বাঁকুড়া জেলা
| বাঁকুড়া জেলা |
|
|---|---|
| রাজ্য | পশ্চিমবঙ্গ, |
| প্রশাসনিক বিভাগ | বর্ধমান |
| সদর | বাঁকুড়া |
| অঞ্চল | টেমপ্লেট:Convert/বর্গকিলোমিটার |
| জনসংখ্যা | 3,191,822 (2001) |
| জনঘনত্ব | ৪৬৪ /km2 (১,২০১.৮/sq mi) |
| শহর | 235,264 |
| সাক্ষরতা | 63.84 per cent[১] |
| লিঙ্গানুপাত | 1.050 |
| লোকসভা কেন্দ্র | Bankura, Bishnupur (SC) - both with assembly segments in adjoining districts |
| বিধানসভা কেন্দ্র | Taldangra, Raipur (ST), Ranibandh (ST), Indpur (SC), Chhatna, Gangajalghati (SC), Barjora, Bankura, Onda, Vishnupur, Kotulpur, Indas (SC) and Sonamukhi (SC). |
| সড়ক | NH 60 |
| গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত | 1,400 মিলিমিটার |
| সরকারী ওয়েবসাইট | |
বাঁকুড়া জেলা পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিভাগের অন্তর্গত সাতটি জেলার অন্যতম। এই জেলার উত্তরে ও পূর্বে বর্ধমান, দক্ষিণে পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ-পূর্ব হুগলি এবং পশ্চিমে পুরুলিয়া জেলা। দামোদর নদ বাঁকুড়া ও বর্ধমান জেলাদুটিকে পৃথক করেছে। এই জেলাকে "পূর্বের বঙ্গীয় সমভূমি ও পশ্চিমের ছোটোনাগপুর মালভূমির মধ্যকার সংযোগসূত্র" বলে বর্ণনা করা হয়। জেলার পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভাগের জমি নিচু ও উর্বর পলিমাটিযুক্ত। পশ্চিম ভাগের জমি ধীরে ধীরে উঁচু হয়েছে। এই অঞ্চলে স্থানে স্থানে ছোটোখাটো টিলা দেখতে পাওয়া যায়।[২]
পশ্চিম বাংলার বাঁকুড়া জেলা ইতিহাসপ্রসিদ্ধ মল্লভূম রাজ্যের কেন্দ্রস্থল। মধ্যযুগের শেষভাগে এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। খ্রিষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীতে বৈষ্ণবধর্ম মল্লভূমের রাজধর্মের মর্যাদা অর্জন করে। এরপর এই ধর্মই এই অঞ্চলের সংস্কৃতির দিক নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। ১৭৬৫ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মল্লভূম রাজ্য অধিকার করে নেয় এবং ১৮৮১ সালে আধুনিক বাঁকুড়া জেলাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলার নামকরণ করা হয় এর সদর শহরের নামানুসারে।[৩]
পরিচ্ছেদসমূহ |
[সম্পাদনা] নামকরণ
জেলা-সদর বাঁকুড়ার নামে বাঁকুড়া জেলার নামকরণ হয়েছে। ১৭৭৯ সালে রেনেলের ম্যাপে ‘Bancoorah’ নামে একটি গ্রামের সন্ধান পাওয়া যায়। ১৮৬৩ সালে গ্যাসট্রেল এই অঞ্চলটিকে ‘বানকুন্ডা’ নামে অভিহিত করেন। সেই থেকে এই সমগ্র অঞ্চলটি ‘বাঁকুড়া’ নামে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
বাঁকুড়া নামটির ব্যুৎপত্তি নিয়ে মতদ্বৈধ আছে। রেনেলের মতে, শহরের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্কু রাই-এর নামানুসারে এই নাম। আবার অন্য মতে, মল্লরাজা হাম্বীরের পুত্র বাঁকুড়া রায়ের নামেই এই অঞ্চলের নামকরণ হয়েছে। [৪] জেলার প্রভাবশালী লোকদেবতা বাঁকুড়া রায়ের নামও এই নামের ব্যুৎপত্তির কারণ হতে পারে। [৫] ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সংস্কৃত ‘বঙ্ক’-এর অপভ্রংশ ‘বাঁকু’ (আঁকা-বাঁকা) ও কোল-মুন্ডা শব্দ ‘ড়া’ বা ‘ওড়া’ (বসতি) মিলেই এই নাম উৎপন্ন হয়েছে। বাঁকুড়া শব্দের উদ্ভব বিষয়ে এই মতটিই সর্বজনগ্রাহ্য। [৬]
[সম্পাদনা] ইতিহাস
- মূল নিবন্ধ: প্রাচীন সাহিত্যে রাঢ়
ঐতিহাসিকদের মতে বাঁকুড়া জেলা প্রাচীনকালে সূহ্মভূমি নামে পরিচিত ছিল। মহাভারত অনুসারে ভীম সূহ্মভূমির রাজাকে পরাস্ত করেছিলেন। মহাভারতের টীকাকার নীলকণ্ঠ এই সূহ্মকেই রাঢ়া অর্থাৎ রাঢ় বলে চিহ্নিত করেন। জৈন আচারাঙ্গসূত্রে রাঢ় অঞ্চলকে ‘লাঢ়’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। অনুমান খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে সূহ্ম থেকে লাঢ় ও পরে লাড় শব্দটি প্রচলিত হয়। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতকে খোদিত রাজ চন্দ্রবর্মণের একটি সংস্কৃত লিপি জেলার সদর মহকুমার শুশুনিয়া পাহাড়ে পাওয়া গেছে। খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকের প্রথমভাগে রঘুনাথ মল্ল মল্ল রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করলে এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তন ত্বরান্বিত হয়। বিষ্ণুপুর মহকুমার মহকুমা-শহর বিষ্ণুপুরে, যা সেই সময় বন-বিষ্ণুপুর নামে পরিচিত ছিল, মল্লভূম নামে পরিচিত মল্লরাজ্যের রাজধানী স্থাপিত হয়। মল্লরাজবংশ প্রায় ১০০০ বছর এই অঞ্চল শাসন করেন ও বাংলার ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রজাহিতৈষী রাজবংশ রূপে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর বিষ্ণুপুর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে। পরে মরাঠা আক্রমণ ও ১৭৭০ সালের মন্বন্তরে এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক কাঠামো সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়। ১৭৮৭ সালে বিষ্ণুপুর ও বীরভূম জেলাদুটি সংযুক্ত করে একই জেলায় পরিণত করা হয়। ১৭৯৩ সালে বিষ্ণুপুরকে বীরভূম জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে বর্ধমান জেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ১৮০৫ সালে বিষ্ণুপুরকে জঙ্গলমহল জেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ১৮৩৭ সালে বাঁকুড়াকে সদর করে ও বিষ্ণুপুরকে পৃথক করে পশ্চিম বর্ধমান জেলা গঠন করা হয়। ১৮৮১ সালে বর্তমান বাঁকুড়া জেলা স্থাপিত হয়।
[সম্পাদনা] ভূগোল
- মূল নিবন্ধ: বাঁকুড়া জেলার ভূগোল
বাঁকুড়া জেলা পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ছোটনাগপুর মালভূমি ও নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমির মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত। এই জেলার মোট আয়তন ৬৮৮২ বর্গ কিলোমিটার। জেলার পশ্চিমদিকে রয়েছে ল্যাটেরাইট গঠিত পাহাড়শ্রেণি, উপত্যকা, গভীর অরণ্য ও শিলাস্তুপময় বন্ধুর ভূমিভাগ। শুশুনিয়া ও বিহারীনাথ এই অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য পাহাড়। তার পূর্বে শিলাস্তুপ, নিম্নশৈলশিরা ও উপত্যকাযুক্ত মধ্যভাগের অসমতল ভূমিভাগ। জেলার পূর্বদিকে সদর মহকুমার অধিকাংশ থানা ও সমগ্র বিষ্ণুপুর মহকুমা নিয়ে বিরাট পলিগঠিত সমতলভূমি পশ্চিম থেকে ক্রমশ নিচু হয়ে নেমে এসেছে। বাঁকুড়া জেলার অধিকাংশ ল্যাটেরাইট ও পলি মৃত্তিকা দ্বারা গঠিত। তবে পশ্চিমাংশ সিস্টোস ও নিসোস শিলা দিয়ে ও ও দক্ষিণাংশ পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত। এই জেলা মূলত ল্যাটেরাইট কাঁকড় ও বেলে-দোঁয়াস মাটিতে গঠিত হলেও উত্তরে দামোদর উপত্যকার কিছু অঞ্চল সাম্প্রতিক পলি দ্বারাই গঠিত। দামোদর, দ্বারকেশ্বর, কংসাবতী ও শিলাই এই জেলার প্রধান নদনদী। বাঁকুড়া জেলার উষ্ণ ও শুষ্ক, কিন্তু স্বাস্থ্যকর। গ্রীষ্মকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ৪৪º-৪৫º সেন্টিগ্রেড ও ১৫º সেন্টিগ্রেড। শীতকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ৩৩º সেন্টিগ্রেড ও ৬º সেন্টিগ্রেড। বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৪০০ মিলিমিটার। বাঁকুড়া জেলায় বনভূমির পরিমাণ ২৪৭.৭০ হাজার হেক্টর (জেলার মোট আয়তনের ২১.৪৭%)। মূলত শুষ্ক ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য বা শালবন বেশি দেখা যায়। এছাড়া পিয়াশাল, সেগুন, বহেড়া, পলাশ, কুসুম, মহুয়া, পিপুয়া, বাবলা, আম, কাঁঠাল, পারাষি প্রভৃতি গাছও দেখা যায়। [৭]
[সম্পাদনা] প্রশাসনিক বিভাগ
বাঁকুড়া জেলা মোট তিনটি মহকুমায় বিভক্ত। এগুলি হল –
এই মহকুমাগুলি মোট ২২টি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে বিভক্ত।
বাঁকুড়ায় মোট তিনটি পুরসভা আছে। এগুলি হল –
এই জেলায় একটিও পৌরসংস্থা নেই।
[সম্পাদনা] জনতত্ত্ব
২০০১ সালের জনগণনার হিসাব অনুসারে বাঁকুড়া জেলার মোট জনসংখ্যা ৩১,৯২,৬৯৫। তার মধ্যে পুরুষ ১৬,৩৬,০০২ ও মহিলা ১৫,৫৬,৬৯৩। পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ১০০:৯৫। জেলার গ্রামীন জনসংখ্যা ২৯,৫৭,৪৪৭ (মোট জনসংখ্যার ৯২.৬৩%) ও পৌর জনসংখ্যা ২,৩৫,২৪৮ (মোট জনসংখ্যার ৭.৩৭%) । গ্রামীণ জনসংখ্যার ১৫,১৫,৪৫০ জন পুরুষ ও ১৪,৪১,৯৯৭ জন মহিলা। আবার পৌর জনসংখ্যার ১,২০,৫৫২ জন পুরুষ ও ১,১৪,৬৯৬ জন মহিলা। বাঁকুড়া জেলার মোট সাক্ষর জনসংখ্যা ১৭,৩৪,২২২ (মোট জনসংখ্যার ৬৩.৪৪%)। পুরুষ সাক্ষরতার হার ৭৬.৭৬% ও মহিলা সাক্ষরতা ৪৯.৪৩%। আবার এই জেলার গ্রামীণ সাক্ষরতার হার ৬২.০৯% ও পৌর সাক্ষরতার হার ৮০.২২%। বাঁকুড়া জেলায় তপশিলি জাতির মোট ৯,৯৭,৪০৮ জন (মোট জনসংখ্যার ৩১.২৪%) ও তপশিলি উপজাতির ৩,৩০,৭৮৩ জন (মোট জনসংখ্যার ১০.৩৬%) বাস করেন। ২০০১ সালের জনগণনা অনুযায়ী বাঁকুড়ায় মোট শ্রমিকের সংখ্যা ১৪,২৭,২৭২ (মোট জনসংখ্যার ৪৪.৭%)। [৮]
[সম্পাদনা] শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
বাঁকুড়া জেলার সার্বিক সাক্ষরতার হার ৬৩.৪৪%। এর মধ্যে পুরুষ সাক্ষরতার হার ৭৬.৭৬% ও মহিলা সাক্ষরতার হার ৪৯.৪৩%। গ্রামীণ সাক্ষরতার হার ৬২.০৯% ও পৌর সাক্ষরতার হার ৮০.২২%। ২০০৩-০৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, জেলার স্বীকৃত বিদ্যায়তনের সংখ্যা ৩৯৩০। এর মধ্যে স্বীকৃত বিদ্যালয় ৩৪৭২টি, জুনিয়র বিদ্যালয় ১১৯টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২১৭টি ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ১০৩টি। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ১৪টি স্নাতক কলেজ, ৫টি ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রাযুক্তিক কলেজ, ১টি পলিটেকনিক কলেজ রয়েছে এই জেলায়। জেলায় কোনও বিশ্ববিদ্যালয় না থাকলেও মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্র রয়েছে ৩টি। বাঁকুড়ায় শিশুশিক্ষা কেন্দ্র ৪৫১টি ও আইসিডিএস-এর অন্তর্গত অঙ্গনওয়াড়ি শিক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ২৮১টি। এছাড়া সাধারণ পাঠাগার ১৩০টি ও ১৩২টি ফ্রি-পড়ার ঘর রয়েছে এই জেলায়।
বাঁকুড়া জেলায় সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ১৫। এছাড়া ৮৭টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৫০৮টি ক্লিনিক, ৪২টি ডিসপেনসারি রয়েছে। বাঁকুড়া পুরসভায় ৩টি, বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী পুরসভায় ১টি করে হাসপাতাল বিদ্যমান।
[সম্পাদনা] অর্থনীতি
বাঁকুড়া জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। জেলায় শতকরা ৮২ জন কৃষিজীবি। আবার জেলার মোট শ্রমশক্তির ৩১% কৃষক ও ৩৫% কৃষিমজুর। এই জেলার প্রধান উৎপন্ন ফসলগুলি হল ধান, গম, ডাল, তৈলবীজ, পাট, মেস্তা, আলু, শুকনো লঙ্কা ও আদা। জেলার ৫০% জমিতেই কৃষিকাজ হয়। এছাড়া রেশমকীটের খাদ্য তুঁতগাছের চাষও হয়। তবে প্রতিকূল জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতি এবং জলের অপর্যাপ্ত সরবরাহের জন্য চাষাবাদ অনেক ক্ষেত্রেই বিঘ্নিত হয়। তাই আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির সাহায্যে জেলার মোট কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।
বাঁকুড়ায় বৃহদায়তন শিল্প গড়ে না উঠলেও ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পে এই অঞ্চল ঐতিহ্যবাহী। এই শিল্পগুলির মধ্যে রেশম, সুতি ও তসরের বয়ন প্রধান। লাল ‘ধূপছায়া’ শাড়ি, রেশম ও সুতি মিশ্রিত ‘খুটনি’ কাপড়, ‘ফুলম’ শাড়ি ও বিশেষত বিষ্ণুপুরের ‘বালুচরি’ শাড়ি জগদ্বিখ্যাত। বাঁকুড়া সদর মহকুমার শুশুনিয়ায় পাথর কেটে দেবদেবীর মূর্তি ও থালাবাসন তৈরির শিল্প বাঁকুড়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া পিতলের ডোকরা শিল্প আজ দেশ-বিদেশে লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বাঁকুড়ার সাংস্কৃতিক আইকন হল ঘোড়া। হাতি, ঘোড়া ও মনসার ঝাঁপি তৈরির জন্য খাতরা মহকুমার তালডাংরা ব্লকের পাঁচমুড়া বিখ্যাত। চামড়ার জুতো তৈরিতেও জেলার ঐতিহ্য রয়েছে।
বাঁকুড়া একটি খনিজ সমৃদ্ধ জেলা। শালতোড়া, মেজিয়া, বড়জোড়া ও গঙ্গাজলঘাটি অঞ্চলের কয়লা, থানাপাহাড়, চেরাডংরি অঞ্চলের টাংস্টেন, রানিবাঁধ থানার ঝিলিমিলি অঞ্চলের অভ্র ও রায়পুর অঞ্চলের চিনামাটি এই জেলার উল্লেখযোগ্য খনিজ।
[সম্পাদনা] পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা
বাঁকুড়া জেলা ব্রডগেজ ও ন্যারোগেজ/মিটারগেজ রেলপথে রাজধানী কলকাতা ও অন্যান্য জেলার সঙ্গে যুক্ত। দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথের ৭০ কিলোমিটার ব্রডগেজ লাইন এই জেলাকে পুরুলিয়া-আদ্রা ও খড়গপুরের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে। ন্যারোগেজ রেলপথে বর্ধমান জেলার সঙ্গে বাঁকুড়ার যোগাযোগ রক্ষিত হচ্ছে। তবে বর্তমানে জেলার সকল রেলপথই ব্রডগেজে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলি হল বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, ওন্দা, সোনামুখী ও পাত্রসায়ের।
সড়কব্যবস্থা বাঁকুড়ার সদর থেকে প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রসারিত। জেলার মোট সড়কপথ ১১৮৬ কিলোমিটার। তারমধ্যে জাতীয় সড়ক ১২৬ কিলোমিটার, রাজ্য সড়ক ৩৫৫ কিলোমিটার, জেলা সড়ক ৩৮৫ কিলোমিটার ও গ্রামীণ সড়ক ৩২০ কিলোমিটার। ২০০০-০৪ সালে প্রাপ্ট তথ্যে দেখা যাচ্ছে, জেলার পথে মোটর সাইকেল, স্কুটার, ট্যাক্সি, ভাড়ার গাড়ি, ট্রাক্টর ও ট্রলারের সংখ্যা অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে অন্যান্য গাড়ির সংখ্যাও।
বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন নদীতে ফেরি সার্ভিসও চালু আছে। দ্বারকেশ্বর, কংসাবতী, দামোদর, শিলাই, ভৈরববাঁকী, তারাফেনী প্রভৃতি নদনদীতে প্রায় ৩২টি ফেরি সার্ভিস চালু আছে। এর মধ্যে শালতোড়া, মেজিয়া, কোতুলপুর, ওন্দা ও সোনামুখিতে ৪টি করে, ইন্দাস, সারেঙ্গা, বিষ্ণুপুর ও পাত্রসায়েরে ২টি করীবং রানিবাঁধ ও জয়পুরে একটি করে ফেরি সার্ভিস চালু আছে।
বাঁকুড়া জেলায় বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
[সম্পাদনা] পাদটীকা
- ↑ District-specific Literates and Literacy Rates, 2001. প্রকাশক: Registrar General, India, Ministry of Home Affairs. http://www.educationforallinindia.com/page157.html। সংগৃহীত হয়েছে: 2010-10-10.
- ↑ O’Malley, L.S.S., ICS, Bankura, Bengal District Gazetteers, pp. 1-20, first published 1908, 1995 reprint, Government of West Bengal
- ↑ ধনধান্যে (যোজনা পত্রিকা গোষ্ঠীর বাংলা মাসিক) জুন, ২০০৭ সংখ্যা, পৃ. ৫৭
- ↑ ধনধান্যে (যোজনা পত্রিকা গোষ্ঠীর বাংলা মাসিক) জুন, ২০০৭ সংখ্যা, পৃ. ৫৭
- ↑ পশ্চিমবঙ্গ পরিচয়, বাসুদেব গঙ্গোপাধ্যায়, শিশু সাহিত্য সংসদ, প্রথম সংস্করণ, ২০০০
- ↑ http://www.bankura.org/site/History.htm
- ↑ ধনধান্যে (যোজনা পত্রিকা গোষ্ঠীর বাংলা মাসিক) জুন, ২০০৭ সংখ্যা, পৃ. ৫৮
- ↑ ধনধান্যে (যোজনা পত্রিকা গোষ্ঠীর বাংলা মাসিক) জুন, ২০০৭ সংখ্যা দ্রঃ
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- ধনধান্যে (যোজনা বাংলা), জুন, ২০০৭ সংখ্যা
- মনোরমা ইয়ারবুক ২০০৮
- পশ্চিমবঙ্গ পরিচয়, বাসুদেব গঙ্গোপাধ্যায়, শিশু সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ২০০০
[সম্পাদনা] বহিঃসংযোগ
|
|||||||||||
|
||||||||||||||||||||