এক এগারো
| এক এগারো | |||
|---|---|---|---|
| ২০০৬–২০০৮ | |||
| |||
| অবস্থান | বাংলাদেশ | ||
| নেতা | ফখরুদ্দীন আহমদ | ||
| গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী | লগি-বৈঠা আন্দোলন | ||
| বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস | ||||||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ধারাবাহিকের একটি অংশ | ||||||||||||
| ঐতিহাসিক যুগ | ||||||||||||
|
||||||||||||
| আরও দেখুন | ||||||||||||
|
| ||||||||||||
এক এগারোর শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর সরকারের মেয়াদ শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। তৎকালীন সংবিধান অনুসারে, কোন দল ক্ষমতা হস্তান্তরের ৯০ দিন পর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মধ্যবর্তী ৯০ দিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদারকি করবে ও এর অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক সংকট শুরু হয় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে কারণ রাজনৈতিক দলগুলো অন্য পাঁচজন প্রার্থীর ব্যাপারে একমত হতে পারেনি। এই অন্তর্বর্তী সরকারের সূচনা হয় সহিংস বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লগি বৈঠা আন্দোলন নামক বিক্ষোভ শুরু করে এবং প্রথম মাসেই ৪০ জন নিহত হয়[১] ও শতশত আহত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলেরও এই প্রক্রিয়া ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল।
তত্বাবধায়ক সরকার, ব্যাপক আলোচনার পর দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলোকে এক টেবিলে আলোচনায় আনতে সমর্থ হয় এবং ৩ই জানুয়ারি ২০০৭ সালে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হয়। আওয়ামী লীগ থেকে ঘোষণা করা হয়, তারা নিজে ও এর সাথে যুক্ত ছোটদলগুলো ২২শে জানুয়ারি ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচন বর্জন করবে। তারা ভোটার তালিকা সঠিকভাবে প্রণয়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ উত্থাপন করে। পরবর্তীতে এটাকে কেন্দ্র করে দেশে আরো সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।[১]
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার তিক্ত রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দুই দশক ধরে জাতিকে প্রভাবিত করছে ।[১] দুটি দলই নারী কর্তৃক পরিচালিত এবং তারা দুইজনই নিহত নেতার প্রতিনিধিত্ব করেন। আওয়ামী লীগের প্রধান হলেন শেখ হাসিনা যিনি শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা; ১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে হত্যা করা হয়। খালেদা জিয়া, বিএনপির প্রধান; তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন; ১৯৮১ সালে তাকে হত্যা করা হয়।
২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে সমর্থন করে সেনাবাহিনী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে, এর পূর্বেই দেশে জরুরি অবস্থা জারি ছিল। ইয়াজউদ্দিন আহমেদ তার প্রায় সকল উপদেষ্টার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং তিনি নিজেও প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১২ই জানুয়ারি ফখরুদ্দীন আহমদ তার স্থলাভিষিক্ত হন, যিনি বিশ্ব ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন গঠিত সরকার দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সকল প্রকার রাজনৈতিক কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরবর্তীতে সরকার দুর্নীতি মামলাগুলোর উপর কাজ শুরু করে; রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ ১৬০ জনের বিরুদ্ধে ১৯৯০-এর দশকে করা কার্যক্রমের উপর চার্জশিট দাখিল করে ও তদন্ত শুরু করে। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের উভয় রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে বিভিন্ন সময় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। উপরন্তু কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক মেরুকরণ কমাতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে পাঠাতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। তত্বাবধায়ক সরকার, ২০০৬-এর ২৮ শে অক্টোবর শেখ হাসিনার ডাকা লগি বইঠা আন্দোলন নামক বিক্ষোভের সময় ৪জন ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করে। সর্বোচ্চ আদালত রায় প্রদান করেন, জরুরি অবস্থার অধীনে খালেদা জিয়া জরুরি অবস্থা জারির পূর্বের কোন ঘটনায় অভিযুক্ত হবেন না কিন্তু ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে করা একটি আপিলে সর্বোচ্চ আদালত মামলা পরিচালনার রায় প্রদান করেন। ২০০৮ এর শেষ দিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সাধারণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করে এবং ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও মহাজোট দুই তৃতীয়াংশ ভোটে জয় লাভ করে ও ২০০৯-এ সরকার গঠন করে।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রদেয় ভোট যে কোনো স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে রহস্যজনকভাবে বেশি ছিল। পক্ষান্তরে ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচন, যা জাতীয় নির্বাচনের পরপরই অনুষ্ঠিত হয়, সে নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার অনেক কম ছিল। ফলে এই সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ আচরণের সঙ্গে গরমিলের ছিল।[২]
পটভূমি
[সম্পাদনা]বাংলাদেশের স্বতন্ত্র ব্যবস্থা অনুসারে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে নির্বাচন প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করার এবং অন্তর্বর্তী সময়ে পরিচালনা করার দায়িত্ব দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়, সংসদ ভেঙে দেওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হয়। প্রথম অনানুষ্ঠানিক উপায়ে প্রতিষ্ঠিত পন্থাটি সিটিজি বিধান মোতাবেক ১৯৯৬ সালে সংবিধানে সংশোধনীর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে বলা হয় যে প্রধান উপদেষ্টা পদটি (প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন) সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। তিনি সরকার পরিচালনায় সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ দশজন উপদেষ্টা (মন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন) নিয়োগ করতে পারেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশব্যাপী সংসদ নির্বাচন পরিচালনা সহ ৯০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাষ্ট্রের সমস্ত বিষয় পরিচালনা করবে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করা হবে, যিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভূমিকা গ্রহণ করবেন।
১১ জানুয়ারি ২০০৭ সালে আবির্ভাব ঘটেছিল কথিত ওয়ান ইলেভেন বা এক এগারো। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের একতরফা সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবরণে গঠিত হয় সেনা নিয়ন্ত্রিত 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার'। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পরবর্তীতে এটিকে ওয়ান ইলেভেন হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। দিনভরই চারদিকে ছিল নানা গুজব, গুঞ্জন। সার্বিক পরিস্থিতি ছিল থমথমে। এই অবস্থায় বিকেল চারটার দিকে আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও কাজী জাফর উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল যোগ দেন কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে। কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠকে ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার ডগলাস ফসকেট, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইনোওয়ে মাসাইয়েকি, ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) ডেলিগেশন প্রধান রাষ্ট্রদূত ড. স্টিফান ফ্রোইন ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রেনাটা ডেজালিয়েন। বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত বৈঠক শেষে অনেকটা হতাশ হয়ে বেরিয়ে আসেন আওয়ামী লীগ নেতারা। আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান তারা। কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসা থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা সরাসরি চলে যান দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির সুধাসদনের বাসায়।আওয়ামী লীগ নেতারা বের হওয়ার আধাঘণ্টা পর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসায় কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। এর নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া। বৈঠক শেষে তারাও মুখ খোলেননি। সোজা চলে যান গুলশানের হাওয়া ভবনে। সেখানে তারা বৈঠক করেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে। এর আগে দুপুর পৌনে বারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সঙ্গে তার বারিধারার বাসায় বৈঠক করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধান দু'টি দলের বৈঠকের আগে প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দুপুর বারোটায় বৈঠক করেন আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সঙ্গে। এতে কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকের পরপরই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন বঙ্গভবনে তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। অন্যদিকে বিকেল সাড়ে চারটায় উপদেষ্টা পরিষদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়। দু'-একজন ছাড়া উপদেষ্টাদের প্রায় সবাই বঙ্গভবনে গিয়ে বৈঠক বাতিলের খবরে ফিরে আসেন।বঙ্গভবনের বৈঠক শেষে বিমান বাহিনী প্রধান, নৌ বাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাব, বিডিআরসহ সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের নিয়ে সেনাসদরে বৈঠক করেন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ।রাত সাড়ে আটটায় বঙ্গভবনে পুনরায় ডাকা হয় উপদেষ্টাদের। কোনো বৈঠক ছাড়াই উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে উপদেষ্টাদের অবহিত করা হয়। এসময় উপদেষ্টাদের সবাইকে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়। এরপর প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাষ্ট্রপতি। একইসঙ্গে উপদেষ্টারাও পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ডক্টর ফখরুদ্দীন আহমদকে। তিনি নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন।এসব নাটকীয় ঘটনা ও টানটান উত্তেজনা-উদ্বেগের মধ্যেই সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয় 'অভ্যন্তরীণ গোলযোগে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন এবং বিপদের সম্মুখীন হওয়ায় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন'। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়— বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে জরুরি অবস্থা কার্যকর হবে। একইসঙ্গে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ঢাকাসহ সকল মহানগর এবং জেলা শহরে কারফিউ বলবত্ থাকার ঘোষণাও দেয়া হয়।এরপর নানা উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্যে রাত সাড়ে এগারোটায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। ভাষণে তিনি বলেন, একইসঙ্গে দু'টি দায়িত্ব নেয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। এই অবস্থায় সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথকে সুগম করতে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাতে সরকারের তথ্য অধিদফতর থেকে মৌখিক নির্দেশনা দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলোকে রাজনৈতিক সংবাদ ও সরকারের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় টিভি চ্যানেলের খবর ও টকশো।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন
[সম্পাদনা]রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও সহিংসতার মুখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দেশে 'জরুরি অবস্থা' জারি করেন। একইসাথে তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং পূর্বনির্ধারিত ২২ জানুয়ারির নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন।[৩] এই পরিবর্তনের পেছনে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদএর নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থন ও ভূমিকা ছিল। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে 'ওয়ান-ইলেভেন' (১/১১) নামে পরিচিতি পায়।
১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমদ প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।[৪] ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। এই সরকার সংবিধান নির্ধারিত ৯০ দিনের পরিবর্তে প্রায় দুই বছর (২০০৭-২০০৮) ক্ষমতায় ছিল। এই সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল একটি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালানো এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা।[৫] এই সরকারকে এক এগারোর সরকার বা সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে অভিহিত করা হয়।
মাইনাস টু ফর্মুলা
[সম্পাদনা]মাইনাস টু ফরমুলা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যবহৃত একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক ধারণা, যা মূলত ২০০৭ সালের ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকার সময়কালে আলোচনায় আসে। এই ধারণা অনুযায়ী দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা—কে রাজনীতির মূল কেন্দ্র থেকে সরিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হয়।[৬] এছাড়াও খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো-কে গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়। [৭]
প্রতিবাদ
[সম্পাদনা]২০০৭ সালের ২০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সেনাসদস্যদের দ্বারা ছাত্র লাঞ্ছনার প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। তৎকালীন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জারি করা জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করে ছাত্র-শিক্ষকরা রাজপথে নেমে আসেন, যা দ্রুত দেশব্যাপী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কারফিউ জারি করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করে। শেষ পর্যন্ত ছাত্র-শিক্ষক সংহতির মুখে সরকার নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং আটককৃতদের মুক্তি দেয়। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাসে এই ঘটনাটি একটি অবিস্মরণীয় মাইলফলক, যা প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'কালো দিবস' হিসেবে পালিত হয়।[৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 Rahman, Waliur (৮ জানুয়ারি ২০০৭)। "Is Bangladesh heading towards disaster?"। BBC। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০০৭।
- ↑ হিটো, জাহেদুল আলম (২৮ জানুয়ারি ২০২৩)। "ভোটাধিকার আদায়ে 'হাপর' হতে হবে"। দৈনিক সমকাল। ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০২৩।
- ↑ এক-এগারোর চার বছর, বিবিসি বাংলা।
- ↑ দশক এক-এগারোর এক দশক, প্রথম আলো।
- ↑ Adieu to caretaker system, The Daily Star.
- ↑ "Minus two formula and political debate"। The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২৬।
- ↑ https://www.dainikamadershomoy.com/details/019d26bc28ec9
- ↑ ২০শে আগস্টের সেই ঘটনাবলী: ফিরে দেখা, বিবিসি বাংলা।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- "The coup that dare not speak its name", The Economist
- Bangladesh government
- Bangladesh Election Commission
- "Military Government Crackdown on Internet Users in Bangladesh", E-Bangladesh, 3 October 2007
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- Bangladesh and the crisis over the Caretaker Government
- Bangladesh: Introduction of the caretaker government in October 2006
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |