↑ "Importance of worshipping Rukmiṇī [Chapter 22]"। www.wisdomlib.org (ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ এপ্রিল ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০২২।
- ↑ Murdoch, John (১৯০৪)। The Religious Sects of the Hindus (ইংরেজি ভাষায়)। Christian Literature Society for India। পৃ. ২১।
- ↑ Pillai, S. Devadas (১৯৯৭)। Indian Sociology Through Ghurye, a Dictionary (ইংরেজি ভাষায়)। Popular Prakashan। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭১৫৪-৮০৭-১।
- ↑ R.K.K., Rajarajan (২০১৩)। "Historical sequence of the Vaiṣṇava Divyadeśas. Sacred venues of Viṣṇism"। Acta Orientalia, Societates Orientales Daniica Fennica Norvegia Svecia: ৩৭–৯০। আইএসএসএন 0001-6438।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ P.M., Neelakrishnan (এপ্রিল ১৯৯২)। "Sri Divya Desams"। Sarva Sastra Maha Vidyalaya: ১৯৩–৭। পিএমসি 3336602। পিএমআইডি 22556587।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Melton, J. Gordon (১৩ সেপ্টেম্বর ২০১১)। Religious Celebrations: An Encyclopedia of Holidays, Festivals, Solemn Observances, and Spiritual Commemorations [2 volumes]: An Encyclopedia of Holidays, Festivals, Solemn Observances, and Spiritual Commemorations (ইংরেজি ভাষায়)। ABC-CLIO। পৃ. ৭৫৫। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫৯৮৮৪-২০৬-৭।
- ↑ N, Ramesan (১৯৮১)। The Tirumala Temple। TTD।
- ↑ "Vasanthotsavam begins"। The Hindu। ১২ এপ্রিল ২০০৬। ১৯ এপ্রিল ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০০৮।
- ↑ Dr N Ramesan (১৯৮১)। The Tirumala Temple। Tirumala Tirupati Devasthanams।
- ↑ Vithoba Temple Pandharpur ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে - The Divine India
- ↑ C., Chandramouli (২০০৩)। Temples of Tamil Nadu Kancheepuram District। Directorate of Census Operations, Tamil Nadu।
- ↑ "sri-rakumai-sametha-panduranga-temple"। Sri Rakhumayi Sametha Panduranga Temple Tiruvannamalai।
- ↑ "Sri Vittal Rakhumai Mandir"। Sri Vittal Rakhumai Mandir Dahisar official website। ৩০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "Shri Vittal Rukmini Panduranga Temple, Kumbakonam"। templetownkumbakonam.com। ৭ ডিসেম্বর ২০১৮।
- ↑ "PANDURANGA SWAMY TEMPLE"। www.machilipatnam.com। ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "Vittala Temple, Hampi – An Architectural Wonder"। www.karnataka.com। ১৭ জানুয়ারি ২০১৫।
- ↑ "ISKCON Kaundanyapur (Govardhan Temple"। centers.iskcondesiretree.com। ১৬ নভেম্বর ২০১১।
- ↑ "ISKCON Los Angeles – New Dvaraka Dhama"। centres.iskcon.org।
- ↑ "ISKCON Amravati – Sri Sri Rukmini Dwarkadhish Mandir"। centres.iskcon.org।
- ↑ "Sri Sri Rukmini Dwarkadhish Temple"। Sri Sri Rukmini Dwarkadhish Temple Official Website।
- ↑ "kantajew"।
- ↑ "Sri Krishnan Temple"। Urban Redevelopment Authority, Singapore। ২৪ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ Aiyadurai, A., & Lee, C. S. (2017).
- ↑ Roychowdhury, Adrija (২৯ মার্চ ২০১৮)। "Fact Check: Did Rukmini come from Arunachal Pradesh? Here is what we know"। The Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ Pahari centres Arts of India: Architecture, Sculpture, Painting, Music, Dance and Handicraft, by Krishna Chaitanya.
- ↑ Nag, Kushali (২৩ মে ২০১২)। "Mayabazar is an interplay of illusions and reality"। The Telegraph। ৪ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ নভেম্বর ২০১৫।
- ↑ Thurlapati (৪ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬)। "శ్రీ కృష్ణ తులాభారం"। Andhra Jyothi। ২৬ আগস্ট ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ Srikanth (১৫ অক্টোবর ১৯৬৭)। "సినిమా: శ్రీ కృష్ణ అవతారం"। Visalaandhra (তেলুগু ভাষায়)। ১৪ নভেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ "31 years of Mahabharat on Doordarshan: Interesting facts about one of most popular TV shows ever"। The Financial Express (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২ অক্টোবর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুলাই ২০২০।
- ↑ "After 'Ramayan' and 'Mahabharat', now 'Shri Krishna' is returning to Doordarshan"। The Economic Times। ২৭ এপ্রিল ২০২০। আইএসএসএন 0013-0389। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুন ২০২৪।
- ↑ Nishi Tiwari। "Review: Mahabharat, so far so good"। Rediff। ১ মে ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩।
- ↑ "Hunar Hali replaces Amandeep Sidhu to play Rukmini in Paramavatar Shri Krishna"। The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।
- ↑ "Exclusive – Zalak Desai to play Rukmini in Star Bharat's RadhaKrishn"। ABP News (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১৯।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Rajachudamani Dikshita; English introduction, P.P. Subramanya Sastry (১৯২০)। Rukmini Kalyanam (Sanskrit)। Sri Vani Vilas Press, Srirangam।
- Iyer, Saiswaroopadate (২০২১)। Rukmini — Krishna's Wife। Rupa। আইএসবিএন ৯৭৮৯৩৯০৩৫৬০৮৯।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- Srimad-Bhagavatam: Krishna kidnaps Rukmini ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৮ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে
