আমার সোনার বাংলা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আমার সোনার বাংলা গানের রচয়িতা ও সুরকার |
|
|
|
|
| কথা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯০৬ |
|---|---|
| সুর | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯০৬ |
| গ্রহণের তারিখ | ১৯৭২ |
| সঙ্গীতের নমুনা | |
|
|
|
আমার সোনার বাংলা গানটি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। এ গানের রচয়িতা ও সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এই গানটি রচিত হয়েছিল। ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে এ গানটির প্রথম দশ লাইন সদ্যগঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয়সঙ্গীত হিসেবে নির্বাচিত হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কেবল প্রথম চার লাইন বাদন করা হয়।
পরিচ্ছেদসমূহ |
ইতিহাস [সম্পাদনা]
রচনা ও সুরারোপ [সম্পাদনা]
আমার সোনার বাংলা গানটি রচিত হয়েছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে। গানটির পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়নি, তাই এর সঠিক রচনাকাল জানা যায় না।[১] সত্যেন রায়ের রচনা থেকে জানা যায়, ১৯০৫ সালের ৭ অগস্ট কলকাতার টাউন হলে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভায় এই গানটি প্রথম গীত হয়েছিল। এই বছরই ৭ সেপ্টেম্বর (১৩১২ বঙ্গাব্দের ২২ ভাদ্র) সঞ্জীবনী পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের সাক্ষরে গানটি মুদ্রিত হয়। এই বছর বঙ্গদর্শন পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যাতেও গানটি মুদ্রিত হয়েছিল। তবে ৭ অগস্ট উক্ত সভায় এই গানটি গীত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।[১] বিশিষ্ট রবীন্দ্রজীবনীকার প্রশান্তকুমার পালের মতে, আমার সোনার বাংলা ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ২৫ অগস্ট কলকাতার টাউন হলে অবস্থা ও ব্যবস্থা প্রবন্ধ পাঠের আসরে প্রথম গীত হয়েছিল।[১]
আমার সোনার বাংলা গানটি রচিত হয়েছিল শিলাইদহের ডাক-পিয়ন গগন হরকরা রচিত আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে গানটির সুরের অনুষঙ্গে।[১] সরলা দেবী চৌধুরানী ইতিপূর্বে ১৩০৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে তাঁর শতগান সংকলনে গগন হরকরা রচিত গানটির স্বরলিপি প্রকাশ করেছিলেন। উল্লেখ্য, রবীন্দ্রনাথের বঙ্গভঙ্গ-সমসাময়িক অনেক স্বদেশী গানের সুরই এই স্বরলিপি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছিল।[১] যদিও পূর্ববঙ্গের বাউল ও ভাটিয়ালি সুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচিতি ইতিপূর্বেই হয়েছিল বলে জানা যায়। ১৮৮৯-১৯০১ সময়কালে পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে জমিদারির কাজে ভ্রমণ ও বসবাসের সময় বাংলার লোকজ সুরের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তা ঘটে। তারই অভিপ্রকাশ রবীন্দ্রনাথের স্বদেশী আন্দোলনের সমসাময়িক গানগুলি, বিশেষত আমার সোনার বাংলা।
যেভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত [সম্পাদনা]
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১ মার্চ গঠিত হয় স্বাধীন বাংলার কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদ। পরে ৩ মার্চ তারিখে ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভা শেষে ঘোষিত ইশতেহারে এই গানকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এই গান প্রথম জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গাওয়া হয়।
গানের কথা [সম্পাদনা]
| বাংলা লিপিতে | ইংরেজি প্রতিবর্ণীকরণ | অনুবাদ (সৈয়দ আলী আহসান কৃত) |
|---|---|---|
| আমার সোনার বাংলা
আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি। |
Amar Shonar Bangla
Amar shonar Bangla, |
My beloved Bengal
My Bengal of Gold, |
|
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি। |
Chirodin tomar akash, |
Forever your skies, |
|
ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে-- মরি হায়, হায় রে ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা খেতে, আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।। |
O ma, |
In spring, O mother mine, |
|
কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো- কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে। |
Ki shobha, ki chhaea go, |
Ah, what beauty, what shades, |
|
মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো-- মরি হায়, হায় রে মা, তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়ন জলে ভাসি।। |
Ma, tor mukher bani |
O mother mine, words from your lips |
চলচ্চিত্রায়ন [সম্পাদনা]
| পতাকা | লাল-সবুজ |
| প্রতীক | শাপলা |
| সংগীত | আমার সোনার বাংলা |
| পশু | বেঙ্গল টাইগার |
| পাখি | দোয়েল |
| ফুল | সাদা শাপলা |
| গাছ | আমগাছ |
| ফল | কাঁঠাল |
| খেলা | কাবাডি |
| পঞ্জিকা | বাংলা বর্ষপঞ্জী |
চলচ্চিত্রকার শহীদ জহির রায়হান ১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার বিখ্যাত জীবন থেকে নেওয়া কাহিনীচিত্রে এই গানের চলচ্চিত্রায়ন করেন।
আরো দেখুন [সম্পাদনা]
চল্ চল্ চল্ (বাংলাদেশের রণ সঙ্গীত)
পাদটীকা [সম্পাদনা]
]]
বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]
- "আমার সোনার বাংলা", রবীন্দ্র রচনাবলী, ভাষা প্রযুক্তি গবেষণা পরিষদ, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি
- মিডি ফরম্যাটে আমার সোনার বাংলা
- বাংলাপিডিয়াঃ জাতীয় সঙ্গীত