বিক্রমপুর
বিক্রমপুর পরগনা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ১২ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত । বর্তমানে এ অঞ্চলটি মুন্সীগঞ্জ জেলার অর্ন্তগত । বিক্রমপুর বাংলার একটি ঐতিহাসিক এলাকা । সুপ্রাচীন কাল থেকেই এই অঞ্চল তার বৌদ্ধ জ্ঞান চর্চার জন্য এবং পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক প্রভাবের জন্য সুপরিচিত । ধারণা করা হয়, বৈদিক যুগ থেকে ভাওয়াল ও সোনারগাঁও রাজধানী হিসেবে আবির্ভূত হবার আগ পর্যন্ত এটিই ছিল বাংলার প্রাচীনতম রাজধানী । বিক্রমপুর ছিল রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজধানী। এই এলাকায় বাংলার বহু কীর্তিমান ব্যক্তির জন্ম হয়েছে। এখানকার কৃতী সন্তানের মধ্যে রয়েছেন অতীশ দীপঙ্কর, জগদীশ চন্দ্র বসু, ব্রজেন দাস , সত্যেন সেন প্রমুখ ।
সূচিপত্র |
[সম্পাদনা] নামের উৎপত্তি
ধারণা করা হয়, বিক্রমপুর নামটির উৎপত্তি বিক্রমাদিত্য থেকে । বিক্রমাদিত্য হিন্দু পুরানের একজন রাজা ছিলেন । তবে বেশ কয়েকজন শাসক যেমনঃ চন্দ্রগুপ্ত–২, ধর্মপাল, সম্রাট হেমু প্রমুখ বিক্রমাদিত্য পদবিটি গ্রহণ করেছিলেন ।[১] তাই এটি পরিষ্কার নয় কার নামে বিক্রমপুরের নামকরণ করা হয়েছিল । বিক্রমপুর নামের ‘‘বিক্রম’’ অর্থ সাহস বা বীরত্ব এবং ‘‘পুর’’ অর্থ নগর বা এলাকা যা উপমহাদেশে বিভিন্ন অঞ্চল বা এলাকার নামের শেষাংশ হিসাবে সাধারণতঃ ব্যবহার করা হয় ।
[সম্পাদনা] বিস্তৃতি
বর্তমানে বিক্রমপুর অঞ্চলের কোন প্রশাসনিক স্বীকৃতি নেই । মুন্সিগঞ্জ জেলার একটি বিস্তৃত অংশের মানুষজন নিজেদের ঐতিহাসিক বিক্রমপুরের অধিবাসী বলে দাবি করে । ধারণা করা হয়, বিক্রমপুর নগরের অবস্থান ছিল এরকমঃ পশ্চিমে পদ্মা নদী, উত্তর ও পূর্বে ধলেশ্বরী নদী এবং দক্ষিণে আড়িয়াল খাঁ ও মেঘনা নদীর সংযোগস্থল ।
১৭৮১ সালের একটি মানচিত্রে দেখা যায়, কালীগঙ্গা নদী এ অঞ্চলের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত যা এলাকাটিকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছিল – উত্তর বিক্রমপুর এবং দক্ষিণ বিক্রমপুর । এ সময় বিক্রমপুরের বিস্তৃতি ছিল পূর্ব–পশ্চিমে প্রায় ৩০–৪০ মাইল এবং উত্তর–দক্ষিণে প্রায় ৮–১০ মাইল ।[২]
ক্রমাগত নদী ভাঙ্গনের ফলে প্রাচীন বিক্রমপুর শহর এবং এর পুরাতত্ত্বিক নিদর্শণসমূহ প্রায় পুরোটাই কালের আবর্তে বিলীন হয়ে গেছে । তবে নদীর গতি পরিবর্তণের ফলে এ ধরণের ভূমিক্ষয় ঐতিহাসিক ভাবেই বাংলার একটি সাধারণ ব্যাপার ।
[সম্পাদনা] ইতিহাস
[সম্পাদনা] প্রাচীন ইতিহাস
মৌর্য সাম্রাজ্যের সম্রাট অশোক খ্রিষ্টপূর্ব ২৬৯ সাল থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ২৩২ সাল পর্যন্ত প্রায় সমগ্র উপমহাদেশ শাসন করেছিলেন ।[৩] গৌতম বুদ্ধের অনুসারি হিসাবে তিনি তার সাম্রাজ্য জুড়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার করেছিলেন যার মধ্যে তার সাম্রাজ্যের পূর্বে অবস্থিত বিক্রমপুরও ছিল । পরবর্তীকালে পাল রাজারা বিক্রমপুরে এসে এ অঞ্চল শাসন করেন ।[৪]
[সম্পাদনা] পাল যুগ
পাল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল ৭৭০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তার রাজত্বকালে বিক্রমপুরে একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করেন ।[৫] তার মৃত্যুর পর তার ছেলে দেবপাল ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এ অঞ্চল শাসন করেন । পরবর্তীকারে এ এলাকা পর্যায়ক্রমে শাসন করেন মহেন্দ্রপাল, বিগ্রহপাল, নারায়নপাল, রাজ্যপাল, গোপাল–২, বিগ্রহপাল–২, মহীপাল, ন্যায়পাল, বিগ্রহপাল–৩, মহীপাল–২, শুরাপাল–২, রামপাল, কুমারপাল, গোপাল–৩ এবং মদনপাল ।[৬] সেন সাম্রাজ্যের দ্বারা ক্রমাগত আক্রান্ত হলে ১১৭৪ সালে পাল সাম্রাজ্য ভেঙ্গে পড়ে ।[৭]
[সম্পাদনা] চন্দ্র যুগ
শ্রীচন্দ্রের শাসনামলে (শাসনকাল ৯৩০ – ৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ) বিক্রমপুরে চন্দ্র সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপন করা হয় ।[৮]
[সম্পাদনা] সেন যুগ
সেন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেনের (শাসনকাল ১০৯৭ – ১১৬০ সাল) সময়কালের একটি তাম্রলিপি ১৯১১ সালে ভারতের ব্যারাকপুরে আবিষ্কৃত হয় । এই লিপিতে বিক্রমপুরকে ওই অঞ্চলের রাজধানী হিসেবে উল্ল্যেখ করা হয়েছিল ।[১] সেন রাজত্বের পুরোটা সময় জুড়েই বিক্রমপুর এই রাজ্যের রাজধানী ছিল । ১২০৫ সালে তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খিলজী সেই সময়কার শাসক লক্ষণ সেনকে নদীয়ায় পরাজিত করেন । পরবর্তীতে লক্ষণ সেন বিক্রমপুরে পালিয়ে আসেন ।[৯] তার দুই পুত্র বিশ্বরূপ সেন এবং কেশব সেন সেখান থেকে ১২৩০ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চল শাসন করেন ।[১০] তবে তাদের শাসনকালের তাম্রলিপিতে বিক্রমপুরকে রাজধানী হিসেবে উল্ল্যেখ করা হয়নি ।[২] অপর একজন হিন্দু রাজা, ধনুজ রায়, কেশব সেনের একজন উত্তরসূরিকে পরাজিত করেন এবং এই এলাকা থেকে শাসনকাজ পরিচালনা করেন । ১২৮০ সালের শুরুর দিকে, তিনি এখান থেকে সুবর্ণগ্রামে রাজধাণী স্থানান্তর করেন (পরবতীর্তে যার নামকরণ করা হয় সোনারগাঁও) ।[১১][২]
[সম্পাদনা] মুঘল আমল
[সম্পাদনা] বিক্রমপুরের বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ
- অতীশ দীপঙ্কর (৯৮০–১০৫৪)
- দূর্গা মোহন দাশ (১৮৪১–১৮৯৭)
- দ্বারকানাথ গাঙ্গুলী (১৮৪৪–১৮৯৮)
- জগদীশ চন্দ্র বসু (১৮৫৮–১৯৩৭)
- চিত্তরঞ্জন দাস (১৮৭০–১৯২৫)
- শরৎ দত্ত গুপ্ত (১৮৮২–১৯৬২)
- প্রশান্ত চন্দ্র মহালনবিশ (১৮৯৩–১৯৭২)
- বিনয় বসু (১৯০৮–১৯৩০)
- দীনেশ গুপ্ত (১৯১১–১৯৩১)
- বাদল গুপ্ত (১৯১২–১৯৩০)
- সমরেশ বসু (১৯২৪–১৯৮৮)
- ব্রজেন দাস (১৯২৭–১৯৯৮)
- ইয়াজুদ্দিন আহমেদ (১৯৩১)
- একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (১৯৩২)
- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (১৯৩৫)
- মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ খান (১৯৩৮)
- ফখরুদ্দীন আহমদ (১৯৪০)
- হুমায়ুন আজাদ (১৯৪৭–২০০৪)
- ইমদাদুল হক মিলন (১৯৫৫)
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- ↑ ১.০ ১.১ Proof of Bikrampur as the ancient capital of Bengal, Golam Ashraf Khan Uzzal
- ↑ ২.০ ২.১ ২.২ AM Chowdhury, Vikrampura, Banglapedia: The National Encyclopedia of Bangladesh, Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka, Retrieved: 2012-01-30
- ↑ Thapur (1973), p. 51.
- ↑ Bradley, F.B. (1906). The Romance of an Eastern Capital. প্রকাশক: Smith, Elder & CO. pp. 26.
- ↑ Buddhism in Bangladesh, Harry Belitz
- ↑ AM Chowdhury, Pala Dynasty, Banglapedia: The National Encyclopedia of Bangladesh, Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka, Retrieved: 2012-01-30
- ↑ Scott, David (May 1995); “Buddhism and Islam: Past to Present Encounters and Interfaith Lessons”। Numen 42 (2)।
- ↑ Chandra Dynasty in Banglapedia
- ↑ Laksman Sen in Banglapedia
- ↑ Far East King Lists
- ↑ Danuj Rai in Banglapedia
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |