বাংলাদেশের রান্না
বাংলাদেশের রান্না মূলতঃ বাংলাদেশে প্রচলিত রন্ধনপ্রণালীর অতি সাধারণ বিষয়াদি নিয়ে আবর্তিত হয়েছে। রন্ধনপ্রণালীতে অনেক ফার্সি-আরবী উপাদান, উপকরণ-সহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্টতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অঞ্চলগত সীমারেখা অতিক্রম করে এ রান্না বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
[সম্পাদনা] আঞ্চলিক প্রভাব
বাংলাদেশে রান্নার ধরণ ও সনাতনী ধারা বাংলাদেশী রান্নায় ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এছাড়াও স্থানভেদে খাবারের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। থালা, রান্না পদ্ধতি, রীতি-নীতি, খাবার পরিবেশন, খাদ্যের নামকরণ, স্বাদ-সহ অনেকগুলো বিষয়ে এ ভিন্নতা রয়েছে। সচরাচর প্রশাসনিক বিভাগসমূহে রান্নার বহমান ধারা কম-বেশী বিভাজিত হয়ে থাকে।
তন্মধ্যে - বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা বিভাগের স্থায়ী অধিবাসীগণ সাগর তীরবর্তী এলাকায় অবস্থান করেন বিধায় তাদের খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক খাবারের ব্যবহার অধিক হয়ে থাকে। এছাড়াও, সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি নারিকেলের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। মাছকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রোদে শুকিয়ে শুটকি হিসেবে রূপান্তর করা হয়। এ ধারাটি বরিশাল ও চট্টগ্রামে দেখা যায়। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুটকি সরবরাহ ও বাজারজাতকরণসহ বিদেশে রপ্তানী করা হয়।
তবে খুলনায় সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি স্বাদু পানির মাছের প্রাচুর্যতা রয়েছে এবং তা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগে অতিথি হিসেবে পরিচিত মেজবানগণকে গো-মাংস ও মসুরী ডাল সহযোগে পরিবেশন করা হয়। কিন্তু, বরিশাল কিংবা খুলনায় গো-মাংস ভক্ষণের পরিবর্তে মুরগী, মুরগীর বাচ্চা ও মাছকেই খাদ্য হিসেবে প্রাধান্য দেয়া হয় বেশী।
সুপ্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে মসলা সংযুক্ত ভাত এবং প্রচুর মাংস সহযোগে খাদ্য পরিবেশনের রেওয়াজ প্রচলিত রয়েছে। এ রীতি-রেওয়াজ এখনো পুরনো ঢাকায় দৃশ্যমানতা বজায় রেখেছে। বিরিয়ানী, বিভিন্ন ধরণের কাবাব, মুঘলাই পরোটা, বাকরখানি ইত্যাদি শতাব্দী প্রাচীন খাবারগুলো বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁয় তৈরী করতে দেখা যায়।
পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এলাকাগুলোয় সব্জিসহযোগে তরকারীর মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ করা হয় ব্যাপকভাবে ও বিরাট এলাকা দখল করে আছে। এছাড়া, মশলাও সাধারণ অর্থে এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। নদীর মাছ বিশেষ করে স্বাদু পানির মাছও সাধারণভাবেই পাতে বা থালায় থাকে।
[সম্পাদনা] গ্রন্থপঞ্জী
- Bangladeshi Restaurant Curries, Piatkus, London — ISBN 0749916184 (1996)
- Curries - Masterchef Series, Orion, London — ISBN 0297836420 (1996)
- Curry, Human & Rousseau, South Africa — ISBN 0798131934 (1993)
- Kerrie, in Afrikaans, Human & Rousseau, South Africa — ISBN 0798128143 (1993)
- Petit Plats Curry, French edition, Hachette Marabout, Paris — ISBN 2501033086 (2000)
- 2009 Cobra Good Curry Guide, John Blake Publishing , London — ISBN 1-84454-311-0
[সম্পাদনা] বহিঃসংযোগ
| উইকিবইয়ের রান্নার বইগুলোতে নিম্নের বস্তুটির ওপর রেসিপি রয়েছে: |
| উইকিমিডিয়া কমন্সে নিচের বিষয় সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে: Indian cuisine |