দৈনিক প্রথম আলো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
প্রথম আলো
প্রথম আলোর লোগো.svg
ধরন দৈনিক পত্রিকা
ফরম্যাট ব্রডশিট
মালিক ট্রান্সকম গ্রুপ
প্রকাশক মতিউর রহমান
সম্পাদক মতিউর রহমান
প্রতিষ্ঠাকাল ৪ নভেম্বর ১৯৯৮
ভাষা বাংলা
সদর দপ্তর সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
প্রচলন ৫০১,৮৭৮ কপি (সেপ্টেম্বর ২০১২) [১]
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট প্রথম আলো

দৈনিক প্রথম আলো বাংলাদেশ থেকে এবং বাংলা ভাষায় প্রকাশিত একটি দৈনিক সংবাদপত্র। ১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

পত্রিকার বিবরণ[সম্পাদনা]

প্রথম আলো 'ব্রডশিট' আকারে মুদ্রিত হয়। এতে বাদামি নিউজপ্রিন্ট কাগজ ব্যবহার করা হয়। কলাম সংখ্যা ৮। পত্রিকাটি চার রঙে মুদ্রিত। নিয়মিত সংখ্যা ২৪ পৃষ্ঠা। সপ্তাহে চার দিন মূল ব্রডশিট পত্রিকার সঙ্গে ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। ১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর এ পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে রেমন ম্যাগসেসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ মতিউর রহমান এ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। [২] ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তিনি এ পত্রিকাটির প্রকাশক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন। পত্রিকাটি সামাজিক আন্দোলনের সংকেত হিসাবে প্রথমে যে শ্লোগানটি আপ্ত করে তা হলো 'যা কিছু ভালো তার সঙ্গে প্রথম আলো'। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে তা পরিবর্তন করে 'বদলে যাও, বদলে দাও' শ্লোগানটি গ্রহণ করা হয়।

দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম সংখ্যা, ৪ঠা নভেম্বর, ১৯৯৮।

২০১৩ সালে প্রথম আলোর ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নতুন স্লোগান করা হয় 'পথ হারাবে না বাংলাদেশ

নিয়মিত আয়োজন[সম্পাদনা]

প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজনে আছে- সংবাদ, সম্পাদকীয়, সারা দেশ, বিশাল বাংলা, সারা বিশ্ব, খেলাধুলা, বিনোদন, পড়াশোনা, কম্পিউটার প্রতিদিন, চিঠিপত্র। ফিচারপাতা হিসেবে আছে- শনিবারে ছুটির দিনে, রোববারে স্বপ্ন নিয়েবন্ধুসভা, সোমবারে রস+আলো, মঙ্গলবারে নকশা, বুধবারে অধুনা, বৃহস্পতিবারে আনন্দ এবং শুক্রবারে অন্য আলো, সাময়িকী গোল্লাছুটপ্রজন্ম ডট কম। এছাড়াও শুধুমাত্র ঢাকার পাঠকদের জন্য রয়েছে ঢাকায় থাকি, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঠকদের জন্য আলোকিত চট্টগ্রাম, উত্তারঞ্চলের পাঠকদের জন্য আলোকিত উত্তর, দক্ষিণাঞ্চলের পাঠকদের জন্য আলোকিত দক্ষিণ, আলোকিত সিলেট নামে বিভিন্ন আঞ্চলিক আয়োজন।

প্রচার এবং পাঠকসংখ্যা[সম্পাদনা]

১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রবর্তনের কয়েক বছরের মধ্যেই প্রথম আলো বাংলাদেশের জনপ্রিয়তম সংবাদপত্রে পরিণত হয় । ২০১১-এ এর প্রচার সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন পৌনে পাঁচ লাখের বেশি।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] 'সিরিয়াস' নামের একটি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপ অনুযায়ী এ পত্রিকার একটি মুদ্রিত সংখ্যার পাঠক গড়ে পাঁচ জন [১]। এছাড়া প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ লাখ লোক পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণ পড়ে থাকে। আরও প্রায় তিন লক্ষাধিক পাঠক ই-পেপার পাঠ করে। সব মিলিয়ে ৪ নভেম্বর ২০১০ তারিখে, অর্থাৎ পত্রিকাটির যুগপূর্তি দিনে পাঠক সংখ্যা ছিল ৫২ লাখের বেশি।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] প্রথম আলোর তথ্যতীর্থে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এ পরিচালিত পত্রিকার বাজার গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, প্রথম আলোর সার্কুলেশন এর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রায় তিন গুণ এবং মোট পত্রিকা বাজারের মধ্যে প্রথম আলো দখল করেছে ৩৫.৮৮ শতাংশ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

সামাজিক প্রকল্পসমূহ[সম্পাদনা]

সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও প্রথম আলো জড়িত আছে। এর মধ্যে রয়েছে এসিড সন্ত্রাস রোধ, মাদকবিরোধী আন্দোলনসহ নানা আয়োজন। পাশাপাশি কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা। এছাড়াও বিভিন্ন অলিম্পিয়াড আয়োজনেও এই প্রতিষ্ঠান সহায়ক ভূমিকা পালন করে। গণিত অলিম্পিয়াড, ভাষা প্রতিযোগ ইত্যাদি এরকমই কিছু আয়োজন। এছাড়া জরুরি জাতীয় আপৎকালীন সময়ে প্রথম আলো ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সকল অর্থ আসে পাঠক-পাঠিকাদের আর্থিক অবদান থেকে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এ জন্য স্থাপন করা হয়েছে প্রথম আলো ট্রাস্ট

প্রথম আলোর সহযোগী হিসেবে রয়েছে চাকরির ওয়েবসাইট প্রথম আলো জবস ডট কম, বাংলা ব্লগ সাইট প্রথম আলো ব্লগ এবং এফএম রেডিও এবিসি রেডিও

সমালোচনা[সম্পাদনা]

মহানবী সাঃ এর কার্টুন[সম্পাদনা]

পত্রিকাটির সাপ্তাহিক রম্য ম্যাগাজিন আলপিন ২০০৭ এর ১৭ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় বিড়ালের নামের আগে ইসলামিক নাম 'মোহাম্মদ ব্যবহার নিয়ে একটি কার্টুন ছাপে।[৩] এ নিয়ে দেশে বিদেশে ব্যাপক নিন্দার ঝড় উঠে। পরবর্তীতে আলপিনের প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়া হয়। দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিবের কাছে ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ [১]. প্রথম আলো.
  2. http://www.rmaf.org.ph/Awardees/Citation/CitationRahmanMat.htm
  3. "Violence over Bangladesh cartoon"। BBC News। 2007-09-21। সংগৃহীত 2007-09-25