মা ভবতারিণী মন্দির, নবদ্বীপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মা ভবতারিণী মন্দির, নবদ্বীপ
মা ভবতারিণী মাতা.jpg
মা ভবতারিণী মাতা
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিহিন্দুধর্ম
অবস্থান
অবস্থাননবদ্বীপ, নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ
স্থাপত্য
ধরনবাংলার মন্দির স্থাপত্য, দালানের উপরে চার চালা
সৃষ্টিকারীমহারাজ গিরিশচন্দ্র

মা ভবতারিণী মন্দির নবদ্বীপ শহরের প্রায় দ্বিশতাধিক প্রাচীন একটি কালীমন্দির। নবদ্বীপের পোড়ামাতলায় এই মন্দিরের পাশে পোড়ামা কালী মন্দির ও ভবতারণ শিব মন্দির অবস্থিত। প্রথমে গণেশ ও পরে সেই গণেশ মূর্তির রূপান্তরের মাধ্যমে এই ভবতারিণী কালী মূর্তির সৃষ্টি। মন্দিরটি সমতল ছাদের উপর পঙ্খ-অঙ্কিত শিখরযুক্ত চারচালা মন্দির।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নদিয়ার রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ভবানন্দ মজুমদারের পুত্র রাঘব তার রাজত্বের শেষ পর্বে নবদ্বীপের গঙ্গার ধারে মন্দিরসহ প্রকাণ্ড এক গণেশ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৬৬৯ সালে গণেশ মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করেন কিন্তু তার পরপরই তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর প্রায় ১০০ বছর পর বন্যাপ্রবণ নবদ্বীপ ভাঙনের কবলে পরলে তত্কালীন নদিয়ার রাজা দোর্দণ্ডপ্রতাপ কৃষ্ণচন্দ্র বিগ্রহ দুটিকে সেখান থেকে সরিয়ে আনেন। কিন্তু বিগ্রহ স্থানান্তরের সময় বহু মানুষের স্পর্শ লাগায় এখানকার পণ্ডিতবরেরা বিগ্রহকে ১২ বছর মাটির তলায় রাখার বিধান দেন। পরে সেই বিগ্রহ মাটি থেকে তোলা হয় কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র মহারাজ গিরিশচন্দ্রের আমলে। সেইসময় বিগ্রহটিকে মাটি থেকে তোলার সময় গণেশের শুঁড়টি ভেঙে যায়। তখন রাজার আদেশে কোনো এক অজ্ঞাত শিল্পী গণেশ মূর্তি থেকে গিরিশচন্দ্র মহারাজের আরাধ্যা দেবী আনন্দময়ীর মূর্তি তৈরি করেন এবং দেবীমূর্তির নামকরন করেন ভবতারিণী মাতা[২]

রূপ বর্ণনা[সম্পাদনা]

১২ বছর মাটির নিচে রাখার পর মহারাজ গিরিশচন্দ্রের আমলে যখন মূর্তিটি পুনরুদ্ধার করা হয় তখন গণেশের শুঁড়টি ভেঙে গেলে বিগ্রহটিকে পরিবর্তন করে কালী রূপ দেওয়া হয়। সেই কারণে তথাকথিত কালী মূর্তি থেকে এটি প্রাচীন মূর্তিটি সম্পূর্ণরূপে আলাদা। এখানে দেবী জোড়াসনে উপবিষ্টা এবং গণেশের মতো ভুঁড়িও দেখা যায়। কান ও জিভের কাছটা লক্ষ্য করলে আগের গণেশ মূর্তির আভাস পাওয়া যায়। কালী মূর্তির নীচে শায়িত শিবকেও সাধারণের থেকে একটু আলাদা দেখতে।

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

প্রায় দুশো বছরের প্রাচীন মন্দিরটিকে তত্সংলগ্ন একটি প্রাচীন বটগাছ আষ্টেপৃষ্টে আবৃত আছে। এই বটগাছের গোড়াতেই ঘট স্থাপন করে পোড়ামা পূজিত হওয়ায় বর্তমানে বটগাছের কোনো ক্ষতিসাধন করে মন্দিরের কোনো বৃহত সংস্কার বর্তমানে সম্ভবপর নয়।

ভবতারিণী মন্দির নবদ্বীপ

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. নবদ্বীপের ইতিবৃত্ত। নবদ্বীপ, নদিয়া: মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল। জানুযারী ২০১৩। পৃষ্ঠা ৩৩৪।  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  2. সংবাদদাতা, নিজস্ব। "ভবতারিণী মন্দির সংস্কারে ভক্তেরাই"আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১২-১০