ফজলুর রহমান খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ফজলুর রহমান খ়ান
FRKhan.jpg
ফজলুর রহমান খ়ান
জন্ম এপ্রিল ৩, ১৯২৯
ঢাকা, বাংলাদেশ
মৃত্যু ২৭ শে মার্চ, ১৯৮২
জেদ্দা, সৌদি আরব
সমাধি গ্রেসল্যান্ড কবরস্তান
জাতীয়তা বাংলাদেশ বাংলাদেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকান
শিক্ষা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি, শিবপুর, ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় অ্যাট আর্বানা-শ্যাম্পেইন
Work
প্রকৌশল শৃঙ্খলা স্থাপত্য, পুরকৌশল
গুরুত্বপূর্ণ নকশা সিয়ার্স টাওয়ার, হাজ্জ টারমিনাল, কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়
উল্লেখযোগ্য পুরষ্কার আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার
একই নামের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের জন্য দেখুন ফজলুর রহমান খান (দ্ব্যর্থতা নিরসন)
ফজলুর রহমান খানের নকশায় গড়া সিয়ার্স টাওয়ার, শিকাগো। ১৯৭৪ সালে নির্মিত এই ভবনটি প্রায় ৩০ বছর ধরে বিশ্বের উচ্চতম ভবন ছিলো।

ফজলুর রহমান খান (ইংরেজি ভাষা: Fazlur Rahman Khan) (এপ্রিল ৩, ১৯২৯ - মার্চ ২৭, ১৯৮২) বাংলাদেশের বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি ও পুরকৌশলী। তিনি পৃথিবীর অন্যতম উচ্চ ভবন শিকাগোর সিয়ার্স টাওয়ার (বর্তমানে উইওলস টাওয়ার) এর নকশা প্রণয়ন করেন। তাঁকে বিংশ শতকের শ্রেষ্ঠ পুরকৌশলী বলা হয়।

শৈশব[সম্পাদনা]

ফজলুর খান ১৯২৯ সালের ৩রা এপ্রিল মাদারীপুর জেলাশিবচর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৪৪ সালে আরমানিটোলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতার শিবপুর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমানে বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি, শিবপুর) ভর্তি হন। ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালে পঞ্চাশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে তিনি ঢাকায় ফিরে এলে তৎকালীন আহসানউলাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে বাকি পরীক্ষা সমাপ্ত করেন ৷ কলকাতার শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার এবং আহসানউলাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পরীক্ষার উভয় ফলের ভিত্তিতে তাঁকে বিশেষ বিবেচনায় ব্যাচেলর অফ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি প্রদান করা হয় ৷ এ মূল্যায়নে তিনি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন জনাব এফ আর খান ১৯৫২ তে যুগপৎ সরকারী বৃত্তি ও ফুল ব্রাইট বৃত্তি নিয়ে পি এইচ ডি ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন ৷ সেখানে ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনয় অ্যাট আরবানা শ্যাম্পেইন থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তত্ত্বীয় ও ফলিত মেকানিক্স-এ যুগ্ম এম এস করার পর ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন ৷[১]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৬৯ সালে নির্মিত জন হ্যানকক সেন্টার যার প্রধান ডিজাইনার ছিলেন ব্রুস গ্রাহাম এবং ফজলুর রহমান খান স্থাপত্য প্রকৌশলী ছিলেন [২]

ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জনের পরপরই তিনি আহসানউলাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যাপকের পদে নিযুক্তি লাভ করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি শিকাগো শহরের স্কিডমোর, ওউইং ও মেরিল নামের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৫৬ সালে দেশে ফিরে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পূর্ব পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে আমেরিকার স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান স্কিড মোর এর আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে এ কোম্পানীর শিকাগো অফিসের পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন ৷ পাশাপাশি তিনি আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি এর স্থাপত্য বিভাগে অধ্যাপক পদে অধিষ্ঠিত হন । সেখানে পরে তিনি প্রফেসর এমিরিটাস হয়েছিলেন ।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

ডঃ এফ আর খান নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, লি হাই বিশ্ববিদ্যালয় ও সুইস ফেডারেল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন ৷

কৃতিত্ব[সম্পাদনা]

শিকাগোর সিয়ার্স টাওয়ার তার অনন্য কীর্তি। তিনি ১৯৭২ সনে 'ইঞ্জিনিয়ারিং নিউজ রেকর্ড'-এ ম্যান অব দি ইয়ার বিবেচিত হন[৩] এবং পাঁচবার স্থাপত্য শিল্পে সবচেয়ে বেশী অবদানকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত হবার গৌরব লাভ করেন (৬৫,৬৮,৭০,৭১,৭৯ সালে)৷ ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এর সদস্য নির্বাচিত হন। [৪] ১৯৭৪ সনে আমেরিকার 'নিউজ উইক' ম্যাগাজিন শিল্পস্থাপত্যের উপর প্রচ্ছদ কাহিনীতে তাঁকে মার্কিন স্থাপত্যের শীর্ষে অবস্থানকারী ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করে ৷ স্থপতি ডঃ এফ, আর, খান আন্তর্জাতিক গগনচুম্বী ও নগরায়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন ৷ তাঁর অন্যান্য অবদানের মধ্যে রয়েছে শিকাগোর জন হ্যানকক সেন্টার, জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের, হজ্ব টার্মিনাল এবং মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য মডেল অংকন ৷

১৯৯৮ সালে শিকাগো শহরের সিয়ার্স টাওয়ারের পাদদেশে অবস্থিত জ্যাকসন সড়ক পশ্চিম পার্শ্ব এবং ফ্রাঙ্কলিন সড়কের দক্ষিণ পার্শ্বের সংযোগস্থলটিকে নামকরণ করা হয় "ফজলুর আর. খান ওয়ে"। [৫]

গবেষণা[সম্পাদনা]

এফ, আর, খান মুসলিম স্থাপত্য বিষয়ের উপর নানা ধরনের গবেষণা করেছেন ৷ ডঃ খান Tube in Tube নামে স্থাপত্য শিল্পের এক নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন যার মাধ্যমে অতি উচ্চ (কমপক্ষে একশত তলা) ভবন স্বল্প খরচে নির্মাণ সম্ভব ৷ গগনচুম্বী ভবনের উপর সাত খন্ডে প্রকাশিত একটি পুস্তকের তিনি সম্পাদনা করেন ৷[১]

অবদান[সম্পাদনা]

১৯৯৯ সালে তাকে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।

ডাকটিকিট[সম্পাদনা]

ফজলুর রহমান খান এর সম্মানে প্রকাশিত বাংলাদেশের ডাক টিকিট।

১৯৯৯ সালে ফজলুর রহমান খানের স্মরণে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে [৬]। ৪ টাকা মূল্যমানের এই টিকিটটিতে রয়েছে ফজলুর রহমান খানের আবক্ষ চিত্র, আর পটভূমিতে রয়েছে সিয়ার্স টাওয়ারের ছবি।

চিত্র:হাজি ক্যাম্পস
হাজি ক্যাম্প

স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন ভূমিকা[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৭১ সনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রবাসে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন ৷ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৮২ সনের ২৬শে মার্চ জেদ্দায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন ৷ মৃত্যুর পর তার দেহ আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং শিকাগোতে তাকে সমাহিত করা হয়।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ http://www.cabinet.gov.bd/view_award.php?award_person_id=97&lang=en
  2. p. 422, American Architecture: A History, Leland M. Roth, Westview Press, 2003,ISBN 0-8133-3662-7
  3. http://archone.tamu.edu/crs/engine/archive_files/People_file/1068.0509.29-34.pdf
  4. http://www.scholarsbangladesh.com/journal/frkhan.php
  5. http://www.thedailystar.net/suppliments/2006/15thanniv/celebrating_bd/celeb_bd12.htm
  6. Fazlur Khan (1929–1982): reflections on his life and works. by Aftab A. Mufti and Baidar Bakht. Can. J. Civ. Eng. 29(2): 238–245 (2002).
  7. http://www.structuremag.org/article.aspx?articleID=1211

বহিসংযোগ[সম্পাদনা]