আনন্দময়ী কালীবাড়ি, নিমতলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আনন্দময়ী কালীবাড়ি, নিমতলা
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিহিন্দুধর্ম
অবস্থান
অবস্থাননিমতলা মহাশ্মশান, বিডন স্ট্রিট, কলকাতা
স্থাপত্য
ধরনচাঁদনি, বাংলার মন্দির স্থাপত্য
সৃষ্টিকারীঅজ্ঞাত

শ্রীশ্রীআনন্দময়ী কালীবাড়ি হল কলকাতার নিমতলা অঞ্চলের একটি বিখ্যাত কালীমন্দির[১] এটি হুগলি নদীর তীরবর্তী নিমতলা মহাশ্মশানের পাশে অবস্থিত।[১] নিমতলা মহাশ্মশানে দাহকার্যের জন্য আনীত শবদেহগুলিকে এই মন্দিরের সামনে নামিয়ে মৃতের আত্মার শান্তি প্রার্থনা করার রেওয়াজ আছে।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

লোকশ্রুতি অনুসারে, অতীতে কোনো এক কালীসাধক শ্মশানের ধারে একটি ছোটো কুটিরে কালীপূজা করতেন। সেই কুটিরেই তিনি আনন্দময়ী কালীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে কুটিরের জায়গায় একটি মন্দির নির্মিত হয়।

মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা জগন্নাথ নামে এক ভক্তকে পূজার ভার দিয়েছিলেন। জগন্নাথ অবস্থাপন্ন না হওয়ায় নারায়ণ মিশ্র নামে এক ব্রাহ্মণের কাছে মন্দিরটি বিক্রি করে দেন। নারায়ণ মিশ্রের বড়ো ছেলের মৃত্যুর পর দৌহিত্র জমিদার মাধবচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্দিরের সত্ত্বাধিকারী হন। তিনিই কুটিরের পরিবর্তে স্থায়ী মন্দির নির্মাণ করান।[২] এখন মেদিনীপুর অঞ্চলের ছয় জন পুরোহিত এই মন্দিরে পূজা করেন।[১]

মন্দির[সম্পাদনা]

মন্দিরটি মাঝারি আকৃতির দোতলা চাঁদনি শ্রেণির মন্দির। এটির চূড়া নেই। মন্দিরের গায়ে সুন্দর কারুকার্য দেখা যায়।[১] মন্দিরের কাছে একটি পুরনো আটচালা শৈলীর শিব মন্দির আছে। সেই মন্দিরে একটি বড়ো শিবলিঙ্গ রয়েছে। শিবরাত্রি উপলক্ষে এখানে মহাসমারোহে পূজা হয়।[২]

বিগ্রহ[সম্পাদনা]

মন্দিরের আদি কালীবিগ্রহটি ছিল শ্মশানকালীর বিগ্রহ। সেটি ছিল মাটির মূর্তি।[২] বর্তমান মূর্তিটি দক্ষিণাকালীর। এটি কষ্টিপাথরের মূর্তি। বর্তমান মূর্তিটির উচ্চতা দুই ফুট। পঞ্চমুণ্ডের আসনের উপর স্থাপিত রূপোর সিংহাসনে মূর্তি প্রতিষ্ঠিত। মূর্তিটি সালঙ্কারা ও পট্টবস্ত্রপরিহিতা।[১] প্রতিবছর বুদ্ধপূর্ণিমায় পুষ্পদোল উৎসবের আগে মূর্তির অঙ্গরাগ করা হয়।[১] বিগ্রহের মাথায় সোনার মুকুট রয়েছে। জিভটিও সোনার তৈরি।[৩]:৭৮

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "কয়েকটি অল্প পরিচিত জাগ্রত কালীমন্দিরের কথা", গৌতম বিশ্বাস, সাপ্তাহিক বর্তমান, ২ নভেম্বর, ২০১৩ সংখ্যা, পৃ. ১৪-২২
  2. পশ্চিমবঙ্গের কালী ও কালীক্ষেত্র, দীপ্তিময় রায়, মণ্ডল বুক হাউস, কলকাতা, ১৪১৪ ব., পৃ. ৬১-৬২
  3. তিন তীর্থে, শিবশঙ্কর ভারতী, সাহিত্যম্‌, ১৮বি, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, কলকাতা-৭৩, প্রথম প্রকাশ- ১৮ই জানুয়ারী, ২০০১

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]