স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রীসভা বৈঠকের মধ্য দিয়ে সূচিত হয়েছিল। একটি রক্তক্ষয়ী জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল পূর্ব পাকিস্তান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ কালে দেশের ধন-সম্পদ ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছিল। সদ্য-স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন গঠন ছিল সরকারের জন্য প্রাগ্রাধিকারমূলক কর্তব্য। এছাড়া একটি প্রাদেশিক সরকারকে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নীত করার কাজ অবধার্য হয়ে পড়েছিল।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভের পরে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি খুবই নাজুক ছিল। ১৯৭০-এর বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কা (যাতে প্রায় আড়াই লক্ষ বাঙালির মৃত্যু হয়) কাটিয়ে না উঠতেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। দেশের অবকাঠামোসমূহের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এছাড়া যুদ্ধের কারণে দেশটির কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ও পরিবহন খাতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নতুন এই দেশের জনঘনত্ব ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উচ্চ ছিল এবং এর সিংহভাগ নাগরিকই ছিল নিরক্ষর, অপ্রশিক্ষিত ও বেকারত্বের শিকার। যুদ্ধের কারণে দেশের আবশ্যকীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের ভাণ্ডার প্রায় ফুরিয়ে গিয়েছিল। নবপ্রতিষ্ঠিত দেশে কাজে লাগানোর মতো প্রাকৃতিক সম্পদও ছিল অপ্রতুল। ভারত থেকে প্রত্যাবর্তনকারী প্রায় ১ কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসনও ছিল এক বিরাট সমস্যা।[১] এর রকম একটি দেশটির পুনর্গঠন ছিল একটি চ্যালেঞ্জ।

অস্থায়ী সরকারের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের ছয় দিন পরে ২২শে ডিসেম্বর, তদাবধি ভারতের কলকাতা থেকে সক্রিয়, মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, মন্ত্রী এম মনসুর আলী, আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, খন্দকার মোশতাক আহমদ এবং বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক কর্নেল মোহাম্মদ আতাউল গনী ওসমানী কলকাতা থেকে বিশেষ বিমান যোগে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। এর আগে ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল তারিখে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে তাঁরা এই সরকার গঠন করেছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস কলকাতার থিয়েটার রোড সড়কের একটি ভবন থেকে তাদের কার্যাবলী পরিচালনা করেছিলেন। দখলদার পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের সাথে সাথে মুজিবনগর সরকার বেশ কিছু নির্দেশ প্রদান করেন, যার মধ্যে একটি ছিল জামাতে ইসলামী, মুসলিম লিগ, পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং নিজাম-ই-ইসলাম পার্টি — এই চারটি সাম্প্রদায়িক দলকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধকরণ। এই দলগুলিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সমর্থন করা এবং বাংলাদেশের মানুষদের গণহত্যায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ২২শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের দিন সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমেদ তেজগাঁও বিমানবন্দরে পাকিস্তানে বন্দী শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্ত করে দেবার জন্য পাকিস্তান সরকারকে আহ্বান জানান। পরের দিন ২৩শে ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ সচিবালয়ে সরকারী কর্মচারীদের সাথে সাক্ষাৎ করে প্রশাসন কীভাবে কাজ করবে, তার নির্দেশনা প্রদান করেন।[২]

ঢাকায় মন্ত্রীসভার বিভিন্ন বৈঠক অনুষ্ঠান[সম্পাদনা]

২৩শে ডিসেম্বর ১৯৭১ ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বিভিন্ন বৈঠকে সরকারের সাংগঠনিক অবস্থা সুসংহত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও ক্ষমতা গ্রহণ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১০ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর অল্পদিনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১১ জানুয়ারি ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তান আইনসভার জন্য নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে নতুন রাষ্ট্রের প্রথম সংসদ গঠিত হয়। ১২ জানুয়ারি সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নিকট রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রীসভা[সম্পাদনা]

জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারীভাবে গৃহীত হয় এবং এতদসংক্রান্ত সরকারী বিধি জারী করা হয় যা জাতীয় পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ হিসাবে বিবৃত।

১৩ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে নবগঠিত মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে আমার সোনার বাংলা গানটির প্রথম দশ লাইন সদ্যগঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে নির্বাচিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক ১৯০৫ সালে রচিত।

আমার সোনার বাংলা গানটি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। মাতৃভূমি সম্পর্কে এই গাঁথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক ১৯০৫ সালে রচিত।

মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ[সম্পাদনা]

এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর দেশ দখলদার মুক্ত হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি কোনভাবেই প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য সহায়ক ছিল না। সর্বত্র শঙ্কা ও উদ্বেগ মানুষকে সন্ত্রস্ত করে রেখেছিল। সাধারণ মানুষের হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের ওপর নতুন সরকারের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। যারা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাদের কাছে যেমন ছিল বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ছিল, তেমনি যারা সরাসরি যুদ্ধ করেননি তাদের কাছেও ছিল বিপুল অস্ত্র। এই উদ্ধার অস্ত্র ছিল ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকীকরণের প্রথম শর্ত। এমতাবস্থায়, ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকার গণবাহিনীকে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সরকারের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধারা ৩১শে জানুয়ারী ১৯৭২ সরকারের কাছে তাদের কাছে থাকা অস্ত্র সমর্পণশুরু করে। [৩]

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর প্রত্যাহর[সম্পাদনা]

১৫ মার্চ ১৯৭২

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন[সম্পাদনা]

যুদ্ধোত্তর স্বাধীন বাংলাদেশে পুনর্গঠন সমস্যার চেয়েও জরুরী ছিল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা ও নিয়ন্ত্রণে রাখা। সাধারণ মানুষের হতে অস্ত্র থাকায় সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা ছিল একটি কঠিন বিষয়।

পরিকল্পনা কমিশন গঠন[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার একটি ক্ষুদ্রকায় ‘পরিকল্পনা সেল’ তৈরি করেছিল যার কাজ ছিল স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কাজে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে তার কর্মকাঠামো ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। এরই ধারাবাহিকতায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করা লক্ষ্যে স্বাধীন দেশের সরকারের অন্যতম পদক্ষেপ ছিল ‘পরিকল্পনা কমিশন’ গঠন। ১৯৭২ সালের ৩১শে মার্চ তারিখে পরিকল্পনা কমিশন গঠন করা হয়। দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন পদাধিকার বলে পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান বা সভাপতি। একই সঙ্গে ডেপুটি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ করা হয়। মন্ত্রি পরিষদের বৈঠকের সভায় যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তা হলো (ক) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে স্বল্প মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন রূপকল্প নির্মাণ; (খ) উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা ও নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অর্থ সংস্থান ও কার্যবিধি সংরক্ষণে সুপারিশ দান এবং ক্ষেত্রবিশেষে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হওয়া; এবং (গ) বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে গৃহীতব্য উন্নয়ন পরিকল্পনার নীতি নির্ধারণ পর্যায়ে সমন্বয় সাধন। গঠনের মাত্র দেড় বছরের মধ্যে পরিকল্পনা কমিশন ১৯৭৩ সালের নভেম্বর মাসে পাঁচ বছর মেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৮ পাঁচ বছর ব্যাপী এই পরিকল্পনার ঘোষিত লক্ষ্য ছিল দেশের পুনর্গঠন ও দ্রুত উন্নয়ন। এর মুখবন্ধ লিখেছিলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও ডেপুটি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম

প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন[সম্পাদনা]

১৯৭৩-৭৮ মেয়দের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল এই পাঁচ বছরে গড়ে বৎসরিক ৫.৫০ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এতে দারিদ্র হ্রাস এবং উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল।

স্বাধীন দেশের প্রথম বাজেট[সম্পাদনা]

সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ঘোষিত হয় ১৯৭২ সালের ৩০ জুন তারিখে। এ বাজেট প্রণয়ন করেন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। বাজেটে সরকারী ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের ৬৪% বরাদ্দ করা হয়েছিল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্যে। অর্থমন্ত্রী হিসাবে তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২-৭৩, ১৯৭৩-৭৪, এবং ১৯৭৪-৭৫ পরপর তিনটি অর্থবছরে সরকারী বাজেট পেশ করেন। সেসব বছরে বাজেটে সরকারের ব্যয় প্রাক্কলন ছিল যথাক্রমে ৭৮৬ কোটি টাকা, ৯৯৫ কোটি টাকা, এবং ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। অতঃপর প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে মন্ত্রীপরিষদ থেকে অপসারণ করায় তাঁর পক্ষে ১৯৭৫-৭৬ অর্থ বৎসরের বাজেট প্রলয়ন ও জাতীয় সংসদে পেশ করা সম্ভব হয় নি। পরবর্তী ১৯৭৫-৭৬ অর্থবৎসরের বাজে প্রণয়ন করেন অর্থমন্ত্রী আজিজুর রহমান মল্লিক। এই বাজেটের আকার ছির ১৫৪৯ কোটি টাকা। [৪]

সংবিধান প্রণয়ন[সম্পাদনা]

অন্তর্বর্তীকালীন সংসদ দেশের জন্য একটি নতুন সংবিধান রচনার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে চারটি জাতীয় মূলনীতি ঘোষণা করে।[৫] ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর শেখ মুজিব বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে স্বাক্ষর করেন। ১৫ ডিসেম্বর সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রদানের ঘোষণা দেয়। ১৬ ডিসেম্বর থেকে নতুন সংবিধান কার্যকর করা হয় এবং ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।[৬][৭] নির্বাচনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে তার দল আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। শেখ মুজিব ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত সরকার গঠন করেন।[৮]

নবরাষ্ট্র পুনর্গঠন[সম্পাদনা]

জনগণের সাথে এক সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরিচালিত নয় মাস ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর সমগ্র বাংলাদেশ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়।[টীকা ১][৯][১০] প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব এই ধ্বংসযজ্ঞকে “মানব ইতিহাসের জঘন্যতম ধ্বংসযজ্ঞ” উল্লেখ করে ৩০ লাখ মানুষ নিহিত ও ২ লাখ নারীর ধর্ষণ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।[১০] ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে শেখ মুজিব সরকার মাত্র এক বছরের মধ্যে দেশ পুনর্গঠনের জন্য উল্লেখযােগ্য কর্মসূচি হাতে নেয়। প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন, এক কোটি মানুষের পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে এবং মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত নামমাত্র মূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, ১১,০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ ৪০,০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ, দুঃস্থ মহিলাদের কল্যাণের জন্য নারী পুনর্বাসন সংস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযােদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ, বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত ব্যাংক, বীমা ও ৫৮০টি শিল্প ইউনিটের জাতীয়করণ ও চালু করার মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারীর কর্মসংস্থান, ঘোড়াশাল সার কারখানা, আশুগঞ্জ সার কারখানা কমপ্লেক্সের প্রাথমিক কাজ ও অন্যান্য নতুন শিল্প স্থাপন, বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুকরণসহ অন্যান্য সমস্যার মোকাবেলা করে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরি করে দেশকে ধীরে ধীরে একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াস চালানো হয়। শেখ মুজিব পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে আঁতাতের অভিযোগে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব-নিষিদ্ধ ইসলামিক ফাউন্ডেশন পুনরায় চালু করেন।[১১] ইসলামি গোত্রগুলোর জোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মদ তৈরি ও বিপণন এবং জুয়া খেলা নিষিদ্ধ করা হয়। অত্যন্ত অল্প সময়ে প্রায় সব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় ও জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ ছিল বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লেখযােগ্য সাফল্য। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া হয়। ১০০ বিঘার বেশি জমির মালিকদের জমি এবং নতুন চর বিনামূল্যে ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বন্টন করা হয়। গ্রাম বাংলার ঋণে জর্জরিত কৃষকদের মুক্তির জন্য তিনি “খাই-খালাসী আইন” পাশ করানো হয়। গ্রামবাংলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও শিল্প-কৃষি উৎপাদনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বাের্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু সরকার স্থানীয় সরকারগুলোতে গণতন্ত্রায়নের সূচনা করে। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় গণভােটের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়; এর ফলে প্রশাসনে জনগণ অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি নাগাদ ১৩ মাসে ১০ কোটি টাকা তাকাবি ঋণ বণ্টন, ৫ কোটি টাকার সমবায় ঋণ প্রদান, কৃষিক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন, ১০ লাখ বসতবাড়ি নির্মাণ, চীনের কয়েক দফা ভেটো সত্ত্বেও জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ, ৩০ কোটি টাকার রিলিফ বিতরণ, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে মিত্রবাহিনীর সৈন্য প্রত্যাবর্তন শুরুসহ দেশের সাধারণ মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে শেখ মুজিব সরকার বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়ােজন করেন। শেখ মুজিব শতাধিক পরিত্যক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানি রাষ্ট্রীয়করণ করেন এবং ভূমি ও মূলধন বাজেয়াপ্ত করে ভূমি পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে কৃষকদের সাহায্যের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।[১২]

মুক্তিযুদ্ধকালে ভারতে আশ্রয়গ্রহণকারী প্রায় ১ কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসনের জন্য বড় পদক্ষেপ নেয়া হয়। এর ফলে অর্থনৈতিক সঙ্কট অবসান হতে শুরু করে এবং সমূহ দুর্ভিক্ষ এড়ানো সম্ভব হয়। এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, খাদ্য, স্বাস্থ্য, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি ঘটানো হয়। শেখ মুজিবের নির্দেশে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ২১ জুন সকল মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করে পূর্বের ১৯টি জেলার স্থলে ৬১টি জেলা সৃষ্টি করা হয়। ১৬ জুলাই শেখ মুজিব ৬১ জেলার প্রতিটির জন্য একজন করে গভর্নর নিয়োগ দেন।[১৩]

অর্থনৈতিক নীতি[সম্পাদনা]

স্বাধীনতার পর নবনির্বাচিত মুজিব সরকার গুরুতর কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, যার মধ্যে ছিল, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া লক্ষ লক্ষ শরণার্থীর পুনর্বাসন, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা উপকরণ সরবরাহ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি। এছাড়া, ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এবং যুদ্ধের ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও চরমভাবে ভেঙে পড়েছিল।[১৪] অর্থনৈতিকভাবে সরকার একটি বিস্তৃত পরিসরের জাতীয়করণ কার্যক্রম হাতে নেয়। বছর শেষ হতেই, হাজার হাজার বাঙালি পাকিস্তান থেকে চলে আসে, হাজার হাজার অবাঙালি পাকিস্তানে অভিবাসিত হয় এবং এরপরও হাজার হাজার মানুষ শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে রয়ে যায়। প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে পুনর্বাসন করার জন্য বৃহৎ সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে, অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে এবং দেশব্যাপী দুর্ভিক্ষ হওয়ার আশঙ্কাকে প্রতিহত করা সম্ভব হয়। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রণীত বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চ-বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় কৃষি, গ্রামীণ অবকাঠামো ও কুটির শিল্প উন্নয়নে প্রাগ্রাধিকারমূলক সরকারি অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ দেয়া হয়।[১৫] কিন্তু তারপরও ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে চালের দাম আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে একটি দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়, যা ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত। উক্ত দুর্ভিক্ষের সময় রংপুর জেলায় ব্যাপক খাদ্যাভাব দেখা দেয়। এর জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হতে থাকে।[১৬] শেখ মুজিবের শাসনামলে দেশবাসী শিল্পের অবনতি, বাংলাদেশি শিল্পের উপর ভারতের নিয়ন্ত্রণ এবং জাল টাকা কেলেঙ্কারি প্রত্যক্ষ করে।[১৭] যদিও সাংবাদিকেরা জাল টাকা কেলেঙ্কারির দাবি নাকচ করে দেন।[১৮] প্রকৃতপক্ষে, জাল টাকার কেলেঙ্কারি ছিল মূলত অপপ্রচার মাত্র।[১৮]

পররাষ্ট্র নীতি[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎকালে শেখ মুজিবুর রহমান

নবগঠিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়নের সাফল্যের ফলে যেসব দেশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের সঙ্গেও তিনি বন্ধুত্ব স্থাপিত হয়। এমনকি, পাকিস্তানও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। “কারো সাথে বৈরিতা নয়, সকলের সাথে বন্ধুত্ব”- এভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি স্থাপিত হয়।[১৯]

১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ প্রায় ১১৩টি দেশের স্বীকৃতি লাভ করে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] শেখ মুজিবের সিদ্ধান্তক্রমে বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কনফারেন্সইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সদস্যপদ গ্রহণ করে। বৃহত্তর রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভের পর শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন সরকার পাকিস্তানের স্বীকৃতি এবং ওআইসি, জাতিসংঘজোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিশ্চিত করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে ভ্রমণ করে বাংলাদেশের জন্য মানবীয় সাহায্য ও দেশের উন্নয়নকল্পে সহযোগিতা চান।

শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ৬ সেপ্টেম্বর আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ দেশসমূহের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমান সোভিয়েত ইউনিয়নে রাষ্ট্রীয় সফরে যান। দেশটির শীর্ষ চার নেতা পোদগর্নি, কোসিগিন, ব্রেজনেভ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁন্দ্রে গ্রোমিকো তাকে অভ্যর্থনার জন্য ক্রেমলিনে সমবেত হন। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে তিনি জাপান সফর করেন। জাপানের সম্রাট হিরোহিতো মুজিবকে অভ্যর্থনার জানান।[২০]

১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে শেখ মুজিব লাহোরে অনুষ্ঠিত ইসলামি সম্মেলন সংস্থার সম্মেলনে যোগ দেন।[২১] উক্ত সম্মেলনে মুজিবের চরমতম প্রতিদ্বন্দ্বী জুলফিকার আলী ভুট্টো তার সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন,[২২] যা পাকিস্তানের সাথে কিছুমাত্রায় সম্পর্ক উন্নয়ন ও পাকিস্তানের স্বীকৃতি পেতে সহায়তা করে। তিনি একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করেন এবং জাতিসংঘের ইতিহাসে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দেন। সেখানে তিনি ৫০টি ইস্যু তুলে ধরেন।[২৩]

শেখ মুজিব সরকার ভারতের সাথে একটি ২৫ বছর মেয়াদী মিত্রতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যাতে অর্থনৈতিক ও মানব সম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক সাহায্যের আশ্বাস দেয়া হয়। চুক্তিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মুজিব ইন্দিরা গান্ধীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন।[২৪] মুজিবের জীবদ্দশায় দুই সরকারের মধ্যে পারস্পরিক আন্তরিকতাপূর্ণ সমঝোতা ছিল।[৫] শেখ মুজিবের অনুরোধক্রমে ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ মার্চ ভারতীয় বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড থেকে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গঠন[সম্পাদনা]

ঢাকায় অবস্থিত স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তানের ঢাকা শাখাকে বাংলাদেশ ব্যাংক নাম দিয়ে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। 'বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২' পাশ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে কার্যকর বলে ঘোষণা করা হয়। এটির কার্যনির্বাহী প্রধান গভর্নর হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। ১৮ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে এ. এন. এম. হামিদুল্লাহ্‌কে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর হিসাবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

জাতীয়করণ কর্মসূচী[সম্পাদনা]

পরিত্যাক্ত কল-কারখানা পরিচালনার ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

পাকিসতানী নাগরিকদের পরিত্যাক্ত কলকারখানা পরিচালনার জন্য জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সকল কারখানা জাতীয়করণ করা হয়।

মুদ্রা ও ডাকটিকেট প্রবর্তন[সম্পাদনা]

প্রবাসী সরকার ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কোনো মুদ্রা প্রচলন করে নি। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের মুদ্রার নাম টাকা রাখে। পরবর্তীতে টাকার সংকেত ৳ নির্ধারণ করা হয়। এক টাকার শতাংশকে পয়সা নামে অভিহিত করা হয়। অর্থাৎ ৳১ সমান ১০০পয়সা। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ৫, ১০, ২৫ এবং ৫০ পয়সা মূল্যের ধাতব মুদ্রার প্রচলন করা হয়। এরপর ১৯৭৪ সালে ১ পয়সা এবং তারও পরে ১৯৭৫ সালে ৳১ মূল্যের ধাতব মুদ্রা প্রবর্তন করা হয়। ২রা মার্চ, ১৯৭৩ তারিখে ১ টাকার নোট প্রবর্তন করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের ডাকটিকেট প্রথম প্রকাশিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৬শে জুলাই। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রতি বর্হিবিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ ও বিভিন্ন বন্ধুভাবাপন্ন দেশের সমর্থন লাভের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের ৮টি ডাক টিকিটের সেট মুদ্রণ ও প্রচলন করে।

সামরিক বাহিনী গঠন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কুচকাওয়াজে শেখ মুজিব

নবগঠিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা রক্ষাকল্পে সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য বিস্তৃত প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং দ্রুত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীবাংলাদেশ নৌবাহিনী সুসংগঠনের কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। বিদেশ থেকে খাদ্য ক্রয়ের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর জন্য প্রয়ােজনীয় অস্ত্র ও সামরিক সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়। যুগোস্লাভিয়ায় সামরিক প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে পদাতিক বাহিনীর জন্য ক্ষুদ্র অস্ত্রশস্ত্র এবং সাজোঁয়া বাহিনীর জন্য ভারি অস্ত্র আনা হয়। ভারতের অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত ৩০ কোটি টাকায় সেনাবাহিনীর জন্য কাপড় ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনা হয়। সােভিয়েত ইউনিয়ন থেকে মিগ বিমান, হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান সংগ্রহ করা হয়। সে সময়ে মিগ-২১ ই ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে আধুনিক বিমান। এছাড়াও মিসর থেকে সাজোঁয়া গাড়ি বা ট্যাংক পাওয়া গিয়েছিল। উন্নত প্রযুক্তি ও উন্নত জ্ঞান লাভ করে দেশ যাতে আধুনিক সেনাবাহিনী গড়তে পারে সে উদ্দেশ্যে সেনা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে প্রেরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর অফিসাররা ব্রিটেন, সােভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত প্রভৃতি দেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে সরকার সেনাবাহিনীর জন্য নগদ অর্থে আধুনিক বেতারযন্ত্র ক্রয় করে এবং সিগন্যাল শাখাকে আরও আধুনিক করে গড়ে তােলে। শেখ মুজিব পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তনকারী আরও ত্রিশ হাজারের অধিক সামরিক কর্মকর্তা ও জওয়ানদের তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পুনর্বাসিত করেন। সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবর্তনকারী বাঙালি কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল প্রায় ১,৩০০ জন। এই সকল অফিসার ও জওয়ানদের নিয়ে অর্ধ লক্ষের অধিক সদস্যের দেশের প্রথম সেনাবাহিনী গড়ে ওঠে। সামরিক সুবিধা বৃদ্ধি করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে “দিঘিনালা”, “রুমা”, “আলীকদম”-এর মতো সামরিক গুরুত্বপূর্ণ ৩টি ছাউনি গড়ে তোলা হয়।

জাতীয় রক্ষীবাহিনী[সম্পাদনা]

গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা রোধে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করে ক্ষমতা গ্রহণের পর, ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার জাতীয় মিলিশিয়া গঠনের ব্যাপারে একটি আদেশ জারি করেন। এরপর ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠনের সরকারি আদেশ জারি করা হয়।[২৫][২৬] রক্ষীবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ছিল সেনাবাহিনীর ছয় ভাগের এক ভাগ। শুরুর দিকে রক্ষীবাহিনী বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে অনেক অস্ত্রশস্ত্র, চোরাচালানের মালামাল উদ্ধার করে এবং মজুতদার ও কালোবাজারীদের কার্যকলাপ কিছুটা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। কিন্তু শীঘ্রই বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট হতে থাকে। এর কারণ রক্ষীবাহিনীর সদস্যগণ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড,[২৭] [২৮] গুম, গোলাগুলি,[২৯] এবং ধর্ষণের[২৮] সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। তাদের যথেচ্ছাচার নিয়ন্ত্রণ বা তাদের কার্যকলাপের জবাবদিহিতার আইনগত কোন ব্যবস্থা ছিল না। অপরাধ স্বীকার করানোর জন্য গ্রেফতারকৃত লোকদের প্রতি অত্যাচার, লুটপাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়। রক্ষী সদস্যদের ভারতীয় সেনাবাহিনীর ন্যায় জলপাই রঙের পোশাক এবং বাহিনী গঠন ও প্রশিক্ষণে ভারতের সহায়তা জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। গণ-অসন্তোষ সত্ত্বেও মুজিব সরকার ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ অক্টোবর জাতীয় রক্ষীবাহিনী (সংশোধনী) অধ্যাদেশ-১৯৭৩ জারি করে রক্ষীবাহিনীর সকল কার্যকলাপ আইনসঙ্গত বলে ঘোষণা করে।[৩০] এতে জনগণের মধ্যে মুজিব সরকারের প্রতি সুপ্ত ক্ষোভ তৈরি হয়। সেইসাথে রক্ষীবাহিনীর বিভিন্ন অনাচারের কারণে জনগণের কাছে শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়।[৩১] রক্ষীবাহিনীকে বেশি সুযোগ-সুবিধা দেয়া এবং সেনাবাহিনীর প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর অভিযোগে সেনাবাহিনীর একাংশের মধ্যেও সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।[৩২]

১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচন[সম্পাদনা]

রাষ্ট্রপতির আইন প্রণয়ন ক্ষমতাবলে ১৯৭২ সালে জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারী করা হয়েছিল। জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনের জন্যই এ আইনটি জারী করা হয়। প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৭৩ অনুষ্ঠিত হযয়েছিল ৭ই মার্চ ১৯৭৩ তারিখে। নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনে জয় লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সরকার গঠন করে। এই নির্বাচনে এগারোটি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে মোট ভোটারের ৫৪.৯% ভোট দান করে। মওলানা ভাসানী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এ নির্বাচনের ফলাফলে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ আনয়ন করেন।

বিমান সংস্থা গঠন[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ নং ১২৬ অনুসারে ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি বিমান বাংলাদেশের জাতীয় বিমান সংস্থা “এয়ার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল” গঠিত হয়। পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “বাংলাদেশ বিমান”। সাবেক পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ২৫০০ কর্মচারী ও কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা এবং ১০ জন বোয়িং ৭০৭ কমান্ডার ও ৭ জন অন্যান্য পাইলটের সমন্বয়ে বিমান সংস্থাটি গঠিত হয়। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে একটি ডিসি-৩ বিমান নিয়ে জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ হিসেবে বাংলাদেশ বিমান যাত্রা শুরু করে। ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আভ্যন্তরীণ সেবার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে বিমান। ভারত থেকে নিয়ে আসা ম্যাকডনেল ডগলাস ডিসি-৩ ছিল এর বিমান বহরে প্রথম সংযোজন। এটি দিয়ে ঢাকার সাথে চট্টগ্রাম, যশোর এবং সিলেট এই তিনটি শহরের সঙ্গে উড়াল যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছিল। এই ডিসি-৩ বিমানটি ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনার পরে। এই দুর্ঘটনার পর ভারত সরকার বাংলাদেশকে পুরোনো দুটি ফকার এফ২৭ উপহার দেয়। অল্প সময়ের ব্যাবধানে বাংলাদেশ বিমানের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ব চার্চ কাউন্সিলের কাছ থেকে লোন নিয়ে ডগলাস ডিসি-৬ সংযোজন করা হয়। পরবরতিতে ডগলাস ডিসি-৬ এর পরিবর্তে ডগলাস ডিসি-৬বি নিয়ে আসা হয়, যা ট্রল-এয়ারের কাছ থেকে লিজ নেওয়া হয়েছিল। এটি চলাচল করতো ঢাকা-কলকাতা রুটে। ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ বিমান বাংলাদেশ, ব্রিটিশ কালেডোনিয়ানের থেকে পাওয়া একটি বোয়িং ৭০৭ চার্টার্ড প্লেন নিয়ে ঢাকা-লন্ডন রুটে প্রথম সাপ্তাহিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে। ঢাকা-কোলকাতা রুটে নিয়মিত সেবা প্রদানের জন্য ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ ভারত থেকে একটি ফকার এফ-২৭ আনা হয়। ওই বছর বিমান প্রায় ১,০৭৮ টি ফ্লাইটে ৩,৮০,০০০ জন যাত্রী পরিবহন করেছিল। এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিমান বহরে নতুন ৩টি ফকার এফ-২৭ যোগ করে।

১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ[সম্পাদনা]

১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হয়ে সেই বছরেরই ডিসেম্বরের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এই দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। সরকারী হিসেব অনুসারে ২৭,০০০ মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করে। বেসরকারি হিসেবে অনুমানিক ১,০০,০০০ থেকে ৪,৫০,০০০ জন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মৃত্যুবরণ করে। এই দুর্ভিক্ষকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক হিসেবে গন্য করা হয়।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা[সম্পাদনা]

স্বাধীনতা পর অচিরেই মুজিবের সরকারকে ক্রমশ বাড়তে থাকা অসন্তোষ সামাল দিতে হয়। তার রাষ্ট্রীয়করণ ও শ্রমভিত্তিক সমাজতন্ত্রের নীতি প্রশিক্ষিত জনবল, অদক্ষতা, মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতি আর দুর্বল নেতৃত্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[১২] শেখ মুজিব অতিমাত্রায় জাতীয় নীতিতে মনোনিবেশ করায় স্থানীয় সরকার প্রয়োজনীয় গুরুত্ব লাভে ব্যর্থ হয়। আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ করায় গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় তৃণমূল পর্যায়ে কোন নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হয়নি।[৩৩] আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে কমিউনিস্ট এবং ইসলামপন্থীরা অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষণা করায় ইসলামপন্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।[৩৪] এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনজনদের নিয়োগ দেয়ার জন্য মুজিবের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনা হয়।[৫] ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের দুর্ভিক্ষ খাদ্য সংকট আরও বাড়িয়ে দেয় এবং অর্থনীতির প্রধান উৎস কৃষিকে ধ্বংস করে ফেলে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব, দ্রব্যমূল্যের অসামঞ্জস্যতা, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যর্থতার কারণে মুজিবকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।[১২] রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সংঘাতের মাত্রা বাড়তে থাকায় মুজিবও তার ক্ষমতা বাড়াতে থাকেন। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে শেখ মুজিব জরুরি অবস্থা জারি করেন।[৩৫] এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু নতুন যে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনে উদ্যোগী হন, একে তিনি বাংলাদেশের "দ্বিতীয় বিপ্লব" বলে আখ্যা দেন।[টীকা ২][৩৬] দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির মধ্যে দুটি দিক ছিল সরকার ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কর্মসূচি এবং আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি।[৩৬] ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতির স্থলে রাষ্ট্রপতি-শাসিত ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। এ সরকারে শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। পরিবর্তিত সংবিধানের আওতায় ৬ জুন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল দল, সরকারি-বেসরকারি এবং সামরিক অন্যান্য বাহিনীর কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্য নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবিশেষকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ নামে একটি জাতীয় দল গঠন করা হয়। এ সময় শেখ মুজিবকে আমৃত্যু রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।[টীকা ৩][৩৬] বাকশাল নিজেদের জনসাধারণ, কৃষক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করে এককভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের কর্তৃত্ব গ্রহণ করতে থাকে। বাকশাল-বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সরকারপন্থী চারটি সংবাদপত্র বাদে সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয়।[৩৪] জাতীয় রক্ষীবাহিনীর সহায়তায় বাকশাল-বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করানো হয় এবং সারাদেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে থাকে।[৩৭] অনেকের মতে, এই নীতির ফলে অস্থিতিশীল অবস্থা আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং দুর্নীতি, কালোবাজারি এবং অবৈধ মজুদদারি অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়। তবে রক্ষীবাহিনী এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচার ও রাজনৈতিক হত্যার অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও শেখ মুজিব নীরব ভূমিকা পালন করেন। ফলে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারীরা শেখ মুজিবের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠেন[৩৮] এবং তার কর্মকাণ্ডকে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার-বিরোধী বলে গণ্য করেন।[৫] মুজিব ও বাকশাল বিরোধীরা গণঅসন্তোষ ও সরকারের ব্যর্থতার কারণে মুজিব-সরকারের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে ওঠে।[৩৪]

মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি[সম্পাদনা]

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি দ্বি-পক্ষীয় আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হয়। এটি ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ মে তারিখে নয়াদিল্লিতে সম্পাদিত হয়েছিল। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, “এই চুক্তিটি দুই দেশের প্রগাঢ় বন্ধুত্ব, আন্তরিক মনোভাব ও পারস্পরিক বিশ্বাস, আর সবার ওপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী—এ দুজন মহান রাষ্ট্রনায়কের শান্তি ও সম্প্রীতির অন্তর্দৃষ্টির প্রতীক”। এই চুক্তির অন্যতম বিষয় ছিল সমঝোতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যকার স্থল-সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন করা ।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

টীকা[সম্পাদনা]

  1. নতুন দেশ, বাংলাদেশের, শুরু হয় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর অনেক "হামলা এবং ধর্ষণ" দিয়ে। জানুয়ারি ১৯৭২ সালে আমেরিকার টাইম ম্যাগাজিন অনুসারে:

    গত মার্চ মাসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তাণ্ডবের পর, বিশ্বব্যাংকের পরিদর্শকদের একটি বিশেষ দল লক্ষ্য করেছিল যে, কয়েকটি শহর "পারমাণবিক হামলার পরের দিনের সকালের মতো" দেখাচ্ছিল। তারপর থেকে, এই ধ্বংসাত্মকতা কেবলমাত্র আরও বেড়েছে। আনুমানিক ৬,০,০০,০০০ বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছে এবং প্রায় ১৪,০০,০০০ কৃষক পরিবার তাদের জমিগুলিতে কাজ করার জন্য সরঞ্জাম বা পশু-পাখি নেয়া ছাড়াই চলে গেছে। পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যাহত। রাস্তাগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, সেতুগুলি ভেঙে গেছে এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথগুলি অবরুদ্ধ রয়েছে। এক মাস আগে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত এই দেশ ধর্ষণ অব্যাহত ছিল। যুদ্ধের শেষ দিনগুলিতে, পশ্চিম পাকিস্তানিদের মালিকানাধীন ব্যবসায়গুলি - যার মধ্যে প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল - কার্যত তাদের সমস্ত তহবিল পশ্চিমে জমা করেছে। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স চট্টগ্রাম বন্দর নগরীতে তার অ্যাকাউন্টে ঠিক ১১৭ রুপি (১৬ ডলার) রেখে যায়। সেনাবাহিনী ব্যাংক নোট এবং মুদ্রাও ধ্বংস করে দিয়েছে, যেন অনেক অঞ্চল এখন নগদ টাকার মারাত্মক ঘাটতির মধ্যে পড়ে। বন্দরগুলি বন্ধ হওয়ার আগেই ব্যক্তিগত গাড়িগুলি রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল বা অটো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল এবং পশ্চিম দিকে পাঠানো হয়েছিল।

  2. বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা, মুজিবনগর সরকার গঠন, নয় মাস ব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধ, বিজয় অর্জন, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার ও পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসনভার গ্রহণ, সংবিধান প্রণয়ন করে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ইত্যাদিকে প্রথম বিপ্লব বা বাংলাদেশ বিপ্লব আখ্যা দেন শেখ মুজিব সরকার।
  3. টাইম সাময়িকীর ভাষ্যে, নতুন ব্যবস্থার অধীনে সমস্ত নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি, যিনি প্রতি পাঁচ বছর পরপর প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন, এবং রাষ্ট্রপতি নিয়োজিত মন্ত্রিপরিষদের হাতে ন্যস্ত করা হয়। যদিও সংসদ আইন প্রণয়ন করতে পারবে, তবুও রাষ্ট্রপতি ভেটো ক্ষমতার অধিকারী হবেন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সংসদ স্থগিত করে দিতেন পারবেন। তৎসত্ত্বেও সংসদ “সংবিধানের অবমাননা ও ক্ষমতার অপব্যবহারজনিত কারণে” কিংবা মানসিক ও শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিন-চতুর্থাংশের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে পারবে। এই সংশোধনী মুজিবকে একক “জাতীয় দল” [বাকশাল] গঠনের ক্ষমতা দেয়, এবং এভাবে সকল রাজনৈতিক বিরোধীদলকে রুদ্ধ করে দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. জেমস হাইৎজম্যান; রবার্ট ওয়ার্ডেন; রিচার্ড এফ নাইরপ, সম্পাদকগণ (১৯৮৯), Bangladesh: A Country Study, ওয়াশিংটন ডিসি: যুক্তরাষ্ট্রীয় গবেষণা বিভাগ, কংগ্রেস গ্রন্থাগার 
  2. "Mujibnagar government returns home"। The Daily Observer। ২২ ডিসেম্বর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  3. https://albd.org/bn/articles/news/32359/%E0%A6%85%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%9F%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8B-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%83-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A8 অস্ত্র সমর্পণের এক টুকরো স্মৃতিঃ মনোয়ার হোসেন]
  4. প্রথম বাজেট নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দুরকম তথ্য
  5. ফ্রাঙ্ক, ক্যাথরিন (২০০২)। ইন্দিরা: দ্য লাইফ অব ইন্দিরা নেহরু গান্ধী (ইংরেজি ভাষায়)। যুক্তরাষ্ট্র: হাফটন মাফলিন। পৃষ্ঠা ৩৮৮। আইএসবিএন 0-395-73097-X 
  6. শেখ, এমরান হোসাইন (৮ জুলাই ২০১৮)। "একনজরে সংবিধানের ১৭টি সংশোধনী"। বাংলা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  7. "ফিরে দেখা ১০টি সংসদ নির্বাচন"। কালের কণ্ঠ। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  8. "১ম জাতীয় সংসদ সদস্যদের তালিকা" (পিডিএফ)জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  9. "BANGLADESH: Mujib's Road from Prison to Power [বাংলাদেশ: মুজিবের কারাগার থেকে ক্ষমতায় আসার পথ]"সীমিত পরীক্ষা সাপেক্ষে বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার, সাধারণত সদস্যতা প্রয়োজনটাইম। ১৭ জানুয়ারি ১৯৭২। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  10. Habib, Mohshin (৪ আগস্ট ২০১৭)। "Bangabandhu cared about the poor"The Asian Age। সংগ্রহের তারিখ ১৫ আগস্ট ২০১৭ 
  11. "ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচিতি"জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ৩ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  12. উদ্দিন, শাহজাদ (৭ জুলাই ২০০৬)। "Mujib's policies: A Bangladeshi Soap Opera" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ জুন ২০০৭ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০১৬ 
  13. অর-রশিদ, হারুন (আগস্ট ২০১৭)। "বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব : লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও পরিপ্রেক্ষিত"। উত্তরণ। ২৭ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  14. লরেন্স বি লেসার (সেপ্টেম্বর ১৯৮৮)। "Economic Reconstruction after Independence"। জেমস হিটজম্যান; জেমস ওরডেন। A Country Study: Bangladesh [স্বাধীনতার পর অর্থনৈতিক পুনর্গঠন] (ইংরেজি ভাষায়)। লাইব্রেরি অব কংগ্রেস, ফেডারেল রিসার্চ ডিভিশন।  এই প্রবন্ধটি এই উৎসের সাথে সম্পর্কিত, যা বর্তমানে পাবলিক ডোমেনে রয়েছে। অ্যাবাউট দ্য কান্ট্রি স্টাডিজ / এরিয়া হ্যান্ডবুকস প্রোগ্রাম: কান্ট্রি স্টাডিজ - যুক্তরাষ্ট্রীয় গবেষণা বিভাগ, কংগ্রেস লাইব্রেরি ফেডারেল রিসার্চ
  15. ফরিদ, শাহ মোহাম্মদ। "Integration of Poverty Alleviation and Social Sector Development into the Planning Process in Bangladesh" [বাংলাদেশের পরিকল্পনা পদ্ধতিতে দারিদ্র‍্য নিরসন ও সমাজ উন্নয়নের সারকথা] (PDF)ইউনেসক্যাপ (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০০৬ 
  16. সেন, অমর্ত্য (১৯৮২)। পোভার্টি অ্যান্ড ফেমিন: অ্যান এসে অ্যান্ড এন্টাইটলমেন্ট অ্যান্ড ডিপ্রাইভেশন [দারিদ্র‍্য ও দুর্ভিক্ষ] (ইংরেজি ভাষায়)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ১৩৮। আইএসবিএন 9780191596902 
  17. ইসলাম, মাইদুল (২০১৫)। লিমিটস অব ইসলামিজম (ইংরেজি ভাষায়)। ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ১৭২। আইএসবিএন 9781107080263 
  18. সাহা, পরেশচন্দ্র। মুজিব হত্যার তদন্ত ও রায় 
  19. রহমান, এ কে এম আতিকুর (১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯)। "বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নেতৃত্বের প্রভাব"। কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  20. আহমেদ, তোফায়েল (১৭ মার্চ ২০২০)। "যে জন্য বঙ্গবন্ধু অবিসংবাদিত নেতা"। সমকাল (মুক্তমঞ্চ)। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  21. হাসান, মেহেদী (১৭ ডিসেম্বর ২০১৭)। "স্বীকৃতি ঠেকাতে সর্বাত্মক চেষ্টা ছিল পাকিস্তানের: যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা ও যুদ্ধবন্দিদের মুক্তিই ছিল লক্ষ্য"। কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  22. ডন মিডিয়া গ্রুপ (২ অক্টোবর ২০১৭)। "Special Report: Democracy in Disarray 1974-1977" [বিশেষ প্রতিবেদন: ছত্রভঙ্গ গণতন্ত্র ১৯৭৪-১৯৭৭]। DAWN.COM (ইংরেজি ভাষায়)। ডন। সংগ্রহের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  23. আব্দুল মোমেন, এ কে (১৫ আগস্ট ২০১৬)। "জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু"। কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  24. ফ্রাঙ্ক, ক্যাথরিন (২০০২)। ইন্দিরা: দ্য লাইফ অব ইন্দিরা নেহরু গান্ধী (ইংরেজি ভাষায়)। যুক্তরাষ্ট্র: হাফটন মাফলিন। পৃষ্ঠা ৩৮৮। আইএসবিএন 0-395-73097-X 
  25. হোসেন, হামজা; কামরুল ইসলাম, এ টি এম (১৯৭৪)। Bangladesh: Jatiya Rakkhi Bahini Act (ইংরেজি ভাষায়)। 
  26. আহমেদ, ইমাজউদ্দিন (২০০৪)। The military and democracy in Bangladesh (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। সিডনি: অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃষ্ঠা ১০৮–১১০। 
  27. রক্ষীবাহিনীর নৃশংসতা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছিলআমার দেশ। ১৬ জানুয়ারি ২০১১। ১৭ জানুয়ারি ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  28. ফেয়ার, ক্রিস্টাইন সি; রিয়াজ, আলি (২০১০)। Political Islam and Governance in Bangladesh। রুটলেজ। পৃষ্ঠা ৩০–৩১। আইএসবিএন 1136926240। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০১৬ 
  29. চৌধুরী, আতিফ (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। "Bangladesh: Baptism By Fire"হাফিংটন পোস্ট। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০১৬ 
  30. "Ignoring Executions and Torture : Impunity for Bangladesh's Security Forces" [উপেক্ষিত মৃত্যুদণ্ড ও নির্যাতন: বাংলাদেশের নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর অব্যাহতি] (PDF)হিউম্যান রাউটস ওয়াচ (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ মার্চ ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০১৩ 
  31. আহমেদ, মওদুদ (২০১৫) [প্রথম প্রকাশ: ১৯৮৩]। Bangladesh, Era of Sheikh Mujibur Rahman। ঢাকা: দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। পৃষ্ঠা ৬৯। আইএসবিএন 978-984-506-226-8 
  32. আলম, আনোয়ার উলরক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা। প্রথমা প্রকাশন। আইএসবিএন 9789849025399 
  33. রহমান, মোহাম্মদ হাবিবুর (৭ জুলাই ২০০৬)। "Decentralization and Access: Theoretical Framework and Bangladesh Experience" (PDF)। ১২ নভেম্বর ২০০৫ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ জুলাই ২০০৬ 
  34. আহমেদ, মওদুদ (১৯৮৩)। বাংলাদেশ : শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। আইএসবিএন 978-984-506-226-8 
  35. "টলিডো ব্লেড – গুগল নিউজ আর্কাইভ অনুসন্ধান"গুগল নিউজ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১৯ 
  36. "BANGLADESH: The Second Revolution" [বাংলাদেশ: দ্বিতীয় বিপ্লব] (ইংরেজি ভাষায়)। টাইম ম্যাগাজিন ইউএসএ। ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫। সংগ্রহের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ 
  37. কান্ট্রি স্টাডিজ, বাংলাদেশ (১২ সেপ্টেম্বর ২০০৬)। "Mujib's fall" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০০৬ 
  38. "Ziaur Rahman informed Sheikh Mujibur Rahman about earlier coup threat"। এখন সময়। ৫ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩