কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
University of Calcutta
Fhtemp.jpg
নীতিবাক্য শিক্ষার অগ্রগতি
স্থাপিত ২৪শে জানুয়ারি, ১৮৫৭
ধরন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
আচার্য পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল
উপাচার্য অধ্যাপক সুরঞ্জন দাস
অস্নাতক ১,০০,০০০[১]
স্নাতকোত্তর ৫৫০০ [১]
অবস্থান কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
ক্যাম্পাস ১২টি
অনুমোদন

ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রেডিশন কাউন্সিল প্রদত্ত ‘পাঁচ তারা’ (‘Five Star’);
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রদত্ত ‘উৎকর্ষ সম্ভাবনা কেন্দ্র’ (‘Centre with Potential for Excellence’)

মর্যাদা
ডাকনাম ক.বি. (CU)
ওয়েবসাইট www.caluniv.ac.in
Calunivlogo.jpg

কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (সাধারণভাবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত; ইংরেজি: University of Calcutta) কলকাতা শহরে অবস্থিত একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৫৭ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের প্রথম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়। এটিই দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যার চার জন প্রাক্তন ছাত্র নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে "পাঁচ তারা বিশ্ববিদ্যালয়" ও "উৎকর্ষ সম্ভাবনার কেন্দ্র" মর্যাদা দিয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত একটি নগরাঞ্চলীয় অনুমোদনদাতা ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। আশুতোষ শিক্ষাপ্রাঙ্গন নামে পরিচিত এর কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাসটি মধ্য কলকাতার কলেজ স্ট্রিট অঞ্চলে অবস্থিত; বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর ক্যাম্পাসগুলি রাজাবাজার (রাসবিহারী শিক্ষাপ্রাঙ্গন), বালিগঞ্জ (তারকনাথ শিক্ষাপ্রাঙ্গন), আলিপুর (শহিদ ক্ষুদিরাম শিক্ষাপ্রাঙ্গন), হাজরাদক্ষিণ সিঁথিতে অবস্থিত।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

উপাচার্য

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের প্রাচীনতম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়।[২] ১৮৫৪ সালে ইংল্যান্ডে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বোর্ড-অফ-কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড ভারতের প্রেসিডেন্সি শহরগুলিতে (কলকাতা, বোম্বাইমাদ্রাজ) তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করেন। এই সুপারিশ অনুসারে ১৮৫৭ সালে কলকাতা ও বোম্বাই (অধুনা মুম্বই) শহরে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়।[৩] ১৮৫৭ সালের ২৪ জানুয়ারি ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং "কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আইন"-এ সই করেন। এই কারণে এই দিনটিকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাদিবস গণ্য করা হয়।[৪]:১৬১[৫]:১ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মসূচি সম্পর্কে লেখা ছিল:

"…it has been determined to establish a University of Calcutta for the purpose of ascertaining by examination for the persons who have acquired proficiency in different branches of Literature, Science and Art and the rewarding them by academical degrees as evidence of their respective attainment."[৪]

বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণের জন্য ৪১ সদস্যবিশিষ্ট একটি সেনেট গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চাদভূমি লাহোর থেকে রেঙ্গুন পর্যন্ত প্রসারিত ছিল — যা যেকোনো ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ পশ্চাদভূমি।[২]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আচার্য ও উপাচার্য হলেন যথাক্রমে গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার জেমস উইলিয়াম কোলভিল।[৬] ১৮৫৮ সালে যদুনাথ বসু ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতক হন।[৭] ১৮৫৮ সালের ৩০ জানুয়ারি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কার্যকর হয়।[৭] বিশ্ববিদ্যালয় সেনেটের প্রথম সভাটি বসেছিল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কাউন্সিল রুমে। ক্যামাক স্ট্রিটের (অধুনা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সরণি) একটি ভাড়া করা ঘরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকর্ম চলত। বহু বছর সেনেট ও সিন্ডিকেটের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে রাইটার্স বিল্ডিংসে। ১৮৫৭ সালের মার্চ মাসে কলকাতার টাউন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রবেশিকা পরীক্ষা আয়োজিত হয়। এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ২৪৪ জন ছাত্র। ১৮৬২ সালে সেনেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই ২,৫২,২২১ টাকা ব্যয়ে ঐতিহাসিক সেনেট হলটি নির্মিত হয়। ১৮৭৩ সালের ১২ মার্চ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেনেট হলের উদ্বোধন করা হয়।

১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কাপুরথালার নবাব জাসা সিংহ আলুওয়ালিয়া গভর্নমেন্ট কলেজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন লাভ করে।[৮] এটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত প্রথম কলেজগুলির মধ্যে একটি। পরে আরও অনেক কলেজই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকার অন্তর্গত হয়। ১৮৮২ সালে কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়চন্দ্রমুখী বসু বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশের প্রথম মহিলা স্নাতক হন।[৭] ১৮৯০ সালে বিচারপতি গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভারতীয় উপাচার্য হন।[৬] স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় পরপর চারবার দ্বিবার্ষিক মেয়াদে (১৯০৬-১৪) এবং পঞ্চমবার (১৯২১-২৩) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছিলেন।Benimadhab Barua, World 1st Asian D.Litt. study in Calcutta University.

শিক্ষাপ্রাঙ্গন[সম্পাদনা]

আশুতোষ শিক্ষাপ্রাঙ্গন।

কলকাতা শহর ও তার আশেপাশের এলাকায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলি শিক্ষাপ্রাঙ্গন বা ক্যাম্পাস আছে। তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাঞ্চলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছড়িয়ে রয়েছে।

আশুতোষ শিক্ষাপ্রাঙ্গন[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষাপ্রাঙ্গনটি মধ্য কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে ২.৭ একর জমিতে অবস্থিত।[৯] এই শিক্ষাপ্রাঙ্গনটি "আশুতোষ শিক্ষাপ্রাঙ্গন" নামে পরিচিত। দারভাঙা ভবন, আশুতোষ ভবন, হার্ডিঞ্জ ভবন ও শতবার্ষিকী ভবন নিয়ে গঠিত হয়েছে এই আশুতোষ শিক্ষাপ্রাঙ্গন।[১০]

রাসবিহারী শিক্ষাপ্রাঙ্গন[সম্পাদনা]

রাসবিহারী শিক্ষাপ্রাঙ্গন

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোডে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসবিহারী শিক্ষাপ্রাঙ্গনে রয়েছে বিশুদ্ধ ও ফলিত রসায়ন, বিশুদ্ধ ও ফলিত পদার্থবিদ্যা, ফলিত গণিত, মনস্তত্ত্ব, ফিজিওলজি, জৈবপদার্থবিদ্যা ও মলিকিউলার বায়োলজি ইত্যাদি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-বিষয়ক বিভাগগুলি। এই শিক্ষাপ্রাঙ্গনটি "ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি" বা "রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ" নামেও পরিচিত।[১০]

তারকনাথ শিক্ষাপ্রাঙ্গন[সম্পাদনা]

দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে অবস্থিত তারকনাথ শিক্ষাপ্রাঙ্গনে আছে কৃষিবিজ্ঞান, নৃতত্ত্ববিজ্ঞান, জৈবরসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান, জেনেটিকস ও ভূতত্ত্ব বিভাগ। এই শিক্ষাপ্রাঙ্গনটি "ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ সায়েন্স" বা "বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ" নামেও পরিচিত।[১০]

শহিদ ক্ষুদিরাম শিক্ষাপ্রাঙ্গন[সম্পাদনা]

শহিদ ক্ষুদিরাম শিক্ষাপ্রাঙ্গন

আলিপুরের শহিদ ক্ষুদিরাম শিক্ষাপ্রাঙ্গনটিতে আছে পুরাতত্ত্ব, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও অন্যান্য বিভাগ।

অন্যান্য শিক্ষাপ্রাঙ্গন[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ক্যাম্পাস ও বিভাগগুলি হল হাজরা রোড শিক্ষাপ্রাঙ্গন, ইউনিভার্সিটি প্রেস ও বুক ডিপো, ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোড শিক্ষাপ্রাঙ্গন, বিহারীলাল কলেজ অফ হোম সায়েন্স শিক্ষাপ্রাঙ্গন, ইউনিভার্সিটি হেলথ সার্ভিস, হরিণঘাটা শিক্ষাপ্রাঙ্গন, ইউনিভার্সিটি রোয়িং ক্লাব (রবীন্দ্র সরোবর), ইউনিভার্সিটি গ্রাউন্ড ও টেন্ট (ময়দান)।[১০]

বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রযুক্তি ও কারিগরি-সংক্রান্ত বিভাগগুলিকে একত্রিত করে বিধাননগরে একটি "টেকনো ক্যাম্পাস" স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।[১১]

বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গীত[সম্পাদনা]

১৯৩৭ সালে তদনীন্তন উপাচার্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অনুরোধ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি "বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত" রচনা করে দেওয়ার জন্য। রবীন্দ্রনাথ একটির বদলে দুটি গান রচনা করে দেন - "চলো যাই, চলো যাই" ও "শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান"। "চলো যাই, চলো যাই " গানটি গৃহীত হয় এবং ১৯৩৭ সালের ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাদিবস উপলক্ষ্যে কুচকাওয়াজে ছাত্রদের দ্বারা প্রথম গীত হয়। ২০০৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গীত হিসেবে "শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান" গানটি গৃহীত হয়।[১২]

পূর্বতন গান (১৯৩৭-২০০৭) বর্তমান গান (২০০৭-বর্তমান)

চলো যাই, চলো, যাই চলো, যাই—
     চলো পদে পদে সত্যের ছন্দে
          চলো দুর্জয় প্রাণের আনন্দে!
              চলো মুক্তিপথে,
     চলো বিঘ্নবিপদজয়ী মনোরথে
করো ছিন্ন, করো ছিন্ন, করো ছিন্ন—
              স্বপ্নকুহক করো ছিন্ন।
          থেকো না জড়িত অবরুদ্ধ
                        জড়তার জর্জর বন্ধে।
     বলো জয় বলো, জয় বলো, জয়—
          মুক্তির জয় বলো ভাই॥
 
     চলো দুর্গমদূরপথযাত্রী চলো দিবারাত্রি,
                   করো জয়যাত্রা,
     চলো বহি নির্ভয় বীর্যের বার্তা,
          বলো জয় বলো, জয় বলো, জয়—
              সত্যের জয় বলো ভাই॥
 
     দুর করো সংশয়শঙ্কার ভার,
          যাও চলি তিমিরদিগন্তের পার।
     কেন যায় দিন হায় দুশ্চিন্তার দ্বন্দ্বে—
          চলো দুর্জয় প্রাণের আনন্দে।
              চলো জ্যোতির্লোকে জাগ্রত চোখে—
     
              বলো জয় বলো, জয় বলো, জয়—
          বলো নির্মল জ্যোতির জয় বলো ভাই॥
              হও মৃত্যুতোরণ উত্তীর্ণ,
          যাক, যাক ভেঙে যাক যাহা জীর্ণ।
     চলো অভয় অমৃতময় লোকে, অজর অশোকে,
              বলো জয় বলো, জয় বলো, জয়—
                            অমৃতের জয় বলো ভাই॥|

শুভ কর্মপথে ধর’ নির্ভয় গান।
সব দুর্বল সংশয় হোক অবসান।
চির- শক্তির নির্ঝর নিত্য ঝরে
লহ’ সে অভিষেক ললাট’পরে।
তব জাগ্রত নির্মল নূতন প্রাণ
ত্যাগব্রতে নিক দীক্ষা,
বিঘ্ন হতে নিক শিক্ষা—
নিষ্ঠুর সঙ্কট দিক সম্মান।
দুঃখই হোক তব বিত্ত মহান।
চল’ যাত্রী, চল’ দিনরাত্রি—
কর’ অমৃতলোকপথ অনুসন্ধান।
জড়তাতামস হও উত্তীর্ণ,
ক্লান্তিজাল কর’ দীর্ণ বিদীর্ণ—
দিন-অন্তে অপরাজিত চিত্তে
মৃত্যুতরণ তীর্থে কর’ স্নান॥

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

অনুষদ সমূহ[সম্পাদনা]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আটটি অনুষদের অধীনে মোট ৬৫টি দফতর রয়েছে। অনুষদগুলি হল: কৃষি অনুষদ; কলা অনুষদ; বাণিজ্য, সমাজকল্যাণ ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদ; শিক্ষা, সাংবাদিকতা ও গ্রন্থাগারবিজ্ঞান অনুষদ; প্রযুক্তি ও কারিগরি অনুষদ; চারুকলা, সংগীত ও গৃহবিজ্ঞান অনুষদ; আইন অনুষদবিজ্ঞান অনুষদ[১৩]

কৃষি অনুষদ[সম্পাদনা]

কৃষি অনুষদে কেবল একটিই বিভাগ রয়েছে। সেটি হল কৃষিবিজ্ঞান বিভাগ। এই বিভাগে কৃষি-রসায়ন ও মৃত্তিকাবিজ্ঞান, কৃষিনীতি (অ্যাগ্রোনমি), উদ্যানপালন বিদ্যা (হর্টিকালচার), প্ল্যান্ট ফিজিওলজি, জেনেটিকস ও বৃক্ষপ্রজনন (প্ল্যান্ট ব্রিডিং) এবং বীজবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপর স্নাতকোত্তর পাঠক্রম চালু আছে। ১৯৫০-এর দশকে কৃষি অনুষদের খয়রা অধ্যাপক পবিত্রকুমার সেন "কৃষি কলেজ" স্থাপন করেন।[১৪]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগটি ১৯৫৪ সালের এপ্রিল মাসে চালু হয়েছিল। কৃষি অনুষদের ছ-টি বিভাগ নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ এগ্রিকালচারাল সায়েন্স প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে।[১৪]

কলা অনুষদ[সম্পাদনা]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের অধিভুক্ত বিভাগগুলি হল আরবি ও ফার্সি বিভাগ, প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, পুরাতত্ত্ব বিভাগ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, অর্থনীতি বিভাগ, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ফরাসি বিভাগ, হিন্দি বিভাগ, ইতিহাস বিভাগ, ইসলামি ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ভাষা বিভাগ, ভাষাতত্ত্ব বিভাগ, জাদুঘর বিজ্ঞান বিভাগ, পালি বিভাগ, দর্শন বিভাগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সংস্কৃত বিভাগ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া গবেষণা বিভাগ, তামিল গবেষণা বিভাগ, উর্দু বিভাগ[১৫]

অর্থনীতি বিভাগ[সম্পাদনা]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগটি চালু হয় ১৯১৪ সালে। এই বিভাগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোড শিক্ষাপ্রাঙ্গনে অবস্থিত। ২০০২ সাল থেকে এই বিভাগ অর্থনীতি নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করছে।[১৬]

আরবি ও ফার্সি বিভাগ[সম্পাদনা]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ফার্সি বিভাগটি চালু হয় ১৯১৩ সালে। এই বিভাগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ শিক্ষাপ্রাঙ্গনের (কলেজ স্ট্রিট শিক্ষাপ্রাঙ্গন) আশুতোষ ভবনে অবস্থিত।[১৭]

পুরাতত্ত্ব বিভাগ[সম্পাদনা]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতত্ত্ব বিভাগটি চালু হয় ১৯৬০ সালে। এই বিভাগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ক্ষুদিরাম শিক্ষাপ্রাঙ্গনে (আলিপুর শিক্ষাপ্রাঙ্গন) অবস্থিত।[১৮]

প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ[সম্পাদনা]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগটি চালু হয় ১৯১৮ সালে। এই বিভাগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ক্ষুদিরাম শিক্ষাপ্রাঙ্গনে (আলিপুর শিক্ষাপ্রাঙ্গন) অবস্থিত।[১৯]

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ[সম্পাদনা]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগটি চালু হয় ১৯১৯ সালের ১ জুন। এই বিভাগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ শিক্ষাপ্রাঙ্গনের (কলেজ স্ট্রিট শিক্ষাপ্রাঙ্গন) আশুতোষ ভবনে অবস্থিত।[২০]

উপাচার্য স্যার নীলরতন সরকারের উদ্যোগে আধুনিক ভারতীয় ভাষা বিভাগ নামে এই বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। আচার্য দীনেশচন্দ্র সেনকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা মনে করা হয়। বাংলা বিভাগের প্রথম অধ্যাপক পদটি রামতনু লাহিড়ীর নামে সৃষ্টি করা হয়। রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রামতনু লাহিড়ি অধ্যাপক। তিনি ১২ বছরেরও বেশি সময় এই পদে ছিলেন। ১৯৩২ সালের ১ আগস্ট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রামতনু লাহিড়ী অধ্যাপক পদে নিয়োগ করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নামে বাংলা বিভাগে দুটি অধ্যাপক-চেয়ার পদ রয়েছে। অধ্যাপক আশুতোষ ভট্টাচার্য এই বিভাগে লোকসাহিত্য, মঙ্গলকাব্য ও বাংলা নাটক পেপার তিনটি চালু করেছিলেন। বহু প্রথম সারির বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও অভিনেতার নাম এই বিভাগটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে।[২০]

এই বিভাগের কয়েকজন বিশিষ্ট অধ্যাপকের নাম: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দীনেশচন্দ্র সেন, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সুশীলকুমার দে, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, বসন্তরঞ্জন রায়, ডি আর ভাণ্ডারকর, আই জে এস তারাপোরওয়ালা, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, সুধীরকুমার দাশগুপ্ত, তমোনাশচন্দ্র দাশগুপ্ত, প্রিয়রঞ্জন সেন, জনার্দন চক্রবর্তী, বিশ্বপতি চৌধুরী, মণীন্দ্রমোহন বসু, মহম্মদ শহিদুল্লাহ, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য, শশিভূষণ দাশগুপ্ত, প্রমথনাথ বিশী, হরপ্রসাদ মিত্র, বিজনবিহারী ভট্টাচার্য, সুকুমার সেন, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, আশুতোষ ভট্টাচার্য, দ্বিজেন্দ্রনাথ বসু, অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।[২০]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ চারটি সম্মানজনক পুরস্কার প্রদান করে থাকে। এগুলি হল: জগত্তারিণী পদক, সরোজিনী বসু পদক, লীলা পুরস্কার ও ভুবনমোহিনী দাসী পদক।[২০]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ দ্বারা আয়োজিত সম্মানী বক্তৃতাগুলি হল:[২০]

  • দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রিডারশিপ (বার্ষিক) – বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত চারটি বক্তৃতা।
  • বিদ্যাসাগর লেকচারশিপ (বার্ষিক) – বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সমাজ সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ের উপর বক্তৃতা।
  • দীনেশচন্দ্র সেন স্মৃতি লেকচারশিপ (বার্ষিক) – বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক বক্তৃতা।
  • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্মৃতি লেকচারশিপ (দ্বিবার্ষিক) – বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক বক্তৃতা।
  • রামমোহন রায় লেকচারশিপ (বার্ষিক) – রাজা রামমোহন রায়ের উপর বক্তৃতা।
  • গিরিশচন্দ্র ঘোষ লেকচারশিপ (দ্বিবার্ষিক) – বাংলা সাহিত্য বিষয়ক বক্তৃতা।
  • অধ্যাপক সুধীরকুমার দাশগুপ্ত বক্তৃতা (দ্বিবার্ষিক) – নন্দনতত্ত্ব ও সাহিত্য সমালোচনা বিষয়ক বক্তৃতা।
  • লীলা লেকচারশিপ (দ্বিবার্ষিক) – বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক বক্তৃতা
  • পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় স্মৃতি লেকচারশিপ (বার্ষিক) – বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা নাটক, বিষয়ক বক্তৃতা।
  • অশোকবিকাশ ভট্টাচার্য স্মৃতি বক্তৃতা (বার্ষিক) – বাংলা ভাষা ও কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক বক্তৃতা।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ দশটি বৃত্তি প্রদান করে থাকে। এগুলি হল: প্রয়াত রাসবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায় স্মৃতি অর্থ পুরস্কার, পত্রলেখা দেবী বৃত্তি, অনিলচন্দ্র গুপ্ত স্মৃতি ছাত্রবৃত্তি, জ্ঞানদাসুন্দরী সরকার স্মৃতি বৃত্তি, পারমিতা বসু স্মৃতি বৃত্তি, রূপলেখা নন্দী স্মৃতি বৃত্তি, কল্যাণী সরকার স্মৃতি বৃত্তি, কমলাবালা পাল স্মৃতি ছাত্রবৃত্তি, অমলকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় স্মৃতি ছাত্রবৃত্তি ও যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত স্মৃতি ছাত্রবৃত্তি।[২০]

২| ইংরেজি:

৪। দর্শন:

৫। ইতিহাস:

৭। ইসলামিক স্টাডিজ:

৮। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি:

৯। সংস্কৃত ও পালি:

১০। তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা

১১। ভাষাতত্ত্ব

১২। নাট্যকলা ও সঙ্গীত

১৩। বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব

বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

বিভাগ সমূহ ১। পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ :

২। গণিত বিভাগ:

৩। রসায়ন বিভাগ:

৪। পরিসংখ্যান বিভাগ:

৫। ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ:

৬। ভূতত্ত্ব বিভাগ:

৭। ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগ

'৮। ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি বিভাগ:

৯। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ:

আইন অনুষদ[সম্পাদনা]

বিভাগ সমূহ

১। আইন বিভাগ

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

বিভাগ সমূহ

১। অর্থনীতি বিভাগ :

২। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ :[[

৩। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ:

৪। সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ:

৫। লোক প্রশাসন বিভাগ:

৬। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

৭। নৃবিজ্ঞান বিভাগ:

৮। পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ

৯। শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ:

১০। উইমেন্স স্টাডিজ বিভাগ:

১১| ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ[সম্পাদনা]

বিভাগ সমূহ

১। ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ:

২। একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ:

৩। মার্কেটিং বিভাগ:

৪। ফিন্যান্স বিভাগ:

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ [১]
  2. ২.০ ২.১ Chakraborty, Rachana। "University of Calcutta"Banglapedia। Asiatic Society of Bangladesh। সংগৃহীত 2007-03-22 
  3. ভারতের ইতিহাস: ১৫২৬ খ্রীষ্টাব্দ হইতে ১৯১৪ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত , অতুলচন্দ্র রায় ও প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়, মৌলিক লাইব্রেরি, কলকাতা, ১৯৯৯, পৃ. ৪৫৬
  4. ৪.০ ৪.১ "কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়: সার্ধশতবর্ষ সমীক্ষণ", দীনেশচন্দ্র সিংহ, সারস্বত: বাংলার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ইতিবৃত্ত, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, কলকাতা, ২০০৮, পৃ. ১৬১-৭২
  5. >"কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো দিনগুলি", দীনেশচন্দ্র সিংহ, প্রসঙ্গ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা, ২০০৭, পৃ. ১-৫
  6. ৬.০ ৬.১ "Genesis and Historical Overview of the University"University and its Campuses। University of Calcutta। সংগৃহীত 2007-03-22 
  7. ৭.০ ৭.১ ৭.২ "Memorable Events"University and its Campuses। University of Calcutta। সংগৃহীত 2007-03-22 
  8. Tribune of India article on Nawab Jassa Singh Ahluwalia Government College
  9. "Campus Area"University and its Campuses। University of Calcutta। আসল থেকে 2007-03-21-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 2007-04-11 
  10. ১০.০ ১০.১ ১০.২ ১০.৩ "Campuses"University and its Campuses। University of Calcutta। 
  11. "Calcutta University plans Techno campus"Other States: West Bengal (The Hindu)। 16 January 2006। সংগৃহীত 2007-04-13 
  12. [ http://www.caluniv.ac.in/About%20the%20university/university_frame.htm University Song]
  13. "Courses Offered"। University of Calcutta। সংগৃহীত 2007-04-11 
  14. ১৪.০ ১৪.১ "Faculty Council for Post-Graduate Studies in Agriculture"Courses offered। University of Calcutta। সংগৃহীত 2007-04-11 
  15. "Faculty Council for Post-Graduate Studies in Arts"Courses offered। University of Calcutta। সংগৃহীত 2007-04-11 
  16. "Department of Economics"Courses offered। University of Calcutta। সংগৃহীত 2007-04-11 
  17. "Department of Arabic & Persian"Courses offered। University of Calcutta। সংগৃহীত 2007-04-11 
  18. "Department of Archaeology"Courses offered। University of Calcutta। সংগৃহীত 2007-04-11 
  19. "Department of Ancient Indian History & Culture"Courses offered। University of Calcutta। সংগৃহীত 2007-04-11 
  20. ২০.০ ২০.১ ২০.২ ২০.৩ ২০.৪ ২০.৫ "Department of Bengali Language & Literature"Courses offered। University of Calcutta। সংগৃহীত 2007-04-11 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েব‌সাইট (ইংরেজিতে)

আরও দেখুন[সম্পাদনা]