উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী

স্যার উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী (১৯ ডিসেম্বর ১৮৭৩ [১] - ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬) একজন ডাক্তার এবং বৈজ্ঞানিক । তিনি কালাজ্বরের ওষুধ ইউরিয়া স্টিবামাইন আবিষ্কার করেছিলেন ।[২]

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রাথমিক জীবন [সম্পাদনা]

উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী বিহারের মুঙ্গের জেলার জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । তাঁর পিতা ডাক্তার নীলমনি ব্রহ্মচারী এবং তাঁর মাতা সৌরভ সুন্দরী দেবী । [১] তাঁর নিবাস ছিল হুগলির মহেশতলা । উপেন্দ্রনাথ জামালপুরে পূর্ব রেলওয়ের বয়েজ হাই স্কুলে পড়েছিলেন । ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে গণিতে প্রথম শ্রেণীর অনার্স সহ বিএ পাস করেন হুগলি কলেজ থেকে । ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে রসায়নে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন । ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে মেডিসিন ও সার্জারিতে প্রথম স্থান নিয়ে এমবি পাস করেন ও গুডিভ ও ম্যাকলাউড পদক পান । ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে এমডি এবং এরপর শরীরতত্ত্বে পিএইচডি উপাধি পান । পিএইচডিতে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল হিমোলাইসিস (Haemolysis) বা রক্তকণিকার ভেঙে পড়া সংক্রান্ত । এছাড়াও তিনি কোট্‌স পদক, গ্রিফিথ পুরস্কার ও মিন্টো পদক পান । [২][৩]

কর্মজীবন [সম্পাদনা]

১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল স্কুলে প্যাথলজিমেটিরিয়া মেডিকার শিক্ষকতা করেন । আইএমএস না হয়েও ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসক নিযুক্ত হন । ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে সরকারী কাজ থেকে অবসর নিয়ে কারমাইকেল মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষকতা করেন । কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-রসায়নেরও অধ্যাপক ছিলেন । ম্যালেরিয়া, ব্ল্যাকওয়াটার ফিভার এবং রসায়নশাস্ত্র বিষয়ে গবেষণা করেছেন । [২]

১৯২০ সালে উপেন্দ্রনাথ তৈরি করেন ইউরিয়া স্টিবামাইন । ১৯২২ সালে ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চে প্রকাশিত হল উপেন্দ্রনাথের আবিষ্কারের কথা । ৮ জন কালাজ্বর রোগীকে সুস্থ করার বিবরণ সহ । তিনি তাঁর গবেষণা পত্রে ওষুধটির বিষাক্ততা সম্পর্কে আলোচনা করলেন । ১৯২৩ সালের জুলাই মাসে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল গেজেটে ইউরিয়া স্টিবামাইন সম্পর্কে অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশিত হল । ১৯২৪ সালের এপ্রিল মাসে উপেন্দ্রনাথ আরো কিছু তথ্য প্রকাশ করলেন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল গেজেটে । কালাজ্বর কমিশন (১৯৩২) এর মেজর শর্টের অভিজ্ঞতায় ইউরিয়া স্টিবামাইন খুব নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য ওষুধ । এই ওষুধ ব্যবহার করে ৩.২৫ লক্ষ রোগীকে সারানো সম্ভব হয়েছে । কালাজ্বর ছাড়াও উপেন্দ্রনাথ ফাইলেরিয়া, ডায়াবেটিস, কুষ্ঠ, মেনিনজাইটিস প্রভৃতি নিয়েও গবেষণা করেছিলেন । [৩]

চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্বন্ধে রচনাবলীর মধ্যে ট্রিটিজ অন কালাজ্বর বিখ্যাত । ইংল্যান্ডের র‌য়্যাল সোসাইটি অফ মেডিসিনের সভ্য, ইন্দোরে ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের (১৯৩৬) সভাপতি এবং নানা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন । [২] তিনি ব্রহ্মচারী রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপন করে দেশী ওষুধ প্রস্তুত করেন । [২]

পুরস্কার ও সম্মান [সম্পাদনা]

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে গ্রিফিথ মেমোরিয়াল পুরস্কারে সম্মানিত করেছিল । স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন তাঁকে মিন্টো পদক দিয়েছিল । এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল তাঁকে স্যার উইলিয়াম জোনস পদকে সম্মানিত করেছিল । এছাড়াও তিনি কাইজার-ই-হিন্দ স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন । ব্রিটিশ সরকার তাঁকে রায়বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করেছিল । ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে উপেন্দ্রনাথ ব্র্‌হ্মচারী নাইট উপাধি পান । [১] ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল । [৪]

তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ বিজ্ঞান প্রসার ওয়েবসাইটে উপেন্দ্রনাথ
  2. ২.০ ২.১ ২.২ ২.৩ ২.৪ সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান প্রথম খণ্ড - সংশোধিত চতুর্থ সংস্করণ - সাহিত্য সংসদ
  3. ৩.০ ৩.১ ভারতকোষে উপেন্দ্রনাথ
  4. নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইট