নদিয়া জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে নদিয়া জেলার অবস্থান

নদিয়া জেলা (পুরনো বানানে নদীয়া জেলা; পূর্বনাম নবদ্বীপ জেলা) পশ্চিমবঙ্গের প্রেসিডেন্সি বিভাগের একটি জেলা। এই জেলার উত্তর-পশ্চিমে ও উত্তরে মুর্শিদাবাদ জেলা; পূর্ব সীমান্তে বাংলাদেশের খুলনা বিভাগ, দক্ষিণ-পূর্বে ও দক্ষিণে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা এবং পশ্চিমে হুগলিবর্ধমান জেলা অবস্থিত।

নদিয়া একটি ঐতিহাসিক অঞ্চল। ১৭৮৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্বকালে জেলা হিসেবে নদিয়ার আত্মপ্রকাশ। সে সময় বর্তমান হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কিছু অংশ এই জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট সাময়িকভাবে এই জেলা পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয়। তিন দিন বাদে ১৮ অগস্ট কিয়দংশ বাদে নদিয়া পুনরায় ভারত অধিরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নদিয়া জেলা তার বর্তমান রূপটি লাভ করে। ১৯৪৭ সালে সাময়িকভাবে জেলার নামকরণ নবদ্বীপ করা হলেও অনতিবিলম্বেই সেই নামকরণ বাতিল হয়।

নদিয়া মূলত একটি কৃষিপ্রধান জেলা। হুগলি শিল্পাঞ্চলের কিয়দংশ এই জেলায় অবস্থিত। আবার স্বাধীনতার পর কল্যাণী নগরীকে কেন্দ্র করে আরও একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে এই জেলায়। এছাড়া ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পেও এই জেলার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। বাঙালি হিন্দু সমাজে নদিয়া জেলা গৌড়ীয় বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রাণপুরুষ চৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতিবিজড়িত।

সূচিপত্র

[সম্পাদনা] নামকরণ

[সম্পাদনা] ইতিহাস

[সম্পাদনা] ভূগোল

নদিয়া জেলা ২২●৫৩' ও ২৪●১১' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮●০৯' ও ৮৮●৪৮' পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। কর্কটক্রান্তি রেখা এই জেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে পূর্বদিকে মাজদিয়ার সামান্য উত্তর দিয়ে পশ্চিমে বাহাদুরপুরের উপর দিয়ে চলে গেছে। এই জেলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে মুর্শিদাবাদ জেলা, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা, পশ্চিমে বর্ধমানহুগলি জেলা এবং পূর্বে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের খুলনা বিভাগ অবস্থিত।

[সম্পাদনা] ভূপ্রকৃতি

গঙ্গা-ভাগীরথী ও তার অন্যান্য উপনদী দ্বারা গঠিত নদিয়া জেলা মূলত বিশাল গাঙ্গেয় সমভূমির একটি অংশ। এই জেলা গঙ্গার পরিণত বদ্বীপের অন্তর্গত। জলঙ্গীচূর্ণীর প্রবাহ এই অঞ্চলের ভূমিরূপ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। জেলার স্বাভাবিক ভূমিঢাল দক্ষিণ-পূর্ব দিকে। তবে বর্তমান ভূমির ঢাল খুব কম এবং ঝিল, পুরনো নদীখাত ও জলাভূমি দ্বারা বিচ্ছিন্ন। জলঙ্গী ও চূর্ণী নদীর প্রবাহপথ সর্পিল এবং স্থানে স্থানে তা অনেক বিল সৃষ্টির কারণ হয়েছে। এই নদীগুলির প্রবাহপথ ক্রমাগত পলি পড়ে পড়ে মজে এসেছে। এই কারণে বর্ষার সময় এখানে অনেক জায়গায় বন্যা হয়।

[সম্পাদনা] জলবায়ু

নদিয়া জেলার জলবায়ু উষ্ণ আর্দ্র ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির। কর্কটক্রান্তি রেখা জেলার মাঝামাঝি দিয়ে যাওয়ায় গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম অনুভূত হয়। জেলায় মূলত চারটি ঋতু দেখা যায়। যথা – গ্রীষ্মকাল (মার্চ-জুন), বর্ষাকাল (জুন-সেপ্টেম্বর), শরৎকাল (অক্টোবর-নভেম্বর) ও শীতকাল (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি)। গ্রীষ্মকালের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গড় উষ্ণতা যথাক্রমে ৪৩● সেন্টিগ্রেট ও ১৯● সেন্টিগ্রেট। অন্যদিকে শীতকালের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গড় উষ্ণতা যথাক্রমে ৩০● সেন্টিগ্রেট ও ০৯● সেন্টিগ্রেট। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১২০০-১৪০০ মিলিমিটার। অধিকাংশ বৃষ্টিপাত হয় বর্ষাকালেই।

[সম্পাদনা] নদনদী

নদিয়া জেলার প্রধান নদনদীগুলি হল ভাগীরথী, জলঙ্গী, ভৈরব, চূর্ণী, মাথাভাঙাইছামতী ইত্যাদি। এই জেলায় ভাগীরথীর দৈর্ঘ্য ১৮৭ কিলোমিটার। ভাগীরথীর বদ্বীপ প্রভাবে শেষ উপনদী হিসেবে যুক্ত হয়েছে মাথাভাঙা নদী। এরপর ভৈরব নদ ভাগীরথী থেকে নির্গত হয়ে জলঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। আরও দক্ষিণে ভাগীরথী থেকে নির্গত হয়েছে জলঙ্গী নদী (দৈর্ঘ্য ২০৬ কিলোমিটার)। এই অংশ বর্তমানে পলি পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে। জলঙ্গী নদী উত্তর-পশ্চিমাংশে নদিয়া-মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্ত বরাবর দক্ষিণ-পশ্চিম মুখে প্রবাহিত হয়েছে। এরপর জেলার মাঝখান দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমে এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়ে নবদ্বীপের নিকট ভাগীরথী নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ভৈরব নদ বর্তমানে মৃতপ্রায়।

মাথাভাঙা (দৈর্ঘ্য ১৯ কিলোমিটার) উপনদীটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়েছে। পশ্চিম শাখাটি চূর্ণী (দৈর্ঘ্য ৫৩ কিলোমিটার) নামে পশ্চিমে ও পূর্ব শাখাটি ইছামতী (দৈর্ঘ্য ৬৮ কিলোমিটার) নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে। নদিয়া জেলার নদীগুলি বারবার দিক ও গতি পরিবর্তন করে। বন্যা এখানকার নদীগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্য। নদীর প্রবাহ পরিবর্তনের ফলে জেলায় অনেক হ্রদ, জলাভূমি ও বিল গড়ে উঠেছে।

[সম্পাদনা] স্বাভাবিক উদ্ভিদ

নদিয়া জেলার মাত্র ১.২২ হেক্টর জমিতে অরণ্য বর্তমান, যা জেলার মোট ভৌগোলিক আয়তনের মাত্র ০.৩১ শতাংশ। নাকাশিপাড়া ব্লকের বেথুয়াডহরিতে এই জেলায় একমাত্র বনাঞ্চল অবস্থিত যেখানে শাল গাছমেহগনি গাছ গাছের অরণ্যে হরিণ দেখা যায়। এছাড়া কৃষ্ণনগরের চার কিলোমিটার উত্তরে বাহাদুরপুর অরণ্যে প্রচুর অর্জুন, সেগুন ইত্যাদি গাছ দেখা যায়। এই বনাঞ্চলগুলি ছাড়াও জেলায় মনুষ্যরোপিত উদ্ভিদ যথা শাল, শিশু গাছ, গামার গাছ, তৃণ, শিমূল গাছ, নিম গাছ, অর্জুন গাছ, বাবলা গাছ, জাম গাছ, দেবদারু গাছ ইত্যাদিও দেখা যায়।

[সম্পাদনা] প্রশাসনিক বিভাগ

[সম্পাদনা] আইনবিভাগীয় কেন্দ্র

নদিয়া জেলায় দুইটি লোকসভা কেন্দ্র ও ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। জেলার লোকসভা কেন্দ্র দুটি হল কৃষ্ণনগররানাঘাট (তফসিলি জাতি)। কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভা কেন্দ্রগুলি হল তেহট্ট, পলাশিপাড়া, কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপরা, কৃষ্ণনগর উত্তর ও নবদ্বীপ এবং রানাঘাট কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভা কেন্দ্রগুলি হল কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, শান্তিপুর, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম, কৃষ্ণগঞ্জ (তফসিলি জাতি), রানাঘাট উত্তর-পূর্ব (তফসিলি জাতি), রানাঘাট দক্ষিণ (তফসিলি জাতি) ও চাকদহ।

[সম্পাদনা] কৃষি ও শিল্প

[সম্পাদনা] জনপরিসংখ্যান

[সম্পাদনা] পরিবহণ

[সম্পাদনা] শিক্ষা

[সম্পাদনা] উৎসব

নবদ্বীপশান্তিপুরের শাক্তরাস উৎসব নদিয়া জেলার প্রধান উৎসব। কালী ও তাঁর নানান রূপের আরাধনা এই উৎসবের মুখ্য বৈশিষ্ট্য। কৃষ্ণনগর শহরের জগদ্ধাত্রী পূজা প্রসিদ্ধ। এছাড়া হিন্দুদের দুর্গাপূজা ও দীপান্বিতা কালীপূজাও বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। আঞ্চলিক উৎসবের মধ্যে বাদকুল্লাব্রহ্মাপূজা, কল্যাণীর ঘোষপাড়ার সতীমায়ের পূজা ও মেলা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

[সম্পাদনা] পর্যটন

[সম্পাদনা] বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব

মায়াপুর মন্দিরে চৈতন্য মহাপ্রভুর মূর্তি

[সম্পাদনা] পাদটীকা

[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা] বহিঃসংযোগ

নিজস্ব হাতিয়ারসমূহ
নামস্থান

বিকল্পসমূহ
কার্যক্রম
পরিভ্রমন
মুদ্রণ/এক্সপোর্ট
সরঞ্জাম
অন্যান্য ভাষাসমূহ