ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো.svg
লাতিন: University of Dhaka
নীতিবাক্য সত্যের জয় সুনিশ্চিত
Truth Shall Prevail
স্থাপিত ১৯২১
ধরন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সহ-শিক্ষা
আচার্য আব্দুল হামিদ
উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক
ডীন
অ্যাকাডেমিক স্টাফ ১৮০৫[১][২]
প্রশাসন স্টাফ ৩,৪০৮
ছাত্র প্রায় ৩৩৫০০[১][২]
অবস্থান ঢাকা, বাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৩′৪৩″ উত্তর ৯০°১০′৩৪″ পশ্চিম / ২৩.৭২৮৬৮১° উত্তর ৯০.১৭৬০১২° পশ্চিম / 23.728681; -90.176012
ক্যাম্পাস ৬০০ একর[১][২]
ডাকনাম ঢাবি (DU)
অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ওয়েবসাইট www.univdhaka.edu
University of Dhaka Logo

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। বহু-অনুষদভিত্তিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর পরিচিতি রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এখানে প্রায় ৩৩৫০০ ছাত্র-ছাত্রী এবং ১৮০৫ জন শিক্ষক রয়েছে৷[১][২] ১৯২১ সালে তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারতে অক্সব্রিজ শিক্ষাব্যবস্থা অনুসরণে এটি স্থাপিত হয়। সূচনালগ্নে বিভিন্ন প্রথিতযশা বৃত্তিধারী ও বিজ্ঞানীদের দ্বারা কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রিত হবার প্রেক্ষাপটে এটি ’প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ নামে স্বীকৃতি পায়।[৩][৪]

বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষিত সম্প্রদায়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশ বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি পদক লাভ করেছেন।[৫][৬] এছাড়াও, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এশিয়াউইকের পক্ষ থেকে শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নেয়।[৭]

পরিচ্ছেদসমূহ

অবস্থান[সম্পাদনা]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার প্রায় কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এর উত্তর দিকে নিউ এলিফ্যান্ট রোড এবং শাহবাগ। পশ্চিমে ইডেন কলেজ, দক্ষিণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তর-পূর্ব দিকে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হাইকোর্ট অবস্থিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান প্রস্তাবক

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে স্বাধীন জাতিসত্ত্বার বিকাশের লক্ষ্যে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ব্রিটিশ ভারতে তত্কালীন শাসকদের অন্যায্য সিদ্ধান্তে পূর্ববঙ্গের মানুষের প্রতিবাদের ফসল হচ্ছে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ সম্পর্কে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী গ্রন্থে লিখেছেন, “বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। লর্ড লিটন যাকে বলেছিলেন ‘স্পেল্নডিড ইম্পিরিয়াল কমপেনসেশন’। পূর্ববঙ্গ শিক্ষাদীক্ষা, অর্থনীতি সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল। বঙ্গভঙ্গ হওয়ার পর এ অবস্থার খানিকটা পরিবর্তন হয়েছিল, বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে।[৮]১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। এর মাত্র তিন দিন পূর্বে ভাইসরয় এর সাথে সাক্ষাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়ে ছিলেন ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ২৭ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাব করেন ব্যারিস্টার আর. নাথানের নেতৃত্বে ডি আর কুলচার, নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, নবাব সিরাজুল ইসলাম, ঢাকার প্রভাবশালী নাগরিক আনন্দচন্দ্র রায়, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ডব্লিউ.এ.টি. আচির্বল্ড, জগন্নাথ কলেজ-এর অধ্যক্ষ ললিত মোহন চট্টোপাধ্যায়, ঢাকা মাদ্রাসার (বর্তমান কবি নজরুল সরকারি কলেজ) তত্ত্বাবধায়ক শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওয়াহেদ, মোহাম্মদ আলী (আলীগড়), প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ এইচ.এইচ.আর.জেমস, প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক সি.ডব্লিউ. পিক, এবং সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ সতীশ্চন্দ্র আচার্য। ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয় নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট এবং সে বছরই ডিসেম্বর মাসে সেটি অনুমোদিত হয়। ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও ইতিবাচক প্রস্তাব দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভা পাশ করে 'দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০'। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে রফিকুল ইসলামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ বছর গ্রন্থ থেকে জানা যায়, নাথান কমিটি রমনা অঞ্চলে ৪৫০ একর জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। এই জায়গায় তখন ছিল ঢাকা কলেজ, গভর্নমেন্ট হাউস, সেক্রেটারিয়েট ও গভর্নমেন্ট প্রেসসমূহ। সৃষ্টির শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। কলকাতার তত্কালীন একটি শিক্ষিত মহল ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। বিশেষ করে যারা ১৯০৬ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিল তারাই এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কে মেনে নিতে পারেনি । বঙ্গভঙ্গ রদের কারনে যে ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য ডুবে যায় ,তেমনি ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কে বিগ্নিত করতে পারলে এ অঞ্চলের মানুষের সাধিনতার স্পিহা ও আর তৈরি হতনা , কবি গুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে ব্যাঙ্গ করে ( মক্কা বিশ্ববিদ্যালয় ) বলেছিলেন । এ ছাড়া ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর ফলে পূর্ব বাংলার মানুষ হতাশা প্রকাশ করে। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্বান জানান। ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি দেন। এ আইনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। এ আইনের বাস্তবায়নের ফলাফল হিসেবে ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই। সে সময়ের ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির উপর পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশের পরিত্যক্ত ভবনাদি এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনসমূহের সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার এই দিনটি প্রতিবছর "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস" হিসেবে পালন করা হয়।

তিনটি অনুষদ ও ১২টি বিভাগ নিয়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। কলা, বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ছিল সংস্কৃত ও বাংলা, ইংরেজি, শিক্ষা, ইতিহাস, আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারসী ও উর্দু, দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত এবং আইন।

প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগ (ইংরেজি বিভাগ; এমএ-১৯২৩)। যে সব প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে শিক্ষকতার সাথে জড়িত ছিলেন তারা হলেনঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এফ.সি. টার্নার, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, জি.এইচ.ল্যাংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, ডব্লিউ.এ.জেনকিন্স, রমেশচন্দ্র মজুমদার, স্যার এ. এফ. রাহমান, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন অস্থিরতা ও ভারত বিভক্তি আন্দোলনের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা কিছুটা ব্যাহত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারতপাকিস্তান নামক দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত প্রদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা উজ্জীবিত হয়। নতুন উদ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। তৎকালীন পূর্ববাংলার ৫৫ টি কলেজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯৪৭-৭১ সময়ের মধ্যে ৫টি নতুন অনুষদ, ১৬টি নতুন বিভাগ ও ৪টি ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। স্বাধীনতা যুদ্ধে এ বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়। এতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রী সহ শহীদ হয়েছেন বহুজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের সরকার প্রবর্তিত অর্ডিন্যান্স বাতিলের জন্য ষাটের দশক থেকে শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ উক্ত অর্ডিন্যান্স বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডার-১৯৭৩ জারি করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় এই অর্ডার দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে।[৯] ১৯৩০-৩৪জগন্নাথ কলেজ-এর অধ্যক্ষ ললিত মোহন চট্টোপাধ্যায়, ঢাকা মাদ্রাসার (বর্তমান কবি নজরুল সরকারি কলেজ) তত্ত্বাবধায়ক শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওয়াহেদ, মোহাম্মদ আলী (আলীগড়), প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ এইচ.এইচ.আর.জেমস, প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক সি.ডব্লিউ. পিক, এবং সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ সতীশ্চন্দ্র আচার্য। ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয় নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট এবং সে বছরই ডিসেম্বর মাসে সেটি অনুমোদিত হয়। ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও ইতিবাচক প্রস্তাব দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভা পাশ করে 'দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০'। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে রফিকুল ইসলামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ বছর গ্রন্থ থেকে জানা যায়, নাথান কমিটি রমনা অঞ্চলে ৪৫০ একর জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। এই জায়গায় তখন ছিল ঢাকা কলেজ, গভর্নমেন্ট হাউস, সেক্রেটারিয়েট ও গভর্নমেন্ট প্রেসসমূহ।

সৃষ্টির শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। কলকাতার তত্কালীন একটি শিক্ষিত মহল ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। এ ছাড়া ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর ফলে পূর্ব বাংলার মানুষ হতাশা প্রকাশ করে। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্বান জানান।

১৯২০ সালের ২৩ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি দেন। এ আইনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। এ আইনের বাস্তবায়নের ফলাফল হিসেবে ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই। সে সময়ের ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির উপর পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশের পরিত্যক্ত ভবনাদি এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনসমূহের সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার এই দিনটি প্রতিবছর "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস" হিসেবে পালন করা হয়।

তিনটি অনুষদ ও ১২টি বিভাগ নিয়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। কলা, বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ছিল সংস্কৃত ও বাংলা, ইংরেজি, শিক্ষা, ইতিহাস, আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারসী ও উর্দু, দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত এবং আইন।

প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগ (ইংরেজি বিভাগ; এমএ-১৯২৩)। যে সব প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে শিক্ষকতার সাথে জড়িত ছিলেন তারা হলেনঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এফ.সি. টার্নার, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, জি.এইচ.ল্যাংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, ডব্লিউ.এ.জেনকিন্স, রমেশচন্দ্র মজুমদার, স্যার এ. এফ. রাহমান, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন অস্থিরতা ও ভারত বিভক্তি আন্দোলনের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা কিছুটা ব্যাহত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারতপাকিস্তান নামক দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত প্রদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা উজ্জীবিত হয়। নতুন উদ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। তৎকালীন পূর্ববাংলার ৫৫ টি কলেজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯৪৭-৭১ সময়ের মধ্যে ৫টি নতুন অনুষদ, ১৬টি নতুন বিভাগ ও ৪টি ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। স্বাধীনতা যুদ্ধে এ বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়। এতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রী সহ শহীদ হয়েছেন বহুজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের সরকার প্রবর্তিত অর্ডিন্যান্স বাতিলের জন্য ষাটের দশক থেকে শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ উক্ত অর্ডিন্যান্স বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডার-১৯৭৩ জারি করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় এই অর্ডার দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে।[৯]

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

দেশের সর্ব প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৩ টি অনুষদ, ৭০ টি বিভাগ, ১০ টি ইন্সটিটিউট এবং ৩৯ টি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের থাকার জন্যে রয়েছে ২০ টি আবাসিক হল ও হোস্টেল।

অনুষদসমূহ[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদসমূহ

  • কলা অনুষদ
  1. বাংলা
  2. ইংরেজি
  3. ফারসী ও উর্দু
  4. দর্শন
  5. ইতিহাস
  6. আরবি
  7. ইসলামিক স্টাডিজ
  8. ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  9. সংস্কৃত ও পালি
  10. তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা
  11. ভাষাবিজ্ঞান
  12. নাট্যকলা
  13. সঙ্গীত
  14. বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব
  • বিজ্ঞান অনুষদ
  1. পদার্থ বিজ্ঞান
  2. গণিত
  3. রসায়ন
  4. পরিসংখ্যান
  5. বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি
  6. তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান
  • আইন অনুষদ
  1. আইন
  • সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ
  1. অর্থনীতি
  2. রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  3. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
  4. সমাজবিজ্ঞান
  5. লোক প্রশাসন
  6. গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
  7. নৃবিজ্ঞান
  8. পপুলেশন সায়েন্সেস
  9. শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন
  10. উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ
  11. ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ
  12. টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ
  • বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ
  1. ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ
  2. একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস
  3. মার্কেটিং
  4. ফিন্যান্স
  5. ব্যাংকিং
  6. ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস
  7. ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস
  8. ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট
  • জীববিজ্ঞান অনুষদ
  1. মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ
  2. উদ্ভিদ বিজ্ঞান
  3. প্রাণিবিদ্যা
  4. প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান
  5. মনোবিজ্ঞান
  6. অণুজীব বিজ্ঞান
  7. মৎস্য বিজ্ঞান
  8. চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান
  9. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি
  10. এডুকেশনাল সাইকোলজি
  • ফার্মেসি অনুষদ
  1. ফার্মাসিউটিকাল কেমিস্ট্রি
  2. ক্লিনিকাল ফার্মেসি এন্ড ফার্মাকোলজি
  3. ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি
  • ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনোলজী অনুষদ
  1. ফলিত পদার্থবিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্‌স এবং কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং
  2. ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল
  3. কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং
  4. লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং
  5. লেদার প্রডাক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং
  6. ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং
  7. নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং
  • আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদ
  1. ভূগোল ও পরিবেশ
  2. ভূতত্ত্ব
  3. সমুদ্রবিজ্ঞান
  • চারুকলা অনুষদ
  • চিকিৎসা অনুষদ
  • স্নাতকোত্তর চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদ
  • শিক্ষা অনুষদ

ইন্সটিটিউটসমূহ[সম্পাদনা]

  1. শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট: দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য যোগ্য শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাবিজ্ঞানী গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ইন্সটিটিউটটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ইন্সটিটিউট হিসেবে USAID এর অর্থায়নে কলোরাডো স্টেট কলেজের (বর্তমানে University of Northern Colorado) টেকনিকাল সহায়তায় ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ইন্সটিটিউটের বিভিন্ন কোর্সের মধ্যে রয়েছে চার বছরের বি.এড (সম্মান), এক বছরের এম.এড (নিয়মিত), দুই বছরের এম.এড সান্ধ্যকালীন কোর্স, এম.ফিল. ও পিএইচ.ডি.।
  2. পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইন্সটিটিউট: ইস্টিটিউটটি সাধারণত আই.এস.আর.টি নামে পরিচিত। ১৯৬৪ সালে এই ইস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরিসংখ্যানবিদ ডঃ কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন এই ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, বর্তমানে এর পরিচালক হলেন মোহাম্মদ সোয়াইব। এই ইন্সটিটিউটে ফলিত পরিসংখ্যান বিষয়ে চার বছর মেয়াদি বি.এস(সম্মান) ও এক বছর মেয়াদি এম.এস কোর্সে পাঠদান করা হয়।
  3. ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট
  4. পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট
  5. সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট
  6. আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউট
  7. তথ্য প্রযুক্তি ইন্সটিটিউট
  8. লেদার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ইন্সটিটিউট

স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্য[সম্পাদনা]

আবাসিক হলসমূহের তালিকা[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ

বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীকে কোনো না কোনো হলের সাথে আবাসিক/অনাবাসিক ছাত্র-ছাত্রী হিসেবে যুক্ত থাকতে হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য ১৩ টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৪ টি আবাসিক হল রয়েছে। এছাড়া চারুকলা অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে আলাদা হোস্টেল এবং বিদেশী ছাত্রদের জন্য আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাস।

  • শহীদুল্লাহ হল
  • সলিমুল্লাহ মুসলিম হল
  • জগন্নাথ হল
  • ফজলুল হক মুসলিম হল
  • সার্জেন্ট জহুরুল হক হল
  • রোকেয়া হল
  • মাস্টারদা সূর্যসেন হল
  • হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল
  • শামসুন নাহার হল
  • কবি জসিম উদ্দিন হল
  • স্যার এ. এফ. রহমান হল
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
  • মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল
  • বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল
  • অমর একুশে হয়
  • স্যার ফিলিপ হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল
  • সুফিয়া কামাল হল
  • বিজয় একাত্তর হল

ছাত্রাবাস[সম্পাদনা]

  • নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছাত্র নিবাস
  • শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাস
  • আইবিএ হোস্টেল

সংগঠন[সম্পাদনা]

রাজনৈতিক[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলো হল সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী ইত্যাদি।

সাংস্কৃতিক[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে রয়েছে সংস্কৃতির নয়া সেতু, প্রপদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টুরিস্ট সোসাইটি ইত্যাদি।

বিজ্ঞান[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

ক্যাফেটেরিয়া[সম্পাদনা]

সাইন্স ক্যাফেটেরিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্যাফেটেরিয়া আছে,যার মধ্যে কয়েকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। এর মধ্যে একটি হল মধুর ক্যান্টিন। তাছাড়া টিএসসি ক্যাফেটেরিয়া,ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া ,সাইন্স ক্যাফেটেরিয়া, জহিরের ক্যান্টিন, সেন্টার ফর এক্সিলেন্সের ক্যান্টিন, তাছাড়া বিভিন্ন হলের নিজস্ব ক্যান্টিন রয়েছে।

নোবেল পুরস্কার[সম্পাদনা]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য[সম্পাদনা]

নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবৎ মোট ২৭ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ২৭ তম উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

সমাবর্তন[সম্পাদনা]

গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের সমাবর্তন পোষাক

১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ব্রিটিশ আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম নিয়মিত সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। এরপর ১৯২৪ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই (সর্বমোট ২৪ বার) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ আমলে শেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালের ২১ নভেম্বর। পাকিস্তান আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ। এরপর ১৯৭০ সাল পর্যন্ত আরও ১৫ বার সমাবর্তন হয়। সর্বশেষ সমাবর্তন হয় ১৯৭০ সালের ৮ মার্চ; সেটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম সমাবর্তন। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো (৪০তম) সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে সমাবর্তন উদ্বোধন করার কথা ছিল; কিন্তু তার আগেই ভোররাতে ঘটে যায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডি। এরপর ৪০তম সমাবর্তন হয় ১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর। এরপর সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় যথাক্রমে ২০০১, ২০০৪, ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১২ সালে। ৪৭তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ৪ মার্চ ২০১৩ সালে।[১০][১১][১২]

বিশেষ সমাবর্তন[সম্পাদনা]

সমাবর্তনে সম্মানসূচক ডক্টরেটপ্রাপ্তদের তালিকা[সম্পাদনা]

কৃতি ছাত্র[সম্পাদনা]

কৃতি শিক্ষক[সম্পাদনা]

বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

কলা অনুষদ[সম্পাদনা]

আইন অনুষদ[সম্পাদনা]

  • আশেক

বাণিজ্য অনুষদ[সম্পাদনা]

  • ড. আবদুল্লাহ ফারুক
  • ড. মঈনউদ্দিন খান
  • ড. হরিপদ ভট্টাচার্য

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

জীব বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

  • ড. আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী
  • ড. ইয়াজুদ্দিন আহমেদ
  • ড. এ. জেড. এম. নওশের আলী খান
  • ড. এ. কে. এম. নুরুল ইসলাম (জাতীয় অধ্যাপক)

ফার্মেসী অনুষদ[সম্পাদনা]

গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার আঠারো হাজার বই নিয়ে যাত্রা শুরু করে। গ্রন্থাগারে বর্তমানে ছয় লাখ আশি হাজারেরও বেশি বই রয়েছে।[২৬]

উৎস[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ http://www.univdhaka.edu/the_university/index.php
  2. ২.০ ২.১ ২.২ ২.৩ http://www.univdhaka.edu/international/index.php
  3. Sajahan Miah। "University of Dhaka"। in Sirajul Islam। Banglapedia: National Encyclopedia of BangladeshAsiatic Society of Bangladesh 
  4. http://www.thenewnationbd.com/newsdetails.aspx?newsid=11176
  5. Academy Gold Medal Award
  6. BAS Gold Medal Award Ceremony 2011
  7. TIME Magazine - Asia Edition - August 26 - September 2, 2013 | Vol. 182, No. 9
  8. http://archive.prothom-alo.com/detail/news/5587
  9. ৯.০ ৯.১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার, জানুয়ারি ২০০৫-জুন ২০০৬, পৃষ্ঠা ১৭-১৮
  10. http://www.samakal.com.bd/details.php?news=14&action=main&option=single&news_id=248569&pub_no=1008
  11. ১১.০ ১১.১ A pleasant end to a journey
  12. ১২.০ ১২.১ http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2013-01-31/news/325586
  13. http://hello-today.com/ht/28060#.UTN51zcVi-Y
  14. বান কি মুনকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দেবে ঢাবি
  15. http://newsagency24.com/index.php?option=com_content&view=article&id=9869:2012-05-09-18-06-08&catid=118:2011-09-25-09-29-22&Itemid=171
  16. http://www.samakal.com.bd/details.php?news=3&action=main&view=archiev&y=2012&m=03&d=30&option=single&news_id=248383&pub_no=1007
  17. DU 45th Convocation on January 29 : Dhaka Mirror
  18. 45th convocation of Dhaka University | Demotix.com
  19. http://www.univdhaka.edu/the_university/honoris_causa.php
  20. http://www.banglapedia.org/httpdocs/HT/C_0237.HTM
  21. Professor A.K.M. Siddiq
  22. http://www.univdhaka.edu/department/common/facultymemberdetail.php?memberid=FMPHY72032&bodyid=PHY
  23. http://www.du.ac.bd/DownLoads/profile/FMAPE80007.pdf
  24. Munir M. Islam, University of Connecticut, Department of Physics
  25. Professor Muhammad Munir Islam
  26. http://www.univdhaka.edu/du_library.php

আরও দেখুন[সম্পাদনা]


বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]