রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো.svg
লাতিন: Rajshahi University
স্থাপিত ১৯৫৩
ধরন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
আচার্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্য প্রফেসর ডঃ মুহম্মদ মিজানউদ্দিন[১]
ডীন
অ্যাকাডেমিক স্টাফ ১০০০
প্রশাসন স্টাফ ২০০০
ছাত্র ৩৩,০০০ (প্রায়)
অবস্থান রাজশাহী, বাংলাদেশ
ক্যাম্পাস শহরে প্রায় ৭৫৩ একর
ডাকনাম রাবি (RU)
অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ওয়েবসাইট http://www.ru.ac.bd

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি: University of Rajshahi) বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫৩ সালের ৬ই জুলাই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার৷

অবস্থান[সম্পাদনা]

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে রাজশাহী শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত৷ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ যুগে রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষাদীক্ষা উন্নয়নের জন্য ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয রাজশাহী কলেজ৷ রাজশাহী কলেজের অবস্থানও ছিলো বেশ ওপরে৷ সে সময়ে রাজশাহী কলেজে আইন বিভাগসহ পোস্ট গ্রাজুয়েট শ্রেনী চালু করা হয়৷ কিন্ত এর কিছুদিন পরেই বন্ধ হয়ে যায় এসব কার্যক্রম৷ সে সময়েই রাজশাহীতে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজন অনুভূত হয়৷ ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান সরকার দেশের সব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করে৷ রাজশাহীতে এ সময় স্যাডলার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়৷

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরনে নির্মিত ভাষ্কর্য ’সাবাস বাংলাদেশ’

ভাষা আন্দোলনের কিছুদিন আগ থেকেই রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়৷ ১৯৫০ সালের নভেম্বর ১৫ রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের নিয়ে ৬৪সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়৷ ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি ১০ রাজশাহী শহরের ভূবন মোহন পার্কে রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য সর্বপ্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রথম দাবি অবশ্য ওঠে রাজশাহী কলেজেই৷ ১৯৫২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শহরের সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গনে সমবেত হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ পাস করার দাবি তোলে৷ এই দাবি পাঠিয়ে দেয়া হয় তত্‍কালীন এমএলএ ও মন্ত্রীদের কাছে৷

কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী ভবন

পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারি ১৩ ভূবন মোহন পার্কেই অনুষ্ঠিত হয় আরও একটি জনসভা৷ ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ এমএলএ৷ সভায় বক্তব্য রাখেন ইদ্রিস আহমেদ এমএলএ, প্রভাষ চন্দ্র লাহিড়ী, খোরশেদ আলম, আনসার আলী, আব্দুল জব্বার প্রমূখ৷ ক্রমেই তীব্র হতে থাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি৷ এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে গিয়ে কারারুদ্ধ হন ১৫ ছাত্রনেতা৷ পরে ছাত্রজনতার পক্ষ থেকে ঢাকায় একটি ডেলিগেশন পাঠানো হয়৷ ওই ডেলিগেশনের সদস্যদের মধ্যে মরহুম আবুল কালাম চৌধুরী ও আব্দুর রহমানের নাম উল্লেখযোগ্য৷ এভাবে একের পর এক আন্দালনের চাপে স্থানীয় আইন পরিষদ রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়৷ এই আন্দোলনে একাত্ব হন পূর্ববঙ্গীয় আইনসভার সদস্য প্রখ্যাত আইনজীবী মাদার বখশ৷

১৯৫৩ সালের ফেব্রুয়ারি ৬ ভূবন মোহন পার্কে আরও একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাদারবখশ সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন, যদি রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন না হয় তবে উত্তরবঙ্গকে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ দাবি করতে আমরা বাধ্য হব৷ মাদার বখশের এই বক্তব্যে সাড়া পড়ে দেশের সুধী মহলে৷ টনক নড়ে সরকারেরও৷ অবশেষে ১৯৫৩ সালের মার্চ ৩১ প্রাদেশিক আইনসভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আইন পাশ হয়৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন মাদারবখশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য প্রফেসর ইতরাত হোসেন জুবেরীকে সঙ্গে নিয়ে৷ এ দুজনকে যুগ্ম সম্পাদক করে মোট ৬৪ সদস্য বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়৷ এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তত্‍কালীন বিভাগীয় কমিশনার এম এ খুরশীদ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন ইতরাত হোসেন জুবেরী৷ আনুষ্ঠানিকভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৫৪ সাল থেকে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ক্লাস শুরু হয় রাজশাহী কলেজে৷ উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দফতর প্রতিষ্ঠা করা হয় পদ্মার তীরের বড়কুঠি নামে পরিচিত ঐতিহাসিক রেশম কুঠির ওপর তলায়৷ বড়কুঠির কাছেই তত্‍কালীন ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু একাডেমিতে চিকিত্‍সাকেন্দ্র ও পাঠাগার তেরি করা হয়৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীহ্মা নিয়ন্ত্রকের দফতর স্থাপন করা হয় জমিদার কুঞ্জমোহন মৈত্রের বাড়িতে৷ বড়কুঠিপাড়ার মাতৃধাম এ স্থাপন করা হয় কলেজ পরিদর্শক দফতর৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রেজিস্ট্রার নিযুক্ত হন ওসমান গনি ও প্রথম পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিযুক্ত হন অধ্য আব্দুল করিম৷ শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া করা বাড়িতে গড়ে ওঠে ছাত্রাবাস৷ রাজশাহী কলেজ সংলগ্ন ফুলার হোস্টেলকে রুপান্তরিত করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস হিসেবে৷ বড়কুঠি এলাকার লালকুঠি ভবন ও আরেকটি ভাড়া করা ভবনে ছাত্রী নিবাস স্থাপন করা হয়৷

১৯৬১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয় মতিহারের নিজস্ব ক্যাম্পাসে৷ এই ক্যাম্পাসটি গড়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়ান স্থপতি ড. সোয়ানি টমাসের স্থাপত্য পরিকল্পনায়৷

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতীক পরিচিতি[সম্পাদনা]

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকে রয়েছে একটি বৃত্ত। তা বিশ্বের প্রতীক। একটি উন্মুক্ত গ্রন্থ যা জ্ঞানের প্রতীক এবং আকাশদৃষ্টি থেকে শাপলা ফুল সৌন্দর্য, পবিত্রতা ও জাতীয় প্রতীক। এটি সূর্য অর্থেও প্রাণ ও শক্তির প্রতীক। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রতীকের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে নকশা আহ্বান করা হয়। শিল্পী গোলাম সারওয়ারের আঁকা মূল নকশা নির্বাচনের পর কিছুটা পরিবর্তন করে বর্তমান প্রতীকে রুপ দেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও শিল্পী হাশেম খান।

প্রতীকের রং: বৃত্ত ও মূল গ্রন্থ কোবাল্ট ব্লু। তা আকাশ, নদী ও উদারতার রং। গ্রন্থের বহিঃরেখা রক্তলাল, জাতীয় পতাকার রং। গ্রন্থের মধ্যরেখা সোনালি, সোনার মতই মূল্যবান শিক্ষার গুনগত মূল্য।

বর্তমান অবস্থা[সম্পাদনা]

এখন প্রায় ৩০৪ হেক্টর জুড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৫টি উচ্চতর গবেষনা ইন্সটিটিউট, ৯টি অনুষদের অধীনে ৪৭টি বিভাগে বতৃমানে পরিচালিত হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম৷ ক্যাম্পাসের উত্তর পুর্ব দিক জুড়ে রয়েছে ১১টি ছাত্রহল৷ ৫টি ছাত্রীহল ক্যাম্পাসের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত৷ পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত জুড়ে রয়েছে শিকদের জন্য আবাসিক এলাকা৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা এদেশের সর্বপ্রথম স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর৷ রয়েছে সাবাস বাংলাদেশ নামে একটি ভাষ্কর্য৷ আর রয়েছে গোল্ডেন জুবিলি টাওয়ার৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে তিনটি সাংবাদিক সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। ১৫টি সংগঠন নিয়ে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট। এছাড়া অন্যান্য সংগঠন যেমন বিজনেস স্টাডিজ ফ্যাকাল্টি ডিবেটিং ফোরাম (বিএফডিএফ) প্রধান বিতর্ক সংগঠন। এছাড়া আছে বিভিন্ন হল ভিত্তিক বিতর্ক ক্লাব। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব নবগঠিত একটি ক্লাব হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিভিন্ন ভবন পরিচিতি এবং অবস্থান[সম্পাদনা]

আপনাকে অবশ্যই এই পরিষ্করণ টেমপ্লেটে একটি |reason= প্যারামিটার যোগ করতে হবে - এটি {{Cleanup|অনুচ্ছেদটি|reason=<এখানে কারণ লিখুন>}}-এর সাথে প্রতিস্থাপন করুন, অথবা পরিষ্করণ টেমপ্লেটটি সরান।

প্রশাসন ভবন - রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট পেরিয়ে বৃক্ষশোভিত গোল চত্বর। এখানে শায়িত ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ড. মুহাম্মাদ শামসুজ্জোহা। সামনেই প্রশাসন ভবন। এর নিচতলায় জনসংযোগ দপ্তর, প্রকটর এবং ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তর, তথ্য সেল, বীমা ইউনিট, একাডেমিক শাখার একাংশ, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের একাংশ, টেলিফোন শাখা। দোতালায় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ত্রার দপ্তর, সংস্থাপন শাখা - ১, অর্থ ও হিসাব দপ্তর, পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন দপ্তর, লিগাল সেল। তিনতলায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রন দপ্তর ও সংস্থাপন শাখা - ২।

প্রসাশন ভবন ২ - কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পশ্চিমে এই ভবনে প্রকৌশল দপ্তর, এস্টেট শাখা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রন দপ্তরের বিল শাখা, একডেমিক শাখার একাংশ, কেন্দ্রীয় ভাণ্ডার, প্রকাশনা দপ্তর ও কৃষি প্রকল্প অফিস অবস্থিত। এই ভবনের পাশেই অগ্রণী ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার - প্রশাসন ভবনের উত্তরে মনোরম স্থাপত্তসমৃদ্ধ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রন্থাগার। এর নিচতলায় ইস্যু কক্ষ, দোতালায় ক্যাটালগ ও পাঠকক্ষ, তিনতলায় গ্রন্থাগার অফিস, সংবাদপত্র পাঠকক্ষ, সিরিয়ালস, এবং রিপ্রগ্রাফি শাখা।

সিনেট ভবন - আধুনিক অডিও সিস্টেমসহ ২০৬ আসনবিশিষ্ট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেট ভবন প্রশাসন ভবনের সামনেই। এখানে রয়েছে পরিষদ শাখা।

শহীদ মিনার কমপ্লেক্স - এখানে আছে রাবি শহীদ মিনার, শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা দুটি মুরাল ও উন্মুক্ত মঞ্চ।

সাবাশ বাংলাদেশ - মুক্তিযুদ্ধের স্মারক এই ভাস্কর্যটি সিনেট ভবনের দক্ষিণ চত্বরে। প্রয়াত শিল্পী নিতুন কুণ্ডুর তৈরি এই ভাস্কর্যের পাদদেশে একটি মুক্ত মঞ্চ আছে।

সুবর্ণ জয়ন্তি টাওয়ার - রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ জয়ন্তির স্মারক এই সুবর্ণ জয়ন্তি টাওয়ার। প্রধান ফটক পেরিয়ে সড়ক দ্বীপের ডানে, প্রশাসন ভবনের সামনে গোল চত্বরের দক্ষিণপূর্বে।

শহিদুল্লাহ কলাভবন - রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এককালিন শিক্ষক, জ্ঞানতাপস ড. মুহাম্মাদ শহিদুল্লাহর নামানুসারে এই ভবনটি লাইব্রেরির পশ্চিমে। নিচতলায় বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ। দোতালায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং কলা অনুষদের কম্পিউটার সেল। তিনতলায় আরবি ও ভাষা বিভাগ।

ডিনস কমপ্লেক্স - শহিদুল্লাহ কলাভবনের ডানে এই ভবনে কলা, আইন, বিজনেস স্টাডিজ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ অফিস। এখানে একটি সম্মেলন কক্ষ আছে।

মমতাজউদ্দিন কলা ভবন - ডিনস কমপ্লেক্সের ডানে এই ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্যের নামে। নিচতলায় সমাজকর্ম বিভাগ। দোতালায় অর্থনীতি, দর্শন ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।

রবীন্দ্র কলাভবন - লাইব্রেরীর পশ্চিমে শহিদুল্লাহ কলাভবনের পেছনে এই ভবনের অবস্থান। উত্তর ব্লকে দোতালায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ। মধ্য ব্লকে দোতালায় ফাইনান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ। দক্ষিণ ব্লকে দোতালায় হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগ এবং তিনতলায় মার্কেটিং বিভাগ ও আইসিএমএবি রাজশাহী সেন্টার। পশ্চিম ব্লকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট, লোক প্রশাসন এবং আইন ও বিচার বিভাগ। মধ্য ব্লকে বাবসায় ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজি ভবন - নিচতলায় ফোকলোর এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগ। দোতালায় নাট্যকলা এবং সংগীত বিভাগ এবং শিক্ষা এবং গবেষণা ইন্সটিটিউট।

টিনশেড ভবন - এই ভবনে রাবি নার্সারি ও জুনিয়র স্কুল অবস্থিত।

প্রথম বিজ্ঞানভবন - বাস স্ট্যান্ডের উত্তরে নিচতলায় আহমেদ হোসেন গ্যালারি। দোতালায় পদার্থবিজ্ঞান, ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রিক ইনজিনিয়ারিং এবং তিনতলায় ইনফরমেশন এন্ড কমুনিকেশন ইনজিনিয়ারিং বিভাগ ও কম্পিউটার সেন্টার।

দ্বিতীয় বিজ্ঞানভবন - প্রথম বিজ্ঞান ভবনের উত্তরে এই ভবন। নিচতলায় রসায়ন এবং এপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। তিনতলায় মনোবিজ্ঞান, ভুতত্ত ও খনিবিদ্যা এবং গনিত বিভাগ। চারতলায় ফার্মেসি, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগ এবং বিজ্ঞান অনুষদ ভবন।

তৃতীয় বিজ্ঞানভবন - দ্বিতীয় বিজ্ঞানভবনের পশ্চিমে এই ভবনের নিচতলায় ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ। তিনতলায় প্রাণিবিদ্যা ও পরিসংখ্যান বিভাগ। চারতলায় ইন্সটিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়টেকনোলোজি, পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, অ্যানিম্যাল হাজব্র্যান্ডি এন্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স বিভাগ এবং জীব ও ভু-বিজ্ঞান অনুষদ অফিস।

চতুর্থ বিজ্ঞানভবন - গ্রন্থাগার ভবনের উত্তরে এই ভবনের নিচতলায় কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ও ফলিত গনিত বিভাগ, পরিবেশ বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট এবং সেন্ট্রাল সায়েন্স লাইব্রেরি।

কৃষি অনুষদ ভবন - বোটানিক্যাল গার্ডেন এর পাশেই, রেল লাইন এর পরেই, ক্যাম্পাস এর উত্তর গেট পেরিয়েই বাম দিকে এর অবস্থান। উত্তর ব্লকে ফিসারিজ, দক্ষিণ ব্লকে এগ্রনামী এন্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগ এবং কৃষি অনুষদ অফিস।

চারুকলা বিভাগ - কৃষি অনুষদ ভবনের সামনের ভবনে চারুকলা বিভাগ।

নারিকেলবাড়িয়া ক্যাম্পাস - রাজশাহী নওগা মহাসড়কের, রাজশাহী বাইপাস রোড থেকে ডানে এক কিলোমিটার ভিতরে এই ক্যাম্পাসে ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগসহ কৃষি অনুষদের পরীক্ষণ ও গবেষণা খামার আছে।

রাকসু ভবন - শহিদ মিনারের উত্তরে এই ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ অফিস। এছাড়া বিভিন্ন কালচারাল সংগঠনের অফিস এখানে।

কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া - রাকসু ভবনের পেছনে ও শহীদ মিনারের উত্তর-পূর্বে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া। এখানে সুলভে নাস্তা এবং দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা আছে।

বিজ্ঞান ওয়ার্কশপ - রাকসু ভবনের উত্তর পাশে অবস্থিত। এখানে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষণ করা হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন - আধুনিক শব্দ এবং আলোক নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা সজ্জিত মিলনায়তন। ভবনের দক্ষিণাংশে রাকসু কোষাধ্যক্ষ অফিস।

মেডিকেল সেন্টার - চিকিৎসা কেন্দ্রে সাধারন বিভাগ, প্যাথলজি, এক্সরে, ইসিজি, আই, ডেন্টাল, ক্লিনিকাল বায়কেমিস্ট্রি ও পরিবার পরিকল্পনা ইউনিট আছে। অবস্থান ক্যাম্পাসের পূর্ব এলাকায় বিনোদপুর গেটের কাছে।

ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস) - ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ এ বাংলদেশের জীবন ও সমাজের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কযুক্ত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয়। ভবনটি বিনোদপুর গেটের পূর্বদিকে।

স্টেডিয়াম - দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে রয়েছে পুরনাঙ্গ স্টেডিয়াম। প্রথম এবং দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের পূর্বে এর অবস্থান। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা অনুশীলন এবং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এখানে। এখানে আরও রয়েছে প্রকৌশল অনুষদ অফিস, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগ, স্টুয়ার্ড শাখা, রোভার স্কাউট অফিস ও ডাকঘর। স্টেডিয়ামের পূর্ব দিকে জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল, টেনিস কমপ্লেক্স ও বাস্কেটবল কোর্ট।

বিএনসিসি ভবন - প্রধান গেটের পাশে এই ভবনে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর - বিএনসিসি অফিস অবস্থিত।

পরিবহন অফিস এবং বাস স্ট্যান্ড - প্রশাসন ভবনের উত্তরে পরিবহন অফিস। সাথেই বিশ্ববিদ্যালয় বাস স্ট্যান্ড।

জুবেরী ভবন - রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্যের নাম অনুসারে এই অতিথি ভবনটি ক্যাম্পাসের পশ্চিম এলাকায়, কাজলা গেটের উত্তরে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষক ক্লাবও এখানে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল - কাজলা গেটের পাশেই স্কুল ভবন। এর কলেজ শাখা ও এখানে। অত্যন্ত সুনামের অধিকারি এই স্কুলে প্রায় ১৫০০ ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত আছে।

কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ - রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি সুপরিসর ও সুন্দর তুর্কী স্তাপনাসমৃদ্ধ। এখানে একটি ইসলামি পাঠাগার রয়েছে।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর - ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের সর্বপ্রাচীন সংগ্রহশালা - বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর বঙ্গীয় শিল্পকলার বিপুল ও বর্ণাঢ্য সংগ্রহের জন্য সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত। রাজশাহী শহরে অবস্থিত, বাংলদেশের সুপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক এই জাদুঘরটি ১৯৬৪ সাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছে।

বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ - রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রায় আধ কিলোমিটার দূরে এই বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ এর অবস্থিত।

অনুষদসমূহ[সম্পাদনা]

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বমোট ৯টি অনুষদ রয়েছে। এগুলো হলঃ

কলা অনুষদ[সম্পাদনা]

  • বাংলা
  • ইংরেজি
  • ইতিহাস
  • দর্শন
  • ভাষা
  • ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  • আরবি
  • ইসলামিক স্টাডিজ
  • নাট্যকলা ও সঙ্গীত

বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ[সম্পাদনা]

  • হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা
  • ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ
  • মার্কেটিং
  • ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং

বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

  • পদার্থ বিজ্ঞান
  • রসায়ন
  • পরিসংখ্যান
  • ফার্মেসি
  • গণিত
  • প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান
  • ফলিত গণিত
  • পপুলেশন সায়েন্স অ্যন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট

কৃষি অনুষদ[সম্পাদনা]

  • এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন
  • ফিশারিজ
  • এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি অ্যান্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স
  • ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

  • অর্থনীতি
  • রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  • সমাজকর্ম
  • সমাজবিজ্ঞান
  • গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
  • ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট
  • নৃ-বিজ্ঞান
  • লোকপ্রশাসন
  • ফোকলোর

আইন অনুষদ[সম্পাদনা]

  • আইন

জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ[সম্পাদনা]

প্রকৌশল অনুষদ[সম্পাদনা]

চিকিৎসা অনুষদ[সম্পাদনা]

আবাসিক হল সমূহ[সম্পাদনা]

  • মতিহার হল
  • বেগম রোকেয়া হল
  • শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হল
  • শহীদ হবিবুর রহমান হল
  • বেগম খালেদা জিয়া হল
  • মাদার বখ্‌শ হল
  • মুন্নুজান হল
  • নবাব আবদুল লতিফ হল
  • সৈয়দ আমীর আলী হল
  • শহীদ শামসুজ্জোহা হল
  • সোহ্‌রাওয়ার্দী হল
  • জিয়াউর রহমান হল
  • তাপসী রাবেয়া হল
  • শাহ্‌ মাখদুম হল
তিনতলা বিশিষ্ট এ হলটি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। হলের প্রশাসনিক কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য হলকে অফিসিয়ালী পূর্ব ও পশ্চিম ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। নীচতলা উত্তরে প্রাধ্যক্ষ কক্ষ সহ অতিথি কক্ষ, অফিস সমূহ, লাইব্রেরি ও ইন্টারনেট রুম। পশ্চিমে ক্যান্টিন, পত্রিকা কক্ষ, মসজিদ ও কমনরুম, আর পূর্বে আছে ২ টি ডাইনিং। হলের আসন সংখা ৪৩০। হলের আবাসিক ও অনাবাসিক ছাত্র সংখ্যা যথাক্রমে ৪৩০ ও ১৮৬৮ জন। বর্তমানে হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন ড. মো ইমতিয়াজ আহমদ।
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
  • রহমতুন্নেসা হল
  • ফজিলাতন্নেসা হল

সংগঠনসমূহ[সম্পাদনা]

রাজনৈতিক[সম্পাদনা]

বিজ্ঞান[সম্পাদনা]

সাংস্কৃতিক[সম্পাদনা]

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্তমানে ২২ টি সক্রিয় সাংস্কৃতিক দল রয়েছে। স্বনন, অনুশীলন নাট্যদল, সমকাল নাট্যচক্র, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ড্রামা অ্যাসোসিয়েশন (রুডা), তীর্থক নাটক, বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার রাজশাহী, বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থা, অ্যাসোসিয়েশন ফর কালচার অ্যান্ড এডুকেশন (এস্), বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ, উদীচী, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঐকতান, বিবর্তন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট,প্রান্তজন, বিকল্প।বিতর্কের সংগঠন গুলোর মধ্যে বিজনেস ফ্যাকাল্টি ডিবেটিং ফোরাম,গোল্ড বাংলাদেশ,রেটোরিক অন্যতম। ক্যারিয়ার সচেতন ছাত্রদের জন্য ২০১৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব আনুষ্টানিক যাত্রা শুরু করে।এই সংগঠন টি ক্যারিয়ার ফেয়ার সহ স্কিল ডেভলপমেন্ট সংক্রান্ত নানা কাজ করে। সম্প্রতি ২০১৩ সালেই RUMUNA নামে একটি সংগঠন আত্নপ্রকাশ করেছে যা জাতিসংঘ ভিত্তিক একটি সংগঠন।এছাড়া ফটোগ্রাফিক সোসাইটি সহ অনেক সংগঠন রয়েছে।

বিভিন্ন আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়[সম্পাদনা]

বিভিন্ন আন্দোলনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিদ্যাপীঠের সাফল্য কম নয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৬৬'র ছয় দফা, '৬৯-এর গণআন্দোলন, '৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং '৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্ররা ঝাঁপিয়ে পড়েছে অত্যাচার আর শোষণের বিরম্নদ্ধে। ষাটের দশকের শেষ দিকে এই ভূখ- যখন গণআন্দোলনের উত্তাল, তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও স্বাধিকার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রম্নয়ারি স্বাধিকার সংগ্রামের ইতিহাসে যুক্ত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা প্রাণের বিনিময়ে। প্রক্টর হিসেবে শানত্মিরক্ষার দায়িত্ব পালনরত ড. জোহা ছাত্রদের মিছিলকে সংযুত রাখার চেষ্টা করেছিলেন, চেষ্টা করছিলেন তাঁর প্রাণপ্রিয় ছাত্ররা যাতে পশ্চিমা শাসক চক্রের লেলিয়ে দেয়া সশস্ত্র বাহিনীর আক্রমণের শিকার না হয়। কিন্তু ওদের বর্বর আক্রোশ মুহূর্তে বিদীর্ণ করে তাঁর বুক। ড. জোহার মৃতু্যতে সারাদেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। প্রতিবাদে টলে উঠেছিল আইয়ুবের গদি, পতন হয়েছিল সেই স্বৈরশাসকের। তারই ফলে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির পথের একটি ধাপ পেরিয়ে এসেছিল মুক্তিকামী বাঙালী। বাঙালীর মনে অধ্যাপক জোহা বেঁচে আছেন শহীদ জোহা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্বেই বর্বর পাকিসত্মানী সেনাবাহিনীর হাতে প্রাণ দিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ হবিবুর রহমান, শহীদ মীর আবদুল কাইয়ুম, শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার। অকথ্য নির্যাতন ভোগ করলেন গণিত বিভাগের শিক্ষক মজিবর রহমান। আরও ত্রিশ জন ছাত্র, কর্মচারী-কর্মকর্তাও এই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিসত্মানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ৭২ সালে একবার রাজশাহী এসেছিলেন। সে সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরেও এসেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর আগমনের স্মৃতি তখনকার ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনে চিরজাগরম্নক হয়ে আছে। দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের লনে ঘাসের ওপর বসে তিনি অনেকক্ষণ ধরে কথা বলেছিলেন ছাত্রছাত্রীদের সাথে। ঐদিন তিনি শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রসত্মরও স্থাপন করেছিলেন।

অনুষদ এবং বিভাগ প্রতিষ্ঠার সাল[সম্পাদনা]

অনুষদ (9) ও বিভাগ (50)

কলা (১৯৫৩) দর্শন (১৯৫৩), ইতিহাস (১৯৫৪), ইংরেজী (১৯৫৪), বাংলা (১৯৫৫), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (১৯৫৬), ভাষা (১৯৬২), আরবী (১৯৭৮), চারুকলা (১৯৯৪), ইসলামিক স্টাডিজ (১৯৯৫), ফোকলোর (১৯৯৮), নাট্যকলা ও সঙ্গীত (২০০০)।

আইন (১৯৫৩) আইন ও বিচার (১৯৫৩)।

বিজ্ঞান (১৯৫৬) গণিত (১৯৫৪), পদার্থ বিজ্ঞান (১৯৫৮), রসায়ন (১৯৫৮), পরিসংখ্যান (১৯৬১), ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্টনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (১৯৬৬), ফলিত রসায়ন ও রাসায়নিক প্রযুক্তি (১৯৬৭), প্রাণ রসায়ন ও আণবিক প্রানবিজ্ঞান (১৯৭৬), ফার্মেসী (১৯৯০), কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (১৯৯৩), পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট (১৯৯৬), ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (২০০০), ফলিত গণিত (২০০২), ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (২০০৪)।

চিকিৎসা (১৯৫৮) অধিভুক্ত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে এম বিবিক্রস ও বিডিএস কোর্স (১৯৭২)।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ (১৯৭২) হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা (১৯৭২), ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ (১৯৭২), মার্কেটিং (১৯৮১), ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং (১৯৮১)।

সামাজিক বিজ্ঞান (১৯৮৫) অর্থনীতি (১৯৫৪), রাষ্ট্রবিজ্ঞান (১৯৬৩), সমাজকর্ম (১৯৬৪), সমাজবিজ্ঞান (১৯৬৯), গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা (১৯৯২), গ্রন্থগার ও তথ্যবিজ্ঞান (১৯৯৩), লোক প্রশাসন (১৯৯৩), নৃ-বিজ্ঞান (১৯৯৮), আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক (২০১৪)। জীবন ও ভূ-বিজ্ঞান (১৯৮৬): ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা (১৯৫৫), মনোবিজ্ঞান (১৯৫৬), উদ্ভিদবিজ্ঞান (১৯৬৩), প্রাণিবিদ্যা (১৯৭২), ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা (১৯৭৫)।

কৃষি (২০০০) জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি (১৯৯৬), এগ্রোনমী এন্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন (২০০০), ফিশারীজ এন্ড একুয়াকালচার (২০০০), এনিম্যাল হাজবেন্ড্রি এন্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স (২০০৪)। ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি।

ইন্সটিটিউট (৫) ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (১৯৭৪), ইন্সটিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস (১৯৮৯), ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট (২০০০), পরিবেশ বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট (২০০০), শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (২০০০)।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন[সম্পাদনা]

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৬ সালে। এরপর ১৯৬০, '৬১, '৬২, '৬৫, '৭০, ৯৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম সমাবর্তন। তবে ১৯৯৮ সালের ২৯ নভেম্বর সপ্তম সমাবর্তন ছাড়া আর কোন সমাবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয়, সেগুলো স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে থাকতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ২০১২ সালের ০৯ ডিসেম্বার অষ্টম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান অসুস্থ থাকায় শিক্ষামন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

গুণীজন[সম্পাদনা]

দীর্ঘ ৫৩ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জড়িত হয়েছে বেশ কয়েকজন প্রতিথযশা ব্যাক্তিত্বের স্মৃতিতে৷ এখানে শিক্ষকতা করেছেন উপমহাদেশের


== রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম শিক্ষার্থী যারা দেশ বরেন্যঃ

  • কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন,হাসান আজিজুল হক
  • A T F U L H Y E S H I B L Y,Member, University Grants Commission of Bangladesh,Vice Chancellor (Proposed), Shanto-Mariam University of Creative Technology,

Dhaka, August- November 2006. Pro-Vice Chancellor, Rajshahi University, July 1989-July 1992. Professor & Dean, Centre for Post-graduate Studies, Training & Research. Jan.2000-Dec.2003, National University, Bangladesh. Professor & Director, Institute of Bangladesh Studies, July 1997- Dec. 1999

  • বিশিষ্ট নাট্যকার মাসুম রেজা,মলয় ভৌমিক(শিক্ষক,রাবি)
  • চিত্রপরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিম
  • সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর,এহসান রাহি
  • ক্রিকেটার আল-আমিন ও সাবেক ক্রিকেটার মুশফিক বাবু
  • যুক্তরাজ্যের হাই-কমিশনার ও উপাচার্য অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান
  • তুহিন ওয়য়াদুদ(শিক্ষক,বেরোবি)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বিডিনিউজের সংবাদ

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]