এ এম হারুন-অর-রশিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
এ এম হারুন-অর-রশিদ
জন্ম (১৯৩৩-০৫-০১)১ মে ১৯৩৩
বরিশাল
কর্মক্ষেত্র পদার্থবিজ্ঞান
প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন
University of California, Los Angeles
University of Islamabad
প্রাক্তন ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
University of Glasgow
উল্লেখযোগ্য ছাত্ররা Sultana Nurun Nahar[১]

এ এম হারুন-অর-রশিদ বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে, পদার্থবিজ্ঞানে তাঁর অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত হোন।

শৈশব[সম্পাদনা]

অধ্যাপক ড. এ. এম. হারুন অর রশীদ (আবুল মকসুদ হারুন অর রশীদ) ১৯৩৩ সালের ১লা মে বরিশাল জেলার নলছিটি উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। [২]

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

ছয় বছর বয়সে কৃষ্ণনগরের রামবঙ্ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে ড. রশীদ তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু করেন৷ সেখানে কয়েক বছর পড়ার পর তাঁর বাবা তাঁকে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন৷ স্কুলের প্রতিটি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্যে বা ক্লাসে ভালো উপস্থিতির জন্যে প্রতিবারই তিনি বিভিন্ন বই পুরস্কার পেয়েছেন৷ দশম শ্রেণি পর্যন্ত ড. রশীদ কৃষ্ণনগরের ঐ স্কুলেই লেখাপড়া করেছেন৷ ১৯৪৭ সালে বাংলা বিভাগ হলে তাঁর বাবাকে বদলি করে ঢাকা পাঠানো হলো৷ ঢাকা এসে বাবা ঢাকা কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিলেন৷ ঢাকা এসে তাঁর বাবা তাঁকে ভর্তি করিয়ে দিলেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে৷ তখন তাঁর ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার মাত্র তিন মাস বাকি ছিল৷ তিনি ১৯৪৮ সালে তত্‍কালীন East Bengal Secondary Education Board-এর অধীনে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে স্টারমার্কসসহ তিনটি বিষয়ে লেটার মার্কস (শতকরা ৮০ নম্বর এবং তার উপরে) পেয়ে সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম শ্রেণিতে চতুর্থ স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন এবং এই ফলাফলের জন্যে একটি প্রথম গ্রেড সরকারি বৃত্তি লাভ করেন৷ তিনি ১৯৫০ সালে ইন্টারমিডিয়েট সায়েন্স পরীক্ষায় স্টারমার্কস সহ চারটি প্রধান বিষয়ের সবগুলিতে (ইংরেজী, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও গণিত) লেটার মার্কস পেয়ে সম্মিলিত মেধাতালিকায় প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন এবং এই ফলাফলের জন্যেও একটি প্রথম গ্রেড সরকারি বৃত্তি লাভ করেন৷ তাঁর ইংরেজিতে লেটার মার্কস পাওয়াটা ছিল তখনকার সময়ে একটা বিরল ঘটনা৷ তাঁর স্কুল ও কলেজের কোনো পরীক্ষায় কখনো দ্বিতীয় হননি। এরপর তিনি এসে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে৷ তিনি ১৯৫৩ সালে এই বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে বি.এস.সি. সম্মান ডিগ্রি অর্জন করেন৷ ১৯৫৪ সালে তিনি ঐ বছর বিশ্ববিদ্যালয়য়ের সব স্নাতকের মধ্যে সমন্বিতভাবে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজা কালীনারায়ণ বৃত্তি লাভ করেন৷ তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে পুনরায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এম.এসসি. ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওভারসীস বৃত্তি (Overseas Scholarship) নিয়ে উচ্চতর শিক্ষালাভের জন্য যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Glasgow, UK) যান৷ গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি প্রফেসর আর. জি. মুরহাউজ এবং প্রফেসর বি. এইচ. ব্রান্সডেনের (Professor R.G. Moorhouse and Professor B.H. Bran sden) তত্ত্বাবধানে ক্ষেত্র তত্ত্বে টাম-ডানকফ আসন্ন মান (Tamm-Dancoff Approximation in Field Theory) ব্যবহার করে কে-মেসন নিউক্লিয়ন-এর একটি সমস্যার উপর কাজ করে ১৯৬০ সালে ঐ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জন করেন৷[২]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

  • হারুন অর রশিদ তার কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজা কালিনারায়ণ বৃত্তি লাভ করেন।[২][৩]
  • ১৯৯১ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
  • ১৯৯৩ সালে তিন বত্‍সরের জন্য ড. রশীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোস অধ্যাপক নিযুক্ত হন৷
  • ২০০৬ সালে ইউ.জি.সি. ( U.G.C.- University Grants Commission) প্রফেসর নিযুক্ত হন৷
  • বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে "বিজ্ঞান গ্রন্থবর্ষ ২০০৫" উপলক্ষে ভৌতবিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমী প্রদত্ত 'ভৌতবিজ্ঞান শাখা'য় বিজ্ঞান লেখক পদক হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন৷ [২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

  • প্রভাষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৫৫-১৯৬২[২]
  • জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, ১৯৬২-১৯৬৭ [৪][৫][৬]
  • অধ্যাপক, তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ইসলামাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৬৭-১৯৭১[২]
  • পরিচালক, পদার্থবিজ্ঞান ইন্সটিটিউট, ইসলামাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৬৭-১৯৭১[২]
  • ভিজিটিং বিজ্ঞানী, দি আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স, ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬-জুলাই ১৯৬৬, জানুয়ারি ১৯৬৮-অগাস্ট ১৯৬৮, জানুয়ারি ১৯৭৪-জুন ১৯৭৪[৩]
  • ভিজিটিং বিজ্ঞানী, ইম্পেরিয়াল কলেজ অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজী, অক্টোবর ১৯৭১-সেপ্টেম্বর ১৯৭২,[৩]
  • পরিদর্শক, দি আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স, ১৯৬৯, ১৯৭০, ১৯৮৫, ১৯৯৩[২]
  • ভিজিটিং অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস এট অস্টিন, ডিসেম্বর ১৯৭৫[২]
  • ভিজিটিং অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া এট লস এঞ্জেলস, ১৯৯১[২]
  • প্রতিষ্ঠাতা, তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়[৭]
  • চেয়ারম্যান, তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৭৫-১৯৭৯[২]
  • পরিচালক, বোস সেন্টার ফর এডভান্সড স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ ইন ন্যাচারাল সায়েন্স,[৮]
  • চেয়ারম্যান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৭৯-১৯৮১[২]
  • পরিচালক, কম্পিউটার সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮৫-১৯৮৮[২]

বই[সম্পাদনা]

অধ্যাপক ড. এ. এম. হারুন অর রশীদের বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা বইগুলোর নাম, প্রকাশকাল ও প্রকাশনা সংস্থার নাম উল্লেখ করা হলো:

  1. Nuclear Structure (এ. হোসেন এবং এম. ইসলামের সাথে যৌথভাবে); ১৯৬৭; উত্তর হল্যান্ড, আমস্টার্ডাম
  2. আইনস্টাইন ও আপেক্ষিক তত্ত্ব; ১৯৮৪ বাংলা একাডেমী
  3. বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান (বাংলা একাডেমী বক্তৃতা); ১৯৮৫; বাংলা একাডেমী
  4. পদার্থবিজ্ঞানে বিপ্লব; ১৯৮৭; বাংলা একাডেমী
  5. Quantum Mechanics; ১৯৮৮; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  6. কম্পিউটারের কাহিনী; ১৯৮৮; আহমেদ পাবলিকেশন
  7. চিরায়ত বলবিজ্ঞান; ১৯৯০; বাংলা একাডেমী
  8. বিজ্ঞান ও দর্শন; ১৯৯১; বাংলা একাডেমী
  9. গ্ল্যাসো-সলাম-ভাইনবার্গ তত্ত্ব; ১৯৯২; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  10. চিরায়ত বিদ্যুত বলবিজ্ঞান; ১৯৯২; বাংলা একাডেমী
  11. উপমহাদেশের কয়েকজন বিজ্ঞানী; ১৯৯২; জিজ্ঞাসা
  12. বস্তুর সাধারণ ধর্ম; ১৯৯৩; বাংলা একাডেমী
  13. Satyen Bose in Dhaka; ১৯৯৪; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  14. আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের কয়েকজন স্রষ্টা; ১৯৯৫; বাংলা একাডেমী
  15. সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্ব ও বিশ্বসৃষ্টি; ১৯৯৬; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  16. জগদীশ চন্দ্রের পত্রাবলী; ১৯৯৮; বাংলা একাডেমী
  17. Complex Variable and Special Functions of Mathematical Physics; ১৯৯৯; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  18. Geometrical Methods in Physics; ২০০০; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  19. ঘুরে ফিরে দেখা আমাদের মহাবিশ্ব; সাহিত্য পাবলিকেশন
  20. মৌলিক কণা; বাংলা একাডেমী
  21. পরিসংখ্যান বলবিজ্ঞান; বাংলা একাডেমী
  22. গ্রুপ তত্ত্ব ও পরিসংখ্যানে এর প্রয়োগ; ২০০২; বাংলা একাডেমী
  23. বিদ্যুত্‍ ও চুম্বক তত্ত্ব
  24. আধুনিক নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান; ২০০৩; বাংলা একাডেমী
  25. Bangladesh Vision-2021; Bangladesh Academy of Sciences (ed.)
  26. Second National Symposium on Science and Technologies (ed.); Bangladesh Academy of Sciences (ed.)
  27. Introduction to Particle Physics (এরশাদ মোমেন-এর সাথে যৌথভাবে)
  28. Quantum Field Theory (এরশাদ মোমেন-এর সাথে যৌথভাবে)
  29. আকাশ-ভরা সূর্য-তারা; ১৯৮৮; আহমেদ পাবলিকেশন
  30. Our Alma Mater, From Bose-Einstein to Salam- Weinberg & Beyond, ২০০৬[২]
  31. Quantum Field Theory[৯]
  32. অপূর্ব এই মহাবিশ্ব[১০]
  33. Our physics heritage and the new millennium[১১]
  34. Proceedings of the Second National Symposium on Science and Technology: Bangladesh Vision 2002
  35. Bangladesh Vision 2021: Proceedings of the National Symposium on Science and Technology
  36. নতুন শতাব্দীর নতুন দিগন্ত[১১]
  37. Collected Papers on Development of Science and Technology in Bangladesh[১১]
  38. নোবেল বিজয়ী আব্দুস সালামঃ আদর্শ ও বাস্তবতা[১২]
  39. Introduction to Practical Physics[১৩]

সদস্য[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]