দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়
Dwarkanath Ganguly.jpg
জন্ম ২০ এপ্রিল ১৮৪৪
মৃত্যু ২৭ জুন ১৮৯৮
জাতীয়তা বাংলাদেশী
বংশোদ্ভূত বাঙালি
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ Flag of Bangladesh.svg

দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় (জন্ম: ২০ এপ্রিল ১৮৪৪ - মৃত্যু: ২৭ জুন ১৮৯৮) (ইংরেজি: Dwarkanath Ganguly) বাংলার নবজাগরণের একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি। স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারে এবং শ্রমিক আন্দোলনেরর বিকাশে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

দ্বারকানাথ বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকার বিক্রমপুরের মাগুরখণ্ডের নিবাসী ছিলেন। তাঁর বাবার নাম কৃষ্ণপান গঙ্গোপাধ্যায়। দ্বারকানাথ প্রবেশিকা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হবার পরে গ্রাম ছেড়ে ফরিদপুরের লোনসিং গ্রামে শিক্ষকতা করতে আরম্ভ করেন। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে তিনি ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে কাদম্বিনী বসুকে বিয়ে করেন। [১] কাদম্বিনী (১৮৬১ - ১৯২৩) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ২ জন মহিলা স্নাতকের একজন এবং ইউরোপীয় চিকিৎসা শাস্ত্রে শিক্ষিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসক।

সমাজসেবা[সম্পাদনা]

তিনি ছাত্র অবস্থা থেকেই সমাজসংস্কারমূলক আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি অবলাবান্ধব নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি তিনি সমাজের কুনিয়মের বিরূদ্ধে প্রতিবাদ করে সমাজসংস্কারের চেষ্টা করেন। ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ব্রাহ্ম সংস্কারকদের আমন্ত্রনে কলকাতায় আসেন। এবং মেয়েদের শিক্ষা বিস্তার এবং অসহায় মহিলাদের রক্ষাকার্যে আত্মনিয়োগ করেন। ১৮ সেপ্টেম্বর ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু মহিলা বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। তিনি এই বিদ্যালয় স্থাপন এবং ছাত্রীনিবাস প্রতিষ্ঠায় প্রধান উদ্যোগী ছিলেন। তিনি এই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও ছিলেন। এই বিদ্যালয়টি আড়াই বছর পরে উঠে গেলে ১ জুন ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিদ্যালয়ের সূত্রেই তিনি ছাত্রীদের প্রবেশিকা পরীক্ষা এবং ও মহিলাদের মেডিকেল কলেজে প্রবেশাধিকার বিষয়ের আন্দোলনে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেন। ১ আগস্ট ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয় বেথুন স্কুলের সাথে মিশে যায়। তাঁর এইসমস্ত কাজে সহযোগী ছিলেন শিবনাথ শাস্ত্রী, দুর্গামোহন দাস, আনন্দমোহন বসু, অন্নদাচরণ খাস্তগীর প্রমুখ নেতারা। দ্বারকানাথ ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়কে অনেক অর্থ সাহায্য করেছিলেন। [১]

কলকাতায় তিনি ব্রাহ্মনেতা কেশবচন্দ্র সেনের দলে ছিলেন। কিন্তু যখন কেশবচন্দ্র সেন নিজের মেয়ে সুনীতির তাঁদের ধর্মের নিয়ম না মেনে কুচবিহার রাজবাড়িতে অল্প বয়সে বিবাহ দেন তখন দ্বারকানাথ সমালোচক পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে তার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এই ঘটনার ফলে কিছু ব্রাহ্মনেতা আলাদা হয়ে গিয়ে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ গঠন করেছিলেন। দ্বারকানাথ ছিলেন সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার একজন অগ্রণী ব্যক্তি। তিনি মেয়েদের উন্নতির জন্য অনেক কাজ করেছিলেন বলে তাঁকে অবলাবান্ধব বলা হত। [১]

রাজনীতি[সম্পাদনা]

রাজনীতিতে তিনি ছাত্রসমাজ, ভারত-সভা এবং ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কংগ্রেসে তিনি মহিলাদের প্রতিনিধিত্বের দাবি তোলেন। এর ফলস্বরূপ কাদম্বিনী গাঙ্গুলীর নেতৃত্বে ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথম মহিলারা কংগ্রেসের বোম্বাই অধিবেশনে যোগ দেন। তিনি আসামের চা-বাগানের শ্রমিকদের অবস্থা নিজে দেখেন এবং ইউরোপীয় মালিকদের অত্যাচারের খবর তাঁর প্রতিষ্ঠিত এবং সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা সঞ্জীবনীতে প্রকাশ করেন। এবং এর ফলে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। [১]

সাহিত্যপ্রতিভা[সম্পাদনা]

তাঁর রচিত ও সঙ্কলিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ :

  • বীর নারী (নাটক)
  • কবিগাঁথা
  • নববার্ষিকী
  • জীবনালেখ্য
  • সুরুচির কুটির (উপন্যাস)
  • জাতীয় সঙ্গীত (সঙ্কলিত)

না জাগিলে সব ভারত ললনা / এ ভারত আর জাগে না জাগে না - এই বিখ্যাত গানটি তাঁর রচনা। সরল পাটিগণিত, ভূগোল, স্বাস্থ্যতত্ত্ব, প্রভৃতি কয়েকটি পাঠ্যবইও তিনি লিখেছিলেন। [১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ ১.৪ সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান - প্রথম খণ্ড - সাহিত্য সংসদ ISBN 81-85626-65-0