শাহাবুদ্দিন আহমেদ (চিত্রশিল্পী)
| শাহাবুদ্দিন আহমেদ | |
|---|---|
শাহাবুদ্দিন আহমেদ (চিত্রশিল্পী) |
|
| জন্ম | ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৫০ |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| পেশা | চিত্রশিল্পী |
শাহাবুদ্দিন আহমেদ (জন্মঃ ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৫০) হচ্ছেন বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী। তার পৈত্রিক নিবাস বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার আলগী গ্রামে হলেও তিনি ১৯৫০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে শাহাবুদ্দিনের বাবার নাম তায়েবউদ্দীন প্রধান ও মায়ের নাম সাইফুন্নেছা। তিনি তার অংকিত কর্মগুলো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন। ১৯৯২ সালে মাস্টার পেইন্টার্স অব কনটেম্পোরারী আর্টসের পঞ্চাশ জনের একজন হিসেবে বার্সেলানায় অলিম্পিয়াড অব আর্টস পদকে ভূষিত হন।
পরিচ্ছেদসমূহ |
[সম্পাদনা] শিক্ষা গ্রহণ
শিল্পী শাহাবুদ্দিন ১৯৬৮ সালে এস,এস,সি পাশ করেন ফরিদউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে৷ তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন আর্টসে পড়াশোনা করে বিএফএ ডিগ্রী অর্জন করেন। ঐ বছরই ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। পরবর্তীতে ফ্রান্স সরকার হতে চারুকলায় বৃত্তিলাভ করে ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ইকোল দে বোজার্ট চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে অদ্যাবধি প্যারিসে কর্মরত আছেন।
[সম্পাদনা] ব্যক্তিগত জীবন
ব্যক্তিগত জীবনে আনা’কে বিয়ে করেন শাহাবুদ্দিন আহমদে। সংসারে তার দুই মেয়ে - চিত্র ও চর্চা আছে।[১]
[সম্পাদনা] চিত্রকলায় অবদান
বড় ক্যানভাসের পর্দায় গতিশীল ও পেশীবহুল অতিমানবীয় পুরুষের ছবি আঁকতে ভীষণ পছন্দ করেন শাহাবুদ্দিন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে রংয়ের তুলির সাহায্যে যথাযথ উপস্থাপনা, প্রতিস্থাপন ইত্যাদি বিষয়গুলো সার্থক ও সফলভাবেই সম্পন্ন করেছেন তিনি। এছাড়াও, শাহাবুদ্দিনের তুলিতে নারী চিত্রকর্মগুলোয় তাদের চিরায়ত কোমলতা, দ্যুতির স্পন্দন, স্নিগ্ধতা দেখা যায়। মিহি কাপড়ের মাধ্যমে নারীকে আবৃত করে শারীরিক সৌন্দর্য্যের দ্যূতি তুলে ধরেন তিনি যাতে রমণীর অলৌকিক ও অসীম শক্তি বিচ্ছুরিত হয়।[২]
[সম্পাদনা] চিত্র প্রদর্শনী ও চিত্রশালা
দেশ-বিদেশের অনেক গ্যালারীতে তার একক ও যৌথভাবে চিত্রকর্মের প্রদর্শনী হয়। তন্মধ্যে একক প্রদর্শনী হিসেবে -
- ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্তদেরকে অর্থ সাহায্যের জন্য ঢাকায় চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে চিত্র প্রদর্শনী;
- হল্যান্ড, পোল্যান্ড, সেনেগাল, বেলজিয়াম এবং ভারত-সহ সুইজারল্যাণ্ডের লুসানে অবস্থিত অলিম্পিক মিউজিয়াম এবং ফ্রান্সের বোর্গ-এন ব্রেজ মিউজিয়ামেও বৈশ্বিকভাবে প্রদর্শন অন্যতম।
যৌথ প্রদর্শনী হিসেবে -
- সেঁজুতির প্রথম চিত্রকলা প্রদর্শনী ও ভাষা আন্দোলন উপলক্ষ্যে চিত্র প্রদর্শনী, ঢাকা, বাংলাদেশ;
- প্যারিসে অধ্যয়নরত শিল্পীদের আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনী, প্যারিস, ফ্রান্স;
- প্যারিসে ইউনেস্কো আয়োজিত আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনী, প্যারিস, ফ্রান্স;
- বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পকলা প্রদর্শনী, চীন;
- গ্যালারী কনট্রাস্টে চিত্র প্রদর্শনী ব্রাসেলস, বেলজিয়াম;
- "দি হারমোনী শো", মুম্বাই, ভারত;
- ইতালী ও কিউবাতে চিত্র প্রদর্শনী;
- "সিগার দ্য লা হাভানা আ হরিজন ২০০০" চিত্র প্রদর্শনী, প্যারিস, ফ্রান্স অন্যতম।
শাহাবুদ্দিন আহমেদের বিভিন্ন চিত্রকর্ম বাংলাদেশ-সহ বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রখ্যাত গ্যালারী, বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত আছে ৷
[সম্পাদনা] মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও চিত্রকলায় প্রভাব
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন শিল্পী সাহাবুদ্দিন আহমেদ। সহযোদ্ধা হিসেবে তার সাথে ছিলেন - ঢাকার বর্তমান মেয়র সাদেক হোসেন খোকা এবং পপ সম্রাট ও গুরু আজম খান। শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচণ্ড গতি, শক্তি, জীবন বাজি রেখে সম্মুখ রণাঙ্গনে অগ্রসর হবার কারণে তিনি তার ছবিতে গতিকে প্রাধান্য দেন বেশী।[৩]
[সম্পাদনা] পুরস্কার প্রাপ্তি
চারু ও কারুকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ-বিদেশে অনেক পুরস্কার লাভ করেন শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ।
| ক্রমিক নং | পুরস্কারের নাম ও মান | সাল | পুরস্কারের বিবরণ |
|---|---|---|---|
| (১) | রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক | ১৯৬৮ | শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী |
| (২) | প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক | ১৯৭৩ | |
| (৩) | বাংলা একাডেমী পুরস্কার | ১৯৭৪ | যাচাই প্রয়োজন কিন্তু স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারের তথ্যসূত্রে উল্লেখ রয়েছে |
| (৪) | ১ম পুরস্কার | ১৯৭৫ | প্যারিসে অধ্যয়নরত শিল্পীদের আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনী |
| (৫) | ১ম পুরস্কার | ১৯৭৯ | প্যারিসে আয়োজিত ৩১টি দেশের শিল্পীদের আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনী |
| (৬) | ১ম পুরস্কার | ১৯৮০ | ইউনেস্কো আয়োজিত আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনী |
| (৭) | শ্রেষ্ঠ পুরস্কার | ১৯৮২ | বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী কর্তৃক আয়োজিত নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী |
| (৮) | স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার | ২০০০ | চারুকলা ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ[৪] |