আইয়ুব খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আইয়ুব খান
محمد ایوب خان
পাকিস্তানের ২য় রাষ্ট্রপতি
কার্যালয়ে
২৭শে অক্টোবর, ১৯৫৮ – ২৫শে মার্চ, ১৯৬৯
পূর্বসূরী ইস্কান্দর মির্জা
উত্তরসূরী ইয়াহিয়া খান
Minister of the Interior
কার্যালয়ে
23 March 1965 – 17 August 1965
পূর্বসূরী Khan Habibullah Khan
উত্তরসূরী Chaudhry Ali Akbar Khan
Minister of Defence
কার্যালয়ে
28 October 1958 – 21 October 1966
পূর্বসূরী Muhammad Ayub Khuhro
উত্তরসূরী Afzal Rahman Khan
কার্যালয়ে
24 October 1954 – 11 August 1955
পূর্বসূরী Muhammad Ali Bogra
উত্তরসূরী Chaudhry Muhammad Ali
Chief of Army Staff
কার্যালয়ে
16 January 1951 – 26 October 1958
পূর্বসূরী Douglas Gracey
উত্তরসূরী Muhammad Musa
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (১৯০৭-০৫-১৪)১৪ মে ১৯০৭
Haripur, ব্রিটিশ ভারত
(now পাকিস্তান)
মৃত্যু ১৯ এপ্রিল ১৯৭৪(১৯৭৪-০৪-১৯) (৬৬ বছর)
Islamabad, Pakistan
রাজনৈতিক দল Pakistan Muslim League
সন্তান Gohar Ayub
Nasim
অধ্যয়নকৃত শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান
Aligarh Muslim University
Royal Military Academy Sandhurst
সামরিক পরিষেবা
আনুগত্য  British India
 পাকিস্তান
সার্ভিস/বিভাগ  ব্রিটিশ ভারত সেনাবাহিনী
 পাকিস্তান সৈন্যবাহিনী
চাকুরির বছর 1928–1958
পদ US-O11 insignia.svg Field Marshal
ইউনিট 14th Sherdils, Punjab Regiment
নেতৃত্ব Chief of Army Staff
Deputy Chief of Army Staff
GOC of East Pakistan Army
Waziristan Brigade, British Army
14th Army Division, Pakistan Army
Adjutant General, General Headquarters
যুদ্ধ World War II
Waziristan campaign (1936–1939)
Burma Campaign
Indo-Pakistani War of 1965
পুরস্কার Hilal-i-Jur'at
Hilal-e-Pakistan
Nishan-e-Pakistan

ফিল্ডমার্শাল আইয়ুব খান (উর্দু: محمد ایوب خان; মে ১৪, ১৯০৭এপ্রিল ১৯, ১৯৭৪) একজন পাকিস্তানী সেনাপতি ও রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৯৫৮ হতে১৯৬৯ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত পাকিস্তানের সামরিক শাসক ও পরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।[১] ৭ অক্টোবর, ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মীর্জা সংবিধান বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং দেশে সামরিক আইন জারি করেন। এভাবে ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল হয় এবং সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মুহাম্মদ আইয়ুব খান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। সকল ক্ষমতা নিজ হাতে তুলে নেবার তিন সপ্তাহ পরেই ইস্কান্দার মীর্জাকে সরে যেতে হয়। আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর,১৯৫৮ সালে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।[১][২] ১৯৬৫ সালে তিনি ফিল্ড মার্শাল খেতাব গ্রহণ করেন।[৩] তার শাসনকালকে উন্নয়নের দশক হিসাবে অবিহিত করা হ্য়। তার একটি বইয়ের নাম হলো 'ফ্রেন্ড নট মাস্টার'। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর পতন ঘটে এবং তিনি জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

জীবনী[সম্পাদনা]

১৪ই মে, ১৯০৭ এ আইয়ুব খান হরিপুরে এক পশতুন গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। আইয়ুবের পিতা মীর দাদ খান বৃটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক অশ্বারোহী রেজিমেন্টের রিসালদার মেজর ছিলেন। আইয়ুব আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও রাজকীয় সেনা একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট এ সুযোগ পেয়ে যান এবং লেখাপড়া শেষ না করেই স্যান্ডহার্স্টে যোগ দেন। কৃতিত্বের কারণে তাকে অফিসার হিসেবে ১৪ পাঞ্জাব রেজিমেন্টে নিয়োগ দেয়া হয়।

১৯৫১ সালের ১৭ জানুয়ারি আইয়ুব খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৫৪ সালে বগুড়ার মোহাম্মদ আলির মন্ত্রীসভায় আইয়ুব প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৭ অক্টোবর ১৯৫৮ ইস্কান্দর মির্জা মার্শাল ল' জারি করলে আইয়ুব খান প্রধান সেনা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান।[১] ২৭শে অক্টোবর ১৯৫৮ ইস্কান্দর মির্জাকে বিনা রক্তপাতে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতায় বসে স্বপ্রণীত একটি "গণতান্ত্রিক" পদ্ধতি চালু করেন এবং নিজের ক্ষমতা আরো পোক্ত করেন। ১৯৬৩ সালে ফাতিমা জিন্নাহর সাথে প্রতিদ্বদ্বিতা করে ৬১% ভোটে জিতে তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

ক্ষমতা গ্রহণের পর আইয়ুব খান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নবিরোধী ভূমিকা গ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে ভারতের সাথে সিন্ধুনদের পানিবন্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় আইয়ুব সরকারের তত্ত্বাবধানে। পরবর্তীতে আইয়ুব চীনের সাথেও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করেন। ভারতের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক মূলত অবনত হয় এবং ১৯৬৫ সালে ইন্দো-পাক যুদ্ধ হয় গুজরাটের কচ্ছের রান সীমান্ত নিয়ে। এ যুদ্ধ তাসখন্দ ঘোষণার মধ্য দিয়ে নিষ্পন্ন হয়। যুদ্ধের পরিণতি পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং জুলফিকার আলি ভূট্টো পশ্চিম পাকিস্তানে আইয়ুবের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবিভূর্ত হন। পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্বশাসনের তীব্র দাবি উত্থাপিত হয় শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

২৫ মার্চ ১৯৬৯ আইয়ুব খান গণদাবীর মুখে তদানীন্তন সেনাপ্রধান ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন।[১] ১৯ এপ্রিল ১৯৭৪ এ আইয়ুব খান মৃত্যুবরণ করেন। তার বিরুদ্ধে স্বৈরাচার, জনগণের অধিকার লুণ্ঠন ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

সামরিক অফিস
পূর্বসূরী
Douglas Gracey
Chief of Army Staff
1951–1955


উত্তরসূরী
Muhammad Musa
রাজনৈতিক দফতর
পূর্বসূরী
Muhammad Ali Bogra
Minister of Defence
1954–1955


উত্তরসূরী
Chaudhry Muhammad Ali
পূর্বসূরী
Iskander Mirza
President of Pakistan
1958–1969


উত্তরসূরী
Yahya Khan
Chief Martial Law Administrator
1958–1969


পূর্বসূরী
Muhammad Ayub Khuhro
Minister of Defence
1958–1966


উত্তরসূরী
Afzal Rahman Khan
পূর্বসূরী
Khan Habibullah Khan
Minister of the Interior
1965


উত্তরসূরী
Chaudhry Ali Akbar Khan

টেমপ্লেট:Martial Law Administrators of Pakistan