বাংলাদেশ রেলওয়ে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Bangladesh Railway
বাংলাদেশ রেলওয়ে
ধরণ বাংলাদেশ রেলওয়ে
প্রতিষ্ঠাকাল ১৮৬২
সদরদপ্তর চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
রাজস্ব বিডিটি ৪,৪৫৬.২৪ মিলিয়ন
ওয়েবসাইট http://www.railway.gov.bd/

বাংলাদেশ রেলওয়ে বাংলাদেশের সরকারী রেল পরিবহন সংস্থা। এর সদর দপ্তর চট্টগ্রামে অবস্থিত।

পরিচ্ছেদসমূহ

[সম্পাদনা] রেলওয়ের ইতিহাস

জর্জ স্টিফেনসনের যুগান্তকারী প্রচেষ্টায় ১৮২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বের প্রথম জর্জ রেলওয়ে ইংল্যান্ডের স্টকটন থেকে ২৬ কি.মি. দূরবর্তী ডার্লিংটন পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উদ্বোধন করা হয়। ১৮৩৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেলওয়ের প্রথম উদ্বোধন হয় মোহাওয়াক থেকে হাডসন পর্যন্ত। ১৮৩৫ সালে জার্মানিতে এর প্রথম উদ্বোধন হয় নুরেমবার্গ থেকে ফুর্থ পর্যন্ত। ইতালিতে ১৮৩৯ সালে, ফ্রান্সে ১৮৪৪ সাল, স্পেনে ১৮৪৮ সালে এবং সুইডেনে ১৮৫৬ সালে উদ্বোধন হয়।

বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা

[সম্পাদনা] বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাস

বাংলাদেশে দুই ধরণের রেলপথ চালু আছে - ব্রডগেজ ও মিটারগেজ। দেশের পূর্বাঞ্চলে মিটারগেজ, ও পশ্চিমাঞ্চলে ব্রডগেজ রেলপথ বিদ্যমান। পূর্বে ন্যারোগেজ রেল পথ থাকলেও তা এখন অচল। ১৮৮৫ খৃস্টাব্দে জানুয়ারী মাসে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে রেল চলাচল শুরু হয়। ১৮৮৬ খৃস্টাব্দে জয়দেবপুর অবধি রেলপথ সম্প্রসারণ করা হয়। ১৮৬২ খৃস্টাব্দের ১৫ নভেম্বর কলকাতা থেকে কুষ্টিয়া অবধি রেলপথ চালু করা হয়। সর্ব প্রথম ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড ডালহৌসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালক পর্ষদের কাছে ভারতবর্ষে রেলওয়ে স্থাপনের জন্য প্রস্তাব পেশ করেন। পরে ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল গেট ইন্ডিয়ার পেনিনসুলার রেলওয়ে নামক কোম্পানি কর্তৃক নির্মিত মুম্বাই থেকে আনা পর্যন্ত ৩৩ কি.মি. দীর্ঘ রেল লাইনটির উদ্বোধন করা হয়। এটিই ছিল ব্রিটিশ ভারতের রেলওয়ের প্রথম যাত্রা। বাংলার প্রথম রেলপথ চালু হয় ১৮৫৪ সালে পশ্চিম বঙ্গের হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত ৩৮ কি.মি. রেলপথের উদ্বোধনের মাধ্যমে। ১৮৭৪ সাল থেকে ১৮৭৯ সালের মধ্যে নর্থ বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে নামে ব্রিটিশ সরকার একটি নতুন ২৫০ কি.মি. দীর্ঘ মিটারগেজ রেললাইন স্থাপন করে। লাইনটি পদ্মার বাম তীর ঘেঁষে সারা(হার্ডিঞ্জ ব্রিজ) থেকে চিলাহাটি হয়ে হিমালয়ের পাদদেশস্থ ভারতের শিলিগুড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত। কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ এবং আসামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য পদ্মার উপরে সেতু নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়ে। তারই প্রেক্ষাপটে ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ দুই লেন বিশিষ্ট হার্ডিঞ্জ ব্রিজ রেল চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে চিলাহাটি হয়ে কলকাতা ও ভারতের অন্যান্য স্থানে মালামাল সরবরাহ ও যাত্রী চলাচল গাড়ি বদল ছাড়াই সম্ভব হয়ে ওঠে। ১৯২০ সালে রেলওয়ে ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ থেকে জগন্নাথগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে দ্বারা পরিচালিত ৮৮ কি.মি. বেসরকারি রেললাইন রাষ্ট্রীয়করণ করা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারত বিভক্তির পর বেঙ্গল-আসাম রেলওয়ে পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়। পূর্ব বাংলা তথা পূর্ব পাকিস্তান উত্তরাধিকার সূত্রে পায় ২,৬০৬.৫৯ কি.মি. রেললাইন এবং তা ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে (ইবিআর) নামে পরিচিত হয়। ইবিআর পায় ৫০০ কি.মি. ব্রডগেজ এবং ২,১০০ কি.মি. মিটারগেজ।বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর এদেশের রেলওয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ে, যা উত্তরাধিকার সূত্রে পায় ২,৮৫৮.৭৩ কি.মি. রেলপথ ও ৪৬৬টি স্টেশন। ৩ জুন ১৯৮২ সাল, রেলওয়ে বোর্ড বিলুপ্ত হয়ে এর কার্যক্রম যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের রেলওয়ে বিভাগের ওপর ন্যস্ত করা হয় এবং বিভাগের সচিব ডিরেক্টর জেনারেল পদপ্রাপ্ত হন। ১২ আগস্ট ১৯৯৫ সাল, বাংলাদেশ রেলওয়ের নীতিগত পরামর্শ দানের জন্য ৯ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ রেলওয়ে অথরিটি (BRA) গঠন করা হয় এবং এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত মন্ত্রি। যুমনা বহুমুখী সেতু উন্মুক্তকরণের ফলে জামতৈল থেকে ইব্রাহিমাবাদ ব্রডগেজ রেলপথের মাধ্যমে পূর্ব-পশ্চিম রেল যোগাযোগ শুরু হয় ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন থেকে। সর্বশেষ ১৪ এপ্রিল ২০০৮ তারিখে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর ফলে ঢাকা এবং কলকাতার মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ডিসেম্বর মাসে যোগাযোগ মন্ত্রনালয় কে ভেঙ্গে নতুন রেল মন্ত্রনালয় গঠন করা হয়। যার দ্বায়িত্বে আছেন মাননীয় রেলমন্ত্রি বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

[সম্পাদনা] প্রকারভেদ

বাংলাদেশ রেলওয়েকে যমুনা নদীর অবস্থানের ভিত্তিতে প্রধানত দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা – ১পূর্বান্চল. ২.পশ্চিমান্চল

বাংলাদেশের রেলওয়ের ৪ ধরনের লাইন আছে। যথা- ১. ব্রডগেজ ২. মিটারগেজ ৩. ডুয়েলগেজ ৪. ন্যারোগেজ (বন্ধ আছে) ব্রডগেজ : যেসব রেললাইনের মধ্যবর্তী দূরত্ব ১ মিটারের বেশি ঐ সব রেললাইনকে ব্রডগেজ রেললাইন বলে। বাংলাদেশে এ সব লাইন যমুনা নদীর পশ্চিমাশে অবস্থিত। মিটারগেজ : যেসব রেললাইনের মধ্যবর্তী দূরত্ব ১ মিটার তাকে মিটারগেজ লাইন বলা হয়। এ সব লাইন যমুনা নদীর পূর্বাংশে অবস্থিত।

[সম্পাদনা] রেল পরিবহন ব্যবস্থার কাঠামো

নিম্নোল্লিখিত তথ্যাদি[১]থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মপরিধির একটি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যাবে।

  • রেলপথের দৈর্ঘ্য = ৪৪৪৩ কি:মি:(২০০৩-২০০৪ইং)
  • স্টেশন ও জংশনের সংখ্যা = ৪৪০টি (২০০৯-২০১০ইং)[২]
  • বাৎসরিক যাত্রী পরিবহন = ৪,২০০,০০০ জন (২০০৩-২০০৪ইং)
  • বাৎসরিক পণ্য পরিবহন = ৩,২০৬,০০০ মেট্রিক টন (২০০৩-২০০৪ইং)
  • বাৎসরিক রাজস্ব = ৪,৪৫৬,২৪০,০০০ টাকা (২০০৪-২০০৫ইং)
  • সেতুর সংখা=৩,৬৫০ টি (২০০৪-২০০৫)[৩]
  • লেভেল ক্রসিং =১,৬১০টি (২০০৪-২০০৫)[৪]

[সম্পাদনা] আন্তর্জাতিক যোগাযোগ

১৯৬৫ খৃস্টাব্দের পাক-ভারত যুদ্ধ অবধি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) বেনাপোল এবং দর্শনা এই দুই যাত্রাপথে রেল যোগাযোগ ছিল। দীর্ঘ ব্যবধানের পর ২০০৮ সালের ১৪ই এপ্রিলে (পয়লা বৈশাখ) ঢাকা থেকে ভারত-এর কলকাতা শহর পর্যন্ত মৈত্রী এক্সপ্রেস নামক সরাসরি রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন রেল যোগাযোগ নেই।

[সম্পাদনা] ব্যবস্থাপনা কাঠামো

বাংলাদেশ সরকারের অধীন রেল বিভাগ আছে।

[সম্পাদনা] পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ে স্টেশন সমূহঃ

[সম্পাদনা] '(চট্টগ্রাম রুট)

''''১। ঢাকা কমলাপুর '

২। তেজগাও

৩। বনানী

৪। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট

৫। ঢাকা বিমানবন্দর

৬।টংগী জংশন

৭। পুবাইল

৮।নলছাটা

৯।আড়িখোলা

১০। ঘোড়াশাল

১১। জিনারদি

১২। নরসিংদী

১৩। আমিরগঞ্জ

১৪। খানাবাড়ি

১৫। হাটুভাঙ্গা

১৬।মেথিকান্দা

১৭।শ্রিনিধি

১৮। দৌলতকান্দি

১৯।ভৈরব বাজার জংশন

২০।আশুগঞ্জ

২১।তালশহর

২২।ব্রাহ্মনবাড়িয়া

২৩।পাঘাচং

২৪। ভাতশালা

২৫।আখাউড়া জংশন''''

২৬।গঙ্গাসাগর

২৭।ইমামবাড়ি

২৮।কসবা

২৯।মন্দবাগ

৩০। সালদানদী

৩১।শশীদল

৩২।রাজাপুর

৩৩।সদর রসুলপুর

৩৪।কুমিল্লা

৩৫।ময়নামতি

৩৬।লালমাই

৩৭। আলীশহর

৩৮।লাকসাম জংশন

৩৯।নাওতি

৪০।নাংগল কোট

৪১।হাসানপুর

৪২।চৌদ্দগ্রাম

৪৩।শর্শর্দি

৪৪।ফেনী জংশন

৪৫।কালিদহ

৪৬।ফাজিলপুর

৪৭।মুহুরিগঞ্জ

৪৮।চিঙ্কি আস্তানা

৪৯।মস্তান গঞ্জ

৫০।মিরশরাই

৫১।সিতাকুন্ড

৫২।বারবকুন্ড

৫৩।কুমিরা

৫৪।ভাটিয়ারি

৫৫।ফৌজদারহাট

৫৬।পাহাড়তলি

৫৭।চট্টগ্রাম জংশন

[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র

  1. http://www.railway.gov.bd/railway_stations.asp বাংলাদেশ রেলওয়ে ওয়েবসাইট/
  2. http://www.railway.gov.bd/railway_stations.asp বাংলাদেশ রেলওয়ে ওয়েবসাইট/
  3. http://www.railway.gov.bd/track_bridges_stations.asp বাংলাদেশ রেলওয়ে ওয়েবসাইট/
  4. http://www.railway.gov.bd/track_bridges_stations.asp বাংলাদেশ রেলওয়ে ওয়েবসাইট/


নিজস্ব হাতিয়ারসমূহ
নামস্থান

বিকল্পসমূহ
কার্যক্রম
পরিভ্রমন
মুদ্রণ/এক্সপোর্ট
সরঞ্জাম
অন্যান্য ভাষাসমূহ