খাজা নাজিমুদ্দিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
খাজা নাজিমুদ্দিন

পাকিস্তানের ২য় গভর্ণর খাজা নাজিমউদ্দীন ছিলেন ঢাকার নওয়াব পরিবারের সন্তান। পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থেকে গভর্ণর হওয়া নাজিমউদ্দীন বাঙালীদের চাওয়াকে আমলে না এনে পশ্চিম পাকিস্তানীদের সন্তুষ্টি অর্জনেই বেশি সচেষ্ট ছিলেন। ১৯৪৮ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার ব্যাপারে চেষ্টা করবেন বলে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাথে চুক্তি করলেও পরবর্তীতে গভর্নর এবং তারও পরে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন নি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকা কালীন ১৯৫২ সালে পূর্ব-পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) ভাষা আন্দোলন হয়। সরকারী আদেশে সেনাবাহিনী গুলি চালায় আন্দোলনকারীদের ওপর।

খাজা নাজিমউদ্দীনের জন্ম ১৮৯৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার নওয়াব পরিবারে। প্রথমে তিনি বৃটেনের ডান্সটেবল গ্রামার স্কুলে ও তারপর আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। অতঃপর তিনি ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের টৃনিটি হলেও শিক্ষা করেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে এসে তিনি বাংলায় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯২৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৩৪ সালের জুন পর্যন্ত তিনি অবিভক্ত বাংলার শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ১৯৩৭ সালের এপ্রিলে এ.কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত কৃষক প্রজা পার্টি এবং মুসলিম লীগের কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিও ছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হলে নিযুক্ত হয়েছিলেন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী । ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কয়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র মৃত্যুতে ইতি ঘটে স্বাধিন পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেলের স্বল্প সময়ের শাসনকাল। এরপর ৩ দিন পর ১৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন। পরবর্তীতে ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর পাক প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান নিহত হলে তাঁকে অস্থায়ীভাবে পালন করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও। গোলাম মোহাম্মদকে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত করার পর ১৯৫১ সালে ২৪ অক্টোবর তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

পরবর্তীতে সামরিক শাসক আইয়ুব খানকে অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলীয় ঐক্যজোট সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ) গঠিত হয়। ১৯৬৪তে 'কপ' গঠনে আইয়ুব-বিরোধী মুসলিম লীগ নেতা খাজা নাজিমুদ্দিন প্রধান ভূমিকা রাখেন।

সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে অবস্থিত তিন নেতার মাজারে নাজিমুদ্দিনের সমাধি।

তার মৃত্যু হয় ১৯৬৪ সালের ২১ অক্টোবর। ঢাকা হইকোর্টের পশ্চিম দিতে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে তিন নেতার মাজার নামে পরিচিত সমাধিতে তাকে সমাহিত করা হয়।