পুরুলিয়া জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পুরুলিয়া জেলা
পশ্চিমবঙ্গের জেলা
পশ্চিমবঙ্গে পুরুলিয়া জেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°১১′ উত্তর ৮৬°১৩′ পূর্ব / ২৩.১৯° উত্তর ৮৬.২২° পূর্ব / 23.19; 86.22
দেশ  ভারত
রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ
বিভাগ বর্ধমান
বিধানসভা কেন্দ্র বলরামপুর, বান্দোয়ান, পাড়া, রঘুনাথপুর, কাশীপুর, হুড়া, মানবাজার, আদ্রা, ঝালদা, জয়পুর, পুরুলিয়া
জনসংখ্যা (২০০১)
সময় অঞ্চল ভারতীয় সময় (ইউটিসি+৫:৩০)
ওয়েবসাইট পুরুলিয়া জেলার প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট

পুরুলিয়া জেলা ভারত প্রজাতন্ত্রের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে অবস্থিত একটি জেলা। জেলাসদর পুরুলিয়া। এই জেলার পূর্ব সীমান্তে বর্ধমান, বাঁকুড়াপশ্চিম মেদিনীপুর জেলা; এবং অপর তিন দিক ঝাড়খণ্ড রাজ্য দ্বারা বেষ্টিত। ১৯৫৬ সালে পূর্বতন বিহার রাজ্যের মানভূম জেলার সদর মহকুমাটি পুরুলিয়া জেলা নামে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভূক্ত হয়। সেই থেকে এই জেলা পশ্চিমবঙ্গের অঙ্গ। এই জেলার অধিবাসীরা মূলত বাঙালি ও সাঁওতাল। পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে কম জনঘনত্ব বিশিষ্ট জেলা।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

পুরুলিয়া জেলার প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না। কিছু প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রাচীন ইতিহাসের একটি অনুমান করা যায়। মধ্যযুগেও এই অঞ্চল দুর্গম অরণ্যে আকীর্ণ ছিল। জেলার আধুনিক ইতিহাসের সূত্রপাত ব্রিটিশ যুগে। এই সময় বাংলার আদিবাসী বিদ্রোহে এই জেলা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। প্রাক-স্বাধীনতা ও স্বাধীনোত্তরকালে বাংলা ভাষা ও বঙ্গভূক্তির দাবিতে এই অঞ্চলে যে গৌরবময় বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছিল তা আজও জেলার মানুষ সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করে থাকেন।

প্রাগৈতিহাসিক পুরুলিয়া[সম্পাদনা]

প্রাচীন ইতিহাস[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ আমল[সম্পাদনা]

১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা-বিহার-ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করলেও অরণ্যসংকুল পুরুলিয়া অঞ্চলটি জয় করতে ইংরেজদেরও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। এরপরেও এই অঞ্চলে একাধিক আদিবাসী বিদ্রোহ ও অনেক বড়মাপের সংঘর্ষ ঘটতে থাকে। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে ১৮০৫ সালে মানভূম সহ ২৩টি পরগণা ও মহল নিয়ে গঠিত হয় জঙ্গলমহল জেলা। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় অতিষ্ট হয়ে ইংরেজ কর্তৃপক্ষ ১৮৩৩ সালে এই জেলা ভেঙে মানভূম জেলা গঠন করেন। মানভূম জেলার সদর হয় মানবাজার। বর্তমান বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলাদ্বয়ের একটি বৃহৎ অংশ সেই সময় মানভূম জেলার অন্তর্গত ছিল। এই সময়েই পুরুলিয়া গ্রামটি ধীরে ধীরে শহরে পরিণত হতে থাকে এবং ১৮৩৮ সালে এই শহরে মানভূম জেলার সদর দপ্তর স্থানান্তরিত হয়। ১৯১১ সালে মানভূম বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিহার প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং স্বাধীনতা পর্যন্ত বিহারেরই অন্তর্গত থাকে।

ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গভুক্তি[সম্পাদনা]

আধুনিক পুরুলিয়া[সম্পাদনা]

ভূগোল[সম্পাদনা]

বর্ধমান বিভাগের ছয়টি জেলার অন্যতম পুরুলিয়া জেলা। এই জেলা শুধু সমগ্র বিভাগেরই নয়, বরং সারা পশ্চিমবঙ্গের সর্বপশ্চিমে অবস্থিত জেলা। দক্ষিণে ২২º৪৩′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে উত্তরে ২৩º৪২′ উত্তর অক্ষাংশ এবং পশ্চিমে ৮৫º৪৯′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে পূর্বে ৮৬º৫৪′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে এই জেলা অবস্থিত। জেলার মোট ভৌগোলিক আয়তন ৬২৫৯ বর্গ কিলোমিটার (পশ্চিমবঙ্গের চতুর্থ বৃহত্তম জেলা)। জেলার সদর পুরুলিয়া ২৩º২০′ উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৭º৫১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। জেলার রাজনৈতিক সীমানা উত্তরে, পশ্চিমে ও দক্ষিণে ঝাড়খণ্ড রাজ্য, উত্তর-পূর্বে বর্ধমান জেলা, পূর্বে বাঁকুড়া জেলা ও দক্ষিণ-পূর্বে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সঙ্গে সংযুক্ত।

ভূপ্রকৃতি[সম্পাদনা]

গঠনগতভাবে দামোদর অববাহিকা ও ছোটনাগপুর মালভূমির সীমানায় অবস্থিত পুরুলিয়া জেলা রাঁচি সমপ্রায়ভূমির অন্তর্গত। এই জেলার ভূপ্রাকৃক বৈশিষ্ট্য হল বন্ধুর ভূমিভাগ, খাড়া পাহাড়চূড়া ও নিচু উপত্যকা। উচ্চ শৈলশিরা ও নিচু উপত্যকার মধ্যকার ব্যবধান ৩০ মিটার। সাধারণ ভূভাগের উচ্চতা ও ঢাল ১৫০-৩০০ মিটার। ৩০০ মিটার সমোন্নতিরেখাটি ঝালদা, বাঘমুন্ডি, বরাবাজার, আর্সা, বলরামপুর ও বান্দোয়ানের উচ্চ সমপ্রায়ভূমিকে জেলার অবশিষ্টাংশের ক্ষয়িত সমভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। জেলার অধিকাংশ অঞ্চলই সমভূমি। পশ্চিমের মালভূমির সর্বোচ্চ অংশ অযোধ্যা পাহাড় (৬৭০ মিটার)। এছাড়া দক্ষিণে দলমা পাহাড় (৩৫৬ মিটার) ও উত্তর-পূর্বের পাঞ্চেত পাহাড়ও উল্লেখযোগ্য পাহাড়। ভূপ্রাকৃতিক বিভাগ অনুসারে জেলাকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে – (১) পশ্চিম ও দক্ষিণের বন্ধুর পাহাড়ি অঞ্চল, (২) ল্যাটেরাইট উচ্চভূমি ও বিচ্ছিন্ন শিলাস্তুপ এবং (৩) পাললিক সমভূমি।

নদনদী[সম্পাদনা]

পুরুলিয়া জেলার উল্লেখযোগ্য নদীগুলি হল – কংসাবতী, দামোদর, সুবর্ণরেখা, কুমারী ইত্যাদি। ভূমির স্বাভাবিক ঢাল অনুযায়ী এই জেলার অধিকাংশ নদীই পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্বগামী। কেবলমাত্র কংসাবতী নদী দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমগামী। মালভূমি অঞ্চলে উৎপন্ন বলে এই নদীগুলি অনিত্যবহা এবং মাঝেমধ্যে এই সকল নদীতে ফ্ল্যাশ বা ঝলক বান দেখা যায়।

কংসাবতী পুরুলিয়া জেলার প্রধান নদী। এই নদী অযোধ্যা মালভূমির উত্তর ঢাল থেকে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণপূর্ব অভিমুখে প্রবাহিত হয়েছে। কুমারী নদী কংসাবতীর সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপনদী। এই নদী বাঘমুন্ডি পাহাড়ের নিকট উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব অভিমুখে প্রবাহিত হয়েছে। এই জেলায় কংসাবতীর অপরাপর উপনদীগুলি হল সাহারা জোড়, বান্ধু নদী, হোবরি জোরি, হনুমন্ত নদী, চাকনা নদী, তেরে নদী ইত্যাদি। সুবর্ণরেখা জেলার পশ্চিম সীমান্ত ঘেঁষে প্রবাহিত হয়েছে। পুরুলিয়ায় এর প্রধান শাখানদীগুলি হল রূপাই, রাড়ডু, সাভা ও শঙ্খ নদী। দামোদর নদ জেলার উত্তর সীমান্ত বরাবর এবং দ্বারকেশ্বর নদ উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ঘেঁষে প্রবাহিত। মালভূমিতে উৎপন্ন বলে শীত ও গ্রীষ্মকালে এই জেলার নদনদীগুলিতে জল খুবই কম থাকে; কিন্তু বর্ষায় জলের পরিমাণ প্রভূত বৃদ্ধি পায়; এমনকি মাঝে মাঝে দুই কূল ছাপিয়ে বন্যাও দেখা দেয়।

জলবায়ু[সম্পাদনা]

পুরুলিয়া জেলার জলবায়ু চরমভাবাপন্ন। এখানে গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ৪৫º সেন্টিগ্রেড ও ২৬º সেন্টিগ্রেড; এবং শীতকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৮º সেন্টিগ্রেড ও ৮º সেন্টিগ্রেড। গ্রীষ্মে অত্যধিক উষ্ণতা ও কম আপেক্ষিক আর্দ্রতার সহাবস্থান দেখা যায়। বর্ষায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা কিছু পরিমাণে বৃদ্ধি পেলেও শীতকালে আবার তা অনেকখানি হ্রাস পায়।

জেলার বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০৫০-১৪২০ মিলিমিটার। তবে গ্রীষ্মকালের বৃষ্টিপাতের স্বল্পতার কারণে অনেক সময়ই খরা দেখা দেয়। জুন থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে জেলার অধিকাংশ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। বছরের অন্যান্য সময় আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্কই থাকে।

মৃত্তিকা[সম্পাদনা]

পুরুলিয়া জেলার অধিকাংশ মৃত্তিকাই পরবর্তী মৃত্তিকা। উপত্যকার উপরিভাগে দেখা যায় কোলুভিয়াল মৃত্তিকা। মালভূমির উপরের অংশের মৃত্তিকা অনুর্বর, অগভীর, কাঁকড়যুক্ত, দ্রুত ধৌত ও কম জলধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন। এই মাটিতে লোহা, কোয়ার্টজ ও ফেলসপারের সঞ্চয় দেখা যায়।

উপত্যকার মৃত্তিকা গভীর, মধ্যম গঠনযুক্ত, কম জলধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ও অল্প কাদাযুক্ত। ধানচাষের অনুকূল এই মৃত্তিকা তৈরি হয় মালভূমি থেকে ধৌত প্রক্রিয়ায় আগত পদার্থ দিয়ে।

স্বাভাবিক উদ্ভিদ[সম্পাদনা]

পুরুলিয়া জেলার অরণ্য মূলত ক্রান্তীয় অরণ্য। অর্থাৎ যেসব গাছপালা এখানে বেশি চোখে পড়ে সেগুলি হল শাল, আসান, কুসুম, বহেরা, আমলকি, মহুয়া, পলাশ, জাম, শিমূল, শিরিষ, অর্জুন, হরিতকি, নিম, হলুদ, টিক ও বাঁশ ইত্যাদি। এই অরণ্য দেখা যায় মূলত পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশীয় অঞ্চলেই।

পুরুলিয়া জেলার ৭৫.০৫ হাজার হেক্টর জমিতে অরণ্য বর্তমান। এই অরণ্যগুলি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। যথা – ঘন শাল অরণ্য, মিশ্র ঘন অরণ্য, মুক্ত শাল অরণ্য, মিশ্র মুক্ত অরণ্য। এছাড়াও পুরুলিয়ায় সামাজিক বনসৃজনের অঙ্গ হিসাবে অর্জুন, শিরিষ, মহুয়া, নিম, আমলকি, বাঁশ, সেগুন, বাবলা, কুসুম, হরিতকি, ইউক্যালিপটাস, আকাশমণি প্রভৃতি বৃক্ষ রোপন করা হয়ে থাকে। জেলার দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে সাবাই ঘাসের জঙ্গল দেখা যায়।

প্রশাসনিক বিভাগ[সম্পাদনা]

জনতত্ত্ব[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

২০০৩-০৪ সালের হিসাব অনুসারে, পুরুলিয়া জেলার মোট স্বীকৃত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৩১৬। এরমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৯৭৫টি, জুনিয়র বিদ্যালয় ৯৭টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৩৯টি এবং উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮৮টি। এছাড়া জেলায় মোট ২৬১টি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র এবং আই সি ডি এস-এর অন্তর্গত ২৪১৫টি অঙ্গনওয়াড়ি শিক্ষা কেন্দ্র আছে। ২০০৩-০৪ সালের হিসাব অনুসারে, জেলার বিদ্যালয়গুলির মোট ছাত্রসংখ্যা ২,৯৯,০৫২ ও মোট ছাত্রীসংখ্যা ২,২৬,৬৮৩ এবং মোট শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ১০,৯১৮। শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে পাঠরত ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা যথাক্রমে ৭,৩৯৪ ও ৫,৩৩২ এবং সহায়ক-সহায়িকার সংখ্যা ৩৩৮। অঙ্গনওয়াড়ি শিক্ষা কেন্দ্রের ছাত্র ও ছাত্রীসংখ্যা যথাক্রমে ৬৩,১৩৭ ও ৬০,৪৪১ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ২,৩৫৭। এই জেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিদ্যালয় হল পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক বিদ্যালয়, পুরুলিয়া সৈনিক স্কুল, বিদ্যাসাগর বিদ্যালয় ইত্যাদি।

২০০৩-০৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, পুরুলিয়া জেলার ডিগ্রি কলেজের সংখ্যা ১১ এবং পলিটেকনিকের সংখ্যা ৩। জেলায় কোনও বিশ্ববিদ্যালয় না থাকলেও ২টি মুক্তবিশ্ববিদ্যালয় পঠনপাঠনকেন্দ্র আছে। এই জেলার কলেজগুলি সিধু কানু বিরসা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত। জেলার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কলেজ হল জগন্নাথকিশোর কলেজ, নিস্তারিণী কলেজ, রঘুনাথপুর কলেজ, আনন্দমার্গ কলেজ, রামানন্দ শতবার্ষিকী কলেজ, অচ্ছ্রুরাম মেমোরিয়াল কলেজ, মহাত্মা গান্ধী কলেজ, নেতাজি সুভাষ আশ্রম মহাবিদ্যালয়, বলরামপুর কলেজ, মানভূম মহাবিদ্যালয়, মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়, কাশীপুর, পঞ্চকোট মহাবিদ্যালয় ইত্যাদি। ২০০৩-০৪ সালের হিসাব অনুসারে, জেলার সাধারণ ডিগ্রি কলেজে পাঠরত ছাত্র ও ছাত্রীসংখ্যা যথাক্রমে ৮,০৬৫ ও ৩,৩১৯ এবং অধ্যাপক-অধ্যাপিকার সংখ্যা ৩২১।

সাধারণ ডিগ্রি কলেজ ছাড়াও আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জেলার শিক্ষামানচিত্রে সগৌরবে অবস্থান করছে। যেমন – স্পনসর্ড টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, পুরুলিয়া হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, পুরুলিয়া পলিটেকনিক ইত্যাদি।

২০০৩-০৪ সালের হিসাব অনুসারে পুরুলিয়া জেলায় ১২৭টি সাধারণ পাঠাগার ও ৪০টি ফ্রি রিডিং রুম আছে।

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

পরিবহন ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

রেলপথ[সম্পাদনা]

আদ্রা এর অন্তর্গত প্রধান পুরুলিয়া, ঝালদা, জয়পুর, কোটশীলা, আদ্রা, বরাভ্বূম,

সড়কপথ[সম্পাদনা]

জলপথ[সম্পাদনা]

বিমানপথ[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কৃষি[সম্পাদনা]

খনিজ[সম্পাদনা]

পুরুলিয়া পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম খনিজ সমৃদ্ধ জেলা। এই জেলায় প্রাপ্ত খনিজপদার্থগুলির মধ্যে কয়লা, ফসফেট, চিনামাটি, ডলোমাইট, বালি, কোয়ার্টজ, কায়ানাইট, গ্রাফাইট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। মূলত জেলার উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত দামোদর উপত্যকা ও পাঞ্চেৎ পাহাড়ের মধ্যবর্তী অঞ্চলে কয়লা পাওয়া যায়। রানিপুর, হিরাখুন, ভামুরিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে কয়লা উত্তোলিত হয়। চিনামাটি পাওয়া যায় রঘুনাথপুর, ধুতারে, ঝালদা, কালাঝোড় ইত্যাদি অঞ্চলে। মালতিতে ফায়ার ক্লে এবং ঝালদাতে চুনাপাথর উত্তোলিত হয়। এছাড়া বলরামপুরে কোয়ার্টজ, রঘুদিহ্ ও পালকায় ফেলসপার এবং পুরুলিয়া থানা এলাকায় গ্রাফাইট পাওয়া যায়।

শিল্প[সম্পাদনা]

বৃহৎ ও মাঝারি শিল্প[সম্পাদনা]

ক্ষুদ্র শিল্প[সম্পাদনা]

খাদি ও গ্রামীণ শিল্প[সম্পাদনা]

হস্তশিল্প[সম্পাদনা]

হ্যান্ডলুম[সম্পাদনা]

ভাষা[সম্পাদনা]

বাংলা ভাষা আন্দোলন[সম্পাদনা]

সাঁওতালি ভাষা আন্দোলন[সম্পাদনা]

মেলা ও উৎসব[সম্পাদনা]

পর্যটন[সম্পাদনা]

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • পশ্চিমবঙ্গ পত্রিকা (পুরুলিয়া জেলা সংখ্যা), জুন ২০০৭, তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
  • ধনধান্যে (যোজনা পত্রিকা গোষ্ঠীর মাসিক বাংলা পত্রিকা), জুলাই ২০০৭, তথ্য ও বেতার মন্ত্রক, ভারত সরকার

পাদটীকা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]