জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীক.svg
লাতিন: Jahangirnagar University
স্থাপিত ১৯৭০
ধরন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
আচার্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম
ডীন
অবস্থান ঢাকা, বাংলাদেশ
ক্যাম্পাস ৬৯৭.৫৬ একর
ডাকনাম জাবি
অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ওয়েবসাইট www.juniv.edu

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি অন্যতম আবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকার অদূরে সাভার এলাকায় প্রায় ৬৯৭.৫৬ একর এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। ১৯৭০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও সম্পূর্ণরূপে এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭২ সালে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা ও মানবিকী, গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক, সমাজ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যের নাম ড. ফারজানা ইসলাম।উপাচার্য ড.ফারজানা ইসলাম বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে ২০১৪ সালের ২ রা মার্চ থেকে দয়িত্ব পালন করছেন।এছাড়াও রয়েছেন দুজন প্রো-উপাচার্য।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

জাবি প্রবেশ পথ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিযায়ী পাখি

১৯৭০ সালে জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৩ সালে এটির নামকরণ করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা শহরের মুঘল আমলের নাম "জাহাঙ্গীরনগর" থেকে এই নামকরন করা হয় । প্রথম ব্যাচে ১৫০ জন ছাত্র নিয়ে ৪ টি বিভাগ চালু হয়। বিভাগগুলো হচ্ছে অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত এবং পরিসংখ্যান। ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করেন । তার আগে ১৯৭০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিযুক্ত হন অধ্যাপক মফিজ উদ্দিন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রখ্যাত কবি সৈয়দ আলী আহসান, লোকসাহিত্যবিদ মজহারুল ইসলাম, লেখক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আ ফ ম কামালউদ্দিন, আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ আব্দুল বায়েস, আলাউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান প্রমুখ । এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো শিক্ষকতা করেছেন অধ্যাপক সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায়, লেখক হায়াত্‍ মামুদ, লেখক হুমায়ুন আজাদ, নাট্যকার সেলিম আল দীন, কবি মোহাম্মদ রফিক (সদ্য অবসরপ্রাপ্ত), অধ্যাপক মুস্তাফা নূরুল ইসলাম, আবু রুশদ মতিনউদ্দিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, ইতিহাসবিদ বজলুর রহমান খান প্রমুখ । অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আনু মুহাম্মদ, ভাষাবিদ মহম্মদ দানিউল হক, কম্পিউটার বিজ্ঞানী মোহাম্মদ শরীফউদ্দিন, প্রত্নতত্ত্ববিদ সুফী মোস্তাফিজুর রহমান, রসায়নবিদ রবিউল ইসলাম, ইতিহাসবিদ এ কে এম শাহনাওয়াজ, প্লাজমা বিজ্ঞানী এ এ মামুন, গল্পকার মানস চৌধুরী, কবি ও গল্পকার রায়হান রাইন, কবি হিমেল বরকত, ছড়াকার- কবি খালেদ হোসাইন, লেখক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে পুরোদমে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। ক্রমে বিভাগের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বাংলাদেশের প্রথম নৃবিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলাদেশের একমাত্র প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুরুতে দুইটি অনুষদ নিয়ে যাত্রা করলেও পরের বছর কলা ও মানবিকী অনুষদ খোলা হয়। বর্তমানে অনুষদ ৫ টি। বাংলাদেশের স্বায়ত্বশাসিত প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ছাত্রসংখ্যায় এটি ক্ষুদ্রতম। কিন্তু বিভিন্ন জাতীয় ও অভ্যন্তরীন আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এরশাদ সরকারের আমলে শিক্ষা আন্দোলন ও ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে ছাত্ররা অংশগ্রহণ করে। ১৯৮৯ থেকে বিভিন্ন সময় ছাত্ররা ছাত্রশিবিরকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রতিহত করে। ১৯৯৮ সালে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মানিক ও তার সঙ্গীরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিতাড়িত হয়। পূণরায় প্রত্যাবর্তন করলে ১৯৯৯ সালের ২রা আগস্ট তারিখে শিক্ষার্থীদের এক অভ্যুত্থানে ওই অভিযুক্তরা পূণরায় বিতাড়িত হয়।[১] এই আন্দোলন দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন বলে পরিচিত। পরে ২০০৫, ২০০৬, ২০০৮২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নীপিড়ন বিরোধী আন্দোলন হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় বেতন ও ডাইনিং চার্জ বৃদ্ধি বন্ধ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, পানি সরবরাহ, আর্থিক স্বচ্ছতাসহ বিভিন্ন দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলো আন্দোলন করে।

বিদ্যায়তনিক পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কর্মকান্ড উল্লেখযোগ্য। মৌলিক বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এছাড়া উয়ারী ও বটেশ্বরে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের খননকার্য, দেশীয় নাট্যচর্চায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অবদান, বিদ্যায়তনিক নৃবিজ্ঞান চর্চায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের পথপ্রদর্শন সুবিদিত। ইতিহাস বিভাগের "ক্লিও", নৃবিজ্ঞান বিভাগের "নৃবিজ্ঞান পত্রিকা", বাংলা বিভাগের "ভাষা ও সাহিত্য পত্র", ইংরেজি বিভাগের "হারভেস্ট", দর্শন বিভাগের "কপুলা"সহ ২৬ টি বিভাগের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশনা গবেষণায় উল্লেখযোগ্য স্বাক্ষর রেখেছে।

অনুষদ এবং বিভাগ সমূহ[সম্পাদনা]

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
রসায়ন বিভাগ
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের মূল ফটক
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ

বর্তমানে ৫ টি অনুষদের অধীনে ২৭ টি বিভাগ এবং ৪ টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। এগুলো হল -

কলা ও মানবিকী অনুষদ[সম্পাদনা]

    • আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
    • দর্শন বিভাগ
    • ইংরেজি বিভাগ
    • ইতিহাস বিভাগ
    • নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ
    • প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ
    • বাংলা বিভাগ
    • জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ ‍বিভাগ
    • চারুকলা বিভাগ

জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ নামে বিভাগটি ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের একটি বিভাগ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। বিভাগটির প্রথম সভাপতির (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব পালন করেন কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক অসিত বরণ পাল। সঙ্গে চারজন প্রভাষক আমিনা ইসলাম, উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল, শেখ আদনান ফাহাদ ও রাকিব আহমেদ বিভাগটিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেন। প্রথম বর্ষে ৬৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিভাগটিতে প্রথম ক্লাস শুরু হয় ২০১২ সালের ২২ ডিসেম্বর। বর্তমানে বিভাগটিতে দুটি সেশনে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া তিনজন অফিস সহকারী রয়েছেন। অধ্যাপক অসিত বরণ পাল কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন হিসেবে পদাধিকার বলে বিভাগটির সভাপতি হলেও পরবর্তীতে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে সভাপতির (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে (২০১৪) সহকারী অধ্যাপক জনাব আমিনা ইসলাম সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদ[সম্পাদনা]

সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক অনুষদ[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগটি ২০০৭ থেকে ফুটবল খেলায় ৫ বছরে ৪ বারই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা কালীন বিভাগ। এই বিভাগ ভুগোল নামে চালু হলেও ১৯৯৮ সনে অর্থাৎ ২১ তম ব্যাচের মাস্টার্স পর্ব থেকে এটি পরিবেশ বিজ্ঞান যোগে ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগ নামে চলছে।

এটি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগ হলেও এর সার্টিফিকেট দেয়া হয় এম. এস.সি.।

জীববিজ্ঞান বিষয়ক অনুষদ[সম্পাদনা]

    • উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ
    • প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
    • জিন প্রকৌশল ও জৈব প্রযুক্তি বিভাগ।
    • ফার্মেসি বিভাগ
    • প্রাণরসায়্ণ ও আণবিক জীববিজ্ঞান বিভাগ
    • অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগ

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ[সম্পাদনা]

    • ফিনান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ
    • মার্কেটিং বিভাগ
    • অ্যাকাউন্টিং ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ
    • ব্যবস্থাপনা বিভাগ

আইন অনুষদ[সম্পাদনা]

    • আইন বিভাগ

ইন্সটিটিউট ও কেন্দ্র[সম্পাদনা]

    • ব্যাবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট (আইবিএ-জেইউ), সাবেক ব্যাবসায় প্রশাসন বিভাগ
    • ইনফরমেশন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট
    • ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র
    • ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেনসিং

স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্য—জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেধের একটি স্বনামধন্য বিশবিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৭০ সালে ঢাকার অদূরে সাভারে দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সম্মুখে ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলনের১৯৭১সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হিসাবে ৫২ ফুট ব্যাস ও ৭১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনারটি অবস্থিত। ৮টি সিঁড়ি ও ৩টি স্তম্ভ বিশিষ্ট; দৃঢ়তার প্রতীক ত্রিভুজ আকৃতির ঋজু কাঠামটিতে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের জন্য মহান বীর শহীদ-গণের আত্মত্যাগের মহিমা বিধৃত হয়েছে। ৮টি সিঁড়ি বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৮টি তাৎপর্যপূর্ণ বছর ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০ ও ১৯৭১ সাল-গুলোর এবং তিনটি স্তম্ভের একটি বাংলাভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও অপর দুইটি মাটি ও মানুষ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-অর্থনৈতিক মুক্তি ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিনিধিত্ব করে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ-শ্যামল প্রাঙ্গনে রক্তাভ এই শহীদ মিনারটি যেন শতত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা হিসেবেই প্রতীয়মান। স্থপতি - স্থপতি রবিউল হুসাইন ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন - প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান (২২ কার্তিক ১৪১১ ~ ৬ নভেম্বর ২০০৪), উদ্বোধন - প্রফেসর খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান (১ ফাল্গুন ১৪১৪ ~ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৮)

বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য "সংশপ্তক" । এই ভাস্কর্যে এক পা ও এক হাত হারিয়েও এক সংশপ্তক মুক্তিযোদ্ধা বিজয়ের হাতিয়ার উর্ধে তুলে ধরেছেন । এর স্থপতি হচ্ছেন একুশে পদক প্রাপ্ত হামিদুজ্জামান খান ।

সমাজবিজ্ঞান ভবনের সামনে রয়েছে ভাষা আন্দোলনের স্বরণে ভাস্কর্য "অমর একুশ" । এর স্থপতি হামিদুর রহমান ।

এছাড়া কবির স্মরণী নামের রাস্তার শুরুতে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রহমান কবীরের স্মরণে এবং আল বিরুনী হলের সামনে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী মুন্নির স্মরণে দুটি স্মারক আছে ।

আবাসিক হলসমূহ[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। অর্থাৎ, প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর জন্য এখানে হলে একটি করে আসন নির্দিষ্ট থাকার কথা। তবে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর সময়সীমা বৃদ্ধি ও দেরীতে পরীক্ষা গ্রহণের কারণে বর্তমানে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা বেশ দেরীতে আসন পায় । বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট হল সংখ্যা ১৩ টি, এর মধ্যে ছাত্রদের জন্য ৭টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৬টি হল রয়েছে।

আল বেরুনী হল[সম্পাদনা]

আসন ৫০০+, স্থাপিত ১৯৭০ ১ঌ৬৮ সালের জুন মাসে এদেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদের বসবাসের জন্য জরুরী ভিত্তিতে একটি আবাসিক হল নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়৷ সে মোতাবেক ১নং আবাসিক ছাত্রাবাস (বর্তমান আল বেরুনী হল) নির্মিত হয়৷ তখন এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ সুরত আলী খান৷ ১ঌ৭ঌ সালে খ্যাতনামা জ্ঞানসাধক `আল-বেরুনী'র নামানুসারে এই হলের নামকরণ করা হয়৷ ১ঌ৬৮-৬ঌ সালে ১৫,১২,০০০/- (পনের লক্ষ বার হাজার) টাকা ব্যয়ে “বাস্তকলাবিদ” নামক প্রকৌশল সংস্থার মাধ্যমে লাল ইটের ১২৮ কক্ষ বিশিষ্ট ৪(চার) তলার এই ছাত্রাবাসটি নির্মিত হয়৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে মহিলাদের জন্য আলাদা কোন হল না থাকায় আল বেরুনী হলের সংগে সংযুক্ত করে ১ঌ৭১-৭২ শিক্ষাবর্ষে মোট (তেইশ) জন ছাত্রীর নামে হলে সিট বরাদ্দ করা হয়৷ এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের জন্য নির্মিত এ-১ নং বাসাটিতে সাময়িকভাবে ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল৷ ১ঌ৮২ সনে ছাত্রীদের জন্য ১টি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক হল (নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল) নির্মিত হলে আল বেরুনী হলের নামে ছাত্রী ভর্তি বন্ধ করা হয়৷ পরবর্তী বছরগুলিতে ছাত্র ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করে আল বেরুনী হলের সংগে আরো ২টি সম্প্রসারিত ভবন ১ ও ২ যুক্ত করে এর বিপরীতে যথাক্রমে ১২৬ ও ১৬৮ জন ছাত্র ভর্তি করা হয়৷ ১ঌ৮৬ তে সম্প্রসারিত ভবন-১ আলাদা হল হিসাবে রূপান্তরিত হয় এর বর্তমান নাম ফজিলাতুন্নেসা হল৷ ১ঌ৮৩ সালে প্রাক্তন লাইব্রেরী ভবনকে হলের সংগে সংযুক্ত করে আরো ৬ঌ জন ছাত্র ভর্তি করা হয়৷ পরে এই ভবনটিকে একাডেমিক প্রয়োজনে প্রাণবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ভবনে হিসাবে রূপান্তর করা হয়৷

শিক্ষার্থীদেরদের সুবিধার্থে হলে লাইব্রেরী, কমনরুম, টিভি রুম, ম্যাগাজিন রুম, ডাইনিং হল, ক্যান্টিন, দোকান, লন্ড্রী, মসজিদ ও গেস্টরুম রয়েছে৷ বর্তমানে ১ জন প্রভোস্ট, সম্প্রসারিত ভবনে ১ জন ওয়ার্ডেন, ৫ জন আবাসিক শিক্ষক, ৩ জন সহকারী আবাসিক শিক্ষক, ১ জন সহকারী রেজিস্ট্রার, মূল ভবনে ১৫ জন এবং সম্প্রসারিত ভবনে ৫ জন তৃতীয় শ্রেণীর করমচারীসহ ৩৬ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও ১৩ জন ডাইনিং কর্মচারী নিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে৷ এই হলের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গণে বরাবরই বিশেষ নৈপুন্য প্রদর্শন করে আসছে এবং প্রতিষ্ঠাকাল থেকে নিয়মিতভাবে খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও ধর্মীয়য অনুষ্ঠানাদি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে৷

মীর মোশাররফ হোসেন হল[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দৃঢ় ও শোভন, নন্দি ও মনোরম আবাসিক ভবনের নাম "মীর মশাররফ হোসেন হল।" ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ঘন সবুজবেষ্টনীর ভেতর মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে এই শীর্ষমুখী লাল দালান। ছাত্রদের জন্যে নির্মিত হয়েছে ১৯৭৩ সালে। মীর মশাররফ হোসেন হল জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম হল৷ চারতলা বিশিষ্ট হলটি মুক্ত হাওয়া ও মনোরম পরিবেশে অবস্থিত৷ এ হলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১ঌ৭৩ সনে৷ হলের প্রথম প্রভোস্ট হিসাবে রসায়ন বিভাগের ডঃ মেসবাহউদ্দিন আহমেদ ১ঌ৭৩ সালের ৬ আগস্ট দায়িত্বভার গ্রহণ করেন৷ হলটি ১ঌ৭৩ সালের ৬ আগস্ট থেকে ১ঌ৭৮ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ২ নং হল হিসাবে পরিচিত ছিল৷ ১ঌ৭৮ সালের ১৪ এপ্রিল অনষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে “বিষাদ সিন্ধু” উপন্যাস রচয়িতা, অমর কথাশিল্পী মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে হলটির নাম করণ করা হয় “মীর মশাররফ হোসেন হল”৷ হলটিতে ৭১৬ জন ছাত্রের আসন রয়েছে৷ এর মধ্যে এক আসন বিশিষ্ট ২৬৪টি এবং দুআসন বিশিষ্ট ২২৬টি কক্ষ৷ হলের উত্তর পার্শ্বে পেয়েছে৷ এ ছাড়া হল সংলগ্ন ১২ জন আবাসিক শিক্ষকের বাসভবন, হলের উত্তর পার্শ্বে দ্বি-তিল হল অফিস, হল ছাত্র সংসদ অফিস এবং হলের উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে প্রভোস্টের দ্বি-তল বাসভবন অবস্থিত৷১ঌ৭৩ সালের ১৪ ডিসেম্বরে হলের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং ১ঌ৭৪ এর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ছাত্র বসবাস শুরু করে৷ বর্তমানে হল প্রশাসন পরিচালনার জন্য ১ জন প্রভোস্ট, ২ জন ওয়ার্ডেন, ৩ জন আবাসিক শিক্ষক, ৭ জন সহকারী আবাসিক শিক্ষক, ২ জন প্রশাসনিক অফিসার, ২২ জন তৃতীয় শ্রেণী এবং ৪১ জন ৪র্থ শ্রেণীরকর্মচারী ও ডাইনিং বয়সহ ২২জন অনিয়মিত ডাইনিং কর্মচারী রয়েছে৷ মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রদের ক্লাশ করার জন্য চমত্‌কার পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে৷ মূল ভবনটি দুটি ব্লকে বিভক্ত(ব্লক-এ এবং ব্লক-বি)। এই হলের মোট কক্ষ সংখ্যা মোট ৪৯০টির মাঝে ২৬৪টি হলো একক কক্ষ, যেগুলো পূর্ব-পশ্চিম সারিতে অবস্থিত। আর বাকি দ্বৈত কক্ষগুলো ৪৫ ডিগ্রী কোণ তৈরি করে একক কক্ষগুলোর সাথে দাড়িয়ে আছে। এর আসন সংখ্যা ৭০০ টি।

শহীদ সালাম-বরকত হল[সম্পাদনা]

আসন ৪০০, স্থাপিত ১৯৮৭

১ঌ৮৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বৃহত্তম হল হিসেবে এই হলের যাত্রা৷ ১ঌ৮৫ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ১০৬ তম সভার মোতাবেক হলের নাম রাখা হয় শহীদ সালাম-বরকত হল৷ এই নাম করণের মধ্যদিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন৷ আবাসিক শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে “শহীদ হাবিবুর রহমান কবীর স্মৃতি ”পাঠাগারের পাশাপাশি হল চত্বরেই দোকান, লন্ড্রী ও সেলুন নির্মাণ করা হয়েছে৷

আ. ফ. ম. কামালউদ্দিন হল[সম্পাদনা]

আসন ৪০০, স্থাপিত ১৯৮৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রয়াত অধ্যাপক আ ফ ম কামালউদ্দিনের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ হলের নাম রাখা হয়েছে আ ফ ম কামালউদ্দিন হল৷ ১ঌ৮৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এ হলেরই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তত্‌কালীন উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম কামালউদ্দিন৷ চারশত আসন বিশিষ্ট এই স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করেন স্থাপিত এম রহমান৷ ভিন্ন ভিন্ন তা প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন সময়ে হলের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন৷ হলের কাজ শেষ হয় ১ঌ৮ঌ সালের ৩১ ডিসেম্বর৷ হলের নির্মাণ কাজ শেষ হবার আগেই কর্মরত অবস্থায় উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম কামালউদ্দিন মৃতু্বরণ করেন৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচিত উপাচার্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১ঌ৮৮ সালের ১০ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় তাঁর নামে এই হলের নামকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়৷

মওলানা ভাসানী হল[সম্পাদনা]

আসন ৭৬৮, স্থাপিত ১৯৯২ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান বৈশিষ্ট হচ্ছে-এটি একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে ১ঌঌ১ সালে নির্মিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্ববৃহত্‌ এই পঞ্চম ছাত্রাবাসটি৷ সবুজ চত্বরের বুকে “পদ্মা“ ও “মেঘনা হাউজ” নামের ৭৬৮ আসনের দুটি ইউনিট নিয়ে লাল ইটের চারতলা ভবন একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে তেমনি ক্যাম্পাসের ঈশান কোণ মুখরিত হয়েছে নতুনদের প্রাণোচ্ছল কোলাহলে৷ এদেশের কৃতি সন্তান ও মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাম অনুসারে হলটির নামকরণ করা হয়েছে৷ একজন রাজনীতিক ও গণতন্ত্রবাদী জনদরদী নেতার নামে এটাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্থাপনা৷ হল প্রশাসন পরিচালনার সঙ্গে বর্তমানে ১ জন প্রভোস্ট, ২ জন ওয়ার্ডেন, ৭ জন আবাসিক শিক্ষক, ১ জন কর্মকর্তা, ৬ জন তৃতীয় শ্রেণী, ৩৫ জন চতুর্থ শ্রেণী এবং ২৫ জন অনিয়মিত ডাইনিং কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন৷ হলের বর্তমান ছাত্র সংখ্যা প্রায় ৮০০ জন৷ হলে ডাইনিং সুবিধার পাশাপাশি একটি উন্নতমানের ক্যান্টিন রয়েছে৷ এছাড়াও রয়েছে প্রশস্ত টিভি, ক্রীড়া ও পাঠ কক্ষ৷ হলের সামনে রয়েছে একটি বিরাট পুকুর৷

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল[সম্পাদনা]

আসন ৭৬৮, স্থাপিত ?

ফজিলাতুন নেসা হল[সম্পাদনা]

ছাত্রী হলগুলোর মধ্যে এটি বয়সের দিকে থেকে দ্বিতীয়৷ এই হলের প্রথম পরিচয় ছিল আলবেরুনী হল সম্প্রসারিত ভবন-১ নামে৷ ১ঌ৮৬ সালের অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভার ২(খ) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আলবেরুনী সম্প্রসারিত ভবন-১ ,মহিলা হল নং-২, রূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করে৷ তখন থেকে পূর্ণাঙ্গ হল রূপে এর প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হয়্ ১ঌ৮৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম এই হলে ছাত্রীদের সিট বরাদ্দ করা হয়৷ ১ঌঌ০ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১৪৫ তম সভার ২২ নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহিলা হল নং-২ ,ফজিলাতুননেসা হল, নামে নামকরণ করা হয়৷জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর নামে এ হলের নামকরণ করেন৷

ফজিলাতুননেসা হলের প্রশাসন পরিচালনার জন্য বর্তমানে ১ জন প্রভোস্ট, ১ জন ওয়ার্ডেন, ১ জন আবাসিক শিক্ষক, ২ জন সহকারী আবাসিক শিক্ষক, ২ জন কর্মকর্তা, ৭ জন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী, ২০ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী, ৫ জন অনিয়মিত কর্মচারী রয়েছেন৷ বর্তমানে হলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১২ জন এবং ছাত্রী রয়েছে ১৪ জন৷ ফজিলাতুননেসা হলে ছাত্রীদের জন্য ২৫০টি আসন রয়েছে৷

নওয়াব ফয়জুন নেসা হল[সম্পাদনা]

আসন ২০০+, স্থাপিত ১৯৭৮ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও স্বতন্ত্র ছাত্রী নিবাস নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল৷ ১ঌ৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এটি আল-বেরুনী হলের সংগে সংযুক্ত ছিল৷ ঐ বচর ১৪ এপিল সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে এই ছাত্রী হলটির নামকরণ করা হয় নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল৷ শুরুতে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের আবাসিক ছাত্রী সংখ্যা ছিল ১২৫ জন৷ হলের প্রথম প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ডঃ ফরিদা আক্তার৷ পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক মিসেস কাঞ্চন চৌধুরী ও ভূগোল বিভাগের শিক্ষক মিসেস সাবিহা সুলতানা আবাসিক শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন৷ মিস রাবিয়া খাতুন হল তত্ত্বাবধায়িকা হিসাবে কর্মরত ছিলেন৷ ১ঌ৭ঌ সালে হল ভবনটির দ্বিতল ও ত্রিতল নির্মিত হয়৷ ১ঌ৮৪-৮৫ সালে নির্মাণ করা হয় বর্ধিত ভবনটি৷ হলটিতে মোট ১৬৮ টি কক্ষ রয়েছে, তণ্মধ্যে ২টি ৬ আসন বিশিষ্ট ও বাকীগুলো ২ আসন বিশিষ্ট৷ বর্তমানে হলের সংখ্যা ৩৪০৷হল প্রশাসন পরিচালনার সঙ্গে বর্তমানে ১ জন প্রভোস্ট, ৫ জন আবাসিক শিক্ষক, ২ জন কর্মকর্তা, ৭ জন ৩য় এবং ৩৪ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন৷

প্রীতিলতা হল[সম্পাদনা]

আসন ৪০০+, স্থাপিত ১৯৯৪ প্রীতিলতা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবৃহত্‌ একটি ছাত্রী নিবাস৷ ১ঌঌ৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এই হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তত্‌কালীন উপাচার্য অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী৷ হলের স্থাপত্য নকশাকার ডিজাইন ইনোভেশন গ্রুপের স্থপতি ফয়সাল মাহবুব৷ ছাত্রী হলগুলোর মধ্যে এটি বয়সের দিক থেকে চতুর্থ৷ এ হলের প্রথম পরিচয় ছিল মহিলা হল নং-৪৷ ১ঌঌ৭ সালের ৩১ আগষ্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভার ১ নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহিলা হল নং-৪ কে ১ “প্রীতিলতা হল” নামে নামকরণ করা হয়৷ দুদিকে লেক বেষ্টিত অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার এ হলে ৫০৪ জন ছাত্রীর আসন রয়েছে৷ এ হলে ছাত্রীদের লেখাপড়ার সুবিধার জন্য নিজস্ব গ্রন্থাগারের ব্যবস্থা রয়েছে৷ প্রাক্তন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আলাউদ্দিন আহমেদ ১ঌঌ৭ সালের ১৮ জুন এই গ্রন্থাগারটির উদ্বোধন করেন৷ এ হলে ছাত্রীদের জন্য কমনরুম, টিভি রুম, ডাইনিং হল, ক্যান্টিন, দোকান, নামাজ কক্ষ ও গেস্টরুম রয়েছে৷ প্রীতিলতা হলে বর্তমানে প্রভোস্টসহ ১ জন ওয়ার্ডেন, ৬ জন আবাসিক শিক্ষক, ১ জন শারীরিক শিক্ষক (সংযুক্ত), ১ জন কর্মকর্তা, ৪ জন ৩য় ও ২৭ জন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী, ২ জন সিকবয়, ৪ জন সিকগার্ল ও ঌ জন ডাইনিং কর্মচারী নিয়ে এ হলের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে৷ দুদিকে লেক বেষ্টিত পেয়ারা আম, নারকেল, সুপারি ও বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ শোভিত এই সুন্দর এ বৃহত্তর হলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আদর্শ ছাত্রীনিবাস হিসেবে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে৷

জাহানারা ইমাম হল[সম্পাদনা]

আসন ৪০০+, স্থাপিত ১৯৯৮ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবৃহত্‌ ছাত্রী নিবাসের নাম জাহানারা ইমাম হল৷ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনার্থে তাঁর নামানুসারে হলের নামকরণের মধ্যদিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের যোজনা করেন৷ ১ঌঌ৩ সালের ১২ এপ্রিল এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১ঌঌ৫-র ৩১ জানুয়ারি সমাপ্ত হয়৷ তবে ছাত্রীদের আবাসিক সন্কট নিরসনের জন্য ১ঌঌ৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্‌কালীন উপাচার্য অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী হলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং তারপর থেকেই ছাত্রীদের মধ্যে সিট বরাদ্দ দেয়া হয়৷ প্রকৃতির নৈসগিᐂক সৌন্দর্যের সঙ্গ সাদৃশ্য রেখে নির্মিত এই হলের অপূর্ব স্থাপত্য শৈলীর নকশাকার মেসার্স ডিজাইন ইনোভেশন গ্রুপ৷

হল প্রশাসনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বর্তমানে ১ জন প্রভোস্ট, ২ জন ওয়ার্ডেন, ৬ জন আবাসিক শিক্ষক, ২ জন দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকতা, ৫ জন তৃতীয় শ্রেণী এবং ১ঌ জন স্থায়ী ও ১৮ জন অস্থায়ী চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন৷৪ তলা ভবনের এই হলটির ব্লক ২টি, আসন সংখ্যা ৫০৪৷ বর্তমানে ছাত্রী সংখ্যা ৪ঌ৮ জন৷ মোট আয়রণ কক্ষ ৮টি, মিনি কিচেন ৮টি, ডাইনিং হল (নিচতলা), প্রার্থনা কক্ষ, ক্রীড়া কক্ষ, রিডিং রুম (দোতলা), টিভি কক্ষ (তিনতলা), গ্রন্থাগার ও পত্রিকা কক্ষসহ ১টি ক্যান্টিন, ১টি দোকান, ১টি ইউনিয়ন ও ১টি স্বতন্ত্র গেস্ট রুম রয়েছে৷

বেগম খালেদা জিয়া হল[সম্পাদনা]

আসন ৪০০+, স্থাপিত ২০০৫

শহীদ রফিক-জব্বার হল[সম্পাদনা]

আসন ?+, স্থাপিত ২০১০

শেখ হাসিনা হল[সম্পাদনা]

আসন ৬৪৮?+, স্থাপিত ২০১৪ বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেযেদের ৬ষ্ট হল হিসেবে শেখ হাসিনা হল ২০১৪ সালের ১২ জুন বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রা শুরু করে।শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আনুষ্ঠানিকভাবে হলটির উদ্বোধন করেন।বর্তমানে হলটির প্রাধ্যাক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ।শেখ হাসিনা হলের গেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি প্রতিকৃতি রয়েছে।প্রতিকৃতিটির উচ্চতা ৭ ফুট এবং প্রস্থ সাড়ে ৬ ফুট।

রবীন্দ্রনাথ হল (নির্মানাধীন)[সম্পাদনা]

সংগঠন[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে ।

রাজনৈতিক[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলো হল সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (রি-রো), জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন

সাংস্কৃতিক[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার, ধ্বনি, চলচ্চিত্র আন্দোলন, জলসিঁড়ি, জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ, আনন্দন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জাহাঙ্গীরনগর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, উত্থানপাঠ, প্রপদ, জাহাঙ্গীরনগর স্টুডেন্টস ফিল্ম সোসাইটি, কহনকথা, অস্তিত্ব প্রভৃতি । দশটি সাংস্কৃতিক সংগঠন সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজের জন্য জোটবদ্ধ হয়ে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট গঠন করেছে ।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও লেখক-শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্মীদের সমন্বিত সামাজিক-রাজনৈতিক জোট বা সংগঠন । জোট ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে । পরে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় আন্দোলনে সংগঠনগুলো একইভাবে অংশগ্রহণ করে । বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এক ছাত্রসভায় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জোট ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে । এই সকল আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় একটি স্থায়ী কাঠামোর প্রয়োজন অনুভূত হয় । এভাবেই আটানব্বুই সালে ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের ময়দানে যাত্রা করে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট ।

বর্তমানে এই জোটে ১০টি সংগঠন রয়েছেঃ

বিজ্ঞান[সম্পাদনা]

বিবিধ[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সেবামূলক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করে। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন জেলার ছাত্র কল্যাণ সমিতি।

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যিলয় সায়েন্স ক্লাব
  • জাহাঙ্গীরনগর এডভেঞ্চার ক্লাব
  • লিও ক্লাব অব লিবার্টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
  • রোট্যারাক্ট ক্লাব অব জাহাঙ্গীরনগর।
  • বাঁধন
  • জাহাঙ্গীরনগর প্রোগ্রামারস ক্লাব
  • এক্সপ্লোরার্স
  • লিও ক্লাব
  • পিডিএফ
  • কাশফুল
  • বন্ধুসভা
  • স্বজন সমাবেশ
  • যাযাদি ফ্রেন্ডস ফোরাম
  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট অর্গানাইজেশন[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিতর্ক সংগঠন। ২০০৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অভ্যন্তরে ও বাইরে বিতর্ক অঙ্গনে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন কাজ করে যাচ্ছে। "Let be lightened" শ্লোগান নিয়ে ২০০৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর ৭ জন বিতার্কিক নিয়ে যাত্রা করে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন (জুডো)। আবদুল্লাহ আহমেদ চৌধুরী প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মাজহারুল ইসলাম রাজন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে জুডো এখন পর্যন্ত ৫টি আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ৬টি আন্তঃ বিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ৬টি আন্তঃ হল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও ৪টি জাতীয় বিতর্ক উৎসবের আয়োজন করে। জুডো ২০১১ সালে বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়াসহ ১০টি পুরস্কার লাভ করে। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন প্রতি সোম, মঙ্গল ও বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে বিকাল ৪টা থেকে নিয়মিত বিতর্ক অনুশীলন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। প্রতি মঙ্গলবার বিশেষভাবে ইংরেজি বিতর্ক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

গ্যালারি[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ২রা আগস্টের অভ্যুত্থান নিয়ে লেখাঃ http://salahuddinshuvro.amarblog.com/posts/74180

আরও দেখুন[সম্পাদনা]