বারাণসী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বারাণসী
वाराणसी
কাশী
বারাণসী
वाराणसी
Location of বারাণসী
वाराणसी
in উত্তরপ্রদেশ
স্থানাঙ্ক 25°18′N 83°00′E / 25.3°N 83.0°E / 25.3; 83.0
দেশ  ভারত
রাজ্য উত্তরপ্রদেশ
জেলা বারাণসী
জনসংখ্যা

ঘনত্ব

[১] (2001)

১,৯৯৫ /km² (৫,১৬৭ /sq mi)[২]

সময় অঞ্চল আইএসটি (ইউটিসি+৫:৩০)
আয়তন

উচ্চতা

>1550 km2 (598 sq mi)

৮০.৭১ m (২৬৫ ft)

বারাণসী (সংস্কৃত: वाराणसी Vārāṇasī, Hindustani pronunciation: [ʋaːˈɾaːɳəsiː]  (Speaker Icon.svg listen)) বা কাশী (সংস্কৃত: काशी, হিন্দি: काशी, উর্দু: کاشی, Kāśī [ˈkaːʃiː]  (Speaker Icon.svg listen)) ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের রাজধানী লখনউ থেকে ৩২০ কিলোমিটার (১৯৯ মাইল) দূরে অবস্থিত একটি শহর। গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহর হিন্দুদের পবিত্রতম তীর্থগুলির অন্যতম। বৌদ্ধজৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এই শহরটি পবিত্র। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলির অন্যতম এবং সম্ভবত ভারতের প্রাচীনতম শহর।[৩][৪]

"কাশী নরেশ" (কাশীর মহারাজা) বারাণসীর প্রধান সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষক। সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।[৫] পবিত্র গঙ্গা নদী বারাণসীর সংস্কৃতির সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। এই শহরটি বিগত কয়েক হাজার বছর ধরে উত্তর ভারতের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র। হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের বারাণসী ঘরানা এখানেই উদ্ভূত হয়। ভারতের অনেক দার্শনিক, কবি, লেখক ও সংগীতস্রষ্টা এখানেই বাস করতেন বা করেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবীর, রবিদাস, তাঁদের গুরু রামানন্দ, ত্রৈলঙ্গ স্বামী, মুন্সি প্রেমচন্দ, জয়শঙ্কর প্রসাদ, আচার্য শুক্ল, রবি শঙ্কর, গিরিজা দেবী, হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়াবিসমিল্লাহ্‌ খাঁতুলসীদাস এখানেই রামচরিতমানস রচনা করেন। গৌতম বুদ্ধ বারাণসীর নিকটস্থ সারনাথে প্রথম তাঁর ধর্মমত প্রচার করেন।[৬]

বারাণসীতে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে: কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, মহাত্মা গান্ধী কাশী বিদ্যাপীঠ, সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ হায়ার টিবেটান স্টাডিজসম্পূর্ণানন্দ সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়। স্থানীয় অধিবাসীদের ভাষা হিন্দি ও কাশীকা ভোজপুরি (হিন্দির সমতুল্য একটি উপভাষা)। বারাণসীকে "মন্দিরনগরী", "ভারতের পুণ্যনগরী", "ভারতের ধর্মীয় রাজধানী", "আলোক নগরী" ও "শিক্ষানগরী" বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে।[৭]

মার্কিন লেখক মার্ক টোয়াইন লিখেছেন: "বারাণসী ইতিহাসের চেয়ে প্রাচীন, প্রথার চেয়ে প্রাচীন, এমনকি কিংবদন্তির চেয়েও প্রাচীন এবং এই সবকিছুর সমষ্টির চেয়ে দ্বিগুণ প্রাচীন।" ("Benares is older than history, older than tradition, older even than legend, and looks twice as old as all of them put together.")[৮]

পরিচ্ছেদসমূহ

[সম্পাদনা] অবস্থান

উত্তর ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসী শহর পবিত্র নদী গঙ্গার তীরে অবস্থিত। ভৌগোলিক অবন্থান ২৫.৩৬° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৩.১৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ । ভৌগোলিক আয়তন ও সমুদ্র সমতল হতে উচ্চতা যথাক্রমে ১৫৫০ বর্গ কলোমিটার ও ৮০.৭১ মিটার। জনসংখ্যা (২০০১) ১,২১১,৭৪৯ ।

[সম্পাদনা] আবহাওয়া

ভুগোলার্ধের কর্কট ক্রান্তি রেখা বারাণসীর উপর দিয়ে চলে গেছে বলে গরমকালে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে, সাথে থাকে জলীয় বাষ্পের তীব্র প্রভাব। মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাবে মৌসুমী বৃষ্টিপাত হয় প্রধানত জুন জুলাই মাসে। অন্যদিকে শীতকালে আবহাওয়া অনেক আরামপ্রদ হয়। এসময় তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। পর্যটকদের জন্য বারাণসীতে আসবার উপযুক্ত সময় হলো অক্টোবর হতে এপ্রিল পর্যন্ত।

[সম্পাদনা] নামকরণ

বারাণসী শহরটি বেনারস ও কাশী নামেও পরিচিত। ভারতীয় সরকারের এক আদেশ বলে মে ২৪, ১৯৫৬ তারিখ হতে বেনারস এর নতুন নাম হয় বারাণসী। বারাণসী হচ্ছে ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী।

[সম্পাদনা] ইতিহাস

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শতাব্দী প্রাচীন পূণ্যভূমি হচ্ছে এই বারাণসী বা কাশী। তাদের মতে এস্থান হচ্ছে সৃষ্টি ও ধ্বংসের পূণ্যভূমি। মনে করা হয় যে এই শহর সর্বাপেক্ষা প্রাচীন জীবন্ত শহর। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মনে করে যদি কোন হিন্দু বারাণসী মৃত্যুবরণ করে তবে সে জন্ম জন্মান্তরের পুর্ণজন্মের চক্র হতে মুক্তি পায়। হিন্দু দেবতা ও দেবী শিব পার্বতীর আবাসভূমি হচ্ছে এই বারাণসী সৃষ্টি রহস্য এখনো অনাবিষ্কৃত। মনে করা হয় যে বারাণসীতে গঙ্গা স্নান করলে জীবনের সমস্ত পাপ ধুয়ে মুছে যায়।

বারাণসী প্রায় ৩০০০ বছরের সভ্যতা ও শিক্ষার কেন্দ্র ছিল। বারাণসী হতে ১০ কিলোমিটার দূরে সারনাথে গৌতম বুদ্ধ তাঁর বুদ্ধত্ব প্রাপ্তির পর প্রথম ধর্মের বাণী প্রচার শুরু করেছিলেন। আজ অবধি বারাণসী হিন্দু ধর্মের পৃণর্জাগরণ, জ্ঞান বিজ্ঞান, দর্শন, সংস্কৃতি, ভারতীয় চিত্রকলা ও শিল্পকর্মের কেন্দ্র হয়ে আছে। বারাণসী জৈন ধর্মাবলম্বীদেরও পূণ্যভূমি হিসেবে বিবেচিত। মনে করা হয় যে, আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রের পূর্বসূরী আয়ুর্বেদের সৃষ্টি হয়েছিল এই শহরে। আয়ুর্বেদ ও যোগ শাস্ত্রের প্রণেতা মহর্ষি পতঞ্জলি এই শহরে সম্পৃক্ত ছিলেন।

প্রাচীন কাল হতেই বারাণসী বাণিজ্যের একটি কেন্দ্র ছিল। এখানকার সোনা, রূপার অলঙ্কার ও রেশমের সুনাম ছিল।

বিখ্যাত সাহিত্যিক মার্ক টোয়েন বারাণসী দেখে মন্তব্য করেছিলেন, “ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কিংবদন্তীর চেয়ে প্রাচীন; এবং এর সবগুলোর প্রাচীনত্ব যোগ করলে যত প্রাচীন হয়, দেখে তারচে’ বেশী প্রাচীন মনে হয়। “

[সম্পাদনা] বারাণসীর বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান

বারাণসীতে সারা বছর ধরে চলে বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • রামলীলা- প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বরে মাস ব্যাপী এই উৎসব চলে। হিন্দি কবি তুলসি দাসের রামচরিতমানস অবলম্বনে প্রাচীন হিন্দু আচার অনুষ্ঠানাদি পরিবেশিত হয় এই উৎসবে।
  • বুদ্ধ পূর্ণিমা- এপ্রিল-মে মাসে ভগবান বুদ্ধের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে সরনাথে বিশাল মেলা হয় এবং বুদ্ধ মুর্তি নিয়ে মিছিল বের হয়।
  • ভারত মিলাপ-দশেরার দিন রাম তাঁর ভাই ভারতের সাথে মিলিত হন নতিল্মলিতে। এ মহা মিলনকে চিরজীবী করে রেখেছে বারাণসীর এই মেলা। কাশীর মহারাজা তাঁর সমস্ত রাজসিক ঔজ্জ্বল্য নিয়ে এ উৎসবে অংশ নেন।
  • হনুমত জয়ন্তী-হনুমানজীর জন্মজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে হনুমান চরিত্র, রাম, কৃষ্ণলীলা ও সরস্বতী চরিত্রের উপর ভিত্তি করে নাট্যকলা পরিবেশিত হয় এই উৎসবে। সঙ্কটমোচন মন্দিরে এই উৎসব চলে ৫ দিন ধরে।
  • ধ্রুপদ মেলা-শহরের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে এই ধ্রুপদ মেলা। ভারতের বিখ্যাত ধ্রুপদীয়াগণ তুলসিঘাটে মার্চ মাসে ৫ দিন ধরে এই অনুষ্ঠানে ধ্রুপদ পরিবেশন করেন।
  • মহাশিবরাত্রি-যদিও সারা ভারত জুড়েই হিন্দু ধম্বালম্বীদের এই উৎসব অনুষ্ঠান হয়, তবুও ভারানাসিতে এর বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। বিশেষ করে দারানগরের মহা-মৃত্যুঞ্জয় মন্দির হতে কাশির বিশ্বনাথ মন্দির অবধি ভগবান শিবের বিয়ের মিছিল।
  • পাঁচ ক্রোশী পরিক্রমা-নাম থেকেই বোঝা যায় যে পাঁচ জায়গায় এটা অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হচ্ছে কর্দমেশ্বর, ভীমচাঁন্দী, রামেশ্বর, শিবপুর ও কপিলধারা।

[সম্পাদনা] পাদটীকা

  1. Ranking of Districts by Population Size in 1991 and 2001. প্রকাশক: Government of Uttar Pradesh. http://www.upgov.nic.in/upinfo/census01/cen01-1.htm। সংগৃহীত হয়েছে: February 4, 2007. 
  2. Ranking of Districts by Population Density. প্রকাশক: Government of Uttar Pradesh. http://www.upgov.nic.in/upinfo/census01/cen01-3.htm। সংগৃহীত হয়েছে: February 4, 2007. 
  3. Lannoy, Richard (October 1999). Benares Seen from Within. প্রকাশক: University of Washington Press. Back Flap. আইএসবিএন 029597835X. OCLC 42919796. 
  4. Varanasi. প্রকাশক: Encyclopædia Britannica. http://www.britannica.com/eb/article-9074835/Varanasi। সংগৃহীত হয়েছে: March 6, 2008. 
  5. Mitra, Swati (2002). Good Earth Varanasi city guide. প্রকাশক: Eicher Goodearth Limited. p. 216. আইএসবিএন 9788187780045. 
  6. District of Varanasi - Sarnath. প্রকাশক: National Informatics Centre-Varanasi. http://varanasi.nic.in/tourist/tourist7.html। সংগৃহীত হয়েছে: May 1, 2009. 
  7. Varanasi: The eternal city. প্রকাশক: Banaras Hindu University. http://www.bhu.ac.in/varanasi.htm। সংগৃহীত হয়েছে: February 4, 2007. 
  8. Twain, Mark (1898) [1897]. L. Following the Equator: A journey around the world. প্রকাশক: Hartford, Connecticut, American Pub. Co.. আইএসবিএন 0404015778. OCLC 577051. http://www.literaturecollection.com/a/twain/following-equator/51/। সংগৃহীত হয়েছে: February 7, 2007. 

[সম্পাদনা] তথ্য উৎস:

নিজস্ব হাতিয়ারসমূহ
নামস্থান

বিকল্পসমূহ
কার্যক্রম
পরিভ্রমন
মুদ্রণ/এক্সপোর্ট
সরঞ্জাম
অন্যান্য ভাষাসমূহ