বাংলাদেশের পর্যটন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Boat in river, Bangladesh.jpg

বাংলাদেশের পর্যটন
সিরিজের অংশ

বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকতের তালিকা

কক্সবাজার · কুয়াকাটা
পতেঙ্গা
সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ · নিঝুম দ্বীপ

Hill stations

বান্দরবান জেলা · খাগড়াছড়ি জেলা · রাঙামাটি জেলা
জাফলং · শ্রীপুর · শ্রীমঙ্গল উপজেলা

Islands

Chhera island · Bhola · Hatiya
Kutubdia · Manpura · Nijhum Dwip
Sandwip · Sonadia · St. Martin's Island

Wildlife

Sundarbans · Bhawal · Lawachara forest

Waterfalls

Hum hum · Madhabkunda · Nafa-khum

Archaeological sites

Bhitagarh · Choto Katra
Jagaddala Mahavihara
Mahasthangarh · Mainamati
Mosque City of Bagerhat
Noapara-Ishanchandranagar
 · Sonargaon  · Somapura Mahavihara
 · Wari-Bateshwar

Architecture
Ahsan Manzil · Bara Katra · Curzon Hall
Jatiyo Sangshad Bhaban

Lalbagh Fort · Northbrook Hall

Religious

Mosques
Sixty Dome Mosque


Hindu Temples
Kantaji Temple


Buddhist Temples
Buddha Dhatu Jadi


Churches
Armenian Church (Dhaka)

Events

International mother language day
Pohela Boishakh

National monuments

Jatiyo Smriti Soudho
Shaheed Minar

Miscellaneous

Gardens · Lakes · Museums
Palaces · Parks · Rivers
World Heritage Sites · Zoos‎

Bangladesh Portal

বাংলাদেশে পরিচিত অপরিচিত অনেক পর্যটক-আকর্ষক স্থান আছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যুগে যুগে ভ্রমণকারীরা মুগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে প্রত্মতাত্বিক নির্দশন, ঐতিহাসিক মসজিদ এবং মিনার, পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, অরণ্য ইত্যাদি অন্যতম। এদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি এলাকা বিভিন্ন স্বতন্ত্র্র বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত । বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হচ্ছে বাংলাদেশের কক্সবাজার।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সমস্যাসমূহ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত অসুবিধা ছাড়াও, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে পর্যটকরা উদ্বিগ্ন থাকেন। এছাড়া পর্যটন শিল্পের প্রচার এবং প্রসারের জন্য সরকারি-বেসরকারি উভযের উদ্যোগের অভাব রয়েছে। বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পর্যটকরা ছিনতাইসহ নানা রকমের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। বিশেষত নারী ও বিদেশি পর্যটকরা বেশি সমস্যায় পরেন। দিনের বেলায় ফেরিওয়ালাদের উৎপাত ছাড়াও পর্যটন স্পটে জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্যের কারণে পর্যটকেরা অনুৎসাহিত হন।[১][২]

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যুগে যুগে ভ্রমণকারীরা মুগ্ধ হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে এ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প উন্নয়নের সম্ভাবনা অপরিসীম। নতুন করে কৌশল ঠিক করে সম্ভাবনার সবটুকুকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পর্যটনে মডেল হতে পারে। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ স্বল্প আয়তনের দেশ হলেও বিদ্যমান পর্যটক আকর্ষণে যে বৈচিত্র্য তা সহজেই পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে। পৃথিবীতে পর্যটন শিল্প আজ বৃহত্তম শিল্প হিসেবে স্বীকৃত। পর্যটন শিল্পের বিকাশের ওপর বাংলাদেশের অনেকখানি সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করছে। দেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থান ঘটবে ও বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন সফল হবে। ভিন্ন ভিন্ন দেশের প্রাচীন যুগের ইতিহাস ও শিল্প, সাহিত্য, কালচার ও প্রথার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ঐতিহাসিক স্থান দেখার জন্যও পর্যটকরা নিজ দেশের সীমানা পেরিয়ে দূর-দূরান্তে ছুটে চলে প্রতিনিয়ত। পর্যটন হলো একটি বহুমাত্রিক শ্রমঘন শিল্প। এ শিল্পের বহুমাত্রিকতার কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি অনুদান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় সাধন করার পাশাপাশি উন্নত অবকাঠামো, সঠিক পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীল অবস্থা দরকার পর্যটনের জন্য। পর্যটন শিল্পের উপাদান ও ক্ষেত্রগুলো দেশে ও বিদেশে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের অধিকতর বিকাশ ঘটানো সম্ভব।[৩][৪][৫][৬]

বাংলাদেশের উল্লেখ যোগ্য স্থান সমূহ[সম্পাদনা]

সুন্দরবন[সম্পাদনা]

রয়েল বেঙ্গল টাইগার

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত জীববৈচিত্র্যে ভরপুর পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। এই বনভূমি গঙ্গা ও ব্রক্ষপুত্রের মোহনায় অবস্থিত সমুদ্র উপকুল তথা বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত। ২০০ বছর পূর্বে সুন্দরবনের প্রকৃত আয়তন ছিলো প্রায় ১৬,৭০০ বর্গ কিলোমিটার যা কমে এখন ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটারে এসে ঠেকেছে এই সুন্দরবনের ৬,০১৭ হাজার বর্গকিলোমিটার পড়েছে বাংলাদেশ সীমানায়। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য বলে স্বিকৃতি দেয়ায় সুন্দরবন এখন বিশ্ব মানবতার সম্পদ। ধারনা করা হয় সুন্দরী গাছের নামানুসারেই সুন্দরবনের নাম করন হয়েছে। এই বনে সুন্দরী গাছ ছাড়াও, গেওয়া, কেওড়া, বাইন, পশুর, গড়ান, আমুরসহ ২৪৫ টি শ্রেণী এবং ৩৩৪ প্রজাতির গাছ রয়েছে। পৃথিবীতে মোট ৩টি ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যে সুন্দরবন সর্ববৃহৎ। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও জীব-বৈচিত্র্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবহমান কাল ধরে আর্কষন করে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, খালের পাড়ে শুয়ে থাকা কুমির এবং বানরের দল পর্যটকদের বেশি আকর্ষণ করে।[৭]

কক্সবাজার[সম্পাদনা]

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হচ্ছে কক্সবাজার। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক কক্সবাজারে ভ্রমণে আসছে। কক্সবাজার সৈকতে গেলে দেখা যায় অভাবনীয় দৃশ্য। হাজার হাজার নারী-পুরুষ শিশুর অপূর্ব মিলনমেলা। তাদের আনন্দ উচ্ছ্বাসে মুখরিত সাগর তীর। ভাটার টানে লাল পতাকার সতর্ক সংকেত না মেনে আবেগ আর উচ্ছ্বাসে মেতে সমুদ্রের পানিতে নেমে দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছে অনেক পর্যটক।কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পানিতে ডুবে প্রাণহানির ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে জন্য নেটিং ব্যবস্থার পরিকল্পনা নেয়া হলেও এ পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখেনি। শহরের অভ্যন্তরে ব্যাপকভাবে পাহাড় কাটা, বনাঞ্চল নিধন, সরকারি খাসজমি দখল করে অবৈধ ইমারত গড়ে ওঠার কারণে পর্যটন শহর এখন শ্রীহীন। তবুও কক্সবাজারের টানে পর্যটকরা আসছে। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, ইনানিতে পাথরের সৈকত, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, হিমছড়ির ঝরনা, ডুলহাজারা সাফারিপার্কসহ কক্সবাজার জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লেগেই আছে।[৮]

সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ[সম্পাদনা]

সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ

সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ। প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায় বলে স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে।সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে বিভিন্ন প্রজাতির প্রবাল, শামুক-ঝিনুক, সামুদ্রিক শৈবাল, গুপ্তজীবী উদ্ভিদ, সামুদ্রিক মাছ, উভচর প্রাণী ও পাখি দেখা যায়।দ্বীপটি বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন তিনটি লঞ্চ বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড হতে আসা যাওয়া করে। সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে বর্তমানে বেশ কয়েকটি ভালো আবাসিক হোটেল রয়েছে।


===== আরো পড়ুন =====[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সমস্যাসমূহবাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাবাংলাদেশের উল্লেখ যোগ্য স্থান সমূহ ৩.১ সুন্দরবন ৩.২ কক্সবাজার ৩.৩ সেন্ট মার্টিন্‌স দ্বীপ

৪ তথ্যসূত্র ৫ বহিঃসংযোগ ৬ আরও দেখুন

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. অস্থিরতা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, সৈয়দ তাসফিন চৌধুরী, খবর দক্ষিণ এশিয়া। প্রকাশের তারিখ: ২৫ মে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
  2. বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব, দেশিনিউজ২৪.কম। প্রকাশের তারিখ: ২১ অক্টোবর ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
  3. প্রসঙ্গ: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবমূর্তি, কাজল আব্দুল্লাহ, বিবিসি বাংলা। প্রকাশের তারিখ: ২৭ জানুয়ারী ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
  4. পর্যটন শিল্পের বিকাশ বাংলাদেশের অর্থনীতি পাল্টে দিতে পারে, আসাদুল হক মামুন, সোনার বাংলা। প্রকাশের তারিখ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
  5. বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক পর্যটন উন্নয়নের সম্ভাবনা, ড. মো. আফজাল হোসেন, দৈনিক ইত্তেফাক। প্রকাশের তারিখ: ৮ জানুয়ারি ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
  6. পর্যটন শিল্পে নতুন বিপ্লব ঘটানো সম্ভব, আজিজুর রহমান আযম, ভালো খবর। প্রকাশের তারিখ: ২৮ জুন ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
  7. বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প ও সুন্দরবন, সৈয়দ ইফতেখার আলম, নিউজ এজেন্সি টোয়েন্টিফোর, ঢাকা। প্রকাশের তারিখ: নভেম্বর ১০,বৃহস্পতিবার।
  8. কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় : মিলনমেলায় মুখরিত সমুদ্র সৈকত, ফাতেমা/এমআর/মুস্তাফিজ/রাডার/রিপা, কক্সবাজার,এবিনিউজ। প্রকাশের তারিখ: ২৯ আগস্ট।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]