গুহ্যেশ্বরী মন্দির
| গুহ্যেশ্বরী মন্দির | |
|---|---|
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | হিন্দুধর্ম |
| জেলা | কাঠমান্ডু জেলা |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | কাঠমান্ডু জেলা |
| দেশ | নেপাল |
| স্থাপত্য | |
| ধরন | প্যাগোডা |
| শিলালিপি | প্রতাপ মল্লের শিলালিপি, পৃথিবীনারায়ণ শাহ |
গুহ্যেশ্বরী মন্দির (নেপালি: गुह्येश्वरी मन्दिर) নেপালের কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র মন্দিরগুলোর একটি। এটি আদিশক্তি বা মহাশক্তিকে নিবেদিত এবং পশুপতিনাথ মন্দিরের নিকটে অবস্থিত একটি শক্তিপীঠ। কথিত আছে, গুহ্যেশ্বরী মন্দিরটি পশুপতিনাথ মন্দিরের শক্তির প্রতীক। মন্দিরটি ১৭শ শতকে রাজা প্রতাপ মল্ল দ্বারা নির্মিত হয়। মন্দিরের দেবীকে গুহ্যকালী নামেও পরিচিত, এবং এটি গুহ্যেশ্বরী দেবীর প্রধান মন্দির। হিন্দু সম্প্রদায়, বিশেষত তান্ত্রিকরা, মন্দিরটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ হিসেবে মানেন। গুহ্যেশ্বরী মন্দির বাগমতী নদীর তীরে, পশুপতিনাথ মন্দিরের প্রায় এক কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ।[১]
দেবী ভাগবত পুরাণে আদিশক্তির পবিত্র স্থানসমূহের তালিকায় এই মন্দিরের উল্লেখ রয়েছে এবং নেপালের দেবীকে "গুহ্যকালী" বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[২]
গুহ্যকাল্যা মহাস্থানং নেপালে যত্প্রতিষ্ঠিতম্
শ্রী গুহ্যকালী দেবীর মহাস্থান নেপালে প্রতিষ্ঠিত।
— দেবী ভাগবতম, সপ্তম স্কন্ধ, অধ্যায় ৩৮, শ্লোক ১১
মন্দিরের নাম সংস্কৃত শব্দ গুহ্য (গোপন বা গুপ্ত) এবং ঈশ্বরী (দেবী) থেকে উদ্ভূত। গুহ্যেশ্বরী মন্দির সেই স্থানকে চিহ্নিত করে যেখানে সতীর গুহ্যদেশ পতিত হয়েছিল বলে বলা হয়।

গুহ্যেশ্বরী মন্দিরে দৈনন্দিন পূজা (নিত্য পূজা) নেওয়ার জাতির এক পুরোহিত বংশ দ্বারা সম্পাদিত হয়, যা সর্বাম্নায় তন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত। মন্দিরের নিয়মিত তান্ত্রিক আচারগুলি সম্পন্ন করেন কর্মাচার্য, যিনি প্রাচীন কৌল পুরোহিত। বিশেষ উপলক্ষে এবং প্রধান অনুষ্ঠানগুলিতে রাজোপাধ্যায় ব্রাহ্মণগণ, যারা বৈদিক ও কৌল উভয়ধরনের পুরোহিত, তাঁরা বৈদিক আচার সম্পাদন করেন, আর সেই সময়ও তান্ত্রিক আচার অব্যাহত রাখেন কর্মাচার্য।[৩]
শক্তিপীঠ গুহ্যেশ্বরী
[সম্পাদনা]
মেরু তন্ত্র এবং স্কন্দ পুরাণের হিমবৎখণ্ড অনুসারে গুহ্যেশ্বরী মন্দিরই সেই স্থান যেখানে সতীর গুহ্যদেশ অথবা পায়ূ পতিত হয়েছিল।[৪] একই বিবরণ দেবমালা বংশাবলি, ভাষা বংশাবলি এবং স্বস্থনী ব্রतकথা-তেও পাওয়া যায়।[৫][৬][৭]
এই সমস্ত গ্রন্থে মন্দিরটিকে সেই স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে সতীর গুহ্য বা গুড়া পতিত হয়েছিল, এবং দেবীকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়েছে যেমন— গুহ্যকালী, গুহ্যেশী, গুহ্যেশ্বরী, গুহ্যকেশ্বরী এবং গুহ্যকালিকা। গুহ্যেশ্বরীর পতিকে পশুপতি বলা হয়েছে মন্থনভৈরব তন্ত্রএ।[৮]
বারাহী তন্ত্র সতীর কোন অঙ্গ পতিত হয়েছিল তা উপেক্ষা করে। সেখানে বলা হয়েছে— “নেপাল গুহ্যমণ্ডলম্” অর্থাৎ “নেপালের গুহ্যমণ্ডল” অন্য সব স্থানের চেয়ে এক কোটি গুণ বেশি পুণ্যদায়ক, এবং বলা হয়েছে যে গুহ্যেশ্বরীর থেকে বড় শক্তিপীঠ আর নেই।[৯][১০]
গুহ্যেশ্বরী মন্দিরকে তন্ত্রচূড়ামণির পীঠনির্ণয়-এ উল্লেখিত শক্তিপীঠের সঙ্গে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়, যেখানে বলা হয়েছে যে সতীর দুই হাঁটু নেপালে পতিত হয়েছিল এবং সেই স্থানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন মহামায়া। নেপাল মাহাত্ম্য (১১।১০৭ এবং ১।৩৮) অনুসারে, সতীর দুই হাঁটু বিষ্ণুমতী ও বাগমতী নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে পতিত হয়েছিল, যেখানে অধিষ্ঠাত্রী দেবী মহামায়া; আর সতীর গুহ্যদেশ পশুপতি মন্দিরের মৃগস্থলীর নিকটবর্তী বাগমতী নদীর ধারে পতিত হয়েছিল, এবং সেই স্থানের দেবী হলেন গুহ্যেশ্বরী বা গুহ্যকালী।[১১]
ত্রিপুরা রহস্যর মাহাত্ম্যখণ্ডে দেবী ললিতার বারোটি স্থানের উল্লেখ আছে, যেখানে তিনি সর্বদা বিরাজ করেন; এবং নেপালে তাঁর রূপকে বলা হয়েছে গুহ্যকেশ্বরী (ত্রিপুরা রহস্য ১.৪৮.৭৪:নেপালে গুহ্যকেশ্বরী)। ললিতা সহস্রনামে দেবীর ৭০৭তম নাম উল্লেখ আছে “গুহ্যরূপিণী” (ললিতা সহস্রনাম, ১৩৭তম শ্লোক:সরস্বতী শাস্ত্রময়ী, গুহাম্বা গুহ্যরূপিণী)।[১২] এই মন্দিরটি তান্ত্রিকদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে বিবিধ তান্ত্রিক ক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। তন্ত্রশক্তি লাভের জন্য এই মন্দিরটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে কালীতন্ত্র, চণ্ডীতন্ত্র ও শিবতন্ত্ররহস্য গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজয়া দশমী ও নবরাত্রির সময় মন্দিরে প্রচুর ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়। [১৩]
বজ্রযান বৌদ্ধতন্ত্র
[সম্পাদনা]নব বজ্রযান বৌদ্ধগণ গুহ্যেশ্বরীকে বজ্রবারাহী রূপে পবিত্র বজ্রযোগিনী দেবী হিসেবে বিবেচনা করেন যার অবস্থান স্বয়ম্ভূনাথ স্তূপ ধারণকারী পৌরাণিক পদ্মের মূলে এবং যা কাঠমান্ডুর প্রাকৃতিক নাভিরজ্জু। তিব্বত এ স্থানটিকে পাকমো ন্ গুলচু (বারাহীর গর্ভতরল) বলা হয় এবং মন্দিরের কূপের ঝরনা হতে উৎসারিত জলের প্রবাহকে বজ্রবারাহীর যোনিরস বলে বিশ্বাস করা হয়।[১৪]
গুহ্যেশ্বরী দেবীর প্রধান স্তোত্রসমূহ
[সম্পাদনা]- গুহ্যকালী সহস্রনাম স্তোত্র
- গুহ্যকালী গদ্য সঞ্জীবন স্তোত্র
- গুহ্যকালী মহাবজ্র কবচ স্তোত্র
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Kathmandu page 4"। virtualtraveling.endesign.nl। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১৪।
- ↑ www.wisdomlib.org (২৫ অক্টোবর ২০১৭)। "The Vows and the Sacred Places of the Devī [Chapter 38]"। www.wisdomlib.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০২৫।
- ↑ Acharya, Baburam (১৯৫২)। Nepal, Newa and Newa language। Kathmandu, Nepal: Nepal-Sanskritik Parisad।
- ↑ Joshi, Narayana (২০০৯)। Temples of Nepal। Kathmandu, Nepal: Education Publishing।
- ↑ Paudel, Nayanath। Bhasha Vamshavali (Nepali ভাষায়)। Nepal Rashtriya Pustakalaya। পৃ. ৩। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) नेपालं तु इकारः स्याद् गुदं तत्र तु पार्वती। तस्मात् वामस्य मार्गस्य मूलस्थानं तदुच्यते॥ इकार बीज भयाका नेपाल जो छन् सो त्यहाँ गुदस्थान पतन हुँदा वामाचारको मुलस्थान भनी त्यसकन भन्दछन्। - ↑ Yogi, Naraharinath। Devamala Vamshavali (Nepali ভাষায়)। পৃ. ১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) नेपालमा पहिले गुह्यस्थान पतन भयो र श्री ओं गुह्यश्वरी देवी, चन्द्र घण्टा योगिनी, सिद्धेश्वर महादेव, उत्पत्ति भए, श्री गुह्येश्वरी पिठ बढ़ो प्रत्यक्ष हुन् यी गुह्यकाली नेपालमा बिराजमान छिन्। - ↑ Brihat Svasthani Vratakatha (Nepali ভাষায়)। পৃ. ৮৬। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)सबभन्दा पहिले नेपालमा गुह्वा पतन भयो। नेपाल पीठ, गुह्वोश्वरी देवी,चन्द्रधण्टा योगिनी,सिद्धेश्वर महादेव उत्पन्न भए, शिव-शक्ति स्वरूपले रहे। - ↑ Joshi 2009, পৃ. 20।
- ↑ www.wisdomlib.org (৯ জানুয়ারি ২০২৪)। "Chapter 15 - The worship of Siddhilakṣmī"। www.wisdomlib.org (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০২৫।
- ↑ Joshi 2009, পৃ. 21।
- ↑ Joshi 2009, পৃ. 25।
- ↑ "Shakti Sadhana Org: : LalithA SahasranAma"। shaktisadhana.50megs.com। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১৪।
- ↑ "Kottiyoor Devaswam Temple Administration Portal"। http://kottiyoordevaswom.com/। Kottiyoor Devaswam। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৩।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:-এ বহিঃসংযোগ (সাহায্য)|কর্ম= - ↑ Dowman, Keith (২০০৭)। A Buddhist Guide to the Power Places of the Kathmandu Valley। Kathmandu: Vajra Publications। পৃ. ৫৯-৬০। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৩৭-৫০৬-০২-১।