পোড়ামা কালীমন্দির, নবদ্বীপ

স্থানাঙ্ক: ২৩°২৪′৪২.০১″ উত্তর ৮৮°২২′১২.২০″ পূর্ব / ২৩.৪১১৬৬৯৪° উত্তর ৮৮.৩৭০০৫৫৬° পূর্ব / 23.4116694; 88.3700556
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পোড়ামা কালীমন্দির, নবদ্বীপ
Porama, Nabadwip.jpg
মা পোড়ামাতা
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিহিন্দুধর্ম
জেলানদিয়া জেলা
অবস্থান
অবস্থানপোড়ামাতলা, নবদ্বীপ
রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
দেশভারত
ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক২৩°২৪′৪২.০১″ উত্তর ৮৮°২২′১২.২০″ পূর্ব / ২৩.৪১১৬৬৯৪° উত্তর ৮৮.৩৭০০৫৫৬° পূর্ব / 23.4116694; 88.3700556 মানচিত্র
স্থাপত্য
ধরনবটবৃক্ষতল
প্রতিষ্ঠার তারিখঅজানা
সম্মুখভাগের দিকপশ্চিমমুখী

পোড়ামা কালীমন্দির পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার নবদ্বীপ শহরে অবস্থিত একটি প্রাচীন কালী মন্দির। পোড়ামা নবদ্বীপের অধিষ্ঠাত্রী লৌকিক দেবী।[১] এই মন্দিরের কাছেই ভবতারণ শিব এবং ভবতারিনী কালী মন্দির আছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

পোড়ামাতলা মন্দির চত্ত্বরের পুরাতন আলোকচিত্র: বামপাশে মা ভবতারিণী মন্দির, মধ্যে বটগাছ সহ পোড়ামা কালীমন্দির ও ডানপাশে ভবতারণ শিব মন্দির

পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাসুদেব সার্বভৌম নামক এক পণ্ডিত নবদ্বীপ শহরের এক বটবৃক্ষতলে দক্ষিণাকালীর ঘট স্থাপন করেন। কোন এক সময়ে বটগাছটি অগ্নিদগ্ধ হলে এই কালী পোড়ামা বা বিদগ্ধজননী নামে জনপ্রিয় হন।[২][৩]

অন্য মতে, বাসুদেব সার্বভৌম এর বহু পূর্বে জনৈক রামভদ্র সিদ্ধান্তবাগীশ (কুসুমাঞ্জলি গ্রন্থের 'রামভদ্রি' টীকাকার) দক্ষিণাকালীর সাধক ছিলেন। গোপাল মন্ত্রে সিদ্ধ অন্য এক পণ্ডিতের সঙ্গে তার শাস্ত্রীয় বিচার হয়। পরাজিত ব্যক্তি বিজয়ীর মন্ত্রশিষ্য হবেন, উভয়ে এই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন। সিদ্ধান্তবাগীশ, পরাজিত হয়ে প্রতিজ্ঞামতো তার ইষ্টমন্ত্র ত্যাগ করতে উদ্যত হলে, ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডে তার ইটের বাড়ি ভস্মীভূত হতে থাকে এবং মন্দিরের মধ্যে দেবীর করালমূর্তি তার দর্শনগোচর হয়, দেবীর কোলে গোপাল উপবিষ্ট। মন্ত্রশোধিত জল ছড়িয়ে আগুন নিভলে সাধক নিজে বেঁচে যান এবং তার মন্দিরে দু'খানি মাত্র ইট অবশিষ্ট থাকে।[৪] এই ইট দুখানা আজও পোড়া-মার আধার হয়ে রয়েছে এবং তার উপরেই ঘটস্থাপন করে পূজা হয়।[৫] ঐতিহাসিক ভোলানাথ চন্দ ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে পোড়ামাতলার বটগাছটিকে একশো বছরের প্রাচীন বলে নির্দিষ্ট করেছিলেন। তিনি লেখেন-

(ইংরেজি)

«In proof of the great antiquity of Nuddea, the Brahmins show you their great tutelary goddess called "Poramaee", a little piece of rough black stone painted with red ochre and placed beneath the bough of an aged banian tree... The banian tree is at least a hundred years old.[৬]»

(বাংলা)

«নদীয়ার প্রাচীনত্বের প্রমাণ হিসেবে এখানকার ব্রাহ্মণেরা আপনাকে এখানকার বিদ্যাদেবী 'পোড়ামাতা'কে দেখিয়ে দেবে। প্রস্তরখণ্ডের উপর লাল রঙ করা এই অধিষ্ঠাত্রী দেবী বটবৃক্ষতলে অবস্থিত... বটবৃক্ষটি অন্ততপক্ষে একশো বছরের প্রাচীন।»

(ভোলানাথ চন্দ, দ্য ট্রাভেলস অফ আ হিন্দু পুস্তক)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. রায়, মোহিত (১৯৭৫)। বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিয়কুমার; দাশ, সুধীররঞ্জন, সম্পাদকগণ। নদীয়া জেলার পুরাকীর্তি। পূর্ত (পুরাতত্ত্ব বিভাগ), পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পৃষ্ঠা ৪৪। 
  2. মিত্র, অশোক (১৯৬৮)। পশ্চিমবঙ্গের পূজা-পার্বণ ও মেলা। পৃষ্ঠা ২৪৭। 
  3. রাঢ়ী, কান্তিচন্দ্র (১৯৩৭)। দত্ত, জিতেন্দ্রিয়; দত্ত, ফণিভূষণ, সম্পাদকগণ। নবদ্বীপ মহিমা:অর্থাৎ নবদ্বীপের প্রাচীন ও আধুনিক বিবরণ (দ্বিতীয় সংস্করণ)। নবদ্বীপ: নবদ্বীপ মহিমা কার্যালয়: অমিয় গোপাল দত্ত। পৃষ্ঠা ১০০। 
  4. ভট্টাচার্য, দীনেশচন্দ্র (১৯৫১)। বাঙ্গালীর সারস্বত অবদানঃ বঙ্গে নব্যন্যায় চর্চা। ২৪৩/১, আপার সার্কুলার রোড, কলকাতা: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ। পৃষ্ঠা ৩২–৩৩। 
  5. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ৭৮
  6. চন্দ, ভোলানাথ (১৮৬৯)। The Travels of a Hindoo to Various Parts of Bengal and Upper India (ইংরেজি ভাষায়)। ১ খণ্ড। London: N. Trübner & Co., Paternoster Row। পৃষ্ঠা ৩৭–৩৮।