বাংলার ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বাংলার ইতিহাস বলতে অধুনা বাংলাদেশপশ্চিমবঙ্গের বিগত চার সহস্রাব্দের ইতিহাসকে বোঝায়।[১] গঙ্গাব্রহ্মপুত্র নদ এক অর্থে বাংলাকে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারতের ইতিহাসে বাংলা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে।

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রাচীন ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রায় চারহাজার বছরের পুরনো তাম্রযুগের ধ্বংসাবশেষ বাংলায় পাওয়া গেছে ।

ইন্দো-আর্যদের আসার পর অঙ্গ, বঙ্গ এবং মগধ রাজ্য গঠিত হয় খ্রীষ্টপূর্ব দশম শতকে । এই রাজ্যগুলি বাংলা এবং বাংলার আশেপাশে স্থাপিত হয়েছিল । অঙ্গ বঙ্গ এবং মগধ রাজ্যের বর্ণনা প্রথম পাওয়া যায় অথর্ববেদে প্রায় ১০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে ।

খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক থেকে বাংলার বেশিরভাগ এলাকাই শক্তিশালী রাজ্য মগধের অংশ ছিল । মগধ ছিল একটি প্রাচীন ইন্দো-আর্য রাজ্য । মগধের কথা রামায়ণ এবং মহাভারতে পাওয়া যায় । বুদ্ধের সময়ে এটি ছিল ভারতের চারটি প্রধান রাজ্যের মধ্যে একটি । মগধের ক্ষমতা বাড়ে বিম্বিসারের (রাজত্বকাল ৫৪৪-৪৯১ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) এবং তার ছেলে অজাতশত্রুর (রাজত্বকাল ৪৯১-৪৬০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) আমলে । বিহার এবং বাংলার অধিকাংশ জায়গাই মগধের ভিতরে ছিল ।

৩২৬ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের সেনাবাহিনী মগধের নন্দ সাম্রাজ্যের সীমানার দিকে অগ্রসর হয় । এই সেনাবাহিনী ক্লান্ত ছিল এবং গঙ্গা নদীর কাছাকাছি বিশাল ভারতীয় বাহিনীর মুখোমুখি হতে ভয় পেয়ে যায় । এই বাহিনী বিয়াসের কাছে বিদ্রোহ ঘোষনা করে এবং আরও পূর্বদিকে যেতে অস্বীকার করে । আলেকজান্ডার তখন তাঁর সহকারী কইনাস (Coenus) এর সাথে দেখা করার পরে ঠিক করেন ফিরে যাওয়াই ভাল ।

মৌর্য সাম্রাজ্য মগধেই গড়ে উঠেছিল । মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য । এই সাম্রাজ্য অশোকের রাজত্বকালে দক্ষিণ এশিয়া, পারস্য, আফগানিস্তান অবধি বিস্তার লাভ করেছিল । পরবর্তীকালে শক্তিশালী গুপ্ত সাম্রাজ্য মগধেই গড়ে ওঠে যা ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তরাংশে এবং পারস্য এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশে বিস্তার লাভ করেছিল ।

মধ্য যুগের প্রথমাবস্থা[সম্পাদনা]

গৌড় রাজ্য[সম্পাদনা]

বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা ছিলেন শশাঙ্ক যিনি ৬০৬ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ৬৩৭ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। সম্ভবত তিনি গুপ্ত সম্রাটদের অধীনে একজন সামন্তরাজা ছিলেল ।তিনি সম্ভবত হর্ষবর্ধন-এর ভগিনী রাজ্যশ্রী কে অপহরন করে ছিলেল ।এইজন্য হর্ষবর্ধন-এর সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ হয় ।তাঁর শক্তি বৃদ্ধি হতে দেখে কামরুপ রাজ ভাস্করবর্মন তাঁর শত্রু হর্ষবর্ধন-এর সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করেন ।৬৩৭ খ্রীষ্টাব্দে শশাঙ্ক-এর মৃত্যুর পর তাঁর রাজ্যের পতন ঘটে ও বাংলাতে এক অরাজক অবস্থার সৃস্টি হয় যাকে বাংলায় মাৎস্যন্যায় বলা হয় ।

মাৎস্যন্যায়[সম্পাদনা]

৬৩৭ খ্রীষ্টাব্দে গৌড় রাজ শশাঙ্ক-এর মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে একঘোরতর নৈরাজ্যের সৃস্টি হয় যা প্রায় দেড়শো বছর তা স্থায়ী হয় ।এই সময় বাংলাতে বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের সৃস্টি হয় আত্মকলহ,গৃহযুদ্ধ,গুপ্তহ্ত্যা,অত্যাচার প্রভৃতি চরমে ওঠে ।বাংলার সাধারণ দরিদ্র মানুষদের দুর্দশার শেষ ছিল না ।স্থায়ী প্রশাসন না থাকাতে বাহুবলই ছিল শেষ কথা।

পাল বংশ[সম্পাদনা]

মাৎস্যন্যায়ের সময় বাংলার বিশৃঙ্খলা দমনের জন্য বাংলার মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে গোপাল নামক এক সামন্তরাজা কে বাংলার রাজা হিসেবে গ্রহন করেন ।গোপালই হলেন পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা ।পাল বংশের সবচেয়ে শক্তিশালী দুই রাজা ছিলেন ধর্মপাল (রাজত্বকাল ৭৭৫-৮১০ খ্রীষ্টাব্দ) এবং দেবপাল (রাজত্বকাল ৮১০-৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ) ।

মুসলমান শাসন[সম্পাদনা]

ওলন্দাজ কলোনি[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ শাসন[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ শাসনের সময়ে দুটি মারাত্মক দুর্ভিক্ষ বা মন্বন্তর বহুমানুষের জীবনহানি ঘটিয়েছিল । প্রথম দুর্ভিক্ষটি ঘটেছিল ১৭৭০ খ্রীষ্টাব্দে এবং দ্বিতীয়টি ঘটেছিল ১৯৪৩ খ্রীষ্টাব্দে । ১৭৭০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির রাজত্বকালে বাংলার দুর্ভিক্ষটি ছিল ইতিহাসের সব থেকে বড় দুর্ভিক্ষগুলির মধ্যে একটি । বাংলার এক তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল ১৭৭০ এবং তার পরবর্তী বছরগুলিতে ।

১৮৫৭ খ্রীষ্টাব্দের সিপাহি বিদ্রোহ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় এবং বাংলা সরাসরি ভাবে ব্রিটিশ রাজবংশের শাসনাধীনে আসে ।

বাংলা ছিল খুব ভালো ধান উৎপাদক অঞ্চল এবং এখানে সূক্ষ সুতিবস্ত্র মসলিন তৈরি হত । এছাড়া এই অঞ্চল ছিল পৃথিবীর পাট চাহিদার মুখ্য যোগানকারী । ১৮৫০ সাল থেকেই বাংলায় ভারতের প্রধান শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠতে থাকে । এই শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছিল মূলত কলকাতার আশেপাশে এবং সদ্য গড়ে ওঠা শহরতলি এলাকায় । কিন্তু বাংলার বেশিরভাগ মানুষ তখনও কৃষির উপরেই বেশি নির্ভরশীল ছিলেন । ভারতের রাজনীতি এবং সংস্কৃতিতে বাংলার মানুষেরা অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করলেও বিশেষ করে পূর্ব বাংলায় তখনও খুব অনুন্নত জেলা ছিল । ১৮৭৭ খ্রীষ্টাব্দে রানী ভিক্টোরিয়া যখন ভারতের সম্রাজ্ঞী উপাধিতে নিজেকে ভূষিত করলেন তখন ব্রিটিশরা কলকাতাকে ব্রিটিশ রাজের রাজধানী বলে ঘোষনা করে ।

বাংলা নবজাগরণ[সম্পাদনা]

বঙ্গভঙ্গ[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালের আগষ্ট মাসে ইংরেজ শাসিত ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে গণপ্রজাতন্ত্র ভারত এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্র আত্মপ্রকাশ পায়। তখন বাংলা ভাগ হয়ে পশ্চিম বাংলা ভারতের একটি অংশ এবং পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের একটি অংশে পরিণত হয়।

বাংলার স্বাধীন বৌদ্ধ ও হিন্দু নৃপতি[সম্পাদনা]

পাল বংশ[সম্পাদনা]

সেন বংশ[সম্পাদনা]

বাংলার স্বাধীন সুলতান[সম্পাদনা]

ইলিয়াস শাহী বংশ (প্রথম পর্ব)[সম্পাদনা]

বায়াজিদ বংশ[সম্পাদনা]

  • শিহাবুদ্দিন বায়াজিদ শাহ (১৪১৩-১৪১৪)
  • প্রথম আলাউদ্দীন ফিরোজ শাহ (১৪১৪-১৪১৫)

গণেশ বংশ[সম্পাদনা]

  • রাজা গণেশ (১৪১৪-১৪১৫ এবং ১৪১৬-১৪১৮)
  • জালালুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ (১৪১৫-১৪১৬ এবং ১৪১৮-১৪৩৩)
  • শামসুদ্দীন আহমদ শাহ (১৪৩৩-১৪৩৫)

ইলিয়াস শাহী বংশ (দ্বিতীয় পর্ব)[সম্পাদনা]

  • প্রথম নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৪৩৫-১৪৫৯)
  • রুকনুদ্দীন বারবক শাহ (১৪৫৯-১৪৭৪)
  • শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-১৪৮১)
  • দ্বিতীয় সিকান্দর শাহ (১৪৮১)
  • জালালুদ্দীন ফতেহ শাহ (১৪৮১-১৪৮৭)

হাবসি বংশ[সম্পাদনা]

  • বারবক শাহ (১৪৮৭)
  • সাইফুদ্দীন ফিরোজ শাহ (১৪৮৭-১৪৯০)
  • দ্বিতীয় নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৪৯০)
  • শামসুদ্দীন মুজাফ্ফর শাহ (১৪৯০-১৪৯৩)

হুসেন বংশ[সম্পাদনা]

  • আলাউদ্দিন হুসেন শাহ (১৪৯৩-১৫১৯)
  • নাসিরুদ্দীন নুসরত শাহ (১৫১৯-১৫৩২)
  • দ্বিতীয় আলাউদ্দীন ফিরোজ শাহ (১৫৩২-১৫৩৩)
  • গিয়াসুদ্দীন মাহমুদ শাহ (১৫৩৩-১৫৩৮)

উত্তর ভারতবর্ষের শূর সম্রাটদের অধীনে বাংলা[সম্পাদনা]

শূর বংশ[সম্পাদনা]

  • শের শাহ শূরি (১৫৪০-১৫৪৫)
  • ইসলাম শাহ শূরি (১৫৪৫-১৫৫৩)
  • ফিরোজ শাহ শূরি (১৫৫৩)
  • আদিল শাহ শূরি (১৫৫৩-১৫৫৭)- তাঁর শাসনকালে ১৫৫৫ সালে বাংলার শাসক মুহাম্মদ খান শূরি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং 'শামসুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ' উপাধী ধারণ করে বাংলার সিংহাসনে বসেন

বাংলার স্বাধীন সুলতান[সম্পাদনা]

শূর বংশ[সম্পাদনা]

  • শামসুদ্দীন মুহাম্মদ শাহ (১৫৫৫)
  • প্রথম গিয়াসুদ্দীন বাহাদুর শাহ (১৫৫৫-১৫৬০)
  • গিয়াসুদ্দীন জালাল শাহ (১৫৬০-১৫৬২)
  • দ্বিতীয় গিয়াসুদ্দীন বাহাদুর শাহ (১৫৬২-১৫৬৩)

কররানি বংশ[সম্পাদনা]

  • তাজ খান কররানি (১৫৬৩)
  • সুলায়মান কররানি (১৫৬৩-১৫৭২)
  • বায়াজিদ কররানি (১৫৭২-১৫৭৩)
  • দাউদ খান কররানি (১৫৭৩-১৫৭৬)

মুঘল বাংলার শাসক[সম্পাদনা]

মুঘল বাংলার সুবাহদার[সম্পাদনা]

বাংলার নবাব[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ বাংলার নবাব[সম্পাদনা]

স্বাধীন ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গের শাসক[সম্পাদনা]

প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ ১৫ আগস্ট, ১৯৪৭ ১৪ই জানুয়ারী, ১৯৪৮ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস

বিধানচন্দ্র রায় ১৪ই জানুয়ারী, ১৯৪৮ ১লা জুলাই, ১৯৬২ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস

(রাষ্ট্রপতি শাসন) ১লা জুলাই, ১৯৬২ ৮ই জুলাই, ১৯৬২

প্রফুল্লচন্দ্র সেন ৮ই জুলাই, ১৯৬২ ১৫ মার্চ, ১৯৬৭ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস

অজয়কুমার মুখোপাধ্যায় ১৫ মার্চ, ১৯৬৭ ২রা নভেম্বর, ১৯৬৭ বাংলা কংগ্রেস যুক্ত ফ্রন্ট

প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ [দ্বিতীয়বার] ২রা নভেম্বর, ১৯৬৭ ২০শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৮ দলনিরপেক্ষ প্রগ্রেসিভ ডেমক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স ফ্রন্ট

(রাষ্ট্রপতি শাসন) ২০শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৮ ২৫শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৯

অজয়কুমার মুখোপাধ্যায় [দ্বিতীয়বার] ২৫শে ফেব্রুয়ারী, ১৯৬৯ ১৯শে মার্চ, ১৯৭০ বাংলা কংগ্রেস যুক্ত ফ্রন্ট

(রাষ্ট্রপতি শাসন) ১৯শে মার্চ, ১৯৭০ ২রা এপ্রিল, ১৯৭১

প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ [তৃতীয়বার] ২রা এপ্রিল, ১৯৭১ ২৮শে জুন, ১৯৭১ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর জোট

(রাষ্ট্রপতি শাসন) ২৮শে জুন, ১৯৭১ ১৯শে মার্চ, ১৯৭২

সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় ১৯শে মার্চ, ১৯৭২ ২১শে জুন, ১৯৭৭ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস

জ্যোতি বসু ২১শে জুন, ১৯৭৭ ৬ই নভেম্বর, ২০০০ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র নেতৃত্বাধীনে জোট বামফ্রন্ট

১০ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ৬ই নভেম্বর, ২০০০ ১৩ই মে, ২০১১ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র নেতৃত্বাধীনে জোট বামফ্রন্ট

১১ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০শে মে, ২০১১ বর্তমান সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস-এর নেতৃত্বাধীনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের জোট

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "History of Bangladesh"। Bangladesh Student Association। সংগৃহীত 2006-10-26