কাঁঠাল
| কাঁঠাল | |
|---|---|
| গাছে ঝুলন্ত কাঁঠাল | |
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ/রাজ্য: | Plantae |
| বিভাগ: | Magnoliophyta |
| শ্রেণী: | Magnoliopsida |
| বর্গ: | Rosales |
| পরিবার: | Moraceae |
| গোত্র: | Artocarpeae |
| গণ: | Artocarpus |
| প্রজাতি: | A. heterophyllus |
| দ্বিপদী নাম | |
| Artocarpus heterophyllus Lam. |
|
| প্রতিশব্দ | |
কাঁঠাল (ইংরেজীঃ Jackfruit) এক প্রকারের হলদে রঙের সুমিষ্ট গ্রীষম্কালীন ফল। এটি বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসবে সরকারীভাবে নির্ধারিত। বাংলাদেশের সর্বত্র কাঁঠাল গাছ পরিদৃষ্ট হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Artocarpus heterophyllus । কাঁচা কাঁঠালকে বলা হয় এঁচোড়। কাঁঠাল গাছের কাঠ আসবাবপত্র তৈরীর জন্য অত্যন্ত সমাদৃত।
পরিচ্ছেদসমূহ |
লভ্যতা [সম্পাদনা]
ভারতীয় উপমহাদেশ বিশেষতঃ বাংলাদেশ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে কাঁঠালের উৎপত্তি স্থান হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশ, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণ ভারত, বিহার, মিয়ানমার, মালয়, শ্রীলংকা প্রভৃতি এলাকা ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও এরূপ ব্যাপকসংখ্যায় কাঁঠালের চাষ করতে দেখা যায় না। তবে ব্রাজিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জ্যামাইকা প্রভৃতি দেশে সীমিত আকারে কাঁঠাল জন্মে। সাধারণতঃ লালচে মাটি ও উঁচু এলাকায় এটি বেশী দেখা যায়।
জাত [সম্পাদনা]
কাঁঠালের বেশ কিছু জাত রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতে চাষকৃত জাতসমূহ মোটামুটি দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। গালা ও খাজা - এ দুটি জাত ছাড়াও কাঁঠালের আরো জাত আছে। গালা ও খাজা কাঁঠালের মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হিসেবে রয়েছে ‘রসখাজা’। এছাড়া আছে রুদ্রাক্ষি, সিঙ্গাপুর, সিলোন, বারোমাসী, গোলাপগন্ধা, চম্পাগন্ধা, পদ্মরাজ, হাজারী প্রভৃতি। তন্মধ্যে শুধুমাত্র হাজারী কাঁঠাল বাংলাদেশে আছে, বাকীগুলো আছে ভারতে। [১]
গালা বা গলা [সম্পাদনা]
যখন কাঁঠাল ভালভাবে পাকে তখন এর অভ্যন্তরে রক্ষিত কোষ অত্যন্ত কোমল, মিষ্টি ও রসাল প্রকৃতির হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো রসের স্বাদ টক-মিষ্টিও হয়ে থাকে। কোষ অপেক্ষাকৃত ছোট হয়। খোসার গায়ে কাঁটাগুলো খুব একটা চ্যাপ্টা হয় না। পাকার পর একটু লালচে-হলুদাভ হয়। কোষগুলোকে সহজেই আলাদা করা যায়।
খাজা [সম্পাদনা]
কোষ আকারে বড় হয়, পাকার পর কম রসাল ও অপেক্ষাকৃত শক্ত বা কচকচে হয়। কোষ চিপলেও সহজে রস বের হয় না। রং ফ্যাকাশে হলুদ ও স্বাদ মোটামুটি মিষ্টি হয়। সহজে হজম হয় না বলে অনেকেই এ জাতের কাঁঠাল পছন্দ করেন না। খোসার রঙ পাকার পরও সবুজাভ থাকে এবং গায়ের কাঁটাগুলো মোটামুটি চ্যাপ্টা, বড় ও মসৃণ প্রকৃতির হয়।
উচ্চ ফলনশীল জাত [সম্পাদনা]
উচ্চ ফলনশীল কাঁঠাল বারি কাঁঠাল-১ (২০০৮) এবং বারি কাঁঠাল-২ (২০১০)।। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এই ২টি উফশী জাত জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত। বারি কাঁঠাল-১ সারা দেশে চাষের উপযোগী। মধ্যম সাইজ (৯ কেজি) গাছপ্রতি ১২৫টি ফলসহ ওজন ১১৮১ কেজি পর্যন্ত। হেক্টরপ্রতি ফলন ১১৮ টন, ৫৫%, খাওয়ার যোগ্য এবং মিষ্টতা টিএসএস ২২%। বারি কাঁঠাল-২ অ-মৌসুমি ফল। উফশী জাত, মধ্যম সাইজ (৭ কেজি), গাছপ্রতি ৫৪-৭৯টি ফলসহ ওজন ৩৮০-৫৭৯ কেজি। হেক্টরপ্রতি ফলন ৩৮-৫৮ টন, খাদ্য উপযোগী ৬০% এবং মিষ্টতা টিএসএস ২১%।[২]
গাছের বর্ণনা [সম্পাদনা]
কাঁঠাল গাছ মাঝারি আকারের এবং প্রায় ৮-১০ মিটার লম্বা হয়। প্রধানমূলী ও পার্শ্ববি¯তৃত শিকড় সাধারণত মাটির ২ মিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সাদা দুধের মত তরুক্ষীর এ গাছের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পাতা গাঢ় সবুজ, উপবৃত্তাকার, সরল ও একান্তভাবে সাজানো। রোপণের ৭-৮ বছর পরেই ফল ধরা শুরু হয়। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে ফুল আসে। সহবাসী উদ্ভিদ বিধায় একই গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল পৃথকভাবে ধরে। গদাকৃতি মঞ্জরী দন্ডে প্রচুর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফুল একত্রে থাকে। স্পাইক ধরনের এ পুষ্পমঞ্জরী ডিঙি নৌকার মত দুটি চুমুরী বা খোলস দ্বারা আবৃত। কাণ্ডের গোড়ার দিকে সাধারণত স্ত্রী ফুল এবং গোড়া ও শীর্ষে পুরুষ ফুল ধরে। ছোট অবস্থায় পুষ্পমঞ্জরী দেখেই লিঙ্গ নিরূপণ করা যায়। পুরুষ মঞ্জরীর চেয়ে স্ত্রী মঞ্জরী লম্বা-চওড়ায় বেশি হয়, পুরুষ ফুলের মঞ্জরীর উপরিভাগ বেশ নরম ও মসৃণ মনে হয় অপরদিকে স্ত্রী মঞ্জরীর উপরিভাগ দানা-দানা বা অমসৃণ মনে হয়। পুরুষ মঞ্জরীদন্ড সরু ও দীঘল। কিন্তু স্ত্রী মঞ্জরীদন্ড অপেক্ষাকৃত মোটা ও খাটো। স্ত্রী মঞ্জরীর বোঁটার কাছে মোটা রিঙের মত থাকে, পুরুষর থাকে সেটা সরু। প্রকৃতপক্ষে একটি পুরুষ ফুল হল একটি সবুজ চর্মবৎ নলাকার পুষ্পপুট দ্বারা আবদ্ধ একটি মাত্র পুংকেশর। পরাগরেণূ ছাড়ানোর সময় পুংকেশরগুলো পুষ্পপুট থেকে বেরিয়ে মঞ্জরীর উপরিভাগে চলে আসে এবং কয়েকদিনের মধ্যেই মঞ্জরীর উপরিভাগ হলুদ পরাগরেণুতে ছেয়ে যায়। পরাগরেণূ বিদারণ বা ফুল ফোটার ৩-৪ দিনের মধ্যেই পরপরাগায়ন ও গর্ভধান সম্পন্ন হয়। ফল যৌগিক শ্রেণীর সরোসিস ধরনের। একটি কাঁঠালের মধ্যে অসংখ্য কোষ বা কোয়া থাকে। এগুলোই প্রকৃতপক্ষে ফল। কোষের চার পাশে পাতলা ফিতার মত চিটা বা চাকি থাকে। এই চিটা ও খোসাকে একত্রে ভুতরো বা ছিবড়া বলে। খোসার উপরে ছোট বড় কাঁটা থাকে এবং কাঁটার সংখ্যা যত ফুলের সংখ্যাও তত হয়। ফলের অমরাবিন্যাস প্রান্তীয় ধরনের। ডালের গা বেয়ে ফল ধরে। ফল পাকে মে-আগস্ট মৌসুমে।
কাঁঠালের পুষ্টিগুণ [সম্পাদনা]
প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালের পুষ্টি উপযোগিতা নিম্নরূপ: খাদ্যআঁশ (Dietary Fiber) ২ গ্রাম, আমিষ (Protein) ১ গ্রাম, শর্করা (Carbohydrate) ২৪ গ্রাম; চর্বি (Fat) ০.৩ মিলিগ্রাম; ক্যালসিয়াম (Calcium) ৩৪ মিলিগ্রাম; ম্যাগনেশিয়াম (Magnesium) ৩৭ মিলিগ্রাম; পটাশিয়াম (potassium) ৩০৩ মিলিগ্রাম; ম্যাঙ্গানিজ (Manganese) ০.১৯৭ মিলিগ্রাম; লৌহ (Iron) ০.৬ মিলিগ্রাম; ভিটামিন এ (Vitamin A) ২৯৭ আই.ইউ; ভিটামিন সি (Vitamin- C) ৬.৭ মিলিগ্রাম; থায়ামিন (ভিটামিন বি১) (Vitamin –B1) ০.০৩ মিলিগ্রাম; রিবোফ্লেবিন (ভিটা বি২) (Vitamin –B2) ০.১১ মিলিগ্রাম; নায়াসিন (ভিটা বি৩) (Vitamin –B3) ০.৪ মিলিগ্রাম; ভিটামিন বি৬(Vitamin B6) ০.১০৮ মিলিগ্রাম ।
কাঁঠালের উপকারীতা [সম্পাদনা]
কাঁঠাল পুষ্টি সমৃদ্ধ। এতে আছে [[থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, জিঙ্ক এবং নায়াসিনসহ বিভিন্ন প্রকার পুষ্টি উপাদান। অন্যদিকে কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, শর্করা ও ভিটামিন থাকায় তা মানব দেহের জন্য বিশেষ উপকারী।
- কাঁঠালে চর্বির পরিমাণ নিতান্ত কম। এই ফল খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আশংকা কম।
- কাঁঠাল পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। ১০০ গ্রাম কাঁঠালে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩০৩ মিলিগ্রাম। যারা পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এ জন্যে কাঁঠালে উচ্চরক্তচাপের উপশম হয়।
- কাঁঠালে প্রচুর ভিটামিন এ আছেযা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।
- কাঁঠালের অন্যতম উপযোগিতা হল ভিটামিন সি। প্রাকৃতিকভাবে মানবদেহে ভিটামিন “সি” তৈরি হয় না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাঁতের মাড়িকে শক্তিশালী করে ভিটামিন “সি”।
- কাঁঠালে বিদ্যমান ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস- আলসার, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সক্ষম।
- কাঁঠালে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আমাদের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রির্যাডিকেলস থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও আমাদেরকে সর্দি-কাশি রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- টেনশন এবং নার্ভাসনেস কমাতে কাঁঠাল বেশ কার্যকরী।
- বদহজম রোধ করে কাঁঠাল।
- কাঁঠাল গাছের শেকড় হাঁপানী উপশম করে। শেকড় সেদ্ধ করলে যে উৎকৃষ্ট পুষ্টি উপাদান নিষ্কাশিত হয় তা হাঁপানীর প্রকোম নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।
- চর্মরোগের সমস্যা সমাধানেও কাঁঠালের শেকড় কার্যকরী। জ্বর এবং ডায়রিয়া নিরাময় করে কাঁঠালের শেকড়।
- কাঁঠালে আছে বিপুল পরিমাণে খনিজ উপাদান ম্যাঙ্গানিজ যা রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- কাঁঠালে বিদ্যমান ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়ামের মত হাড়ের গঠন ও হাড় শক্তিশালী করণে ভূমিকা পালন করে।
- কাঁঠালে আছে ভিটামিন বি৬ যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- কাঁঠালে বিদ্যমান ক্যালসিয়াম কেবল হাড়ের জন্য উপকারী নয় রক্ত সংকোচন প্রক্রিয়া সমাধানেও ভূমিকা রাখে।
- ছয় মাস বয়সের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে কাঁঠালের রস খাওয়ালে শিশুর ক্ষুধা নিবারণ হয়। অন্যদিকে তার প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব পূরণ হয়।
- চিকিৎৎসা শাস্ত্র মতে প্রতিদিন ২০০ গ্রাম তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে গর্ভবতী মহিলা ও তার গর্ভধারণকৃত শিশুর সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়। গর্ভবতী মহিলারা কাঁঠাল খেলে তার স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে এবং গর্ভস্থসন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। দুগ্ধদানকারী মা তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
- এই ফল আঁশালো বিধায় কোষ্ঠকাঠিণ্য দূর করে।
- কাঁঠালে রয়েছে খনিজ উপাদান আয়রন যা দেহের রক্তাল্পতা দূর করে।
ব্যবহার [সম্পাদনা]
কাঁঠাল কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। বসন্তকাল থেকে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত কাঁচা কাঁঠাল ইচোড়’ সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। পাকা ফল বেশ পুষ্টিকর, কিন্তু এর গন্ধ অনেকের কাছে ততটা আকর্ষণীয় নয়। তবু মৃদু অম্লযুক্ত সুমিষ্ট স্বাদ ও স্বল্পমূল্যের জন্য অনেকে পছন্দ করেন। কাঁঠালের আঁটি তরকারির সাথে রান্না করে খাওয়া হয় অথবা পুড়িয়ে বাদামের মত খাওয়া যায়। এর একটি সুবিধে হল, আঁটি অনেকদিন ঘরে রেখে দেয়া যায়। পাকা ফলের কোষ সাধারণত খাওয়া হয়, এই কোষ নিঙড়ে রস বের করে তা শুকিয়ে আমসত্বের মত ‘কাঁঠালসত্ব’ও তৈরি করা যায়। এমনটি থাইল্যান্ডে এখন কাঁঠালের চিপস্ তৈরি করা হচ্ছে। কোষ খাওয়া পর যে খোসা ও ভুতরো ( অমরা ) থাকে তা গবাদি পশুর একটি উত্তম খাদ্য। ভুতরো বা ছোবড়ায় যথেষ্ট পরিমাণে পেকটিন থাকায় তা থেকে জেলি তৈরি করা যায়। এমন কি শাঁস বা পাল্প থেকে কাঁচা মধু আহরণ করার কথাও জানা গেছে। কাঁঠাল গাছের পাতা গবাদি পশুর একটি মজাদার খাদ্য। গাছ থেকে তৈরি হয় মুল্যবান আসবাবপত্র। কাঁঠাল ফল ও গাছের আঁঠালো কষ কাঠ বা বিভিন্ন পাত্রের ছিদ্র বন্ধ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
কাঁঠালের চাষ [সম্পাদনা]
পানি দাঁড়ায় না এমন উঁচু ও মাঝারি সুনিষ্কাষিত উর্বর জমি কাঁঠালের জন্য উপযোগী। সাধারণত কাঁঠালের বীজ থেকে কাঁঠালের চারা তৈরি করা হয়। ভাল পাকা কাঁঠাল থেকে পুষ্ট বড় বীজ বের করে ছাই মাকিয়ে ২/৩ দিন ছায়ায় শুকিয়ে বীজতলায় বপন করলে ২০-২৫ দিনে চারা গজাবে। জ্জ মাসের চারা সতর্কতার সাথে তুলে মূল জমিতে রোপণ করতে হয়। এছাড়া গুটি কলম, ডাল কলম, চোখ কলম, চারা কলম এর মাধ্যমেও চারা তৈরি করা যায়।ষড়ভূজী পদ্ধতিতে সুস', সবল ও রোগমুক্ত চারা বা কলম মধ্য জ্যৈষ্ঠ থেকে মধ্য শ্রাবণ মাসে রোপণ করতে হয়। গাছ ও লাইনের দূরত্ব ১২ মিটার করে রাখা দরকার। রোপণের সময় প্রতি গর্তে গোবর ৩৫ কেজি, টিএসপি সার ২১০ গ্রাম, এমওপি সার ২১০ গ্রাম সার প্রয়োগ করতে হয়। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রতি গাছের জন্র সারের পরিমান বৃদ্ধি করা দরকার। চারা/ কলমের তাড়াতাড়ি বাড়বাড়তি হওয়ার জন্য পরিমিত ও সময় মতো সেচ প্রদান করা দরকার। এক ধরণের ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয। এ রোগের আক্রমণে কচ ফলের গায়ে বাদমি রঙের দাগের সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত ফল গাছ থেকে ঝড়ে পড়ে।গাছের নিচে ঝড়ে পড়া পাতা ও ফল পুড়ে ফেলতে হয়। ফলিকুর ছত্রাকনাশক ০.০৫% হারে পানিতে মিশিয়ে গাছে ফুল আসার পর থেকে ১৫ দিন পর পর ৩ বার সেপ্র করা দরকার। ছত্রাকের আক্রমণের কারণে ছোট অবস্থাতেই কালো হয়ে ঝড়ে পড়ে। এ সময় ডাইথেন এম ৪৫ অথবা রিডোমিল এম জেড ৭৫, প্রতিলিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম করে মিশিয়ে সেপ্র করতে হবে। ফল পাকতে ১২০-১৫০ দিন সময় লাগে। সাধারণত জ্যৈষ্ঠ- আষাঢ় মাসে কাঁঠাল সংগ্রহ করা হয়। [৩]
সাংস্কৃতিক গুরুত্ব [সম্পাদনা]
বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠালকে মনোনীত করা হয়েছে।[৪] মূলতঃ দেশের আনাচে-কানাচে কাঁঠালের সহজলভ্যতা বা প্রাপ্তিই এর প্রধান কারণ। এছাড়াও, ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে উৎপাদিত ৩টি ফল - আম এবং কলার পাশাপাশি কাঁঠালও অন্যতম ফল হিসেবে বিবেচিত। তামিল ভাষায় কাঁঠালকে মুক্কানী (முக்கனி) নামে অভিহিত করা হয়।
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
- ↑ এমএম মো্লা এবং এমএন ইসলাম, কাঁঠালের বহুবিধ ব্যবহার, উদ্যান উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, গাজীপুর
- ↑ [১]
- ↑ একনজরে কাঁঠাল উৎপাদন প্রযুক্তি
- ↑ Subrahmanian N, Hikosaka S, Samuel GJ (1997). Tamil social history. পৃ: 88. http://books.google.com.au/books?id=PXXsAAAAIAAJ&q=triad+of+famous+auspicious+fruits&dq=triad+of+famous+auspicious+fruits। সংগৃহীত March 23, 2010.