রসায়ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রসায়ন হল পদার্থের গঠন, সংযুক্তি, ধর্ম এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পদার্থের পরিবর্তন সংক্রান্ত বিজ্ঞান
রসায়ন পদার্থের নিজেদের মধ্যে এবং শক্তির সাথে পারস্পারিক ক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করে।

রসায়ন (ইংরেজি: Chemistry) জড় পদার্থের উপাদান, কাঠামো, ধর্ম ও পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া সংক্রান্ত বিজ্ঞান। রসায়নবিদেরা মনে করেন বিশ্বের যাবতীয় বস্তু পরমাণু দিয়ে গঠিত। দুই বা ততোধিক পরমাণু রাসায়নিক বন্ধন দ্বারা সংযোজিত হয়ে অণুর সৃষ্টি করে। এক বা একাধিক ইলেকট্রন পরমাণু বা অণু থেকে সরিয়ে নিলে বা যোগ করলে আধানযুক্ত কণা তথা আয়ন সৃষ্টি হয়। ধনাত্মক আয়ন ও ঋণাত্মক আয়নের সংযোগে সৃষ্টি হয় আধান-নিরপেক্ষ লবন। রসায়নবিদেরা আণবিক ও পারমাণবিক স্তরে পদার্থ সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞান দিয়ে কীভাবে বিভিন্ন ধরনের পদার্থ একে অপরের সাথে ক্রিয়া করে এবং এগুলি কীভাবে বিভিন্ন অবস্থায় রূপান্তরিত হয়, তা ব্যাখ্যা করতে পারেন। রসায়নবিদেরা পদার্থের পরিবর্তন সাধন করতে পারেন ও নতুন নতুন যৌগ সৃষ্টি করতে পারেন যাদের মধ্যে আছে ঔষধ, বিস্ফোরক, প্রসাধনী ও খাদ্য। রাসায়নিক সংশ্লেষণ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন শিল্পে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদন করা হয়।

পদার্থের প্রকারভেদ কিংবা গবেষণার সাদৃশ্য বিবেচনা করে রসায়নের বিভিন্ন শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রসায়নের প্রধান শাখাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অজৈব রসায়ন অর্থাৎ রসায়নের যে শাখায় অজৈব যৌগ নিয়ে আলোচনা করা হয়, জৈব রসায়ন বা যে শাখায় জৈব যৌগ নিয়ে আলোচনা করা হয়, প্রাণরসায়ন, রসায়নের যে শাখায় জীবদেহের রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, ভৌত রসায়ন, এই শাখায় আণবিক পর্যায়ে শক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত রাসায়নিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়, বিশ্লেষণী রসায়ন, এক্ষেত্রে পদার্থের বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের গঠন, সংযুক্তি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সাম্প্রতিক কালে রসায়নের আরও অনেক নতুন শাখার উদ্ভব হয়েছে, যেমন- স্নায়ুরসায়ন, স্নায়ুতন্ত্রের রাসায়নিক গঠন নিয়ে এই শাখায় আলোচনা করা হয়।

তত্ত্ব[সম্পাদনা]

ল্যাবরেটরি, ইন্স্টটিউট অফ বায়োকেমিস্ট্রি, ইউনিভার্সিটি অফ কনজ এই সকল প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঐতিহ্যবাহী রসায়ন চর্চা শুরু হয়। এখানে মৌলিক উপাদান, পরমাণু, পদার্থ, গলন, ক্রিস্টাল ও পদার্থ একত্র করা,কঠিন পদার্থ, তরল, বায়বীয় পদার্থ, যৌগ তৈরির নীতি, কথাবার্তা, বিক্রিয়া এবং রুপান্তর ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করা হয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

রসায়নের ইতিহাস একটি বিস্তৃত বিষয়। বলা চলে আগুন আবিষ্কারের পর থেকেই মানব সভ্যতার হাত ধরে এগিয়ে চলেছে রসায়ন । মধ্যযুগে ধাতুকে সোনায় পরিনত করতে পারার পদ্ধতি আবিষ্কারের প্রচেষ্টায় শুরু হয় আলকেমি বিদ্যা, যা ল্যাভয়সিয়ে, মেন্ডেলিফদের হাতে পূর্ণতা লাভ করেছে।

রসায়ন শব্দের উৎপত্তি[সম্পাদনা]

রসায়ন শব্দের ইংরেজী কেমিস্ট্রি। মধ্যযুগে পরশ পাথরের সন্ধানে পরীক্ষারত মুসলিম বিজ্ঞানীরা একটি শাস্ত্র বা পদ্ধতি আবিষ্কার করে। এটাকে তারা বলতো আলকামিস্তা। আলকামিস্তা থেকে লাতিন কামিস্তা পরে ইংরেজীতে কেমিস্ট্রি নাম ধারণ করে।

সংজ্ঞাসমূহ[সম্পাদনা]

রসায়ন শাস্ত্রে অনেক গুলো মৌলিক বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

মৌলিক ধারণা[সম্পাদনা]

আমরা জানি যে, যার ভর আছে, কোন স্থান দখল করে অবস্থান করে এবং যা স্থিতিশীল বা গতিশীল অবস্থার বাধা প্রদান করে, তাকে পদার্থ বলে। পদার্থের মধ্যে অনু থাকে যা আবার পরমানুর সমন্বয়ে গঠিত। পরমানু সমূহ গঠিত হয় ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এর সমন্বয়ে। এসব ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন পদার্থের অনুর সাথে কিভাবে সম্পর্কযুক্ত থাকে এবং এদের বিক্রিয়ার সময় এরা কি ধরনের আচরন করে সেসব নিয়ে আলোচনা করা হয় রসায়ন এ।

পরমাণু[সম্পাদনা]

মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কনা যা ঐ পদার্থের বৈশিষ্ট্য রক্ষা করে। যাকে বিশ্লেষিত করলে আরো ক্ষুদ্রতম কণা ইলেক্ট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন পাওয়া যায়। পরমাণুকে দুটি ভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করা যায়। একটিকে কেন্দ্র বলা হয়- যে অংশে পরমাণুর সকল ভর ও ধনাত্বক চার্জ পঞ্জিভুত থাকে। অর্থাৎ নিরপেক্ষ নিউট্রন ও ধনাত্বক প্রোটন একত্রে কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াসে থাকে আর দ্বিতীয়টিকে বলা হয় বহিঃ অঞ্চল- যে অংশে নির্দিষ্ট শক্তির কতক শক্তিস্তর থাকে আর ঐ শক্তিস্তরে নির্দিষ্ট শক্তির ঋণাত্বক চার্জ যুক্ত ইলেক্ট্রন পরিক্রমণরত আবস্থায় থাকে।

পদার্থ[সম্পাদনা]

যার ভর আছে, কোন স্থান দখল করে অবস্থান করে এবং যা স্থিতিশীল বা গতিশীল অবস্থার বাধা প্রদান করে, তাকে পদার্থ বলে।

যৌগ[সম্পাদনা]

একাধিক মৌলের সমন্বয়ে গঠিত পাদার্থকে যৌগ বলে। যেমনঃ সোডিয়াম ক্লোরাইড, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, সালফিউরিক এসিড।

বস্তু[সম্পাদনা]

পদার্থের নির্দিষ্ট অংশকে বস্তু বলে। যেমনঃ মৌল, এক অণু বিশিষ্ট যৌগ। অর্থাৎ হাইড্রজেন, অক্সিজেন, পানি ইত্যাদি।

অণু[সম্পাদনা]

দুই বা ততোধিক পরমানুর সমন্বয়ে গঠিত ক্ষুদ্র কণাকে বলা হয় অনু।

যেমন : হাইড্রোজেনের দুটি পরমানু পরস্পর যুক্ত হয়ে অনু গঠন করে।

হাইড্রোজেনের পরমানু H এবং হাইড্রোজেনের অনু H2 ।

মোল কোণ পদার্থের পারমানবিক ভর বা আনভবিক ভর গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে পরিমাণ পাওয়া যায় তাকে ঐ পদার্থের এক মোল বলে।

লৌহ ও লবণ[সম্পাদনা]

লৌহ বা লোহা পর্যায় সারণীর একটি মৌল । লোহার ইংরেজী নাম আয়রন হলেও রসায়নের ভাষায় এটাকে (Fe) ফেরাম বলে ।

অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব[সম্পাদনা]

দশা[সম্পাদনা]

জারণ- বিজারণ[সম্পাদনা]

যে বিক্রিয়ায় ইলেক্ট্রন আদান প্রদান হয় তাকে জারণ বিজারণ বিক্রিয়া বলে । যে বিক্রিয়ায় ইলেক্ট্রন ত্যাগ বা বর্জন করা হয় তাকে জারণ বলে । আবার যে বিক্রিয়ায় ইলেক্ট্রন গ্রহণ করা হয় তাকে বিজারণ বলে । জারক ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে নিজে বিজারিত হয় এবং অপরকে জারিত করে আর বিজারক ইলেক্ট্রন ত্যাগ করে নিজে জারিত হয় এবং অপরকে বিজারিত করে ।

বন্ধন[সম্পাদনা]

যে শক্তি বলে অনুতে পরমানু সমূহ পরস্পর যুক্ত থাকে, তাকে রাসায়নিক বন্ধন বলে।

বিক্রিয়া[সম্পাদনা]

রসায়নের পরিভাষায় দুই বা ততোধিক মৌল বা যৌগের পরস্পর যুক্ত হওয়ার পদ্ধতিকে বিক্রিয়া বলে। বিক্রিয়ায় মূলত পরমানু বা ইলেকট্রনের আদান প্রদান ঘটে।

সাম্যাবস্থা[সম্পাদনা]

উভমুখী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে সময়ের সাথে এক সময় বিক্রিয়ার সম্মুখবেগ ও পশ্চাৎবেগ সমান হয়। এ অবস্থা কে রাসায়নিক সাম্যাবস্থা বলে।

শক্তি[সম্পাদনা]

রাসায়নিক সূত্রাবলি[সম্পাদনা]

উপবিভাগ[সম্পাদনা]

রাসায়নিক শিল্প[সম্পাদনা]

পেশাদার প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

নিরাপত্তা[সম্পাদনা]

কিছু রাসায়নিক উপাদান খুবই ক্ষতিকারক ও বিপজ্জনক। মার্কারী (২) ক্লোরাইড অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ। ক্রোমেট ক্যান্সার সৃষ্টি করে। টিন (২) ক্লোরাইড খুব সহজেই পানি দূষণ করে থাকে। হাইড্রোক্লোরিক এসিড শরীরের চামড়া পুড়ে ফেলে। হাইড্রোজেনের মতো পদার্থ বিস্ফোরক কিংবা অগ্নিসংযোগে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাই, যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা রসায়ন পরীক্ষাগারে করা উচিত। সেখানে বিশেষ নিরাপত্তামূলক উপকরণ এবং কাপড়ের ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও রাসায়নিক উপকরণসমূহ সুবিন্যস্ত আকারে রাখা হয়। ঔষধাদি তৈরীতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ব্লিচের ন্যায় পদার্থের সাহায্যে পরীক্ষা করা হয় যে রাসায়নিক পদার্থটি নিরাপদ।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]