মতিউর রহমান নিজামী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মতিউর রহমান নিজামী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের বর্তমান নেতা বা আমীর
দায়িত্ব
অধিকৃত অফিস
২০০০
পূর্বসূরী গোলাম আজম
কৃষি মন্ত্রণালয়
কার্যালয়ে
১০ অক্টোবর ২০১০ – ২২ মে ২০০৩
শিল্প মন্ত্রী
কার্যালয়ে
২২শে মে ২০০৩ – ২৮শে অক্টোবর ২০০৬
Member of সংসদ
for পাবনা-১
কার্যালয়ে
১লা অক্টোবর ২০০১ – ২৮শে অক্টোবর ২০০৬
পূর্বসূরী অধ্যাপক আবু সায়ীদ
উত্তরসূরী মো: শামসুল হক
সংখ্যাগরিষ্ঠ ১৩৫,৯৮২ (৫৭.৬৮%)
কার্যালয়ে
২৭শে ফেব্রুয়ারী ১৯৯১ – ১৬ই ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬
উত্তরসূরী অধ্যাপক আবু সায়ীদ
সংখ্যাগরিষ্ঠ ৫৫,৭০৭ (৩৬.৮৫%)
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (১৯৪৩-০৩-৩১) ৩১ মার্চ ১৯৪৩ (বয়স ৭০)
পাবনা, বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশী
রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
দাম্পত্য সঙ্গী শামসুন্নাহার নীজামি
অধ্যয়নকৃত শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশা রাজনীতিবিদ
ধর্ম ইসলাম

মতিউর রহমান নিজামী (জন্ম ৩১ মার্চ ১৯৪৩) একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের বর্তমান নেতা বা আমীর। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিজামী আল বদর নামের আধা-সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। পাকিস্তানী বাহিনীর হত্যাকাণ্ডে আল-বদর সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করে, এবং ১৪ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখে।[১][২] .

রাজনৈতিক কর্মকান্ড[সম্পাদনা]

মওলানা নিজামী ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মাধ্যমে তার ছাত্ররাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। পরপর তিন বছর তিনি পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রআন্দোলনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন । এরপর দুইবার তিনি গোটা পাকিস্তান ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ।

মওলানা নিজামী ছাত্র জীবন শেষ করে বৃহৎ ইসলামী আন্দোলন জামায়াতে ইসলামীতে যোগদেন । ১৯৭৮-১৯৮২ তিনি ঢাকা মহানগরীর আমীর ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩-১৯৮৮ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি । ১৯৮৮ সালের ডিসেম্বরে সেক্রেটারী জেনার্যেল হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং আমীর নির্বচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত (২০০০সাল) দায়িত্ব পালন করেন ।

যুদ্ধাপরাধ[সম্পাদনা]

নিজামীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয় ইসলামী ছাত্র সংঘের মাধ্যমে। এই দলটি বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির হিসাবে পরিচিত। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নিজামী পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহায়তা দেয়ার জন্য আল বদর বাহিনী গঠন করেন। তিনি এই বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।[১][২]

আল বদর বাহিনীর নেতা হিসাবে নিজামী সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরে অত্যাচারের ডাক দেন। ১৪ই নভেম্বর ১৯৭১ তারিখে জামাতের মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকাতে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে নিজামী ঘোষণা দেন,

"It is our conviction that the day is not far off when, standing side by side with our armed forces, our youth will raise the victorious flag of Islam the world over by defeating the Hindu Army and finishing off Hindustan".[১][৩]

নিজামীর নেতৃত্বে আল বদর বাহিনী বাঙালিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়। ১৪ই ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে আলবদর ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী সারা দেশে শত শত চিকিৎসক, শিক্ষক, লেখক, প্রকৌশলী, ও অন্যান্য বুদ্ধিজীবীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়, এবং সুপরিকল্পিত ভাবে তাদের হত্যা করে। [৪][৫][৬]

নিজামীর অপকীর্তি সম্পর্কে ১৯৭১ সালে পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য[সম্পাদনা]

দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় ১৩ এপ্রিল, ১৯৭১ তারিখে প্রকাশিত "ভারতীয় চক্রান্ত বরদাস্ত করব না" শিরোনামের খবরে শান্তি কমিটির মিছিলের ছবি সম্পর্কে বলা হয়,

"মিছিলের পুরোভাগে নেতৃত্বের মধ্যে ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের জামাতে ইসলামী প্রধান অধ্যাপক গোলাম আযম, খান এ, সবুর, পীর মহসেন উদ্দীন ও ইসলামী ছাত্র সংঘের জনাব মতিউর রহমান নিজামী।"

গ্রেফতার[সম্পাদনা]

ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাত করেছে, এমন অভিযোগে ২১ মার্চ, ২০১০ তারিখে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম খাঁন ও ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রশিবিরের সভাপতি আ স ম ইয়াহিয়ার নামে মামলা করেন। ২৯ জুন, ২০১০ তারিখে রমনা থানা পুলিশ প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করে। [৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ Karlekar, Hiranmay (2005)। Bangladesh: The Next Afghanistan?। Sage Publications Inc। পৃ: 152। 
  2. ২.০ ২.১ Baxter, Craig (2002)। Government and Politics in South Asia। Westview Press। পৃ: 294। 
  3. Daily Sangram, November 14, 1971.
  4. Murshid, Tazeen M. (2)। "State, nation, identity: The quest for legitimacy in Bangladesh"। South Asia: Journal of South Asian Studies, (Routledge) 20 (2): 1–34। আইএসএসএন 1479-0270ডিওআই:10.1080/00856409708723294  |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  5. Khan, Muazzam Hussain (2003), "Killing of Intellectuals", Banglapedia, Asiatic Society of Bangladesh
  6. Shaiduzzaman (December 14, 2005), "Martyred intellectuals: martyred history", The Daily New Age, Bangladesh
  7. "নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদী গ্রেপ্তার", নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৯-০৬-২০১০