জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
Jagannath University logo.png
নীতিবাক্য শিক্ষা, ঈমান, শৃঙ্খলা
স্থাপিত ২০০৫
ধরন সরকারি
আচার্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান[১]
অ্যাকাডেমিক স্টাফ প্রায় ৯৬০
প্রশাসন স্টাফ প্রায় ৮৫০
ছাত্র ২৩,০০০
অবস্থান , ঢাকা, বাংলাদেশ
২৩°৪২′৩৭″ উত্তর ৯০°২৪′৪০″ পূর্ব / ২৩.৭১০২৮° উত্তর ৯০.৪১১১১° পূর্ব / 23.71028; 90.41111স্থানাঙ্ক: ২৩°৪২′৩৭″ উত্তর ৯০°২৪′৪০″ পূর্ব / ২৩.৭১০২৮° উত্তর ৯০.৪১১১১° পূর্ব / 23.71028; 90.41111
ক্যাম্পাস শহরাঞ্চল
ওয়েবসাইট www.jnu.ac.bd
JNUBD.jpg
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার, সদরঘাটে অবস্থিত একটি স্বায়ত্বশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। পূর্বতন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু। অধ্যাপক ড: এ. কে. এম. সিরাজুল ইসলাম খান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৮৫৮ সালে এবং ২০০৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাশ করার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি পুর্নাজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপ নেয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবহিত প্রাক্তন নাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, তবে এটি জগন্নাথ কলেজ নামেই বিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ সময় জুড়ে পরিচিত ছিল। এটি ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজ। ১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে এর প্রতিষ্ঠা হয়। ১৮৭২ সালে এর নাম বদলে জগন্নাথ স্কুল করা হয়। বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরন করেন । ১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণীর কলেজে ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণীর কলেজে পরিণত হয়। এসময় এটিই ছিল ঢাকার উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুরু হলে জগন্নাথ কলেজের স্নাতক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির শিক্ষার্থী , শিক্ষক , গ্রন্থাগারের বই পুস্তক , জার্নাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয় । । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সাজাতে জগন্নাথ কলেজ গ্রন্থাগারের ৫০ ভাগ বই দান করা হয়। জগন্নাথ কলেজে আই,এ, আই,এসসি, বি,এ (পাস) শ্রেণী ছাড়াও ইংরেজি, দর্শন ও সংস্কৃতি অনার্স এবং ইংরেজিতে মাস্টার্স চালু করা হলেও ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অবনমিত করা হয় জগন্নাথকে। পুরানো ঢাকার নারী শিক্ষায় বাধা দূর করতে ১৯৪২ সালে সহশিক্ষা চালু করা হয়। ১৯৪৮ সালে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে ১৯৪৯ সালে আবার এ কলেজে স্নাতক পাঠ্যক্রম শুরু হয়।১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ রফিকউদ্দিন (ভাষা শহীদ রফিক) আত্মত্যাগ করেন । ১৯৬৩ সালে অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান পুনরায় কো-এডুকেশন চালু করেন। ১৯৬৮ সালে এটিকে সরকারীকরণ করা হয়, কিন্তু পরের বছরেই আবার এটি বেসরকারী মর্যাদা লাভ করে। ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাশের মাধ্যমে এটি পুর্নাজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয় । বর্তমানে মোট ছয়টি অনুষদের অধীনে ৩১ টি বিভাগের ও একটি ইন্সিটিউটের মাধ্যমে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে । ২০শে অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদসমূহ[সম্পাদনা]

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট ছয়টি অনুষদে ৩১ টি বিভাগ ও ০১ টি ইন্সিটিউট রয়েছে ।

লাইফ এন্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ[সম্পাদনা]

  • মাইক্রোবায়োলজি এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ
  • ফার্মাসি বিভাগ
  • রসায়ন বিভাগ
  • প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
  • উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ
  • ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ

বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

  • কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
  • গণিত বিভাগ
  • পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ
  • পরিসংখ্যান বিভাগ
  • মনোবিজ্ঞান বিভাগ

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ[সম্পাদনা]

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

  • অর্থনীতি বিভাগ
  • গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
  • রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
  • সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ
  • সমাজকর্ম বিভাগ
  • লোক প্রশাসন বিভাগ

কলা অনুষদ[সম্পাদনা]

  • বাংলা বিভাগ
  • ইংরেজি বিভাগ
  • নৃবিজ্ঞান বিভাগ
  • দর্শন বিভাগ
  • ইতিহাস বিভাগ
  • ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
  • ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
  • চারুকলা ও গ্রাফিক্স বিভাগ
  • নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ

আইন অনুষদ[সম্পাদনা]

  • আইন বিভাগ

ইন্সটিটিউট[সম্পাদনা]

ইংরেজি শিক্ষা কেন্দ্র

কৃতি শিক্ষার্থী[সম্পাদনা]

  • তাজউদ্দীন আহমেদ (বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী)
  • রফিক উদ্দিন আহমদ (ভাষা শহীদ)
  • জহির রায়হান (কথা শিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক) [তৎকালীন ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র]
  • যোগেশচন্দ্র ঘোষ(প্রখ্যাত আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বিশারদ এবং শিক্ষাবিদ)
  • ড. আনিসুজ্জামান (শিক্ষাবিদ)
  • সৈয়দ শামসুল হক (সাহিত্যিক)
  • ব্রজেন দাস(ইংলিশ চ্যানেল পাঁড়ি দেয়া সাঁতারু)
  • প্রেমেন্দ্র মিত্র(বাঙালি কবি, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং চিত্রপরিচালক)
  • জয়নুল আবেদিন(চিত্রশিল্পী)
  • এ,টি,এম,শামসুজ্জামান(অভিনেতা)
  • ইমদাদুল হক মিলন ( লেখক , সম্পাদক - দৈনিক কালের কণ্ঠ )
  • জাহিদ হাসান(অভিনেতা)
  • বিপ্লব(শিল্পী)
  • ফারুক(অভিনেতা)
  • রাজিউদ্দীন আহমেদ রাজু( সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী)
  • প্রবীর মিত্র(অভিনেতা)
  • রত্না (নায়িকা)
  • মীর সাব্বির (অভিনেতা)
  • ডঃ শামসুজ্জোহা (প্রথম শহীদ)
  • ভবতোষ দত্ত (অর্থনীতিবিদ)
  • হায়দার হোসেন (সঙ্গীত শিল্পী)
  • কাজী মোতাহার হোসেন (লেখক)
  • এ.আর.ইউসুফ (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ১৯৮০)

সাংস্কৃতিক সংগঠন[সম্পাদনা]

  • উদীচী
  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
  • জবি আবৃতি সংসদ
  • জবি চলচিত্র সংসদ
  • জবি সাংবাদিক সমিতি
  • জবি রোভার স্কাউট
  • বিএনসিসি
  • জবি শিক্ষক সমিতি
  • জঙ্কসু
  • জবি ডিবেটিং সোসাইটি

ছাত্র সংগঠন[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলো হল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন

স্বাস্থ্য কেন্দ্র[সম্পাদনা]

জবিতে স্বাস্থ্য রক্ষার মৌলিক সুবিধাদি সম্বলিত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। রোগ নির্ণয়ে সহায়ক অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন, আলট্রাস্নোগ্রাম, ই.সি.জি. মেশিন এবং আধুনিক স্বয়ংপূর্ণ একটি প্যাথলজিক্যাল ল্যাব আছে।

হলের তালিকা[সম্পাদনা]

ছাত্রদের থাকার সুবিধার্থে ডিসেম্বর, ২০১১ইং তারিখ পর্যন্ত সর্বমোট ১০টি হল বা ছাত্রাবাস রয়েছে। তন্মধ্যে ১টি ছাত্রীদের হল।[২] হলগুলোর তালিকা নিম্নরূপঃ-

কেন্দ্রিয় খেলার মাঠ ও শরীরচর্চা কেন্দ্র[সম্পাদনা]

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় খেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই ধুপখোলায় অবস্থিত । খেলার মাঠটি ১০ একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত । খেলার মাঠের পাশেই শরীরচর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে ।

কেরানীগঞ্জে জবির ক্যাম্পাস সম্প্রসারণে ১০০ একর জমি লিজ নেয়া হয়েছে । এছাড়া রাজউক এর ঝিলমিল প্রজেক্টে জবির হল নির্মাণে কথা চলছে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

[১]

  1. http://www.jnu.ac.bd/index.php?option=com_content&view=article&id=61&Itemid=73
  2. দৈনিক প্রথম আলো, বিশেষ প্রতিবেদন, মুদ্রিত সংস্করণ, ২১ ডিসেম্বর, ২০১১ইং