নীলক্ষেত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নীলক্ষেত বাংলাদেশের ঢাকা শহরের একটি এলাকা। এটির পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমে মিরপুর রোড ও ঢাকা নিউ মার্কেট, উত্তরে এলিফ্যান্ট রোড, এবং দক্ষিণে আজিমপুরবিডিআর/পিলখানা এলাকা অবস্থিত। বইয়ের বাজারের জন্য নীলক্ষেত বেশ পরিচিত।

নামকরণ[সম্পাদনা]

বৃটিশরা এদেশে আসার পর থেকেই ইউরোপিয়ানরা বিভিন্ন এলাকায় নীল চাষ শুরু করে। সেই সময় ঢাকার নীলক্ষেত এলাকার বিরাট প্রান্তরজুড়ে নীল চাষ করা হতো। দীর্ঘকাল ধরে সেই নীল চাষ চলে। সেই এলাকাটিতে নীল উৎপন্ন হতো প্রচুর। প্রচুর নীল উৎপন্ন হতো বলেই আজও নীলক্ষেতের নামের সাথে নীল শব্দটি জড়িয়ে আছে। লোকজন এলাকাটিকে চিনছেও এ নামে। নীলক্ষেত এলাকার নামকরণ করা হয় নীলচাষের স্থান থেকে। সেব জমিতে চাষাবাদ করা হয় সেই জমিকে ক্ষেত নামে অবহিত করা হয়। এটা বেশ আগের রীতি। নীল এবং চাষাবাদের ক্ষেত এই দুয়ের মিশ্রনে নাম হয় নীলক্ষেত। [১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

আগে নীলক্ষেত এলাকায় কোন বসতি ছিল না। শুধুই নীল চাষ হতো। ১৮৪৭ সালের দিকে ঢাকায় ৩৭টি নীলকুঠি ছিল। [২] তবে পরবর্তীতে নীলক্ষেত এলাকাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

বর্তমানে এই এলাকাটি ঢাকা শহরের পুরাতন বই বেচা কেনার কেন্দ্রস্থল। এখানে শতাধিক বই এর দোকান রয়েছে, যা বই কেনা-বেচার ব্যবসায় জড়িত। তাছাড়া এখানে প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিভিন্ন পাঠ্য পুস্তকের দোকানগুলিও অবস্থিত। ফটোকপি, ও প্রকাশনা ব্যবসায়-সংক্রান্ত অধিকাংশ দোকান নীলক্ষেতে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. নাজির হোসেন, "কিংবদন্তির ঢাকা", তৃতীয় সংস্করণ, এপ্রিল ১৯৯৫, থ্রিস্টার কো-অপারেটিভ মালটিপারপাস সোসাইটি লিঃ, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৩৬২
  2. মুনতাসীর মামুন, "ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী", পরিবর্ধিত সংস্করণ, জুলাই ২০০৮, অনন্যা প্রকাশনী, ঢাকা, পৃষ্ঠা ১৪৭, ISBN 984-412-104-3