আলী আকবর খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আলী আকবর খান
Dia7275 Ali Akbar Khan r.jpg
প্রাথমিক তথ্যাদি
জন্ম (১৯২২-০৪-১৪)এপ্রিল ১৪, ১৯২২
উদ্ভব কুমিল্লা, পূর্ব বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু জুন ১৮, ২০০৯(২০০৯-০৬-১৮) (৮৭ বছর)
সান আনসেলমো, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
ধরন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত
পেশা সুরকার, সরোদীয়
বাদ্যযন্ত্র সরোদ
সহযোগী শিল্পী আলাউদ্দিন খাঁ, আশিস খান, রবি শংকর

ওস্তাদ আলী আকবর খান (জন্ম: ১৯২২ এখনকার বাংলাদেশে) ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সবচেয়ে একজন পরিপূর্ণ সঙ্গীতজ্ঞ। ভারতের সঙ্গীত জগতে সরোদের জীবন্ত কিংবদন্তী মনে করা হয় তাঁকে। সঙ্গীতে তাঁর অসাধারণ সৃষ্টি তাঁকে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সঙ্গীতে অমর করে রাখবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তাঁর ভূমিকার জন্য তিনি বাঙ্গালী জাতির কাছে বিশেষভাবে সম্মানিত।

জন্ম ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও মাতা মদিনা বেগম। পিতার কর্মস্থাল মাইহর (ভারতের মধ্যপ্রদেশের প্রিন্স শাসিত রাজ্য) পিতার কাছেই তাঁর সঙ্গীত শিক্ষার হাতে খড়ি হয়। তিনি সব ধরনের বাদ্য যন্ত্র ও গায়কীর শিক্ষা নেন। ধীরে ধীরে তিনি সরোদে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেন। ওস্তাদ আলী আকবর খান সাহেবের সঙ্গীতে হাতে খড়ি হয় তিন বছর বয়েস থেকে। কন্ঠ সঙ্গীতের শিক্ষা শুরু হয় তাঁর বাবা আচার্য আলাউদ্দিন খান সাহেবের কাছে এবং তবলা শিখতে শুরু করেন তাঁর চাচা ফকির আফতাবউদ্দিনের কাছে। তারঁ বাবা আরো অনেক বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখিয়েছেন; তবে তিনি সরোদ এবং কন্ঠ সঙ্গীতেই নিবিষ্ঠ হন। এরপর প্রায় ২০ বছর যাবৎ তাঁর শিক্ষা ও চর্চা অব্যাহত থাকে। এসময় তিনি প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা করে রেওয়াজ করতেন। এর পরেও তাঁর বাবা আচার্য আলাউদ্দিন খান সাহেবের ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত আলী আকবর খানকে শিখিয়েছেন। এই শিক্ষণ প্রক্রিয়া ওস্তাদ আলী আকবর খান সাহেবের মধ্যে এমন এক সম্পদ সৃষ্টি করেছে যা থেকে তিনি এখনো শিখছেন বলে বোধ করেন। ১৯৭২ সালে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর হতে তিনি বাবার চর্চিত সাঙ্গীতিক ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। এই সাঙ্গীতিক ঐতিহ্য হচ্ছে ভারতের মাইহার ও রামপুরের শ্রী বাবা আলাউদ্দিন সেনী ঘরানা।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

আলী আকবর খাঁ ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে এলাহাবাদে সর্ব প্রথম এক সঙ্গীত সম্মেলনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে অল ইন্ডিয়া রেডিও-এর সাথে প্রথম কাজ করেন। ১৯৪৪ সালে মাইহর ত্যাগ করেন। লাখনৌতে কিছুদিন অল ইন্ডিয়া রেডিও-এর সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এরপর যোধপুরের মহারাজার দরবারে সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে নিয়োগ পান। মুম্বইতে তিনি কয়েকটি সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালনা করেন। এর মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের দেবি ও তপন সিনহার ক্ষুদিত পাষাণ উল্লেখযোগ্য। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি এইচএমভির সাথে সিরিজ রেকর্ডে কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে কলকাতায় আলী আকবর কলেজ অব মিউজিক প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলিতে একই নামে আরেকটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে সান রাফায়েলে স্থানান্তরিত হয়। তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে লং প্লেয়ার অ্যালবামে রেকর্ড করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশনে সরোদ পরিবেশন করেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামী জনগণের সাহায্যার্থে নিউইর্য়কের ম্যাডিসন স্কোয়ারে ১৯৭১-এর ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। এ আয়োজনের সঙ্গে যাঁরা সম্পৃক্ত ছিলেন তাঁদের অন্যতম ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ। কনসার্টে অনেকের মধ্যে সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন জর্জ হ্যারিসন, তাঁর গানের শিরোনাম ‘বাংলাদেশ’। এ গানের জন্য তৈরি হয়েছিল ‘বাংলাদেশ ধুন’ নামক নতুন সুর। ‘বাংলাদেশ ধুন’ যুগলবন্দি বাদনে রবিশঙ্করের সঙ্গে আলী আকবর খাঁ সেদিন অসাধারণ পারঙ্গমতা প্রকাশ করেন। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ-তনয় হিসেবে সঙ্গীত-সাধনায় আত্মমগ্ন আলী আকবর জন্মভূমির দুর্গতি মোচনে সেদিন উদগ্রীব হয়েছিলেন। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে, যে অনুষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল। এ কনসার্টের প্রাপ্ত অর্থ বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য ইউনিসেফের শরণার্থী ফান্ডে দান করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]